অগ্নিজল ও ছায়ার কারুকাজা

অগ্নিজল ও ছায়ার কারুকাজ

- মো: আবু তালেব

নিঃশব্দতার হাড়গোড় দিয়ে সাজানো এই যে শহর,
সেখানে আজ আর কোনো কোকিল ডাকে না;
শুধু অ্যালগরিদমের খাঁচায় বন্দি কিছু শুকনো পাতা
বাতাসের বদলে ইলেকট্রনের ঘর্ষণে ওড়ে।
আমরা যারা মাটির ঘ্রাণ ভুলে গেছি শতবর্ষ আগে,
তাদের নখদর্পণে এখন কেবল নীল আলো আর শূন্যতা।

অথচ একদা, এই ব্রহ্মাণ্ডের নাভিমূলে ছিল এক নদী—
যার নাম ছিল জীবন।
তার জলের স্বাদ ছিল লবণের মতো সত্য,
আর তার স্রোতে ভেসে যেত অগণিত জন্ম-মৃত্যুর স্তব।
আমি সেই নদীর তীরে বসে আজ এক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি লিখি,
যেখানে অক্ষরগুলো বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে—
ভিজিয়ে দেয় আমার কৃত্তিম চামড়া আর যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ড।

হে অনাগত, তুমি কি শুনতে পাও সেই ধ্বনি?
যেখানে তেতুলিয়া আর সুন্দরবনের কান্না মিশে একাকার;
যেখানে ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে মহাকাশের ছায়া পড়ে।
আমরা তো সেই ডুমুর গাছের ডাল, যা ফলহীন কিন্তু শিকড়বদ্ধ—
আমাদের বিনাশ নেই, শুধু রূপান্তর আছে;
আগুন থেকে জলে, জল থেকে ছায়ায়।

পরিশেষে আমরা সবাই এক একটি বিদীর্ণ নক্ষত্র,
যারা অন্ধকারের গভীরে আলো নয়—
অন্ধকারেরই গান গাই।
কারণ, পূর্ণতার চেয়ে দহনই বেশি সুন্দর,
আর প্রাপ্তির চেয়ে বিরহই আমাদের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।