কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(ভালবাসা)

তুমি যে ছিলে—
এই কথাটুকু এখন
আমার কাছে কোনো স্মৃতি নয়,
একটি ঘর।

ঘরটির দরজা নেই,
জানালা নেই,
তবু সন্ধ্যা নামলেই
আমি সেখানে ফিরে যাই।

কখনো কোনো কারণ ছাড়াই।

একদিন বাজার থেকে ফেরার পথে
হঠাৎ মনে পড়ল—
তুমি কাঁচা আমে লবণ মাখিয়ে খেতে,
আর টক বেশি হলে
চোখ কুঁচকে হাসতে।

এত ছোট একটি কথা
কী করে এত বছর পরে
আমার বুকের ভেতর
এত বড় হয়ে উঠল,
জানি না।

মানুষ বোধহয়
বড় ঘটনাগুলো মনে রাখে না।
মনে রাখে—
কে শেষবার দরজাটা বন্ধ করেছিল,
কে বৃষ্টির দিনে ছাতা এগিয়ে দিয়েছিল,
কে রাগ করে মুখ ফিরিয়ে
আবার একটু পরেই তাকিয়েছিল,
কে অসুখের রাতে
চুপচাপ পাশে বসেছিল।

তুমি ছিলে।
এই একটি বাক্যের মধ্যে
আমার কতগুলো ঋতু
আজও বেঁচে আছে।
শীতের সকালে
তোমার চুলে রোদ পড়ত।
বর্ষার বিকেলে
তুমি জানালার কাচে
আঙুল দিয়ে অকারণে দাগ কাটতে।
শরতের আকাশ দেখলে
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতে।

আমি তখন বুঝিনি—
চুপ করে থাকাও
কারও সঙ্গে কথা বলা হতে পারে।

এখন বুঝি।

তুমি চলে যাওয়ার পর
আমার ঘরে অনেক শব্দ এসেছে।
মানুষ এসেছে।
ফোন বেজেছে।
দরজা খুলেছে।
দরজা বন্ধ হয়েছে।
কিন্তু সেই পুরোনো নীরবতাটি
আর আসেনি।
যেই নীরবতায়
তুমি ছিলে।

একদিন খুব ভোরে
ঘুম ভেঙে দেখলাম
জানালার বাইরে কুয়াশা।
দূরে একটি পাখি
বারবার ডাকছে।
হঠাৎ মনে হলো,
তুমি যদি এখন এখানে থাকতে,
আমি তোমাকে ডাকতাম না।
শুধু বলতাম—

"দেখো,
সকাল হয়েছে।"

কিছু মানুষকে
ভালোবাসার জন্য
বড় কোনো কথা লাগে না।
একসঙ্গে বসে থাকা,
একই আকাশের দিকে তাকানো,
চুপচাপ চা খাওয়া—
এই সামান্য জীবনই
তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড়
সুখ হয়ে ওঠে।

তুমি যে ছিলে—
এই সত্যের কাছে
আমার সমস্ত অভিমান
আজ ছোট হয়ে গেছে।
তোমার ওপর রাগ ছিল।
অনেকদিন।
কখনো ভাবতাম,
তুমি কেন গেলে?
কেন একটু অপেক্ষা করলে না?
কেন শেষ কথাটি
আরেকটু ভালো করে বললে না?

তারপর একদিন বুঝলাম—
মানুষ সবসময়
বিদায় নেওয়ার সময় জানে না
যে সেটিই বিদায়।
আমরাও জানতাম না।
তাই শেষ দেখা
শেষ দেখার মতো ছিল না।
শেষ কথাটি
শেষ কথার মতো ছিল না।
শেষ বিকেলটি
শেষ বিকেলের মতো ছিল না।
জীবন কত নিষ্ঠুরভাবে
স্বাভাবিক থাকে
যখন তার ভেতর থেকে
একজন মানুষ
চিরদিনের জন্য চলে যায়।

আজ তোমাকে
আমি আর ফিরে পেতে চাই না।
শুধু চাই—
যে মানুষটি তোমাকে ভালোবেসেছিল,
সে যেন আমার ভেতর
পুরোপুরি মরে না যায়।
কারণ
তুমি চলে যাওয়ার পর
আমি যে মানুষ হয়েছি,
তার কিছুটা তোমার।

আমার ধৈর্যে
তোমার ছায়া আছে।
আমার নীরবতায়
তোমার কণ্ঠ আছে।
আমি যখন কাউকে
অকারণে ক্ষমা করে দিই,
তখন মনে হয়—
তুমি হয়তো
আমার ভেতর থেকেই
আমাকে দেখছ।
তাই আজ
তোমার জন্য কোনো কান্না রাখিনি।
শুধু
একটি বিকেল রেখে দিয়েছি।
একটি জানালা।
এক কাপ চা।
একটি পুরোনো গান।

