কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

বৃষ্টি কি শুধুই আকাশ থেকে ঝরে ?
কিছু বৃষ্টি মেঘ, বজ্রপাত ছাড়াই তৈরি হয় বুকের ভিতরে
ভিজিয়ে দেয় স্মৃতি, দীর্ঘশ্বাস আর না বলা কথাগুলো অন্তরে

অঝোর ধারায় সেদিন নেমেছিল বৃষ্টি
কদমফুলে ভিজে বাতাসে, পুরানো গন্ধ কিছু হয়েছিল সৃষ্টি
ছাতা মেলে আনমনে ধীরলয়ে হাটছি
কিছুটা দুরে শাড়ীর আচল ভিজিয়ে, সবুজ চাদরে মেঘমালা রয়েছে দাড়িয়ে
আমি দুর থেকে অপলক চোখে তাকিয়ে দেখছি

অতঃপর নিঃশব্দে বাড়িয়েছি ছাতা
মিহি সুর আসে ভেসে, ’বৃষ্টি থেকে কিভাবে বাচাবে দু’টি মাথা’ ?
স্বগোক্তির মতো উচ্চারিত শব্দমালা, ’বৃষ্টি থামায় না ছাতা
মানুষের খুব কাছাকাছি এনে দেয় দু’টি মাথা’

ফিরে আসে, বহুবছর আগের কোন আলো
বৃষ্টির শব্দে কথারা যায় ভেঙ্গে
কখনো কখনো নিরাবতাই আনেক ভালো

বহু বছর আগে-----------------------------
দুরন্ত যেীবনে মিছিলের সিড়িতে
একটি কালো ছাতা ছিল মেঘমালার
তার ছায়ায় গাথা হয়েছিল কথামালার
বিশ্বাস জন্মেছিল সব পথ ভালোবাসাতেই মেশে
প্রবল স্রোতের টানে জীবন সেতু ভেসে যায় অবশেষে

শ্রাবণ সন্ধ্যার মতো বিষণ্ণ সুর, কন্ঠে মেঘমালার
’বাড়লে বয়স, বৃষ্টিকে আর ভয় নেই আমার
ভয় হয়, হাতে রেখে হাত নিয়েছিল শপথ
অথচ ইচ্ছে করেই হারিয়েছে সে পথ’

ধোয়া উঠা চা’য়ের কাপে ফিরে আসে অতীত
মেঘমালার জলজ চোখে বর্ষার বিপন্নতা-----------
’মানুষ ছাতা কেনে শরীর বাচাতে---
কিন্ত পারে না সে ছাতা, হৃদয় রাঙাতে’

পথ হয় শেষ, কিছু দুরে যায় দেখা --------
কর্দমাক্ত গলিতে মুক্ত বিহঙ্গের ফুটবল শেখা
শিশুদের আনন্দ কোলাহল থামাতে পারে না এই প্রবল বর্ষণ
ছাতা মাথায় মেঘ-বাদলের হৃদয়ে চলে অবিরাম উষ্ণ প্রস্রবণ।।


মো: মুস্তাফিজুর রহমান
ঢাকা ২৬.০৭.২০২৬

বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন

ওটা কেবলই কাঠের পাটাতন নয়,
ওটা লোভের রক্তাক্ত সিংহাসন!
ওখানে বসলে অন্ধ হয়ে যায় চোখ,
বধির হয়ে যায় মানুষের মন!
চেয়ারের কোনো ধর্ম থাকে না,
চেয়ার চেনে না নীতি কিংবা লাজ,
বাপের রক্তে পাড়া দিয়ে
ওই কুর্সিতে আজ উঠছে জল্লাদ-সমাজ!

আজ যে ওড়ায় শান্তির পতাকা,
কাল সে-ই আবার গিরগিটির মতো
বদলায় খোলস,
চেয়ার বাঁচাতে ভাই বেচে দেয়,
মা বেচে দেয় ক্ষমতালোভী
দালাল ও তোষামোদকারীর দল!
কখনও পরে ধর্মের মুখোশ,
কখনও আবার আওড়ায় প্রগতির মেকি বয়ান—
আসলে ওটা জল্লাদের আড্ডা,
মসনদ-পূজারী নরপশুদের বিষাক্ত দোকান!

কুর্সি টিকিয়ে রাখতে তোরা বুলেটে ঝাঁঝরা করিস
তারুণ্যের তাজা বুক,
বুকের ওপর বুট চেপে ধরে কেড়ে নিস অধিকার,
কেড়ে নিস সুখ!
ওই চার পায়ার পায়ুপথে বাঁধা
কোটি কোটি মানুষের গুমের শিকল,
সিংহাসনের অহংকারে ভাসিয়ে দিলি
গোটা জনপদের রক্ত-ঢল!

শুন ওরে কুর্সির কীট,
শুন ওরে অন্ধ ক্ষমতার রক্তচোষা পিশাচের দল—
জনতা যখন রাজপথে নামে,
টলে যায় স্বৈরাচারের বর্ম আর বুলেটের বল!
আমাদের হাত এখন আর শুধু হাত নয়—
একেকটা হাতুড়ি আর আগুনের ফণা,
ভেঙে গুঁড়িয়ে ধূলিসাৎ করে দেব
তোদের ওই কাগুজে মসনদের সীমানা!

কুর্সি পুড়িয়ে কাঠকয়লা হবে,
রাজপথে জ্বলবে
গণঅভ্যুত্থানের লাল মশাল,
শহীদের রক্তের কসম খেয়ে
ছিনিয়ে আনব সমতার নতুন সকাল!
যে চেয়ারে বসে খুন করিস সত্য,
যে চেয়ারে বসে চুষে খাস
শ্রমিকের ঘাম—
সেই কুর্সির বুক চিরে
আজ রাজপথে লেখা হবে
চূড়ান্ত বিপ্লবের নাম!

চেয়ারের কোন ধর্ম নেই

পিচঢালা রাস্তার পাশে নোংরা ড্রেনের কিনারে
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে একটা চটি—
রক্তের দাগ শুকিয়ে কালচে হয়ে যাওয়া বাঁ পায়ের
একপাটি ধুলোমাখা জুতো।
পাশেই ড্রিফট দেওয়া কালো কাচের
মাইক্রোবাসের পোড়া টায়ারের দাগ,
আর বাতাসে ভনভন করছে
ক্ষমতার পোষা নোংরা মাছিদের উল্লাস।

কোথায় নিয়ে গেলি ছেলেটাকে?
কোন গোপন অন্ধকূপের স্যাঁতসেঁতে সিমেন্টে
এখন তার নখ উপড়ে নেওয়া হচ্ছে?
কোন কসাইয়ের ভারী বুটের লাথিতে তার
পাঁজরের হাড়গুলো মটমট করে ভাঙছে?
কার নির্দেশে ইলেকট্রিক শক দিয়ে
স্তব্ধ করা হলো তার তপ্ত কণ্ঠনালী?
কোন টেবিলে বসে
লাল কালির কলমে লিখে দেওয়া হলো—
"বেওয়ারিশ, অজ্ঞাত, নিখোঁজ"?

ওদিকে এক চিলতে ভাঙা ঘরের চৌকাঠে বসে
একটা বুড়ি চোখ পথ চেয়ে চেয়ে শুকিয়ে কাঠ।
অ্যালুমিনিয়ামের থালায় জুড়িয়ে যাওয়া
পান্তাভাত পচে গন্ধ বেরোচ্ছে,
আর শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ড্রয়িংরুমে বসে
কিছু নরপশু সুরা আর কাবাব চিবিয়ে
টেলিভিশনের পর্দায় ভাষণ দিচ্ছে—
"দেশে চরম শান্তি ও আইনের শাসন বিরাজ করছে!"

থুতু ফেলি তোদের এই চামড়া-বাঁচানো
কাগুজে গণতন্ত্রের মুখে!
তোদের মেডেল,
তোদের উর্দি,
তোদের মসনদের খুঁটিতে লেগে আছে
যুবকের কাঁচা মাংসের আঁশ!
তোরা ভেবেছিস লাশ গুম করে দিলেই
মুছে যাবে অপরাধের মানচিত্র?
ভেবেছিস ভয় আর মৃত্যুর কারবার দিয়ে
আজীবন টিকবে এই শকুনদের রাজত্ব?

শুন ওরে গোপন বধ্যভূমির জল্লাদের দল—
রাস্তার ধুলোয় পড়ে থাকা
ওই একটা নিঃসঙ্গ জুতো কিন্তু বোবা নয়।
ওটা একটা জ্যান্ত টাইমবোমা!
লক-আপের তালা ভেঙে ওই জুতোটাই
এখন লাথি মারতে মারতে ধেয়ে আসছে
তোদের কাচের মহলের দিকে।

যেদিন কোটি কোটি গুম হওয়া মানুষের
পদশব্দ একসাথে নামবে রাজপথে—
তোমাদের এই সাজানো সিংহাসনের চোয়াল পিষে
রক্ত বের করে নেবে ওই একপাটি নিখোঁজ জুতো!

একটি নিখোঁজ জুতো

নোনাধরা ইটে ড্রামভর্তি আঠা মেখে যায়
একদল রাতের হায়না,
শহরের পিঠে সেঁটে দেয় মুখ—
যে মুখের কোনো লজ্জা থাকে না!
যে দেয়ালে ছিল বুলেটের দাগ,
যে দেয়ালে লেখা ছিল বিদ্রোহের গান,
সেখানেই আজ হাসছে জল্লাদ,
গলায় ঝুলিয়ে কাগুজে সম্মান।

পোস্টারের নিচে চাপা পড়ে থাকে
ধর্ষিত কোনো বোনের আর্তনাদ,
পোস্টারে ঢেকেছে অনাহারী চোখ,
গুম হয়ে যাওয়া ভাইয়ের খাদ।
হাতজোড় করা প্লাস্টিক-মুখ,
পেছনে লুকানো চুরির লোভ—
কাগজের পিঠে কাগজ জমিয়ে
ঢাকতে চায় কি মানুষের ক্ষোভ?

বাতাসে এখনো পোড়া বারুদ,
বাতাসে এখনো লাশের গন্ধ ভাসে,
আর তোদের ওই চকচকে ছবি
শকুনের মতো দাঁত মেলে হাসে!
ভাতের থালায় ঝুলিয়ে দিয়েছিস
মিথ্যে গণতন্ত্রের ফাঁদ,
কাগুজে হরফে উন্নয়ন লিখে
কিনতে চেয়েছিস গোটা দেশটার চাঁদ!

শোনো ওরে লোভী দালালচক্র,
শোনো ওরে বিষাক্ত কীটের দল—
দেয়াল কিন্তু পোস্টার নয়,
দেয়াল মানেই প্রতিবাদের সম্বল!
যেদিন এই শহরের ইট-পাঁজর থেকে
আঠার চামড়া যাবে খসে,
ছিঁড়ে ফেলা হবে তোদের ওই মুখ,
জ্বলবে আগুন রাজপথের রোষে!

তোদের কাগুজে কাফন জ্বালিয়ে বুক পেতে দেবে
মিছিলের একঝাঁক প্রাণ,
দেয়ালের রক্ত ধুয়ে দিয়ে
লিখে রেখে যাব আমি মুক্তির গান!

পোস্টারে ঢাকা দেয়াল

শাট আপ! একদম চুপ!
দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে,
আর তার ভেতর থেকে উঁকি মারছে
রাজার নোংরা কান।
টেলিফোনের তারে ঝুলছে
গোপন পুলিশের শুকনো লালা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
রিকশার প্যাডেল,
বাসের হ্যান্ডেল—
শহরের প্রতিটা খাঁজে গুঁজে দেওয়া হয়েছে
আড়িপাতার মাইক্রোফোন।

ফিসফিস করিস না!
তোর পেটের ভেতর খিদে ডাকলেও রাজা ভাবে— বিপ্লবের সাইরেন বাজল!
একটা মরা টিকটিকি খসে পড়লে
কেঁপে ওঠে সিংহাসনের পায়া,
এত সৈন্য, এত জলকামান,
এত বুলেটপ্রুফ চামড়া—
তবু রাতে ঘুম হয় না,
ঘুমের ঘোরে দাঁত কিড়মিড় করে স্বৈরাচার:
"কে ওখানে?
কে হাসল?
কার শ্বাসের শব্দ এত ভারী?"

জিভে সেলাই কর,
চোখে বাঁধ কালো ঠুলি।
খবরের কাগজের সাদা পাতায় ছেপে দে
রাজার বিষ্ঠার স্তুতিগান!
যদি বলিস 'ভাত নেই'—
তুই দেশদ্রোহী,
যদি বলিস 'শ্বাস নিতে পারছি না'—
তোর পিঠের চামড়ায় আঁকা হবে
ক্রসফায়ারের মানচিত্র।
গুমঘরের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে শুয়ে থাকা
নিখোঁজ খুলিগুলো জানে,
চুপ করে লাশ হয়ে থাকাটাই এই বধ্যভূমির
একমাত্র আইন।

কিন্তু কতক্ষণ চেপে রাখবি
এই পচা ড্রেনের মিথেন গ্যাস?
রাজা যত কান পাতবে,
বাতাসে তত বাড়বে গলিত সিসার গন্ধ।
শোন ওরে সিংহাসনের রক্তচোষা বাদুড়—
কান খুলে ভালো করে শোন!
তোর বুলেটপ্রুফ মহলের নিচে এখন ফুটছে
কোটি কোটি ক্ষুধার্তের অভিশাপ।

এবার ড্রেন থেকে,
গুমঘর থেকে,
বুলেটে ঝাঁঝরা রাজপথ থেকে
উঠে আসছে লক্ষ লক্ষ কেটে ফেলা জিভ!
তারা আর ফিসফিস করবে না,
সোজা তোর কানের ভেতর ঢুকিয়ে দেবে
গণঅভ্যুত্থানের বারুদ-ঠাসা লাল আঙুল!

চুপ কর, রাজা শুনছে

বাছাইকৃত কবিতা

বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন

- Md. Mustafizur Rahman

বৃষ্টি কি শুধুই আকাশ থেকে ঝরে ?
কিছু বৃষ্টি মেঘ, বজ্রপাত ছাড়াই তৈরি হয় বুকের ভিতরে
ভিজিয়ে দেয় স্মৃতি, দীর্ঘশ্বাস আর না বলা কথাগুলো অন্তরে

অঝোর ধারায় সেদিন নেমেছিল বৃষ্টি
কদমফুলে ভিজে বাতাসে, পুরানো গন্ধ কিছু হয়েছিল সৃষ্টি
ছাতা মেলে আনমনে ধীরলয়ে হাটছি
কিছুটা দুরে শাড়ীর আচল ভিজিয়ে, সবুজ চাদরে মেঘমালা রয়েছে দাড়িয়ে
আমি দুর থেকে অপলক চোখে তাকিয়ে দেখছি

অতঃপর নিঃশব্দে বাড়িয়েছি ছাতা
মিহি সুর আসে ভেসে, ’বৃষ্টি থেকে কিভাবে বাচাবে দু’টি মাথা’ ?
স্বগোক্তির মতো উচ্চারিত শব্দমালা, ’বৃষ্টি থামায় না ছাতা
মানুষের খুব কাছাকাছি এনে দেয় দু’টি মাথা’

ফিরে আসে, বহুবছর আগের কোন আলো
বৃষ্টির শব্দে কথারা যায় ভেঙ্গে
কখনো কখনো নিরাবতাই আনেক ভালো

বহু বছর আগে-----------------------------
দুরন্ত যেীবনে মিছিলের সিড়িতে
একটি কালো ছাতা ছিল মেঘমালার
তার ছায়ায় গাথা হয়েছিল কথামালার
বিশ্বাস জন্মেছিল সব পথ ভালোবাসাতেই মেশে
প্রবল স্রোতের টানে জীবন সেতু ভেসে যায় অবশেষে

শ্রাবণ সন্ধ্যার মতো বিষণ্ণ সুর, কন্ঠে মেঘমালার
’বাড়লে বয়স, বৃষ্টিকে আর ভয় নেই আমার
ভয় হয়, হাতে রেখে হাত নিয়েছিল শপথ
অথচ ইচ্ছে করেই হারিয়েছে সে পথ’

ধোয়া উঠা চা’য়ের কাপে ফিরে আসে অতীত
মেঘমালার জলজ চোখে বর্ষার বিপন্নতা-----------
’মানুষ ছাতা কেনে শরীর বাচাতে---
কিন্ত পারে না সে ছাতা, হৃদয় রাঙাতে’

পথ হয় শেষ, কিছু দুরে যায় দেখা --------
কর্দমাক্ত গলিতে মুক্ত বিহঙ্গের ফুটবল শেখা
শিশুদের আনন্দ কোলাহল থামাতে পারে না এই প্রবল বর্ষণ
ছাতা মাথায় মেঘ-বাদলের হৃদয়ে চলে অবিরাম উষ্ণ প্রস্রবণ।।


মো: মুস্তাফিজুর রহমান
ঢাকা ২৬.০৭.২০২৬
বিস্তারিত...

চেয়ারের কোন ধর্ম নেই

- মো: আবু তালেব

ওটা কেবলই কাঠের পাটাতন নয়,
ওটা লোভের রক্তাক্ত সিংহাসন!
ওখানে বসলে অন্ধ হয়ে যায় চোখ,
বধির হয়ে যায় মানুষের মন!
চেয়ারের কোনো ধর্ম থাকে না,
চেয়ার চেনে না নীতি কিংবা লাজ,
বাপের রক্তে পাড়া দিয়ে
ওই কুর্সিতে আজ উঠছে জল্লাদ-সমাজ!

আজ যে ওড়ায় শান্তির পতাকা,
কাল সে-ই আবার গিরগিটির মতো
বদলায় খোলস,
চেয়ার বাঁচাতে ভাই বেচে দেয়,
মা বেচে দেয় ক্ষমতালোভী
দালাল ও তোষামোদকারীর দল!
কখনও পরে ধর্মের মুখোশ,
কখনও আবার আওড়ায় প্রগতির মেকি বয়ান—
আসলে ওটা জল্লাদের আড্ডা,
মসনদ-পূজারী নরপশুদের বিষাক্ত দোকান!

কুর্সি টিকিয়ে রাখতে তোরা বুলেটে ঝাঁঝরা করিস
তারুণ্যের তাজা বুক,
বুকের ওপর বুট চেপে ধরে কেড়ে নিস অধিকার,
কেড়ে নিস সুখ!
ওই চার পায়ার পায়ুপথে বাঁধা
কোটি কোটি মানুষের গুমের শিকল,
সিংহাসনের অহংকারে ভাসিয়ে দিলি
গোটা জনপদের রক্ত-ঢল!

শুন ওরে কুর্সির কীট,
শুন ওরে অন্ধ ক্ষমতার রক্তচোষা পিশাচের দল—
জনতা যখন রাজপথে নামে,
টলে যায় স্বৈরাচারের বর্ম আর বুলেটের বল!
আমাদের হাত এখন আর শুধু হাত নয়—
একেকটা হাতুড়ি আর আগুনের ফণা,
ভেঙে গুঁড়িয়ে ধূলিসাৎ করে দেব
তোদের ওই কাগুজে মসনদের সীমানা!

কুর্সি পুড়িয়ে কাঠকয়লা হবে,
রাজপথে জ্বলবে
গণঅভ্যুত্থানের লাল মশাল,
শহীদের রক্তের কসম খেয়ে
ছিনিয়ে আনব সমতার নতুন সকাল!
যে চেয়ারে বসে খুন করিস সত্য,
যে চেয়ারে বসে চুষে খাস
শ্রমিকের ঘাম—
সেই কুর্সির বুক চিরে
আজ রাজপথে লেখা হবে
চূড়ান্ত বিপ্লবের নাম!
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4649
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1718
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1671
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1596
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1585
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1527
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1517
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1477
রমণী মোঃ আবু তালেব 1450
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1423
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1422
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1421
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1376
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1376
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1375
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1371
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1369
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1352
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1344
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1337
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
চেয়ারের কোন ধর্ম নেই মো: আবু তালেব 27
একটি নিখোঁজ জুতো মো: আবু তালেব 22
পোস্টারে ঢাকা দেয়াল মো: আবু তালেব 23
চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 22
ক্ষিদে মো: আবু তালেব 34
রাজপথের থুতু মো: আবু তালেব 47
নগরীর নীরব মানুষ মো: আবু তালেব 31
যে সত্য বলা যায় না মো: আবু তালেব 31
মুখোশের ভিতরে মুখ মোঃ আবু তালেব 34
অন্যের চোখে আমি মোঃ আবু তালেব 34
সবাই আমাকে চেনে মোঃ আবু তালেব 36
পরিচয়ের কারাগার মোঃ আবু তালেব 56
যে মানুষটি হাসছিল মোঃ আবু তালেব 42
দরিদ্রের জামা মোঃ আবু তালেব 56
হাসির শহর মোঃ আবু তালেব 58
সভ্য মানুষেরা মোঃ আবু তালেব 55
মুখের নিচে মুখ মোঃ আবু তালেব 57
ভালোবাসার শেষ দরজা মোঃ আবু তালেব 57
তোমাকে ছাড়া তোমার কাছে মোঃ আবু তালেব 56
যে প্রেম কথা বলেনি মোঃ আবু তালেব 43
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন Md. Mustafizur Rahman 15
কর্পোরেট কালচার Md. Mustafizur Rahman 41
শব্দের সুনামি Md. Mustafizur Rahman 36
এ শহর আমার নয় Md. Mustafizur Rahman 39
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 48
কবির কলমে নবির ছবি কবি ফেরদাউস সরকার 66
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 59
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 84
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 101
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 78
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 94
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 95
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 98
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 138
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 152
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 168
ভালো মানুষ ইবনে আলী 277
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 158
শিকল ইবনে আলী 249
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 295
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে