কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

বাইরে তখন পিচঢালা রাজপথে
একটা আঠারো বছরের শরীর
উপুড় হয়ে পড়ে আছে;
মাথার খুলি চিরে চুইয়ে পড়া রক্তে
ভিজে যাচ্ছে রিকশার পাটাতন,
আর পকেটের ভেতর অবিরাম বেজে চলেছে
এক নামহীন ফোন—
স্ক্রিনে কেবল ফুটে উঠছে দুটো অক্ষর: ‘মা’।

ঠিক সেই মুহূর্তে,
তোমাদের নিউজরুমের এসি চলছে ১৮ ডিগ্রিতে।
টেবিলের ওপর কফির ধোঁয়া,
আর বার্তা সম্পাদকের স্ক্রিনে
জ্বলজ্বল করছে গোপন নির্দেশ—
‘লাশের কোনো খবর স্ক্রলে যাবে না।’
মেকআপ রুমে লাল লিপস্টিক আর
ফাউন্ডেশনের প্রলেপ দিয়ে মুখ চকচকে করে
উপস্থাপক তখন ক্যামেরার লেন্সে
চোখ রেখে নির্লজ্জ মুখে পাঠ করছে—
“সারাদেশে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে,
নাশকতাকারীদের দমন করা হয়েছে।”

মেট্রোরেলের কাচ ভাঙা আর
পোড়া টোলপ্লাজার সামনে গিয়ে
তোমাদের ক্যামেরার লেন্স
আহাজারিতে ভিজে উঠেছিল!
টকশোতে বসে তোমাদের ভাড়াটে সুশীলরা
ইট-সিমেন্টের ক্ষতি মাপতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
বাতাস ভারী করল,
অথচ মর্গের বারান্দায় বরফহীন মেঝেতে পড়ে থাকা
সারি সারি তাজা লাশের দিকে
তোমাদের একটা মাইক্রোফোন
এগিয়ে দেওয়ার সাহস হলো না!
তোমাদের কাছে ফ্লাইওভারের কংক্রিট
মহামূল্যবান সম্পদ,
আর একটা মায়ের বুক খালি হওয়া
স্রেফ একটি তুচ্ছ পরিসংখ্যান!

আর ওহে রাজপ্রাসাদের দরবারে ঝুলে থাকা
পদকলোভী কবি, নাট্যকার আর বুদ্ধিজীবীর দল—
এতকাল মঞ্চে দাঁড়িয়ে যারা মুক্তচিন্তা আর
প্রগতির স্লোগান বেচে রুটি-রুজি কামিয়েছ,
যখন ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা
নিষ্পাপ শিশুর চোখের মণি গুলিতে উড়ে গেল,
তখন তোমাদের সেই বিবেক
কোন নর্দমার গর্তে মুখ গুঁজে পড়েছিল?
পূর্বাচলের প্লট, বাৎসরিক অনুদান আর
জাতীয় পদকের তাম্রলিপির লোভে
তোমরা শিল্পকলার মুখোশ পরে
আসলে স্বৈরাচারের কসাইখানা পাহারা দিয়েছ!
খুনির হাত থেকে চুইয়ে পড়া রক্ত তোমরা ঢেকে দিয়েছ
‘উন্নয়ন আর অসাম্প্রদায়িকতার’ রঙিন চাদরে!

তোমরা দাবি করো তোমরা ‘নিরপেক্ষ’?
থুতু ফেলি তোমাদের এই সুশীল নিরপেক্ষতার মুখে!
যেখানে একদিকে জল্লাদের ভারী বুট আর
অন্যদিকে বুক পেতে দেওয়া খালি হাত,
সেখানে নিরপেক্ষ সাজার ভান করাটাই হলো
সবচেয়ে দামি দালালি।
আসলে তোমরা প্রেসকার্ড গলায় ঝুলিয়ে
খুনির গা থেকে রক্তের দাগ মোছার তোয়ালে।

তোমরা ভেবেছ এই সব নির্লজ্জ বিশ্বাসঘাতকতা মানুষ ভুলে যাবে?
ভেবেছ লাইভ সম্প্রচার বন্ধ হলেই অপরাধের দাগ ধুয়ে যাবে?
না!
জনতার স্মৃতিতে গড়ে উঠেছে তোমাদের
সব পাপের এক জীবন্ত মহাফেজখানা।
কোন চ্যানেলের প্রাইমটাইমে কত বড় মিথ্যার স্ক্রিপ্ট গিলেছিল,
কোন চাটুকার কলামে নরহত্যাকারীকে ‘ত্রাতা’ সাজানো হয়েছিল,
আর কোন সুশীলের নীরবতা জল্লাদের হাতকে আরও শক্ত করেছিল—
সব ফুটেজ, সব স্ক্রিনশট, সব দলদাসের নাম
সেখানে জ্বলন্ত অক্ষরে জমা আছে!

টেলিপ্রম্পটারের আলো চিরকাল জ্বলে না।
স্টুডিওর বাতি একদিন ঠিকই নিভবে,
বসের ফোন বন্ধ হয়ে যাবে,
আর স্পনসরের দামি স্যুট খুলে দাঁড়াতে হবে
একলা বিবেকের সামনে।
সেদিন যখন সন্তানহারা মা
তোমাদের কলার চেপে ধরে জানতে চাইবে—
“আমার বুকের মানিকটা যখন মরছিল,
তখন কাকে খুশি করতে তোরা মিথ্যা স্ক্রিপ্ট পড়ছিলি?”
তখন কোনো মেকআপ
তোমাদের লজ্জা ঢাকতে পারবে না,
কোনো এডিটিং সফটওয়্যার
তোমাদের এই ঐতিহাসিক কলঙ্ক
মুছে ফেলতে পারবে না!

ইতিহাসের পাতায় তোমরা কোনোদিন
'বুদ্ধিজীবী', ‘লেখক’ বা ‘সাংবাদিক’ হয়ে বাঁচবে না;
ইতিহাস তোমাদের চিনে রাখবে সত্যের গলা টিপে ধরা
একদল মেরুদণ্ডহীন, ঘৃণ্য কসাইয়ের দালাল হিসেবে!

দালালির মহাফেজখানা

তোমরা ড্রোন উড়িয়ে দেখেছ নির্জন রাস্তাঘাট,
সাঁজোয়া গাড়ির ভারী গর্জনে ভেবেছ শহর স্তব্ধ করে দিয়েছ চিরতরে।
কিন্তু তোমরা মাটির কম্পন মাপতে শেখোনি!
তোমরা জানো না— ভয় যখন একটা জাতির গলার নলি চেপে ধরে,
তখন সেই ভয়েরই অন্ধকূপ ফুঁড়ে জন্ম নেয় শত শতাব্দীর আগুন!

যে ছেলেটা এতদিন বেতন না পেয়ে অফিসে মাথা নিচু করে থাকত,
যে মজুরটা সারাদিন ঘাম ঝরিয়ে পুলিশের বুটের গুঁতো নীরবে সয়ে নিত—
আজ তাদের চোখের তারায় ফুটে উঠেছে আদিম এক প্রতিশোধের শিখা।
তারা আর করজোড়ে অধিকার ভিক্ষা চাইছে না,
তারা আজ রাজপথের বুক চিরে উপড়ে আনছে ভাঙা কংক্রিটের টুকরো!

শোনো হে হেলমেটের আড়ালে মুখ লুকানো কাপুরুষের দল,
শোনো হে বুলেটের পেছনে লুকিয়ে থাকা মসনদের পোষা ঘাতক—
একটা জাতিকে তোরা আর কতবার মারবি?
মরতে মরতে মানুষ যখন মৃত্যুর সীমানা পার হয়ে যায়,
তখন আর বন্দুকের নল কোনো বিভীষিকা থাকে না!
তখন একটি খালি হাতের সংকল্প
তোমাদের লাখ টাকার সাঁজোয়া বর্মের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

তোমরা জারি করো নতুন হুলিয়া, পাঠাও প্রিজন ভ্যান,
টেলিভিশনের পর্দায় চালাও শান্তি আর প্রগতির মিথ্যা তামাশা!
কিন্তু অলিতে-গলিতে, কারখানায়, ছাদের কার্নিশে
আজ হাজার হাজার অবাধ্য প্রাণ এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে।
সেই চোখের দৃষ্টিতে কোনো আপসের জায়গা নেই,
ওখানে জমা হয়ে আছে শুধু কোটি বঞ্চিতের চূড়ান্ত ফয়সালা!

বুলেট দিয়ে হয়তো কয়েকটা শরীর মাটিতে ফেলে দেওয়া যায়,
কিন্তু গোটা একটা প্রজন্মের ভেতরের আগুন নেভানোর মতো কোনো অস্ত্র তৈরি হয়নি।
আজ রাজপথের প্রতিটি ধূলিকণা সাক্ষী—
তোমাদের জলকামান, টিয়ারগ্যাস আর উর্দির অহংকারের চেয়ে
আমাদের না-থামা ক্ষোভ হাজার গুণ বেশি অপরাজেয়!

যেদিন এই পুঞ্জীভূত ক্রোধ আছড়ে পড়বে ক্ষমতার তোরণে,
সেদিন কোনো প্রিজন ভ্যান তোদের বাঁচাতে পারবে না—
জনতার পায়ের তলায় পিষে ধূলিসাৎ হবে তোদের রক্তমাখা তাসের সাম্রাজ্য!

ভয়ের চেয়ে ক্রোধ বড়

সিটি কর্পোরেশনের পানির গাড়ি নামিয়েছিস মধ্যরাতে,
ভেবেছিস তীব্র তোড়ে পিচঢালা অ্যাসফল্ট থেকে ধুয়ে সাফ করবি ছিটকে পড়া তাজা মগজ আর রক্ত?
না! ড্রেনের ভেতরে রক্ত মিশিয়ে দিলেই ইতিহাস ধুয়ে ফেলা যায় না!
ফরমালিনের ঝাঁঝালো গন্ধে ভারী হয়ে ওঠা মর্গের ঠান্ডা মেঝে
আজ তোদের পুরো শাসনতন্ত্রের কফিনের মাপ ঘোষণা করে দিয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধ করে ব্ল্যাকআউট নামালি শহরের বুকে,
সাইরেন বাজিয়ে সাঁজোয়া বহর ঘুরিয়ে ভাবলি অন্ধকারের পেটে গুম করে দেওয়া গেল হত্যাযজ্ঞ?
অথচ যে ছেলেটার পাঁজরে তোরা স্নাইপারের গুলি ঢুকিয়ে নাম দিলি ‘দুষ্কৃতকারী’,
তার ছেঁড়া পকেটে পাওয়া গেছে মাত্র বিশ টাকার একটা ময়লা নোট আর মায়ের প্রেসক্রিপশন!
এই ছিল তার অপরাধ?
এই অনাহারী, রিক্ত তরুণদের বুক লক্ষ্য করে তোরা দাগলি রাষ্ট্রীয় বুলেট?

শোন ওহে কন্ট্রোল রুমের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত জল্লাদশ্রেণী—
তোমাদের প্রেসনোট, বানোয়াট ভিডিও আর ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীর যুক্তি দিয়ে
এই প্রকাশ্য নরমেধের সত্যকে কবর দেওয়া যাবে না।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জমে ওঠা জমাট লাল রক্তের মেঝে,
আর পায়ের আঙুলে নম্বর-ট্যাগ ঝুলিয়ে দেওয়া বেওয়ারিশ লাশগুলো
কোনো কাগুজে পরিসংখ্যান নয়—
ওরা একেকটা জীবন্ত ডেটোনেটর, যা ফাটবে তোদের সিংহাসনের ঠিক তলায়!

আমরা টিয়ারগ্যাসের শেলের মুখে ভেজা কাপড় চেপে শ্বাস নিতে শিখেছি,
বুলেটের শিষের ভেতর দিয়ে রাজপথ দখল করতে শিখেছি।
যে প্রজন্ম মৃত্যুভয়কে একবার ড্রেনের পানিতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে,
তাকে তোরা কোন খাঁচার ভয় দেখাবি?
অ্যাসফল্ট ধুয়ে রক্তের দাগ হয়তো মুছে দেওয়া যায়,
কিন্তু মানুষের স্মৃতির কোষে যে আগুন তোরা জ্বেলে দিয়েছিস—
তা তোদের গোটা সাম্রাজ্যকে জ্বালিয়ে ছাই না করা পর্যন্ত নিভবে না!

আজ এই বধ্যভূমির খাঁজে খাঁজে দাঁড়িয়ে চরম সত্যটা জানিয়ে দিলাম—
মর্গের টেবিল কোনো মিথ্যা বয়ান দেয় না,
রক্তাক্ত চশমা কোনো আপস চেনে না!
যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তোরা ক্ষমতার বড়াই করছিস,
সেই রক্তই কাল তোদের টেনে নামাবে মসনদ থেকে নর্দমার নোংরা পাঁকে!

মর্গের টেবিলের বক্তব্য

যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পারো নাই

বাছাইকৃত কবিতা

দালালির মহাফেজখানা

- মোঃ আবু তালেব

বাইরে তখন পিচঢালা রাজপথে
একটা আঠারো বছরের শরীর
উপুড় হয়ে পড়ে আছে;
মাথার খুলি চিরে চুইয়ে পড়া রক্তে
ভিজে যাচ্ছে রিকশার পাটাতন,
আর পকেটের ভেতর অবিরাম বেজে চলেছে
এক নামহীন ফোন—
স্ক্রিনে কেবল ফুটে উঠছে দুটো অক্ষর: ‘মা’।

ঠিক সেই মুহূর্তে,
তোমাদের নিউজরুমের এসি চলছে ১৮ ডিগ্রিতে।
টেবিলের ওপর কফির ধোঁয়া,
আর বার্তা সম্পাদকের স্ক্রিনে
জ্বলজ্বল করছে গোপন নির্দেশ—
‘লাশের কোনো খবর স্ক্রলে যাবে না।’
মেকআপ রুমে লাল লিপস্টিক আর
ফাউন্ডেশনের প্রলেপ দিয়ে মুখ চকচকে করে
উপস্থাপক তখন ক্যামেরার লেন্সে
চোখ রেখে নির্লজ্জ মুখে পাঠ করছে—
“সারাদেশে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে,
নাশকতাকারীদের দমন করা হয়েছে।”

মেট্রোরেলের কাচ ভাঙা আর
পোড়া টোলপ্লাজার সামনে গিয়ে
তোমাদের ক্যামেরার লেন্স
আহাজারিতে ভিজে উঠেছিল!
টকশোতে বসে তোমাদের ভাড়াটে সুশীলরা
ইট-সিমেন্টের ক্ষতি মাপতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
বাতাস ভারী করল,
অথচ মর্গের বারান্দায় বরফহীন মেঝেতে পড়ে থাকা
সারি সারি তাজা লাশের দিকে
তোমাদের একটা মাইক্রোফোন
এগিয়ে দেওয়ার সাহস হলো না!
তোমাদের কাছে ফ্লাইওভারের কংক্রিট
মহামূল্যবান সম্পদ,
আর একটা মায়ের বুক খালি হওয়া
স্রেফ একটি তুচ্ছ পরিসংখ্যান!

আর ওহে রাজপ্রাসাদের দরবারে ঝুলে থাকা
পদকলোভী কবি, নাট্যকার আর বুদ্ধিজীবীর দল—
এতকাল মঞ্চে দাঁড়িয়ে যারা মুক্তচিন্তা আর
প্রগতির স্লোগান বেচে রুটি-রুজি কামিয়েছ,
যখন ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা
নিষ্পাপ শিশুর চোখের মণি গুলিতে উড়ে গেল,
তখন তোমাদের সেই বিবেক
কোন নর্দমার গর্তে মুখ গুঁজে পড়েছিল?
পূর্বাচলের প্লট, বাৎসরিক অনুদান আর
জাতীয় পদকের তাম্রলিপির লোভে
তোমরা শিল্পকলার মুখোশ পরে
আসলে স্বৈরাচারের কসাইখানা পাহারা দিয়েছ!
খুনির হাত থেকে চুইয়ে পড়া রক্ত তোমরা ঢেকে দিয়েছ
‘উন্নয়ন আর অসাম্প্রদায়িকতার’ রঙিন চাদরে!

তোমরা দাবি করো তোমরা ‘নিরপেক্ষ’?
থুতু ফেলি তোমাদের এই সুশীল নিরপেক্ষতার মুখে!
যেখানে একদিকে জল্লাদের ভারী বুট আর
অন্যদিকে বুক পেতে দেওয়া খালি হাত,
সেখানে নিরপেক্ষ সাজার ভান করাটাই হলো
সবচেয়ে দামি দালালি।
আসলে তোমরা প্রেসকার্ড গলায় ঝুলিয়ে
খুনির গা থেকে রক্তের দাগ মোছার তোয়ালে।

তোমরা ভেবেছ এই সব নির্লজ্জ বিশ্বাসঘাতকতা মানুষ ভুলে যাবে?
ভেবেছ লাইভ সম্প্রচার বন্ধ হলেই অপরাধের দাগ ধুয়ে যাবে?
না!
জনতার স্মৃতিতে গড়ে উঠেছে তোমাদের
সব পাপের এক জীবন্ত মহাফেজখানা।
কোন চ্যানেলের প্রাইমটাইমে কত বড় মিথ্যার স্ক্রিপ্ট গিলেছিল,
কোন চাটুকার কলামে নরহত্যাকারীকে ‘ত্রাতা’ সাজানো হয়েছিল,
আর কোন সুশীলের নীরবতা জল্লাদের হাতকে আরও শক্ত করেছিল—
সব ফুটেজ, সব স্ক্রিনশট, সব দলদাসের নাম
সেখানে জ্বলন্ত অক্ষরে জমা আছে!

টেলিপ্রম্পটারের আলো চিরকাল জ্বলে না।
স্টুডিওর বাতি একদিন ঠিকই নিভবে,
বসের ফোন বন্ধ হয়ে যাবে,
আর স্পনসরের দামি স্যুট খুলে দাঁড়াতে হবে
একলা বিবেকের সামনে।
সেদিন যখন সন্তানহারা মা
তোমাদের কলার চেপে ধরে জানতে চাইবে—
“আমার বুকের মানিকটা যখন মরছিল,
তখন কাকে খুশি করতে তোরা মিথ্যা স্ক্রিপ্ট পড়ছিলি?”
তখন কোনো মেকআপ
তোমাদের লজ্জা ঢাকতে পারবে না,
কোনো এডিটিং সফটওয়্যার
তোমাদের এই ঐতিহাসিক কলঙ্ক
মুছে ফেলতে পারবে না!

ইতিহাসের পাতায় তোমরা কোনোদিন
'বুদ্ধিজীবী', ‘লেখক’ বা ‘সাংবাদিক’ হয়ে বাঁচবে না;
ইতিহাস তোমাদের চিনে রাখবে সত্যের গলা টিপে ধরা
একদল মেরুদণ্ডহীন, ঘৃণ্য কসাইয়ের দালাল হিসেবে!
বিস্তারিত...

বৃত্তের বাইরে

- আফজাল সুয়েব

একটি গোল চাঁদের নিচে
সব তারাই যেন আপন হয়ে যায়
শুধু একটি তারা
আলোর হিসাবের বাইরে পড়ে থাকে।

কিছু দরজা
কপাট না নেড়েই বন্ধ হয়ে যায়,
কিছু জানালা
হাওয়া চিনেও
তার গন্ধ চিনতে চায় না।
আমি তখন
শুকনো নদীর বুকে আঁকা
একটি নৌকার মতো
জল ছিল চারদিকে,
শুধু আমার পালেই বাতাস ছিল না।

দূরের কোনো অচেনা বৃক্ষ
হঠাৎ তার একটি পাতা ঝরিয়ে দিল;
পাতাটুকু হাতে নিয়ে বুঝলাম,
সব আশ্রয় শিকড় থেকে আসে না।

রাত শেষে
নিজের ছায়াটাকেই পাশে নিয়ে ফিরলাম,
বৃত্তটি পূর্ণ ছিল,
শুধু আমার জন্য
তার ভেতর কোনো জায়গা ছিল না।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4674
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1733
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1680
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1604
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1597
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1538
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1531
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1490
রমণী মোঃ আবু তালেব 1458
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1434
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1431
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1431
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1386
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1386
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1385
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1380
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1380
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1361
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1353
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1347
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
মহাজাগতিক ইশতেহার ও এক নশ্বরের চিৎকার মো: আবু তালেব 183
মৃণ্ময়ী মোঃ আবু তালেব 312
ইশকের তুফান মোঃ আবু তালেব 339
আদিকথা মো: আবু তালেব 228
রূহের তৃষা মো: আবু তালেব 313
মায়ার নদী মো: আবু তালেব 312
মায়ার বাঁধন মো: আবু তালেব 314
অগ্নিজল ও ছায়ার কারুকাজ মো: আবু তালেব 262
বিবেকের অবশ প্রহর মো: আবু তালেব 387
লোহিতের নীল বিষ মো: আবু তালেব 439
মুকুরে তোমার রূপ মো: আবু তালেব 467
বাউন্ডেলে জীবন মো: আবু তালেব 459
শহর সন্ধ্যার বিপ্রতীপ মোঃ আবু তালেব 591
মেট্রোরঙ মোঃ আবু তালেব 744
সময় ও অনুতাপ (সনেট) মোঃ আবু তালেব 952
পঁচিশ বছর পর মোঃ আবু তালেব 816
কঠোর পথের যাত্রী মোঃ আবু তালেব 799
হৃদয়ের জখম মোঃ আবু তালেব 892
মুক্তিপথ মোঃ আবু তালেব 890
হৃদয়ের নীরবতা মোঃ আবু তালেব 839
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
বৃত্তের বাইরে আফজাল সুয়েব 22
অনন্ত ধ্রুবক মোছাঃ লুবা আক্তার 38
বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন Md. Mustafizur Rahman 49
কর্পোরেট কালচার Md. Mustafizur Rahman 62
শব্দের সুনামি Md. Mustafizur Rahman 55
এ শহর আমার নয় Md. Mustafizur Rahman 61
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 73
কবির কলমে নবির ছবি কবি ফেরদাউস সরকার 81
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 75
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 96
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 117
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 87
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 104
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 108
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 107
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 150
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 162
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 180
ভালো মানুষ ইবনে আলী 291
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 168
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে