কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

টিনের চালার নিচে ফুটন্ত কেটলির ধোঁয়া,
কনডেন্সড মিল্কের খালি টিন
আর কাচের ভাঙা বৈয়াম—
এখানে এসে বসলে আস্ত একটা দেশের
নাড়ির স্পন্দন শোনা যায়।
পাঁচ টাকার লাল চায়ে একটা মৃদু চুমুক দিয়ে
ক্লান্ত রিকশাওয়ালা যখন উদাস চোখে বলে—
“দেশটারে শ্যাষ কইরা দিলো রে ভাই!”
তখন কোনো কাগুজে পরিসংখ্যানের প্রয়োজন পড়ে না,
বোঝা যায় জিডিপির মেকি চাদরের নিচে
কতখানি পুঁজ জমছে!

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কাচের স্টুডিওতে বসে
যখন টাই-পরা সুশীলরা চামচামির ব্যাকরণ সাজায়,
তখন এই আধভাঙা কাঠের বেঞ্চে বসে
দিনমজুর, টিউশনি-হারানো বেকার তরুণ আর কারখানার শ্রমিক
খবরের কাগজের ভাঁজ খুলে বের করে আনে আসল সত্য।
এখানে কোনো সেন্সরশিপ খাটে না,
এখানে কোনো তোষামোদের মেকআপ নেই;
চায়ের কাপের টুংটাং শব্দের ভেতর এরা চিনে ফেলে
কার পকেটে কার রক্ত,
কোন লুটেরার সুইস ব্যাংকে কার ভাতের টাকা!

হয়তো ওরা একটু নামিয়ে কথা বলে,
কারণ পাশের প্লাস্টিকের টুলে কান খাড়া করে বসে থাকে ক্ষমতার কোনো চ্যালা,
তবুও কথা তো থামে না!
কেরোসিনের স্টোভের আগুনের চেয়েও বেশি তাপে
এখানে প্রতি মুহূর্তে ফুটতে থাকে বঞ্চিত মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।
চাল-ডাল-তেলের আগুন দাম, ভোট চুরির নির্লজ্জ তামাশা,
আর রাতের আঁধারে গুম হয়ে যাওয়া
ভাইয়ের হাহাকার—
সব এসে এক মোহনায় মেশে এই ধোঁয়াটে আড্ডায়।

এই টং দোকান কোনো সাধারণ আস্তানা নয়,
এটা হলো জনতার আসল আদালত,
অলিখিত এক ব্যালট বাক্স!
যেখানে শাসকের গালভরা মিথ্যে ভাষণকে
চুবিয়ে খেয়ে ফেলা হয় বাসি টোস্ট বিস্কুটের মতো!
যেখানে ভয়ের চাবুককে তাচ্ছিল্য করে
রক্তচক্ষুর সামনে উড়িয়ে দেওয়া হয়
বিড়ির ধোঁয়ার মতো একরাশ অবজ্ঞা!

শোনো ওহে কাচের মহলে বসে থাকা অন্ধ শাসকেরা—
তোমাদের তোষামোদকারীদের ড্রয়িংরুম আসল বাংলাদেশ নয়!
আসল বাংলাদেশ জেগে থাকে মধ্যরাতে,
ফুটপাতের এই টং দোকানে।
যেদিন এই চায়ের কাপের ঝড়
রাস্তার অ্যাসফল্ট কাঁপিয়ে গণমিছিলে রূপ নেবে—
সেদিন তোমাদের ওই কোটি টাকার মসনদ
টংয়ের ভাঙা কাঠের তক্তার মতোই
গুঁড়িয়ে ভেঙে পড়বে!

টং দোকানের বাংলাদেশ

তালাবদ্ধ কারখানার গেটে তখন গনগনে আগুনের লেলিহান শিখা,
বাতাসে পোড়া কাঁচা মাংসের গন্ধ, আর শত শত শ্রমিকের আর্তনাদের শেষ চিৎকার।
মালিক পালিয়েছে পেছনের গোপন দরজায়, দামি কাচের গাড়িতে চেপে—
আর ভেতরে কয়লা হলো শত শত তাজা প্রাণ, হাজারটা স্বপ্ন মৃত্যুর খাঁচায় কেঁপে!

তোমাদের চকচকে শপিংমলে ঝোলানো বিদেশি ব্র্যান্ডের রঙিন জামা,
তার প্রতিটি সুতোয় লেপ্টে আছে অনাহারী কিশোরীর রক্ত আর শেষ নিঃশ্বাসের দাম!
তোমরা তাকে নাম দিয়েছ ‘অগ্রগতি’, নাম দিয়েছ ‘উন্নয়নের মহোৎসব’—
অথচ ধসে পড়া কংক্রিটের নিচে চিরতরে পিষে গেল একটি জীবন্ত জাতির শৈশব!

কালো হয়ে যাওয়া অঙ্গারের স্তূপ থেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো চেনা মুখ,
একটি গলিত ধাতব টোকেন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি মুনাফাখোরদের লোভের চাবুক।
কাফন জোটেনি ওদের কপালে, জোটেনি এক টুকরো পরিচ্ছন্ন সাদা কাপড়—
কালো পলিথিনে মুড়ে বেওয়ারিশ গর্তে পুঁতে দিল রাষ্ট্র, যেন ওরা মানুষ নয়, সস্তা জঞ্জাল আর পাথর!

শোনো হে টাই-পরা নরখাদকের দল, শোনো হে সিংহাসনের তোষামোদকারী শ্রেণী—
তোমাদের ব্যাংকের ভল্টে রাখা প্রতিটি নোটের ভাঁজ থেকে ভেসে আসে পোড়া লাশের হাতছানি!
তোমাদের অট্টালিকার ভিত দাঁড়িয়ে আছে শ্রমিকের পিষে যাওয়া পাঁজরের হাড়ের ওপর,
বিচারহীনতার এই বধ্যভূমিতে তোমরা কিনে নিয়েছ আইন, কিনে নিয়েছ আদালত আর শহর!

মনে রেখো, কাফন ছাড়া লাশগুলো কিন্তু কখনো ইতিহাস থেকে মুছে যায় না।
ওরা মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন অভিশাপের স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়,
ধ্বংসস্তূপের জমাট রক্ত ফুঁড়ে জেগে ওঠে একেকটা অপঘাতে মরা রুদ্র প্রাণ!

যেদিন এই কয়লা হওয়া হাতগুলো একজোট হয়ে শোষণের সব চাকা থামিয়ে দেবে,
যেদিন কাফনহীন কোটি মজুরের দীর্ঘশ্বাস রাজপথের দখল নেবে—
সেদিন তোদের মুনাফার গদি তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে ছাই হবে,
রক্তের পাই টু পাই হিসেব বুঝে নেবে মেহনতী মানুষের অপ্রতিরোধ্য বিপ্লব!

কাফন ছাড়া লাশ

বৃষ্টি কি শুধুই আকাশ থেকে ঝরে ?
কিছু বৃষ্টি মেঘ, বজ্রপাত ছাড়াই তৈরি হয় বুকের ভিতরে
ভিজিয়ে দেয় স্মৃতি, দীর্ঘশ্বাস আর না বলা কথাগুলো অন্তরে

অঝোর ধারায় সেদিন নেমেছিল বৃষ্টি
কদমফুলে ভিজে বাতাসে, পুরানো গন্ধ কিছু হয়েছিল সৃষ্টি
ছাতা মেলে আনমনে ধীরলয়ে হাটছি
কিছুটা দুরে শাড়ীর আচল ভিজিয়ে, সবুজ চাদরে মেঘমালা রয়েছে দাড়িয়ে
আমি দুর থেকে অপলক চোখে তাকিয়ে দেখছি

অতঃপর নিঃশব্দে বাড়িয়েছি ছাতা
মিহি সুর আসে ভেসে, ’বৃষ্টি থেকে কিভাবে বাচাবে দু’টি মাথা’ ?
স্বগোক্তির মতো উচ্চারিত শব্দমালা, ’বৃষ্টি থামায় না ছাতা
মানুষের খুব কাছাকাছি এনে দেয় দু’টি মাথা’

ফিরে আসে, বহুবছর আগের কোন আলো
বৃষ্টির শব্দে কথারা যায় ভেঙ্গে
কখনো কখনো নিরাবতাই আনেক ভালো

বহু বছর আগে-----------------------------
দুরন্ত যেীবনে মিছিলের সিড়িতে
একটি কালো ছাতা ছিল মেঘমালার
তার ছায়ায় গাথা হয়েছিল কথামালার
বিশ্বাস জন্মেছিল সব পথ ভালোবাসাতেই মেশে
প্রবল স্রোতের টানে জীবন সেতু ভেসে যায় অবশেষে

শ্রাবণ সন্ধ্যার মতো বিষণ্ণ সুর, কন্ঠে মেঘমালার
’বাড়লে বয়স, বৃষ্টিকে আর ভয় নেই আমার
ভয় হয়, হাতে রেখে হাত নিয়েছিল শপথ
অথচ ইচ্ছে করেই হারিয়েছে সে পথ’

ধোয়া উঠা চা’য়ের কাপে ফিরে আসে অতীত
মেঘমালার জলজ চোখে বর্ষার বিপন্নতা-----------
’মানুষ ছাতা কেনে শরীর বাচাতে---
কিন্ত পারে না সে ছাতা, হৃদয় রাঙাতে’

পথ হয় শেষ, কিছু দুরে যায় দেখা --------
কর্দমাক্ত গলিতে মুক্ত বিহঙ্গের ফুটবল শেখা
শিশুদের আনন্দ কোলাহল থামাতে পারে না এই প্রবল বর্ষণ
ছাতা মাথায় মেঘ-বাদলের হৃদয়ে চলে অবিরাম উষ্ণ প্রস্রবণ।।


মো: মুস্তাফিজুর রহমান
ঢাকা ২৬.০৭.২০২৬

বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন

ওটা কেবলই কাঠের পাটাতন নয়,
ওটা লোভের রক্তাক্ত সিংহাসন!
ওখানে বসলে অন্ধ হয়ে যায় চোখ,
বধির হয়ে যায় মানুষের মন!
চেয়ারের কোনো ধর্ম থাকে না,
চেয়ার চেনে না নীতি কিংবা লাজ,
বাপের রক্তে পাড়া দিয়ে
ওই কুর্সিতে আজ উঠছে জল্লাদ-সমাজ!

আজ যে ওড়ায় শান্তির পতাকা,
কাল সে-ই আবার গিরগিটির মতো
বদলায় খোলস,
চেয়ার বাঁচাতে ভাই বেচে দেয়,
মা বেচে দেয় ক্ষমতালোভী
দালাল ও তোষামোদকারীর দল!
কখনও পরে ধর্মের মুখোশ,
কখনও আবার আওড়ায় প্রগতির মেকি বয়ান—
আসলে ওটা জল্লাদের আড্ডা,
মসনদ-পূজারী নরপশুদের বিষাক্ত দোকান!

কুর্সি টিকিয়ে রাখতে তোরা বুলেটে ঝাঁঝরা করিস
তারুণ্যের তাজা বুক,
বুকের ওপর বুট চেপে ধরে কেড়ে নিস অধিকার,
কেড়ে নিস সুখ!
ওই চার পায়ার পায়ুপথে বাঁধা
কোটি কোটি মানুষের গুমের শিকল,
সিংহাসনের অহংকারে ভাসিয়ে দিলি
গোটা জনপদের রক্ত-ঢল!

শুন ওরে কুর্সির কীট,
শুন ওরে অন্ধ ক্ষমতার রক্তচোষা পিশাচের দল—
জনতা যখন রাজপথে নামে,
টলে যায় স্বৈরাচারের বর্ম আর বুলেটের বল!
আমাদের হাত এখন আর শুধু হাত নয়—
একেকটা হাতুড়ি আর আগুনের ফণা,
ভেঙে গুঁড়িয়ে ধূলিসাৎ করে দেব
তোদের ওই কাগুজে মসনদের সীমানা!

কুর্সি পুড়িয়ে কাঠকয়লা হবে,
রাজপথে জ্বলবে
গণঅভ্যুত্থানের লাল মশাল,
শহীদের রক্তের কসম খেয়ে
ছিনিয়ে আনব সমতার নতুন সকাল!
যে চেয়ারে বসে খুন করিস সত্য,
যে চেয়ারে বসে চুষে খাস
শ্রমিকের ঘাম—
সেই কুর্সির বুক চিরে
আজ রাজপথে লেখা হবে
চূড়ান্ত বিপ্লবের নাম!

