কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

জীবন কোনো ফুলের নাম নয়,
যার গায়ে শিশির জমে থাকে;
জীবন হলো পাথরের বুকে
শিকড় গেড়ে বেঁচে থাকার সাহস।

জীবন কোনো নদীর নাম নয়,
যে শুধু সাগরের দিকে যায়;
জীবন সেই তৃষ্ণার নাম,
যে জল পেয়েও সমুদ্র খুঁজে বেড়ায়।

মানুষ জন্মায় এক মুঠো কান্না নিয়ে,
মৃত্যুর সময় রেখে যায় কিছু প্রশ্ন;
মাঝখানে যে সময়টুকু—
সেইটুকুর নামই জীবন,
সেইটুকুই তার সমস্ত দর্শন।

কেউ জীবন কাটায় বেঁচে থাকার জন্য,
কেউ বেঁচে থাকে জীবনের অর্থ খুঁজতে;
কেউ সত্য জেনেও নীরব থাকে,
কেউ একা দাঁড়ায় সত্যের পক্ষে।

অথচ সত্য কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠের দাস নয়,
মিথ্যা কখনো সত্য হয় না সিংহাসনে বসে;
ইতিহাসের পাতায় কত রাজা হারিয়ে গেছে,
একটি সত্য আজও বেঁচে আছে মানুষের মুখে।

জীবন বড় অদ্ভুত বিচারক—
সে কাউকে আগেভাগে রায় শোনায় না;
যে আজ অন্যের চোখের জল মুছে,
কাল তারই চোখে জল আসবে কি না,
কেউ তার উত্তর জানে না।

এখানে প্রাসাদও একদিন ধুলো হয়,
মুকুটও একদিন জাদুঘরের বস্তু;
শুধু একটি ক্ষুধার্ত মুখের দীর্ঘশ্বাস
ক্ষমতার সমস্ত অহংকারের চেয়ে বড় সত্য।

তুমি কী পেয়েছ, তা জীবনের হিসাব নয়;
কী হারিয়েছ, তা-ও শেষ কথা নয়।
তুমি হারানোর পর কেমন মানুষ রইলে—
জীবনের গভীরতম প্রশ্ন বোধ হয় সেটাই।

কারণ দুঃখ মানুষকে শুধু ভাঙে না,
কখনো ভাঙা মানুষকেই গভীর করে;
যে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অহংকার,
সেই আগুনেই কোনো কোনো আত্মা
নিজের আসল পরিচয় খুঁজে পায়।

মনে রেখো—
সময় কাউকে থামিয়ে রাখে না,
মৃত্যু কাউকে আলাদা করে চেনে না;
রাজা আর ভিখারির শেষ ঠিকানা এক,
শুধু তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতির ওজন এক নয়।

জীবন তোমাকে সুখী করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি,
পৃথিবী তোমার প্রতি ন্যায়বিচারের শপথ করেনি;
তবু অন্যায় দেখে মুখ ফিরিয়ে নিলে
তোমার বেঁচে থাকা আর পাথরের পড়ে থাকা—
এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

তাই বেঁচে থেকো—
কিন্তু শুধু নিঃশ্বাসের পক্ষে নয়,
মানুষের পক্ষে।

কথা বলো—
কিন্তু শুধু নিজের অধিকারের জন্য নয়,
যার কণ্ঠ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তার জন্যও।

ভালোবাসো—
কিন্তু শুধু পাওয়ার আশায় নয়,
হারিয়েও যেন হৃদয় ছোট না হয়ে যায়।

আর একদিন যখন তোমার নাম
সময়ের ধুলোয় মুছে যাবে,
তখন যেন পৃথিবী বলতে পারে—
একজন মানুষ এসেছিল,
যে অন্ধকারকে ভাগ্য বলে মানেনি,
অন্যায়কে নিয়তি বলে মেনে নেয়নি,
আর নিজের জীবন বাঁচাতে গিয়ে
অন্যের জীবনকে তুচ্ছ করেনি।

শেষ পর্যন্ত জীবন মানে
কত দীর্ঘকাল তুমি পৃথিবীতে ছিলে, তা নয়;
জীবন মানে—
তোমার চলে যাওয়ার পর
পৃথিবীটা সামান্য হলেও
আরও মানুষের হয়ে উঠল কি না।

জীবন

সকালবেলা মসজিদে মুই শরিক করিব কিছু,
কত টাকা দিব—এই ভেবে মোর বিভ্রান্তি নিল পিছু।
এই জগতে আছে যত মোর জমিজমা আর অর্থ,
নিব না কিছু সঙ্গে—মুই, এই ছিল মূল শর্ত।
দম্ভ ভরে তাই কহিলাম, “লেখো দশ হাজার খানা,”
কহিলাম, তাই জানুক সবাই—মুই কত বড় জনা।
কেউ লেখিল পাঁচশ-দুশ, জোর করে যেন হাজার,
কহিলাম, আমি ধান তুলে দেব, তবু এমন বাজার!
নবান্নে আজ ধান বেচিনু, খড় সঙ্গে আরও,
বউ চেঁচিয়ে হিসাব শুধায়, “সকল তাগাদা সারো!”
শাড়ি কিনিবে, দুল কিনিবে—বোনের বিয়ে যে তার,
শ্বশুরমশাই চিঠিতে জানান, কিছু অর্থের দরকার।

ভাই কহিল, “পাঞ্জাবি দাও,” মার ভেঙেছে খাটের পাশি,
বাপে রেগে কয়, “ওষুধ বিনে বাঁকা হলো মোর ছাতি।”
ছোট মেয়ে মোর করুণ চাহুনিতে তাকিয়েছে মোর দিকে,
হেসে কহিলাম, “তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।”
ভুলে যে গেলাম কথা, যে দিলাম—মসজিদে শরিক হব,
টাকা যে সব ফুরিয়ে গেছে, এ কথা কেমনে কব?
সেদিন যারা নাম লিখাল, বাকি রাখেনি তো আর কেউ,
লজ্জায় আজ মন পানে ধায় অনুশোচনার ঢেউ!

দম্ভের দশ হাজার

আমার কোনো প্ল্যান নেই—
আমি শুধু দেখি, চারপাশে ধেয়ে আসা অন্ধকারের ছায়া।
শিশুদের নিষ্পাপ চোখে ভয়,
মানুষরূপী জানোয়ারদের থাবায়
হুমকিগ্রস্ত প্রতিটি শৈশব।
আমাকে একটা প্ল্যান দিন না, ভাই—
কীভাবে নিরাপদ করব এই ছোট্ট আলোগুলোকে?
কীভাবে ওদের মুখে আবার ফুটিয়ে তুলব নিশ্চিন্ত হাসি?
আমার বোনদের, নারীদের আর্তনাদ
বাতাসে বাতাসে ভারী হয়ে উঠছে।
ধর্ষণের এই ভয়াবহ মহাযজ্ঞ,
এই পৈশাচিক উন্মাদনা—
কীভাবে থামানো যায় একে?
নারীর সম্মান আর নিরাপত্তার জন্য
আপনাদের কি কোনো শক্ত প্ল্যান নেই?
আইনের শাসন কি তবে কেবলই বইয়ের পাতা?
আইন কেন রুখে দাঁড়ায় না এই অন্যায়ের সামনে?
আমাকে একটা স্পষ্ট প্ল্যান দিন,
কীভাবে বন্ধ করা যায় এই খুন, ছিনতাই আর সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য?
কীভাবে ফিরে আসবে শান্ত ও নিরাপদ কোনো সকাল?
দেশের তরুণদের হতাশা আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায়,
কর্মসংস্থানের এই ঘোর সংকট,
দিশেহারা হাজারো স্বপ্ন—
তাদের জন্য কি কোনো সুস্পষ্ট পথ নকশা থাকবে না?
দেশের এই বিশৃঙ্খলা, অস্থিরতা আর অরাজকতা দেখে
আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না।
আমার বুক ফেটে যায়, আমার চিন্তারা এলোমেলো হয়ে যায়।
আমাকে একটি প্ল্যান দিন—
একটি সঠিক, সত্য ও সাহসী প্ল্যান,
যা দেখে অন্তত বিশ্বাস করতে পারি,
সব অন্ধকার পেরিয়ে আমাদের দেশটা আবার শান্ত হবে।


১০ অক্টোবর ২০২৬

আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যা প্ল্যান

— ২ আগস্ট, ২০২৬

পুরুষের জীবন একটি মস্ত বড় নদী,
কূল ভেঙে যায় তবুও সইতে হয় নিরবধি।

বুকে ব্যথার ঝড় তবুও, ঝরে না চোখের জল,
পুরুষ মানেই শক্ত পাথর, কষ্ট সহে অবিরল।

নিজের সুখ সে দেয় বিসর্জন হাসিমুখে রোজ,
সবাই শুধু নিজের বোঝে, কে নেয় কার খোঁজ!

পুরুষের জীবন আছে, বাঁচার নেই অধিকার,
কেউ শোনে না বুক-পিঞ্জরের নীরব হাহাকার।

সবাই খোঁজে তাহার নিকট আশ্রয় আর আলো,
নিজের প্রদীপ নিভিয়ে সে রাখে অন্যকে ভালো।

কষ্টগুলো চেপে রেখে মুখে ফুটায় হাসি,
পুরুষ মানেই দায়িত্বের এক পাহাড়ি-অধিবাসী।

পুরুষের কান্না কভু চোখে দেখা যায় না,
বুকের গভীর ক্ষতগুলো কেউ ছুঁতে চায় না।

নিদারুণ এক নীরবতায় কাটিয়ে সারাজীবন,
কষ্টের সাথে লড়াই করেই অভ্যস্ত তার মন।

নীরব যোদ্ধা

— ৮ অক্টোবর, ২০২১

শরৎ এর হাওয়া বড়োই যে মধুর,
লাগে দোলা প্রাণে।
চারি দিকেই প্রকৃতির সাজ
বাতাস বহে ঘ্রাণে।

মেঘের ভেলায় শরৎ আসে
ফুটেছে কাশফুল,
তুমিও সেথায় যাইও বন্ধু
কইরো নাকো ভুল।

সুপ্রভাতে পড়বে শিশির,
সবুজ সবুজ ঘাসে,
শরৎ এর কি অপরূপ লীলা
দেখবে সবাই এসে।

শিউলি ঝরা ভোরের আলোয়
মিষ্টি রোদের খেলা,
প্রকৃতি যেন সাজিয়ে তোলে
রূপের নতুন মেলা।

নদীর কূলে বাতাস দোলে
সাদা কাশের বনে,
গাঙচিলেরা ডানা মেলে
উড়ে যায় আনমনে।

দিঘির জলে পদ্ম হাসে
মেলে আপন ডানা,
নীল আকাশে সাদা মেঘের
নেই তো কোনো মানা।

গোধূলি বেলায় আকাশজুড়ে
রাঙা আলোর খেলা,
সন্ধ্যা নেমে শান্ত করে
ক্লান্ত দিনের মেলা।

রাতের আকাশে চাঁদের হাসি
জ্যোৎস্নামাখা রাত,
শরৎ আমাদের বাড়িয়ে দেয়
স্নিগ্ধ আশার হাত।

শরৎ এর আগমন

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4825
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1857
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1788
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1725
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1682
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1657
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1630
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1594
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1551
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1538
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1521
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1517
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1511
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1482
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1480
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1476
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1467
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1463
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1455
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1443
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
জীবন প্রথম নীরবতা মোঃ আবু তালেব (Md. Abu Taleb) 8
মৃত্যুর আগে মানুষ কতবার মরে শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 64
রাষ্ট্রের কাছে একটি শিশুর প্রশ্ন অবিনব মোঃ আবু তালেব 50
পৃথিবী, তুমি কি আমাকে মনে রাখবে অবিনব মোঃ আবু তালেব 54
স্মৃতির প্রবাস প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 73
বালিশ ভেজা রাত প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 77
পরবাস প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 63
টাকার চাকা প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 85
শেকড়ের টান প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 71
Where The Mind Is Without Fear (চিত্ত যেথা ভয়শূন্য) গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 79
Hope' is the thing with feathers (আশা) Hope is the thing with feathers Emily Dickinson 74
The Road Not Taken (যে পথটি নেওয়া হয়নি) The Road Not Taken Robert Frost 77
Desiderata (জীবনের জন্য কিছু কথা) Words for Life Max Ehrmann 82
Still I Rise (তবুও আমি উঠব) Still I Rise Maya Angelou 80
If (যদি) if Rudyard Kipling 74
Invictus (অপরাজেয়) Invictus William Ernest Henley 79
বিদ্রোহী অগ্নীবীনা কাজী নজরুল ইসলাম 78
ভিসার কাগজে বন্দি জীবন প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 69
পাসপোর্টে ভেজা মানচিত্র প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 63
অচিনপুরে জমানো কান্না প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 108
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
দম্ভের দশ হাজার বাস্তব জীবন দরবেশ আল আমিন 32
আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যা প্ল্যান অপ্রকাশিত মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা 46
নীরব যোদ্ধা জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 67
শরৎ এর আগমন জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 75
শারদীয় উৎসব জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 63
একুশ জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 44
প্রেম চোখের জলে নদী মাজেদুল হক 66
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 90
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 104
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 79
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 86
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 92
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 83
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 81
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 89
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 91
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 106
ঋণ ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 103
মৃত্যুর পরও তুমি মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 85
অনুভূতির স্পর্শ স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 95
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found