কবির কলমে নবির ছবি

কবির কলমে নবির ছবি

- কবি ফেরদাউস সরকার

প্রিয় নবীর ছবি আমি আঁকছি কবিতায়,
দেখতে হলে তাকাও তোমার হৃদয়ের আয়নায়।

চাঁদের মতো মুখখানি তাঁর, কাজল কালো চোখ,
ঈষৎ বাঁকা ভ্রু ছিল তার, পশম ভরা বুক।

ঢেউ খেলানো কেশ ছিল তার, লতি ও কাঁধ তক,
বড় ছিল মাপ মতো তাঁর মাথা মোবারক।

চোখের পাতায় পলক ছিল অতি দীর্ঘকায়,
রক্তিম রেখার টান ছিল তাঁর চোখের শুভ্রতায়।

চমকাতো নূর সর্বদা তাঁর উন্নত নাক-কান,
মূর্তির মতো মসৃণ তার গলা ও গর্দান।

স্ফীত এক রগ ছিল তাঁর ললাট প্রশস্তে,
রাগের সময় উঠত ফুলে ভীষণ ধীরস্থে।

সামনের দুই দন্ত মাঝে ছিল খানিক ফাঁক,
দন্তরাজির জন্য ছিল সুন্নতি মিসওয়াক।

ঈষৎ গোলের মুখখানি তার, গোস্তে গণ্ড ফোলা,
ছিল না তার রঙ চেহারার তামাটে বা ধলা।

চিকন-চিকন দাঁত ছিল তার ভীষণ চমৎকার,
কথার সময় চমকাতো নূর, জমকালো মুখ তাঁর।

ডোরাকাটা লালরঙা এক চাদর ছিল তার,
মাঝারি তার গড়ন ছিল, পরনে ইযার।

সবার থেকে উঁচু তাঁরে দেখলে মনে হয়,
ঝুঁকে ঝুঁকে পা ফেলিতেন, বুক ফুলিয়ে নয়।

হাতের তালুর মতোই ছিল মাংসল পায়ের পাত,
কাঁধের মাঝে ছিল তাঁহার মোহরে নবুওয়াত।

শৌর্যে-বীর্যে প্রভাবশালীর পেট-বক্ষ সমান,
রূপার মতো ছিল তাহার চকচকে গর্দান।

অনাবৃত হইলে তাঁরে লাগত চমৎকার,
সেই চেহারা এঁকে দেবার শব্দ নেই আমার।

হাত-পায়ে তাঁর আঙুল ছিল দীর্ঘ মানানসই,
কবজি হতে কনুই ছিল হুবহু এর মতোই।

হাতের মতো মাংসে ভরা উভয় পায়ের নল,
হাড়ের জোড়া শক্ত ছিল, বাহুর যেমন বল।

রূপ-লাবণ্যে নবী আমার পূর্ণিমারি চাঁদ,
তাঁর প্রতি মোর ভালোবাসা জন্মেছে অগাধ।

তাঁর চেহারার মতো আজও হয় না কোনোই তুল,
তাঁরচে ছিলেন ইউসুফ নবী সুন্দর অপ্রতুল।

শুভ্র হয়নি চুল-দাড়ি তাঁর, হয় যদি এক কুড়ি,
বডি তাহার ছিল বিল্ডার, হয়নি মোটা ভুঁড়ি।

চল্লিশে হন নবী আমাদের, তেষট্টিতে যান চলে,
এই তেইশ বছরের মধ্য দিয়েই দুনিয়া ঝলমলে।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।