চেয়ারের কোন ধর্ম নেই

পিচঢালা রাস্তার পাশে নোংরা ড্রেনের কিনারে
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে একটা চটি—
রক্তের দাগ শুকিয়ে কালচে হয়ে যাওয়া বাঁ পায়ের
একপাটি ধুলোমাখা জুতো।
পাশেই ড্রিফট দেওয়া কালো কাচের
মাইক্রোবাসের পোড়া টায়ারের দাগ,
আর বাতাসে ভনভন করছে
ক্ষমতার পোষা নোংরা মাছিদের উল্লাস।

কোথায় নিয়ে গেলি ছেলেটাকে?
কোন গোপন অন্ধকূপের স্যাঁতসেঁতে সিমেন্টে
এখন তার নখ উপড়ে নেওয়া হচ্ছে?
কোন কসাইয়ের ভারী বুটের লাথিতে তার
পাঁজরের হাড়গুলো মটমট করে ভাঙছে?
কার নির্দেশে ইলেকট্রিক শক দিয়ে
স্তব্ধ করা হলো তার তপ্ত কণ্ঠনালী?
কোন টেবিলে বসে
লাল কালির কলমে লিখে দেওয়া হলো—
"বেওয়ারিশ, অজ্ঞাত, নিখোঁজ"?

ওদিকে এক চিলতে ভাঙা ঘরের চৌকাঠে বসে
একটা বুড়ি চোখ পথ চেয়ে চেয়ে শুকিয়ে কাঠ।
অ্যালুমিনিয়ামের থালায় জুড়িয়ে যাওয়া
পান্তাভাত পচে গন্ধ বেরোচ্ছে,
আর শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ড্রয়িংরুমে বসে
কিছু নরপশু সুরা আর কাবাব চিবিয়ে
টেলিভিশনের পর্দায় ভাষণ দিচ্ছে—
"দেশে চরম শান্তি ও আইনের শাসন বিরাজ করছে!"

থুতু ফেলি তোদের এই চামড়া-বাঁচানো
কাগুজে গণতন্ত্রের মুখে!
তোদের মেডেল,
তোদের উর্দি,
তোদের মসনদের খুঁটিতে লেগে আছে
যুবকের কাঁচা মাংসের আঁশ!
তোরা ভেবেছিস লাশ গুম করে দিলেই
মুছে যাবে অপরাধের মানচিত্র?
ভেবেছিস ভয় আর মৃত্যুর কারবার দিয়ে
আজীবন টিকবে এই শকুনদের রাজত্ব?

শুন ওরে গোপন বধ্যভূমির জল্লাদের দল—
রাস্তার ধুলোয় পড়ে থাকা
ওই একটা নিঃসঙ্গ জুতো কিন্তু বোবা নয়।
ওটা একটা জ্যান্ত টাইমবোমা!
লক-আপের তালা ভেঙে ওই জুতোটাই
এখন লাথি মারতে মারতে ধেয়ে আসছে
তোদের কাচের মহলের দিকে।

যেদিন কোটি কোটি গুম হওয়া মানুষের
পদশব্দ একসাথে নামবে রাজপথে—
তোমাদের এই সাজানো সিংহাসনের চোয়াল পিষে
রক্ত বের করে নেবে ওই একপাটি নিখোঁজ জুতো!

একটি নিখোঁজ জুতো

বাছাইকৃত কবিতা

টং দোকানের বাংলাদেশ

- মো: আবু তালেব

টিনের চালার নিচে ফুটন্ত কেটলির ধোঁয়া,
কনডেন্সড মিল্কের খালি টিন
আর কাচের ভাঙা বৈয়াম—
এখানে এসে বসলে আস্ত একটা দেশের
নাড়ির স্পন্দন শোনা যায়।
পাঁচ টাকার লাল চায়ে একটা মৃদু চুমুক দিয়ে
ক্লান্ত রিকশাওয়ালা যখন উদাস চোখে বলে—
“দেশটারে শ্যাষ কইরা দিলো রে ভাই!”
তখন কোনো কাগুজে পরিসংখ্যানের প্রয়োজন পড়ে না,
বোঝা যায় জিডিপির মেকি চাদরের নিচে
কতখানি পুঁজ জমছে!

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কাচের স্টুডিওতে বসে
যখন টাই-পরা সুশীলরা চামচামির ব্যাকরণ সাজায়,
তখন এই আধভাঙা কাঠের বেঞ্চে বসে
দিনমজুর, টিউশনি-হারানো বেকার তরুণ আর কারখানার শ্রমিক
খবরের কাগজের ভাঁজ খুলে বের করে আনে আসল সত্য।
এখানে কোনো সেন্সরশিপ খাটে না,
এখানে কোনো তোষামোদের মেকআপ নেই;
চায়ের কাপের টুংটাং শব্দের ভেতর এরা চিনে ফেলে
কার পকেটে কার রক্ত,
কোন লুটেরার সুইস ব্যাংকে কার ভাতের টাকা!

হয়তো ওরা একটু নামিয়ে কথা বলে,
কারণ পাশের প্লাস্টিকের টুলে কান খাড়া করে বসে থাকে ক্ষমতার কোনো চ্যালা,
তবুও কথা তো থামে না!
কেরোসিনের স্টোভের আগুনের চেয়েও বেশি তাপে
এখানে প্রতি মুহূর্তে ফুটতে থাকে বঞ্চিত মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।
চাল-ডাল-তেলের আগুন দাম, ভোট চুরির নির্লজ্জ তামাশা,
আর রাতের আঁধারে গুম হয়ে যাওয়া
ভাইয়ের হাহাকার—
সব এসে এক মোহনায় মেশে এই ধোঁয়াটে আড্ডায়।

এই টং দোকান কোনো সাধারণ আস্তানা নয়,
এটা হলো জনতার আসল আদালত,
অলিখিত এক ব্যালট বাক্স!
যেখানে শাসকের গালভরা মিথ্যে ভাষণকে
চুবিয়ে খেয়ে ফেলা হয় বাসি টোস্ট বিস্কুটের মতো!
যেখানে ভয়ের চাবুককে তাচ্ছিল্য করে
রক্তচক্ষুর সামনে উড়িয়ে দেওয়া হয়
বিড়ির ধোঁয়ার মতো একরাশ অবজ্ঞা!

শোনো ওহে কাচের মহলে বসে থাকা অন্ধ শাসকেরা—
তোমাদের তোষামোদকারীদের ড্রয়িংরুম আসল বাংলাদেশ নয়!
আসল বাংলাদেশ জেগে থাকে মধ্যরাতে,
ফুটপাতের এই টং দোকানে।
যেদিন এই চায়ের কাপের ঝড়
রাস্তার অ্যাসফল্ট কাঁপিয়ে গণমিছিলে রূপ নেবে—
সেদিন তোমাদের ওই কোটি টাকার মসনদ
টংয়ের ভাঙা কাঠের তক্তার মতোই
গুঁড়িয়ে ভেঙে পড়বে!
বিস্তারিত...

কাফন ছাড়া লাশ

- মো: আবু তালেব

তালাবদ্ধ কারখানার গেটে তখন গনগনে আগুনের লেলিহান শিখা,
বাতাসে পোড়া কাঁচা মাংসের গন্ধ, আর শত শত শ্রমিকের আর্তনাদের শেষ চিৎকার।
মালিক পালিয়েছে পেছনের গোপন দরজায়, দামি কাচের গাড়িতে চেপে—
আর ভেতরে কয়লা হলো শত শত তাজা প্রাণ, হাজারটা স্বপ্ন মৃত্যুর খাঁচায় কেঁপে!

তোমাদের চকচকে শপিংমলে ঝোলানো বিদেশি ব্র্যান্ডের রঙিন জামা,
তার প্রতিটি সুতোয় লেপ্টে আছে অনাহারী কিশোরীর রক্ত আর শেষ নিঃশ্বাসের দাম!
তোমরা তাকে নাম দিয়েছ ‘অগ্রগতি’, নাম দিয়েছ ‘উন্নয়নের মহোৎসব’—
অথচ ধসে পড়া কংক্রিটের নিচে চিরতরে পিষে গেল একটি জীবন্ত জাতির শৈশব!

কালো হয়ে যাওয়া অঙ্গারের স্তূপ থেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো চেনা মুখ,
একটি গলিত ধাতব টোকেন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি মুনাফাখোরদের লোভের চাবুক।
কাফন জোটেনি ওদের কপালে, জোটেনি এক টুকরো পরিচ্ছন্ন সাদা কাপড়—
কালো পলিথিনে মুড়ে বেওয়ারিশ গর্তে পুঁতে দিল রাষ্ট্র, যেন ওরা মানুষ নয়, সস্তা জঞ্জাল আর পাথর!

শোনো হে টাই-পরা নরখাদকের দল, শোনো হে সিংহাসনের তোষামোদকারী শ্রেণী—
তোমাদের ব্যাংকের ভল্টে রাখা প্রতিটি নোটের ভাঁজ থেকে ভেসে আসে পোড়া লাশের হাতছানি!
তোমাদের অট্টালিকার ভিত দাঁড়িয়ে আছে শ্রমিকের পিষে যাওয়া পাঁজরের হাড়ের ওপর,
বিচারহীনতার এই বধ্যভূমিতে তোমরা কিনে নিয়েছ আইন, কিনে নিয়েছ আদালত আর শহর!

মনে রেখো, কাফন ছাড়া লাশগুলো কিন্তু কখনো ইতিহাস থেকে মুছে যায় না।
ওরা মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন অভিশাপের স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়,
ধ্বংসস্তূপের জমাট রক্ত ফুঁড়ে জেগে ওঠে একেকটা অপঘাতে মরা রুদ্র প্রাণ!

যেদিন এই কয়লা হওয়া হাতগুলো একজোট হয়ে শোষণের সব চাকা থামিয়ে দেবে,
যেদিন কাফনহীন কোটি মজুরের দীর্ঘশ্বাস রাজপথের দখল নেবে—
সেদিন তোদের মুনাফার গদি তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে ছাই হবে,
রক্তের পাই টু পাই হিসেব বুঝে নেবে মেহনতী মানুষের অপ্রতিরোধ্য বিপ্লব!
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4649
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1718
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1672
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1596
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1585
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1527
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1517
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1477
রমণী মোঃ আবু তালেব 1450
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1423
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1422
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1421
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1376
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1376
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1375
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1371
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1369
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1352
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1344
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1338
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
টং দোকানের বাংলাদেশ মো: আবু তালেব 7
কাফন ছাড়া লাশ মো: আবু তালেব 7
চেয়ারের কোন ধর্ম নেই মো: আবু তালেব 29
একটি নিখোঁজ জুতো মো: আবু তালেব 22
পোস্টারে ঢাকা দেয়াল মো: আবু তালেব 26
চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 27
ক্ষিদে মো: আবু তালেব 34
রাজপথের থুতু মো: আবু তালেব 48
নগরীর নীরব মানুষ মো: আবু তালেব 31
যে সত্য বলা যায় না মো: আবু তালেব 36
মুখোশের ভিতরে মুখ মোঃ আবু তালেব 38
অন্যের চোখে আমি মোঃ আবু তালেব 34
সবাই আমাকে চেনে মোঃ আবু তালেব 36
পরিচয়ের কারাগার মোঃ আবু তালেব 56
যে মানুষটি হাসছিল মোঃ আবু তালেব 42
দরিদ্রের জামা মোঃ আবু তালেব 57
হাসির শহর মোঃ আবু তালেব 58
সভ্য মানুষেরা মোঃ আবু তালেব 55
মুখের নিচে মুখ মোঃ আবু তালেব 58
ভালোবাসার শেষ দরজা মোঃ আবু তালেব 58
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন Md. Mustafizur Rahman 19
কর্পোরেট কালচার Md. Mustafizur Rahman 41
শব্দের সুনামি Md. Mustafizur Rahman 37
এ শহর আমার নয় Md. Mustafizur Rahman 39
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 48
কবির কলমে নবির ছবি কবি ফেরদাউস সরকার 66
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 59
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 85
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 102
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 78
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 94
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 96
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 98
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 138
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 152
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 168
ভালো মানুষ ইবনে আলী 277
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 158
শিকল ইবনে আলী 249
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 295
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে