কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

সন্ধ্যা নামলে এই শহর আর সূর্যের ওপর ভরসা রাখে না।
দোকানের সাইনবোর্ড, বহুতল ভবনের চূড়া আর শপিংমলের কাচজুড়ে
জ্বলে ওঠে লাল, নীল, বেগুনি আর কৃত্রিম হলুদ।
বিজ্ঞাপনগুলো মানুষকে ডাকছে—
‘এটা কেনো, ওটা পরো, তবেই তুমি সুখী হবে।’

এই নিয়ন আলো অন্ধকার তাড়াতে আসেনি;
এ এসেছে সত্যকে গোপন করতে।
আলোর এই চড়া প্রসাধন না থাকলে
দেখা যেত ফুটপাতের ভাঙা ম্যানহোল,
দেখা যেত প্লাস্টিকের তাঁবুতে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারগুলোর ধুলোবালি,
আর দেখা যেত—মানুষের চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা গভীর ক্লান্তি।

ঝলমলে বিলবোর্ডের ঠিক নিচেই
বসে আছে ঝালমুড়িওয়ালা।
তার তেলের টিনের ওপর এসে পড়ে নিয়ন নীল আভা।
মুহূর্তের জন্য মনে হয়, সেও বুঝি কোনো উৎসবের অংশ।
অথচ তার পকেটের খুচরো পয়সাগুলো
কালকের চালের দাম মেটাতে পারবে কি না,
সেই অন্ধকারের খবর নিয়ন গ্যাস জানে না।

কৃত্রিম আলো মানুষের ছায়াকেও ছোট করে দেয়।
আলো এত বেশি চারিদিক থেকে আসে যে,
নিজের ছায়াটাই আর স্পষ্ট খুঁজে পাওয়া যায় না।
মানুষ নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে
অন্যের তৈরি করা রঙের গোলকধাঁধায়।

আমরা এই চকচকে কাচ আর আলোর দিকে তাকিয়ে ভাবি—শহর এগোচ্ছে।
অথচ আলো যত তীব্র হয়,
মানুষের নিঃসঙ্গতা তত বেশি নগ্ন হয়ে পড়ে।
সবাই দেখছে শহরের এই উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন,
কিন্তু কেউ দেখছে না—
সবচেয়ে বেশি আলো যেখানে জ্বলছে,
তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে সবচেয়ে অন্ধকার এক ফাঁকা প্রান্তর।

নিয়ম আলো

বাসের কালো ধোঁয়া আর গরম সাইলেন্সারের ভেতর
দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি চাকা।
কেউ এগোচ্ছে না।
সিগন্যালের আলোটা কতবার লাল হলো আর সবুজ হলো—
তার কোনো হিসেব নেই।
লোহা আর টিনের এই স্তূপের ভেতর
আটকে পড়ে আছে হাজার হাজার মানুষের ব্যক্তিগত সময়।

গরমে গায়ের শার্ট ভিজে চিটচিটে হয়ে গেছে।
সিটের হাতলটা ধরে ঝুলতে থাকা মানুষটির
ঘাড়ের রগ ফুলে ওঠে ক্লান্তিতে।
তার চোখে কোনো ভবিষ্যৎ নেই;
তার সমস্ত ধ্যান এখন কেবল সামনের দুই গজ জায়গা খালি পাওয়ার দিকে।
মানুষ কীভাবে এমন একটা প্রাণীতে পরিণত হলো—
যেখানে প্রতিদিন তার জীবনের সেরা দুটো ঘণ্টা
উৎসর্গ করতে হয় কেবল স্থবিরতার বেদীতে?

পাশেই কাচঘেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি।
ভেতরে সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে একজন ক্ষমতাধর লোক,
অথচ তার গাড়িটাও একই পিচের রাস্তায় বন্দি।
এই জ্যামটাই হয়তো শহরের একমাত্র সাম্যবাদী জায়গা—
যেখানে কোটি টাকার গাড়ি আর দশ টাকার লোকাল বাস
একই নরকে দাঁড়িয়ে একসাথে ঘামে।

জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয় একটা কঙ্কালসার শিশু—
এক গোছা রজনীগন্ধা বিক্রির আশায়।
ফুলের তাজা গন্ধটা পিষে যায় বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডে।
কেউ ফুল কেনে না;
সবাই কেবল বিরক্তির সাথে জানালার কাচটা আরও শক্ত করে তুলে দেয়।

আমরা কোথায় পৌঁছাতে চেয়েছিলাম?
অফিসে? ঘরে? নাকি সফলতার কোনো সোনার পাহাড়ে?
চাকা যখন এক ইঞ্চিও ঘোরে না,
তখন বুকের ভেতর থেকে একটা নিস্তব্ধ প্রশ্ন উঠে আসে—
শহরের রাস্তাগুলো কি জ্যামে আটকে গেছে,
নাকি আমাদের জীবনটাই এই পিচের ওপর চিরতরে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল?

ট্রাফিক জ্যামের ক্লান্তি

দিনের বেলা মানুষ যা পাহারা দেয়,
রাত বারোটার পর তার সব দরজা খুলে যায়।
অফিসের মেকি হাসি, সামাজিক ভদ্রতা, সফলতার মুখোশ—
সব খুলে পড়ে থাকে খাটের নিচে, জুতোজোড়ার পাশে।
ঘরজুড়ে তখন শুধু একজন খাঁটি, পরাজিত মানুষ একা দাঁড়িয়ে থাকে।

চারিপাশে কোনো শব্দ নেই।
কেবল ফ্রিজের একটা দীর্ঘ একটানা গুঞ্জন
আর দূর রাজপথ দিয়ে হঠাৎ ছুটে যাওয়া কোনো একলা ট্রাকের চাকার ঘর্ষণ।
অন্ধকার কোনো কালো পর্দা নয়;
সে যেন এক বিশাল স্বচ্ছ কাচ—
যার সামনে দাঁড়ালে নিজের ফেলে আসা দিনগুলো
খুব নির্দয়ভাবে স্পষ্ট দেখা যায়।

ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করা হয়, আবার নিভিয়ে রাখা হয়।
নোটিফিকেশন প্যানেল সম্পূর্ণ ফাঁকা।
হাজারো মানুষের কনট্যাক্ট লিস্টে নাম আছে,
অথচ এই নিঃশব্দ প্রহরে
‘আমি ভালো নেই’—
এটুকু লিখে পাঠানোর মতো কোনো গন্তব্য পাওয়া যায় না।

স্মৃতিগুলো তখন চামড়ার নিচে পোকার মতো নড়াচড়া করে।
যে ভুলগুলোর কথা মানুষ ভুলে গেছে বলে দাবি করে দিনে,
তারা এসে বিছানার চারপাশে নিঃশব্দে বসে।
কাউকে একটু বেশি বিশ্বাস করার আক্ষেপ,
কাউকে ক্ষমা না করতে পারার অপরাধবোধ—
বাতাসটাকে এক নিমেষে বিষাক্ত করে তোলে।

মানুষ ঘুমোতে চায় ক্লান্তি মেটানোর জন্য নয়;
সে ঘুমোতে চায় নিজের উপস্থিতি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে।
কারণ সে জানে—
পৃথিবীর যে-কোনো কারাগার থেকে পালানো সহজ,
কিন্তু মধ্যরাতে নিজের একলা মনের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে
ভয়ংকর শাস্তি মানুষের জন্য আর কিছুই হতে পারে না।

মধ্যরাতের একাকীত্ব

কাচের টেবিলের ওপর
ধোঁয়া ওঠা একটা সাদা সিরামিকের কাপ।
ক্যাফের আবছা আলো আর মৃদু সুরের ভেতর
তার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াইশো টাকা।
অথচ এই তেতো তরলটুকুর জন্ম হয়েছিল
কোনো এক দূর পাহাড়ি ঢালে—
রোদে পোড়া যে শ্রমিকের হাতে কফির লাল ফলগুলো জমা হয়েছিল,
তার দিনের মজুরি হয়তো এর অর্ধেকও নয়।

কাপের ভেতর ছোট একটা ঘূর্ণি।
চিনি আর দুধের অনুপাতে মানুষ মেপে নেয় নিজের রুচি।
ঠিক সামনের মানুষটির চোখের দিকে না তাকিয়ে
আমরা কাপের কিনারে চোখ রাখি,
চামচ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় নাড়াচাড়া করি—
কেবল নীরবতার অস্বস্তিটুকু কাটানোর জন্য।

ধোঁয়া ধীরে ধীরে বাতাসে মিলিয়ে যায়।
গরমের তেজ কমে আসে,
যেমন কমে আসে প্রথম আলাপের উত্তেজনা।
যে কাপটা একটু আগেও হাতে উষ্ণতা দিচ্ছিল,
কথার শেষে সে পড়ে থাকে একেবারে ঠান্ডা, বিবর্ণ—
তলানিতে এক ফোঁটা কালচে দাগ নিয়ে।

ওয়েটার এসে নিপুণ হাতে কাপটা তুলে নেয় ট্রেতে।
সেখানে জমা হয় আরও অনেকগুলো খালি কাপ—
প্রতিটিতে অন্য কারও আঙুলের ছাপ,
অন্য কারও না-বলা কথার অবশেষ।

আমরা কত সম্পর্ক শেষ করে উঠে দাঁড়াই,
বিল মিটিয়ে বেরিয়ে যাই রাজপথের ভিড়ে।
আর টেবিলের ওপর পড়ে থাকে সেই উচ্ছিষ্ট চিনামাটি—
যেন দুটি মানুষের দূরত্বের
এক নীরব, চাক্ষুষ দলিল।

কফি কাপ

লোহার চাকা ঘোরে,
সিগন্যালের লাল-সবুজ বাতি নিয়ম করে জ্বলে আর নেভে।
এই শহরে কোনো কিছু থামে না—
না অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন,
না মেট্রোর গতি,
না ফুটপাতে শুয়ে থাকা একলা কুকুরটার শীতের কাঁপুনি।

সবাই ছুটছে।
কারও হাতে ফাইল, কারও কাঁধে ভারী ব্যাকপ্যাক,
কারও মুঠোয় চেপে ধরা বাসের হ্যান্ডেল।
মানুষের চোখগুলোর দিকে তাকালে ভয় হয়—
সেখানে কোনো রাগ নেই, কোনো কান্না নেই, কোনো বিস্ময় নেই;
আছে কেবল পরবর্তী স্টপেজে নেমে পড়ার এক অন্ধ তাড়া।

এখানে মাটির কোনো ঘ্রাণ নেই।
গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে ফুটপাতের কংক্রিটের খাঁচায় বন্দি হয়ে,
প্রতিটি পাতায় ধুলোর পুরু আস্তরণ—
ঠিক যেমন মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকে
বহুদিনের অপূর্ণ ক্লান্তির ছাই।

কাচের বহুতল ভবনে আলো জ্বলে মধ্যরাতেও।
ভেতরে বসে থাকা টাই-পরা যুবকটি
কিবোর্ডে আঙুল চালায় একটানা।
তার স্ক্রিনে হাজার কোটি টাকার লেনদেন ভেসে ওঠে,
অথচ ড্রয়ারে পড়ে থাকা প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কেনার টাকা
তার পকেটে থাকে না।

এই শহর কাউকে ভালোবাসে না,
আবার কাউকে তাড়িয়েও দেয় না।
সে কেবল মানুষের সমস্ত রক্ত আর ঘাম শুষে নেয়,
তারপর দিনশেষে তাকে উগরে দেয় একটা ছোট্ট অন্ধকার কামরায়—
যেখানে মানুষ বালিশে মাথা রেখে বুঝতে পারে:
সে আসলে বেঁচে নেই,
সে কেবল এই বিশাল কারখানার একটি সচল নাটবল্টু মাত্র।

যান্ত্রিক শহর

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4759
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1782
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1722
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1643
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1634
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1583
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1574
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1530
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1496
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1481
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1470
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1463
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1439
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1428
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1427
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1417
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1416
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1402
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1393
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1389
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
নিয়ম আলো শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 18
ট্রাফিক জ্যামের ক্লান্তি শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 15
মধ্যরাতের একাকীত্ব শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 19
কফি কাপ শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 17
যান্ত্রিক শহর শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 24
না বলা কথা শহর সমাচার মো: আবু তালেব 24
জীবনের ছোট পঙক্তি প্রেমের শায়েরী কবি ও কাব্য 23
দুই লাইনের কবিতা প্রেমের শায়েরী কবি ও কাব্য 22
ক্যাপশন শায়েরী প্রেমের শায়েরী কবি ও কাব্য 21
প্রেমের শায়েরী ২০২৬ প্রেমের শায়েরী কবি ও কাব্য 22
অচেনা দূরত্ব শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 24
নীরবতা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 28
স্মৃতির খাতা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 31
একাকী দুপুর শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 34
অশ্রুর জল শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 30
না-বলা ব্যথা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 30
চোখের ভাষা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 30
মায়াবী হাসি শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 30
প্রথম প্রেম শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 29
নীল আকাশ শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 36
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 47
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 49
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 44
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 44
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 43
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 31
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 42
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 45
ঋণ ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 54
মৃত্যুর পরও তুমি মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 38
অনুভূতির স্পর্শ স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 41
লিখিত, অলিখিত ঋণ লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 38
অশ্রু অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 52
কাটাবিহীন ঘড়ি কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 43
স্টেজ ফোর স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 43
তবুও তুমি আছো তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
মুগ্ধ বিষন্নতা মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 43
ভুলে যাবো ভুলে যাবো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 54
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found