আর সেই মানুষটিকে—
যে একদিন
তোমার পাশে বসে
ভাবত,
"এই মানুষটি বুঝি
সারাজীবন থাকবে।'
সে ভুল ছিল।
তবু
তার সেই ভুলটুকুকে
আমি আজও ভালোবাসি।
কারণ
তুমি যে ছিলে।
আর পৃথিবীতে
কিছু সত্য আছে
যাদের হারিয়ে ফেললেও
তারা মিথ্যা হয়ে যায় না।

"তুমি ছিলে।"
এবং কোনো কোনো মানুষের ক্ষেত্রে
এই একটি বাক্যই
একটি সম্পূর্ণ জীবনের
সবচেয়ে সুন্দর
স্মৃতিস্তম্ভ।

তুমি যে ছিলে

(ভালবাসা)

একটি মানুষকে হারানোর আগে
মানুষ জানে না—
তার চারপাশে কত আলো ছিল।
সন্ধ্যার আগে যেমন
ধানের শিষে
শেষ রৌদ্রের গন্ধ থাকে,
কিন্তু মাঠ জানে না
আর একটু পরেই
কুয়াশা নেমে আসবে।

সেদিন
তুমি আমার সামনে বসেছিলে।
জানালার বাইরে
একটি শালিক
বারবার উড়ে এসে
আমাদের বাড়ির পুরোনো কার্নিশে বসছিল।
আমি তোমার মুখের দিকে তাকাইনি।
ভাবছিলাম—
আরও অনেক দিন আছে।

মানুষের সবচেয়ে পুরোনো ভুল
হয়তো—
সে সময়কে
নিজের সম্পত্তি মনে করে।

তুমি বলেছিলে,
“চলো, একটু হাঁটি।”
আমি বলেছিলাম,
“আজ নয়।
আরেকদিন।”
সেই আরেকদিনটি
আজও আসেনি।

পৃথিবীর কত নদী
সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গেছে;
কত শীতের পর
শিমুল গাছে আগুনের মতো ফুল ফুটেছে;
কত শহর
মানুষে ভরে আবার ফাঁকা হয়েছে—
শুধু
সেই একটি
আরেকদিন
কোথাও এসে দাঁড়ায়নি।

তুমি চলে যাওয়ার আগে
আমি বুঝিনি,
তোমার চুপ করে থাকাও
একটি ভাষা ছিল।
তোমার জানালার দিকে তাকানো,
চায়ের কাপে
অকারণে আঙুল ঘোরানো,
কোনো কথা বলতে গিয়ে
থেমে যাওয়া—
এসবের ভেতর
একটি দীর্ঘ বিদায়
ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছিল,
আমি শুনিনি।

মানুষ
সবচেয়ে প্রিয় মানুষের
সবচেয়ে ক্ষীণ ডাকটিই
প্রায়শই শুনতে পায় না।
সেই সময়
আমাদের বাড়ির পেছনে
একটি সরু পথ ছিল।
পথটি
বাঁশঝাড় পেরিয়ে
নদীর দিকে চলে যেত।
বিকেল হলে
সেখানে আলো পড়ত
মৃত কোনো পাখির ডানার মতো—
ধূসর,
নরম,
অল্প বিষণ্ণ।

তুমি একদিন বলেছিলে,
“এই পথটা মনে রেখো।”
আমি হেসেছিলাম।
একটি পথকে
মনে রাখার কী আছে?
আজ বুঝি,
মানুষ পথকে মনে রাখে না;
যে মানুষটি
তার পাশে হেঁটেছিল,
সে হারিয়ে গেলে
পৃথিবীর সমস্ত পথ
একটি মানুষের দিকে
ফিরে যেতে চায়।

এখনও কখনো
শীতের বিকেলে
দূরের কোনো বাঁশবনে
বাতাস উঠলে
আমার মনে হয়,
তুমি হয়তো
সেই পুরোনো পথেই হাঁটছ।
তোমার পায়ের নিচে
শুকনো পাতা ভাঙছে,
তুমি একবারও
পেছনে তাকাচ্ছ না।

আর আমি—
অনেক বছর পরে—
তোমাকে ডাকতে চাই।
কিন্তু
সময় এমন এক নদী,
যার ওপারে দাঁড়ানো মানুষকে
নিজের কণ্ঠ
পৌঁছাতে পারে না।
একটি মানুষকে হারানোর আগে
আমরা তাকে
প্রতিদিনের মতোই দেখি।
তার মুখে আলো পড়ে।
সে ঘুমায়।
খায়।
হাসে।
অভিমান করে।
একটি বইয়ের পাতা উল্টায়।
আমরা ভাবি,
এইসব ছোট ছোট কাজ
চিরকাল চলবে।

আমরা জানি না—
একদিন
একটি কাপ
টেবিলের ওপর
অস্পর্শিত থেকে যাবে;
একটি চেয়ার
দুপুরের রোদে
অনেকক্ষণ একা বসে থাকবে;
একটি নাম
মোবাইলের ভেতর
থাকবে,
কিন্তু
ডাকার জন্য
আর কোনো পৃথিবী থাকবে না।

তখন
মানুষ বুঝতে পারে—
হারিয়ে যাওয়া
হঠাৎ ঘটে না।
তার অনেক আগে থেকেই
বিদায়
আমাদের চারপাশে
ধীরে ধীরে
পাতা ঝরাতে থাকে।
আমরা শুধু
শব্দ শুনি না।

আজ
অনেক দূরের এক সন্ধ্যায়
আমি দাঁড়িয়ে আছি।
আকাশে
একটি একলা পাখি
পশ্চিমের দিকে চলে যাচ্ছে।
তার নিচে
নদী।
তার নিচে
অন্ধকার জল।
তারও নিচে
হয়তো
অসংখ্য দিনের স্মৃতি
ঘুমিয়ে আছে।

আমি আর তোমাকে
ফিরে পেতে চাই না।
কারণ
কিছু মানুষকে
ফিরিয়ে আনা যায় না—
তাদের জন্য
শুধু
একটি দীর্ঘ সন্ধ্যা
বেঁচে থাকে।

তবু
যদি আবার
কোনো এক জন্মে
তোমার সঙ্গে দেখা হয়,
আমি
তোমাকে জিজ্ঞেস করব না—
তুমি কোথায় ছিলে?
আমি শুধু বলব,
“চলো।
আজ একটু হাঁটি।”

কারণ
এবার আমি জানব—
সব পথ
দ্বিতীয়বার
একই মানুষের জন্য
খোলা থাকে না।
আর
একটি মানুষকে হারানোর আগে
তার পাশে
আরও কিছুক্ষণ বসে থাকা—
হয়তো
মানুষের জীবনের
সবচেয়ে বড়
এবং সবচেয়ে নীরব
ভালোবাসা।

একটি মানুষকে হারানোর আগে

(ভালবাসা)

ভালোবাসার পরে
পৃথিবী আর আগের মতো থাকে না—
যদিও
ধানক্ষেত ঠিকই সবুজ হয়,
নদী ঠিকই
বিকেলের আলো বহন করে,
শালিকেরা
পুরোনো অভ্যাসে
বাড়ি ফেরে।

শুধু
একজন মানুষ
পৃথিবীর দিকে তাকানোর
পুরোনো চোখটি
হারিয়ে ফেলে।

সেই সন্ধ্যায়
তুমি চলে গিয়েছিলে।
পথের ধারে
শিউলি ঝরছিল;
মনে হচ্ছিল,
গাছটি যেন
তার সমস্ত সাদা স্মৃতি
মাটির কাছে
ফেলে দিচ্ছে।
আমি তোমাকে ডাকিনি।
কিছু বিদায়
ডাকলে ফিরে আসে না—
বরং
আরও দূরে চলে যায়।

তুমি চলে গেলে
নদীর ওপারে
কুয়াশা উঠেছিল।
একটি নৌকা
ধীরে ধীরে
অদৃশ্য হয়ে গেল।
আমি অনেকক্ষণ
তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
তারপর বুঝলাম,
মানুষও বোধহয়
নৌকার মতো—
একটি তীর ছেড়ে
অন্য তীরে চলে যায়!

ভালোবাসার আগে
আমি ভাবতাম,
একজন মানুষকে পাওয়া মানেই
তার সঙ্গে থাকা।
পরে জেনেছি—
কখনো কখনো
ভালোবাসা মানে
তার অনুপস্থিতির মধ্যেও
তার জন্য
একটি জায়গা রেখে দেয়া।
পুরোনো বাড়ির উঠোনে
যেমন একটি গাছ থাকে,
যার ছায়ায়
আর কেউ বসে না,
তবু
বিকেল হলেই
ছায়াটি
মাটিতে নেমে আসে।

তোমার জন্য
আমার ভেতরেও
একটি ছায়া আছে।
আমি সেখানে
প্রতিদিন যাই না,
কিন্তু
বর্ষার রাতে,
জ্যোৎস্নার ভেতর,
অথবা
শীতের কুয়াশায়
হঠাৎ
সেই পথটি
আমার সামনে খুলে যায়।
দূরে
কোনো অচেনা পাখি ডাকে।
মনে হয়,
তুমি কি তবে
এইমাত্র
আমার নাম ধরে ডাকলে?

তারপর বুঝি—
না!
এ শুধু রাতের শব্দ!

তবু
মানুষ কেন
অচেনা শব্দের ভেতরেও
পরিচিত মানুষকে
খুঁজে বেড়ায়?

হয়তো
ভালোবাসা শক্তির মত,
কখনো শেষ হয় না,
শুধু
রূপ বদলায়,
অবস্থান বদলায়।
একদিন
সে থাকে
দুটি মানুষের চোখে।
তারপর
স্মৃতিতে।
তারপর
একটি পুরোনো গন্ধে।
একটি না-শোনা গানে।
একটি ফাঁকা চেয়ারে।
একটি শীতের বিকেলে
হঠাৎ থেমে যাওয়া বাতাসে।
আর শেষে
মানুষের স্বভাবে।

তুমি চলে যাওয়ার পরে
দেখলাম,
আমি আগের চেয়ে
ধীরে হাঁটি।
অপরিচিত মানুষের দুঃখ
আরও সহজে দেখি।
বৃদ্ধের কাঁপা হাত
আরও কিছুক্ষণ
মনে থাকে।
শিশুর হাসি
হঠাৎ
আমাকে থামিয়ে দেয়।

হয়তো
ভালোবাসা
মানুষ যাকে ভালোবাসে
শুধু তার কাছে নিয়ে যায় না;
পৃথিবীর সমস্ত
অসহায় জীবনের কাছেও
নিয়ে যায়।
সেই জন্যই
তোমাকে হারিয়ে
আমি শুধু
তোমাকে হারাইনি,
আমার ভেতরে
একটি পুরোনো মানুষও
মরে গেছে—
যে মানুষ
ভাবত
পৃথিবীকে পুরোপুরি
নিজের করে পাওয়া যায়।
তার জায়গায়
যে মানুষটি জন্মেছে,
সে জানে—
কোনো নদীকে
মুঠোয় ধরা যায় না,
কোনো সন্ধ্যাকে
চিরকাল রাখা যায় না,
কোনো মানুষকে
সম্পূর্ণ নিজের বলা যায় না।
তবু
নদীর পাশে দাঁড়াতে হয়,
সন্ধ্যার দিকে তাকাতে হয়,
মানুষকে ভালোবাসতে হয়।

হারাবো জেনেও
আজ
অনেক বছর পরে
সেই পুরোনো পথ দিয়ে
হেঁটে গেলাম।
শিউলি গাছটি
আর নেই।
ধানক্ষেতের জায়গায়
নতুন বাড়ি উঠেছে।
নদীর ঘাটে
কেউ বসে নেই।
শুধু
পশ্চিম আকাশে
একটি ম্লান আলো
ধীরে ধীরে
ডুবে যাচ্ছিল,
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।
তোমার কথা
মনে পড়ল,
বুঝলাম—
একবার
ভালোবাসার পরে
ভালবাসার মানুষকে
আর ভুলে যায় না।

সে শুধু
একদিন এমন জায়গায় পৌঁছে যায়,
যেখানে
ব্যাথা থাকে না;
থাকে গভীর স্মৃতি
আর
একটি নরম আলো।

যেমন
সন্ধ্যার পরে
ধানক্ষেতের ওপর
শেষ পাখিটিও
উড়ে গেলে
কিছুক্ষণ
আকাশে
তার উড়ে যাওয়ার রেখা
থেকে যায়।

তারপর
রাত নামে।
পৃথিবী
নিজের অন্ধকারে
ফিরে যায়।

আর মানুষ
তার সমস্ত হারানো ভালোবাসা নিয়ে
নিঃশব্দে
আবার
বেঁচে থাকে।

ভালোবাসার পরে

(ভালোবাসা)

তুমি চলে যাওয়ার পর
ঘরটি
আর ছোট হয়নি,
শুধু
তার ভেতর থেকে
একটি শব্দ কমে গেছে।

সকালে জানালা খুললে
আগের মতোই
রোদ এসে পড়ে।
টেবিলের ওপর
একটি কাপ থাকে।
বাইরে
রিকশার ঘণ্টা বাজে,
দূরের মসজিদ থেকে
ভেসে আসে আজানের ধ্বনি,
ছাদের কার্নিশে
একটি শালিক
তার নিজের দিনের
খবর নিয়ে বসে থাকে।

কিছুই বদলায়নি।

শুধু
এই পৃথিবীটাকে
দেখার জন্য
আমার পাশে
তুমি নেই।
তোমার অনুপস্থিতি
কোনো দরজা বন্ধ করে যায়নি।
সে বরং
সব দরজা খুলে দিয়েছে—
যাতে বাতাস আসে,
আলো আসে,
বৃষ্টি আসে,
আর তোমার না-থাকার
খবরটি
প্রতিদিন
নতুন করে
আমার ঘরে ঢোকে।

একদিন
বৃষ্টির পর
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।
মাটির গন্ধ উঠছিল।
হঠাৎ মনে হলো,
তুমি এই গন্ধটিকে
খুব পছন্দ করতে।
স্মৃতি কী অদ্ভুত—
একটি গন্ধ
একটি মুখ হয়ে যায়,
একটি বিকেল
একটি কণ্ঠ হয়ে যায়,
একটি নির্জন রাস্তা
হঠাৎ
কারও হাতের উষ্ণতা
মনে করিয়ে দেয়।

আমি তোমাকে
খুঁজিনি,
তবু
তুমি ছিলে
একটি পুরোনো বইয়ের
মাঝখানে চাপা পড়া
শুকনো ফুলের মতো,
অথবা
একটি অপ্রেরিত চিঠির
ভাঁজে,
বালিশের পাশে
রাখা একটি দীর্ঘশ্বাসে।

রাত গভীর হলে
ঘড়ির কাঁটা
শুধু সময় দেখায় না—
মনে করিয়ে দেয়,
কতটা সময়
একজন মানুষকে ছাড়া
বেঁচে থাকা যায়।

আমি শিখেছি,
সত্যিই শিখেছি,
মানুষ কীভাবে
অনুপস্থিতির সঙ্গে
সংসার করতে পারে!

হয়তো
শুধু
একটি আলাদা ঘর লাগে;
সেই ঘরের
কোনো দরজা নেই,
কোনো জানালাও না,
সেখানে
শুধু স্মৃতির আসা-যাওয়া।
আর
বেরিয়ে যাওয়ার সময়
আমাকে
আরও একা করে চলে যায়।

কখনো যদি
রাস্তার ভিড়ে
তোমার মতো কাউকে দেখি,
এক মুহূর্তের জন্য
হৃদয়
পুরোনো ভুল করে বসে!

তারপর বুঝি—
না,
তুমি নও।

মানুষের চোখ
কত সহজে
নিজের হারানো মানুষকে
অন্যের মুখে
ফিরিয়ে আনে!

তখন
আমি হাঁটতে থাকি।
কারণ
থেমে গেলে
স্মৃতি আমাকে ধরে ফেলবে!

তবু
কিছু সন্ধ্যায়
আমি ইচ্ছে করেই ধীরে হাঁটি।
শহর তখন
আলো আর অন্ধকারের মাঝখানে
একটি অসমাপ্ত কবিতার মতো।

দূরে
কোনো ট্রেন চলে যায়।
কোনো অচেনা জানালায়
হলুদ আলো জ্বলে ওঠে।
কেউ একজন
কাউকে ফোন করে বলে,
"কোথায় তুমি?"

আমি শুনি।

আর মনে হয়,
পৃথিবীর সব ভাষায়
অনুপস্থিতির
একটিই অর্থ,
"কেউ নেই।"

তবু
তোমার অনুপস্থিতি
শুধু "কেউ নেই" নয়।
তুমি নেই—
কিন্তু
তোমার জন্য
আমার ভেতরে যে মানুষটি
জেগে উঠেছিল,
সে তো এখনও আছে।
এই মানুষটি
তোমাকে ছাড়া
অন্যরকম।

সে এখন
বৃষ্টিকে একটু বেশি বোঝে,
নীরবতাকে একটু বেশি শোনে।
বিদায়ের আগে
একটি মুখের দিকে
আরও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে
আর
কারও হাত
সহজে ছেড়ে দিতে চায় না।

হয়তো
এটাই তোমার
শেষ উপস্থিতি।
তুমি আমাকে
তোমার অনুপস্থিতি দিয়ে
শিখিয়ে গেছ—
কেউ চলে গেলে
শূন্যতা আসে না,
আসে
একটি অদৃশ্য মানুষ,
যে সারাজীবন
আমাদের সঙ্গে হাঁটে।
তার কোনো ছায়া নেই,
কোনো শরীর নেই,
শুধু
একটি নীরব স্পর্শ আছে।
আর কোনো কোনো রাতে
জানালার বাইরে
চাঁদ উঠলে
আমি বুঝতে পারি—
তোমাকে আমি
ভুলিনি।

তবু
যদি কোনোদিন
এই পৃথিবীর সমস্ত পথ
হঠাৎ আবার
সেই পুরোনো সন্ধ্যার দিকে ফিরে যায়,
আমি তোমাকে
কিছুই বলব না,
শুধু
একটু দূরে দাঁড়িয়ে
দেখব—
তুমি আছ কি না।

কারণ
কিছু মানুষকে
ফিরে পাবার জন্য নয়,
ভালোবাসার শেষ সত্যটুকু
অক্ষত রাখার জন্য
দূর থেকেই
মনে রাখতে হয়।

তোমার অনুপস্থিতি

বাছাইকৃত কবিতা

তুমি যে ছিলে

- মোঃ আবু তালেব

(ভালবাসা)

তুমি যে ছিলে—
এই কথাটুকু এখন
আমার কাছে কোনো স্মৃতি নয়,
একটি ঘর।

ঘরটির দরজা নেই,
জানালা নেই,
তবু সন্ধ্যা নামলেই
আমি সেখানে ফিরে যাই।

কখনো কোনো কারণ ছাড়াই।

একদিন বাজার থেকে ফেরার পথে
হঠাৎ মনে পড়ল—
তুমি কাঁচা আমে লবণ মাখিয়ে খেতে,
আর টক বেশি হলে
চোখ কুঁচকে হাসতে।

এত ছোট একটি কথা
কী করে এত বছর পরে
আমার বুকের ভেতর
এত বড় হয়ে উঠল,
জানি না।

মানুষ বোধহয়
বড় ঘটনাগুলো মনে রাখে না।
মনে রাখে—
কে শেষবার দরজাটা বন্ধ করেছিল,
কে বৃষ্টির দিনে ছাতা এগিয়ে দিয়েছিল,
কে রাগ করে মুখ ফিরিয়ে
আবার একটু পরেই তাকিয়েছিল,
কে অসুখের রাতে
চুপচাপ পাশে বসেছিল।

তুমি ছিলে।
এই একটি বাক্যের মধ্যে
আমার কতগুলো ঋতু
আজও বেঁচে আছে।
শীতের সকালে
তোমার চুলে রোদ পড়ত।
বর্ষার বিকেলে
তুমি জানালার কাচে
আঙুল দিয়ে অকারণে দাগ কাটতে।
শরতের আকাশ দেখলে
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতে।

আমি তখন বুঝিনি—
চুপ করে থাকাও
কারও সঙ্গে কথা বলা হতে পারে।

এখন বুঝি।

তুমি চলে যাওয়ার পর
আমার ঘরে অনেক শব্দ এসেছে।
মানুষ এসেছে।
ফোন বেজেছে।
দরজা খুলেছে।
দরজা বন্ধ হয়েছে।
কিন্তু সেই পুরোনো নীরবতাটি
আর আসেনি।
যেই নীরবতায়
তুমি ছিলে।

একদিন খুব ভোরে
ঘুম ভেঙে দেখলাম
জানালার বাইরে কুয়াশা।
দূরে একটি পাখি
বারবার ডাকছে।
হঠাৎ মনে হলো,
তুমি যদি এখন এখানে থাকতে,
আমি তোমাকে ডাকতাম না।
শুধু বলতাম—

"দেখো,
সকাল হয়েছে।"

কিছু মানুষকে
ভালোবাসার জন্য
বড় কোনো কথা লাগে না।
একসঙ্গে বসে থাকা,
একই আকাশের দিকে তাকানো,
চুপচাপ চা খাওয়া—
এই সামান্য জীবনই
তখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড়
সুখ হয়ে ওঠে।

তুমি যে ছিলে—
এই সত্যের কাছে
আমার সমস্ত অভিমান
আজ ছোট হয়ে গেছে।
তোমার ওপর রাগ ছিল।
অনেকদিন।
কখনো ভাবতাম,
তুমি কেন গেলে?
কেন একটু অপেক্ষা করলে না?
কেন শেষ কথাটি
আরেকটু ভালো করে বললে না?

তারপর একদিন বুঝলাম—
মানুষ সবসময়
বিদায় নেওয়ার সময় জানে না
যে সেটিই বিদায়।
আমরাও জানতাম না।
তাই শেষ দেখা
শেষ দেখার মতো ছিল না।
শেষ কথাটি
শেষ কথার মতো ছিল না।
শেষ বিকেলটি
শেষ বিকেলের মতো ছিল না।
জীবন কত নিষ্ঠুরভাবে
স্বাভাবিক থাকে
যখন তার ভেতর থেকে
একজন মানুষ
চিরদিনের জন্য চলে যায়।

আজ তোমাকে
আমি আর ফিরে পেতে চাই না।
শুধু চাই—
যে মানুষটি তোমাকে ভালোবেসেছিল,
সে যেন আমার ভেতর
পুরোপুরি মরে না যায়।
কারণ
তুমি চলে যাওয়ার পর
আমি যে মানুষ হয়েছি,
তার কিছুটা তোমার।

আমার ধৈর্যে
তোমার ছায়া আছে।
আমার নীরবতায়
তোমার কণ্ঠ আছে।
আমি যখন কাউকে
অকারণে ক্ষমা করে দিই,
তখন মনে হয়—
তুমি হয়তো
আমার ভেতর থেকেই
আমাকে দেখছ।
তাই আজ
তোমার জন্য কোনো কান্না রাখিনি।
শুধু
একটি বিকেল রেখে দিয়েছি।
একটি জানালা।
এক কাপ চা।
একটি পুরোনো গান।

আর সেই মানুষটিকে—
যে একদিন
তোমার পাশে বসে
ভাবত,
"এই মানুষটি বুঝি
সারাজীবন থাকবে।'
সে ভুল ছিল।
তবু
তার সেই ভুলটুকুকে
আমি আজও ভালোবাসি।
কারণ
তুমি যে ছিলে।
আর পৃথিবীতে
কিছু সত্য আছে
যাদের হারিয়ে ফেললেও
তারা মিথ্যা হয়ে যায় না।

"তুমি ছিলে।"
এবং কোনো কোনো মানুষের ক্ষেত্রে
এই একটি বাক্যই
একটি সম্পূর্ণ জীবনের
সবচেয়ে সুন্দর
স্মৃতিস্তম্ভ।
বিস্তারিত...

একটি মানুষকে হারানোর আগে

- মোঃ আবু তালেব

(ভালবাসা)

একটি মানুষকে হারানোর আগে
মানুষ জানে না—
তার চারপাশে কত আলো ছিল।
সন্ধ্যার আগে যেমন
ধানের শিষে
শেষ রৌদ্রের গন্ধ থাকে,
কিন্তু মাঠ জানে না
আর একটু পরেই
কুয়াশা নেমে আসবে।

সেদিন
তুমি আমার সামনে বসেছিলে।
জানালার বাইরে
একটি শালিক
বারবার উড়ে এসে
আমাদের বাড়ির পুরোনো কার্নিশে বসছিল।
আমি তোমার মুখের দিকে তাকাইনি।
ভাবছিলাম—
আরও অনেক দিন আছে।

মানুষের সবচেয়ে পুরোনো ভুল
হয়তো—
সে সময়কে
নিজের সম্পত্তি মনে করে।

তুমি বলেছিলে,
“চলো, একটু হাঁটি।”
আমি বলেছিলাম,
“আজ নয়।
আরেকদিন।”
সেই আরেকদিনটি
আজও আসেনি।

পৃথিবীর কত নদী
সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গেছে;
কত শীতের পর
শিমুল গাছে আগুনের মতো ফুল ফুটেছে;
কত শহর
মানুষে ভরে আবার ফাঁকা হয়েছে—
শুধু
সেই একটি
আরেকদিন
কোথাও এসে দাঁড়ায়নি।

তুমি চলে যাওয়ার আগে
আমি বুঝিনি,
তোমার চুপ করে থাকাও
একটি ভাষা ছিল।
তোমার জানালার দিকে তাকানো,
চায়ের কাপে
অকারণে আঙুল ঘোরানো,
কোনো কথা বলতে গিয়ে
থেমে যাওয়া—
এসবের ভেতর
একটি দীর্ঘ বিদায়
ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছিল,
আমি শুনিনি।

মানুষ
সবচেয়ে প্রিয় মানুষের
সবচেয়ে ক্ষীণ ডাকটিই
প্রায়শই শুনতে পায় না।
সেই সময়
আমাদের বাড়ির পেছনে
একটি সরু পথ ছিল।
পথটি
বাঁশঝাড় পেরিয়ে
নদীর দিকে চলে যেত।
বিকেল হলে
সেখানে আলো পড়ত
মৃত কোনো পাখির ডানার মতো—
ধূসর,
নরম,
অল্প বিষণ্ণ।

তুমি একদিন বলেছিলে,
“এই পথটা মনে রেখো।”
আমি হেসেছিলাম।
একটি পথকে
মনে রাখার কী আছে?
আজ বুঝি,
মানুষ পথকে মনে রাখে না;
যে মানুষটি
তার পাশে হেঁটেছিল,
সে হারিয়ে গেলে
পৃথিবীর সমস্ত পথ
একটি মানুষের দিকে
ফিরে যেতে চায়।

এখনও কখনো
শীতের বিকেলে
দূরের কোনো বাঁশবনে
বাতাস উঠলে
আমার মনে হয়,
তুমি হয়তো
সেই পুরোনো পথেই হাঁটছ।
তোমার পায়ের নিচে
শুকনো পাতা ভাঙছে,
তুমি একবারও
পেছনে তাকাচ্ছ না।

আর আমি—
অনেক বছর পরে—
তোমাকে ডাকতে চাই।
কিন্তু
সময় এমন এক নদী,
যার ওপারে দাঁড়ানো মানুষকে
নিজের কণ্ঠ
পৌঁছাতে পারে না।
একটি মানুষকে হারানোর আগে
আমরা তাকে
প্রতিদিনের মতোই দেখি।
তার মুখে আলো পড়ে।
সে ঘুমায়।
খায়।
হাসে।
অভিমান করে।
একটি বইয়ের পাতা উল্টায়।
আমরা ভাবি,
এইসব ছোট ছোট কাজ
চিরকাল চলবে।

আমরা জানি না—
একদিন
একটি কাপ
টেবিলের ওপর
অস্পর্শিত থেকে যাবে;
একটি চেয়ার
দুপুরের রোদে
অনেকক্ষণ একা বসে থাকবে;
একটি নাম
মোবাইলের ভেতর
থাকবে,
কিন্তু
ডাকার জন্য
আর কোনো পৃথিবী থাকবে না।

তখন
মানুষ বুঝতে পারে—
হারিয়ে যাওয়া
হঠাৎ ঘটে না।
তার অনেক আগে থেকেই
বিদায়
আমাদের চারপাশে
ধীরে ধীরে
পাতা ঝরাতে থাকে।
আমরা শুধু
শব্দ শুনি না।

আজ
অনেক দূরের এক সন্ধ্যায়
আমি দাঁড়িয়ে আছি।
আকাশে
একটি একলা পাখি
পশ্চিমের দিকে চলে যাচ্ছে।
তার নিচে
নদী।
তার নিচে
অন্ধকার জল।
তারও নিচে
হয়তো
অসংখ্য দিনের স্মৃতি
ঘুমিয়ে আছে।

আমি আর তোমাকে
ফিরে পেতে চাই না।
কারণ
কিছু মানুষকে
ফিরিয়ে আনা যায় না—
তাদের জন্য
শুধু
একটি দীর্ঘ সন্ধ্যা
বেঁচে থাকে।

তবু
যদি আবার
কোনো এক জন্মে
তোমার সঙ্গে দেখা হয়,
আমি
তোমাকে জিজ্ঞেস করব না—
তুমি কোথায় ছিলে?
আমি শুধু বলব,
“চলো।
আজ একটু হাঁটি।”

কারণ
এবার আমি জানব—
সব পথ
দ্বিতীয়বার
একই মানুষের জন্য
খোলা থাকে না।
আর
একটি মানুষকে হারানোর আগে
তার পাশে
আরও কিছুক্ষণ বসে থাকা—
হয়তো
মানুষের জীবনের
সবচেয়ে বড়
এবং সবচেয়ে নীরব
ভালোবাসা।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4618
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1697
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1654
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1583
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1574
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1508
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1491
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1462
রমণী মোঃ আবু তালেব 1436
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1407
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1403
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1400
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1365
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1360
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1359
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1357
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1355
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1337
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1332
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1322
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
তুমি যে ছিলে মোঃ আবু তালেব 20
একটি মানুষকে হারানোর আগে মোঃ আবু তালেব 26
ভালোবাসার পরে মো: আবু তালেব 40
তোমার অনুপস্থিতি মোঃ আবু তালেব 33
যে হাতটি ধরিনি মোঃ আবু তালেব 40
অলৌকিক দুপুর মো: আবু তালেব 34
অস্থায়ী অনন্ত মোঃ আবু তালেব 47
প্রথম নীরবতায় ফেরা মোঃ আবু তালেব 48
শেষ প্রশ্ন মোঃ আবু তালেব 56
অন্য আমি মোঃ আবু তালেব 54
মায়ের নিঃশ্বাস মোঃ আবু তালেব 53
শেষ চুম্বন মোঃ আবু তালেব 63
বৃদ্ধের বিকেল মোঃ আবু তালেব 61
ভিখারির রাজ্য মোঃ আবু তালেব 109
সকল মানুষের মুখ মোঃ আবু তালেব 51
অপ্রকাশ মোঃ আবু তালেব 65
ভেতরের সমুদ্র মোঃ আবু তালেব 64
নীরব যুদ্ধ মোঃ আবু তালেব 65
হারিয়ে যাওয়া নাম মোঃ আবু তালেব 96
যে ক্ষমা পাইনি মোঃ আবু তালেব 60
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 30
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 52
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 73
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 65
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 79
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 74
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 81
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 125
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 144
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 143
ভালো মানুষ ইবনে আলী 251
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 145
শিকল ইবনে আলী 220
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 275
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 232
বসন্ত জয়দীপ রায় 251
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 166
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 319
জীবন ও বৃক্ষ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 286
মানবতা বনাম স্বার্থপরতা: এক যুদ্ধাহত পৃথিবীর আর্তনাদ! শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 299
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে