কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

সিংহাসনে বসে আছে একটা স্থূল মাংসের পিণ্ড,
গায়ে তার কোনো পোশাক নেই।
চারপাশে দাঁড়িয়ে একপাল নপুংসক খাসি,
তারা চেঁচিয়ে বলছে— কী দিব্যি জরি! কী নিখুঁত কারুকাজ!

তোষামোদের গন্ধে পচে যাচ্ছে শহরের বাতাস,
রাজা হাসছে, তার মাড়ির ফাঁক দিয়ে গড়াচ্ছে কাঁচা রক্ত আর চর্বি।
ভয়ের রাজত্বে সবাই সেলাই করে নিয়েছে নিজের নিজের জিভ,
শুধু মোসাহেবরা লেজ নাড়ছে, পদের আশায় চাটছে রাজকীয় গোড়ালি।

এরপর রাজা নামল রাজপথে—
নগ্ন, কুৎসিত, থলথলে অহংকার নিয়ে।
কালো কাচের গাড়ি, ভারী বুটের শব্দ, রাস্তায় ছিটকে পড়া তাজা লাশ।
হঠাৎ ড্রেন থেকে, ধুলো থেকে, ফুটপাতের ভাঙা ইট থেকে
উঠে দাঁড়াল একটা ছেঁড়াখোড়া কঙ্কালসার হাত।

আঙুলটা সোজা বিঁধে গেল শাসকের চোখে।
বুকের ভেতর থেকে একটা অট্টহাসি ফেটে পড়ল সারা শহরে—
"শালা উলঙ্গ! তোর গায়ে তো কিচ্ছু নেই!
তোর চামড়া জুড়ে লেপ্টে আছে খুন, লুট আর ক্ষুধার্তের অভিশাপ!"

ভাটপড়া থামল। থমকে গেল পেয়াদার চাবুক।
উলঙ্গ রাজার চোখের ওপর দাঁড়িয়ে আজ থুতু ফেলছে আস্ত একটা রাজপথ!

রাজার নতুন পোশাক

(মুখ ও মুখোশ)

এই শহরে
সবাই কথা বলে।
রাস্তায়,
বাসে,
দোকানে,
মুঠোফোনে
অবিরাম কথা।
শহর যেন
একটি বিশাল মুখ—
যে কখনো বন্ধ হয় না।

শুধু কিছু মানুষ
চুপ করে থাকে।
অবশ্য তাদেরও কথা আছে।
কিন্তু শহর ত
শুধু শব্দ শুনতে পায়,
নীরবতা নয়!

সকালে যে মানুষটি
ভিড়ের বাসে দাঁড়িয়ে থাকে,
তার হাতে অফিসের ব্যাগ,
চোখে রাতের ঘুমের শেষ অংশ—
কেউ জানে না
সে গতরাতে
কতবার ঘড়ির দিকে তাকিয়েছে।
ফুটপাতে যে মানুষটি
চা বিক্রি করে,
সে প্রতিদিন
শত মানুষের মুখ দেখে।
কিন্তু তার নিজের মুখটি
কেউ দেখে না।
অফিসের লিফটে
যে মানুষটি প্রতিদিন
একই তলায় নামে,
সে সবার সঙ্গে
“গুড মর্নিং” বলে।
তারপর সারাদিন
অসংখ্য ই-মেইলের উত্তর দেয়।
শুধু নিজের ভিতর থেকে আসা
একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না—
“আমি কোথায় যাচ্ছি?”

এই শহরে
মানুষের অভাব নেই।
অভাব শুধু
একজন মানুষের পাশে
আরেকজন মানুষ হয়ে
দাঁড়ানোর।
এখানে সবাই ব্যস্ত।
কারও হাতে সময় নেই
কারও চোখের দিকে তাকানোর।

কেউ পড়ে গেলে
দশজন ভিডিও করে।
কেউ কাঁদলে
অনেকে তাকায়।
কিন্তু কেউ যদি
চুপচাপ ভেঙে পড়ে—
শহর তাকে
সহজেই পাশ কাটিয়ে যায়।
কারণ নীরব মানুষের
কোনো শব্দ নেই।
আর শব্দহীন কষ্টের
কোনো সংবাদমূল্য নেই।

রাতে শহরের আলো
আরও উজ্জ্বল হয়।
হাজার জানালায়
হাজার জীবন জ্বলে থাকে।
কোথাও জন্মদিন,
কোথাও ঝগড়া,
কোথাও হাসি,
কোথাও অপেক্ষা।
আর কোনো এক জানালার পাশে
একজন মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে।
সে নিচের রাস্তায় তাকায়।
গাড়ি যাচ্ছে।
মানুষ যাচ্ছে।
জীবন যাচ্ছে।
শুধু সে
কোথাও যাচ্ছে না।
তার মুখে কোনো কান্না নেই।
সে শুধু
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।
হয়তো তার সবচেয়ে বড়
চিৎকারটিও
আজ নীরব।

এই শহর তাকে চেনে না।
শহর শুধু জানে—
তার নাম,
তার পেশা,
তার ঠিকানা,
তার বেতন,
তার পরিচয়।
কিন্তু জানে না
কোন স্মৃতিতে
সে হঠাৎ থেমে যায়।
জানে না
কোন নামটি শুনলে
তার ভিতরে
একটি পুরোনো দরজা খুলে যায়।
জানে না
কতদিন ধরে
সে কাউকে বলতে চায়—
“আমার সঙ্গে একটু বসবে?”

কিন্তু শহর বসে না।
শহর ছুটে চলে।
সকাল থেকে রাত,
রাত থেকে সকাল।
আর তার ভেতর দিয়ে
হাজার হাজার নীরব মানুষ
অদৃশ্য নদীর মতো
বয়ে যায়।
তাদের কেউ কারও নাম জানে না।
তবু তারা
একই শহরের বাসিন্দা।
একই ভিড়ের মধ্যে
একই একাকীত্ব বহন করে।

হয়তো কোনোদিন
এই শহর থামবে।
এক মুহূর্তের জন্য
সব হর্ন থামবে,
সব পর্দা নিভবে,
সব ব্যস্ততা থামবে।
তখন হয়তো
শোনা যাবে—
শহরের সবচেয়ে গভীর শব্দটি
কোনো শব্দ নয়।
অসংখ্য মানুষের
একসঙ্গে নীরব হয়ে থাকা।

আর তখন বোঝা যাবে—
এই নগরী
ভিড়ে ভরা ছিল না।
ছিল—
অসংখ্য একা মানুষের
পাশাপাশি বসবাস।

নগরীর নীরব মানুষ

(মুখ ও মুখোশ)

কিছু সত্য
মুখে আসার আগেই
চুপ হয়ে যায়।
ঠোঁট পর্যন্ত এসে
একবার থামে,
তারপর ফিরে যায়
হৃদয়ের অন্ধকার ঘরে।

আমি অনেক কথা জানি
যা কাউকে বলা যায় না।
কারণ সত্য সবসময়
মিথ্যার বিপরীত নয়—
কখনো সত্য
একটি সম্পর্কের শেষ,
কখনো একটি ঘরের নীরবতা,
কখনো বহু বছরের
ভালোবাসার ওপর
একটি অদৃশ্য দাগ।

তাই আমি চুপ থাকি।
মানুষ ভাবে,
আমার বলার মতো কিছু নেই।
অথচ আমার ভিতরে
প্রতিদিন কত কথা
দরজায় এসে দাঁড়ায়।

অনেকেই একটি কথা বলে—
“তুমি কষ্ট পেয়েছ।”
আবার বলে বলে—
“তুমি তাকে আর আগের মতো ভালোবাসো না।”
কেউ ফিসফিস করে—
“তুমি যে মানুষটি সেজে আছ,
তুমি আসলে সে নও।”
আর একটি সত্য
সবচেয়ে নীরবে বলে—
“তুমি ভালো নেই।”

আমি কোনো কথাই বলি না।
কারণ কিছু সত্য
শুনতে পাওয়ার চেয়ে
বহন করা সহজ।
কখনো কখনো
একজন মানুষকে সত্য বলা মানে
তার সামনে একটি আয়না ধরিয়ে দেওয়া নয়;
তার হাতে
একটি ভাঙা আয়না তুলে দেওয়া।
সে নিজের মুখ দেখবে,
আর সঙ্গে সঙ্গে
অনেক পুরোনো সম্পর্কের
রক্ত বেরিয়ে আসবে।

তাই আমি মিথ্যা বলি না।
শুধু সব সত্য বলি না।
এই পার্থক্যটি
কেউ বোঝে না।
তারা ভাবে—
চুপ থাকা মানেই
সম্মতি।
কখনো চুপ থাকা
সম্মতি নয়;
কখনো তা
কারও হৃদয়কে
আরও একবার ভেঙে না দেওয়ার
শেষ চেষ্টা।

রাতে একা হলে
আমি সেই না-বলা সত্যগুলোর
সঙ্গে বসি।
তাদের নাম নেই।
তাদের কোনো বিচার নেই।
শুধু তারা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।

আমি জানি,
একদিন হয়তো
তাদের কাউকেই আর মনে থাকবে না।
সময় অনেক সত্যকে
ধুলোয় ঢেকে দেয়।
কিন্তু কিছু সত্য
মানুষের ভিতরে
বেঁচে থাকে—
শব্দহীন,
অপরাধহীন,
অভিযোগহীন।
শুধু একটি প্রশ্ন হয়ে:
“যদি সেদিন
তুমি সত্যিটা বলতে—
তাহলে কি সবকিছু
অন্যরকম হতো?”
আমি জানি না।
জানার উপায়ও নেই।

তাই আজও
সেই কথাটি
আমার ঠোঁটের কাছে এসে
থেমে যায়।
আমি চোখ বন্ধ করি।
আর সত্যটিকে
আবারও ফিরিয়ে দিই
তার পুরোনো ঘরে।
কারণ পৃথিবীতে
কিছু সত্য আছে—
যেগুলো বলা যায় না,
লুকিয়েও রাখা যায় না।

সেগুলো শুধু
মানুষের সঙ্গে সঙ্গে
নীরবে বেঁচে থাকে।
কথা না হয়ে,
একটি দীর্ঘ নীরবতা হয়ে।

যে সত্য বলা যায় না

(মুখ ও মুখোশ)

প্রতিদিন সকালে
মানুষটি ঘুম থেকে উঠে
প্রথমে নিজের মুখ দেখে না—
মুখোশটি খোঁজে।

আজ কোন মুখটি পরবে?
হাসির মুখ?
নাকি আত্মবিশ্বাসের?
নাকি সেই মুখটি,
যেটি দেখে সবাই মনে করবে—
তার জীবনে কোনো অভাব নেই।

অফিসে যাওয়ার আগে
সে মুখোশটি ঠিক করে নেয়।
সহকর্মীরা জিজ্ঞেস করে,
“কী খবর?”
সে হাসে—
“ভালো।”
বন্ধু ফোন করে,
“কেমন আছিস?”
সে আরও স্বাভাবিক গলায় বলে—
“দারুণ আছি।”
কেউ তার কণ্ঠে
একটু ফাটলও খুঁজে পায় না।

কারণ মুখোশ
শুধু মুখ ঢাকে না—
কণ্ঠস্বরও বদলে দেয়।
বাড়িতে ফিরে
সে আরেকটি মুখ পরে।
সেখানে তাকে
দায়িত্বশীল হতে হয়,
শক্ত হতে হয়,
সবকিছুর উত্তর জানতে হয়।

কেউ জানে না,
দিনের শেষে
নিজের ঘরে ঢুকে
সে কতক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে।
যেন দরজার ওপাশে
পুরো পৃথিবী,
আর এপাশে
শুধু একজন মানুষ।

একদিন রাতে
মুখ ধুতে গিয়ে
সে আয়নার সামনে দাঁড়াল।
মুখোশটি খুলে ফেলল।
আয়নায় যে মুখটি দেখা গেল,
সেটি খুব সাধারণ।
কোনো হাসি নেই।
কোনো অভিনয় নেই।
কোনো ব্যাখ্যাও নেই।
শুধু দুটি চোখ—
যেন বহুদিন পর
নিজের মালিককে দেখছে।
সে চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ ভয় পেয়ে গেল।
কারণ এতদিন
সে অন্যদের কাছ থেকে
নিজেকে লুকিয়েছিল;
আজ বুঝল—
সে নিজের কাছ থেকেও
নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল।

মুখোশটি মাটিতে পড়ে রইল।
সে তুলল না।
অনেকক্ষণ
নিঃশব্দে বসে থাকল।
তারপর খুব আস্তে বলল—
“আমি ক্লান্ত।”
এই দুটি শব্দ
কাউকে বলা হয়নি
বহু বছর।
কথাগুলো ঘরের দেয়ালে গিয়ে
আর ফিরে এল না।

মানুষটি
প্রথমবার অনুভব করল—
সত্যি কথা বলার জন্য
সবসময় অন্য একজন মানুষ
দরকার হয় না,
কখনো কখনো
নিজের কাছেই
সত্যি হওয়া যথেষ্ট।

পরদিন সকালে
সে আবার বাইরে বেরোল।
মুখোশটি সঙ্গে নিল।
কারণ পৃথিবী
এখনও মুখোশ ছাড়া মানুষকে
সহজে গ্রহণ করতে শেখেনি।
তবু সেদিন
মুখোশের নিচে
একটি ছোট পরিবর্তন ছিল।

এবার সে জানত—
মুখোশটি সে পরে আছে,
মুখোশটি সে নয়।
আর এই সামান্য জ্ঞানই
তার ভিতরে
একটি দরজা খুলে দিল।

বাইরের মানুষটি
হয়তো আগের মতোই হাসছিল।
কিন্তু মুখোশের ভিতরে
প্রথমবার—
একজন সত্যিকারের মানুষ
নিজের মুখ নিয়ে
বেঁচে ছিল।

মুখোশের ভিতরে মুখ

বাছাইকৃত কবিতা

রাজার নতুন পোশাক

- মো: আবু তালেব

সিংহাসনে বসে আছে একটা স্থূল মাংসের পিণ্ড,
গায়ে তার কোনো পোশাক নেই।
চারপাশে দাঁড়িয়ে একপাল নপুংসক খাসি,
তারা চেঁচিয়ে বলছে— কী দিব্যি জরি! কী নিখুঁত কারুকাজ!

তোষামোদের গন্ধে পচে যাচ্ছে শহরের বাতাস,
রাজা হাসছে, তার মাড়ির ফাঁক দিয়ে গড়াচ্ছে কাঁচা রক্ত আর চর্বি।
ভয়ের রাজত্বে সবাই সেলাই করে নিয়েছে নিজের নিজের জিভ,
শুধু মোসাহেবরা লেজ নাড়ছে, পদের আশায় চাটছে রাজকীয় গোড়ালি।

এরপর রাজা নামল রাজপথে—
নগ্ন, কুৎসিত, থলথলে অহংকার নিয়ে।
কালো কাচের গাড়ি, ভারী বুটের শব্দ, রাস্তায় ছিটকে পড়া তাজা লাশ।
হঠাৎ ড্রেন থেকে, ধুলো থেকে, ফুটপাতের ভাঙা ইট থেকে
উঠে দাঁড়াল একটা ছেঁড়াখোড়া কঙ্কালসার হাত।

আঙুলটা সোজা বিঁধে গেল শাসকের চোখে।
বুকের ভেতর থেকে একটা অট্টহাসি ফেটে পড়ল সারা শহরে—
"শালা উলঙ্গ! তোর গায়ে তো কিচ্ছু নেই!
তোর চামড়া জুড়ে লেপ্টে আছে খুন, লুট আর ক্ষুধার্তের অভিশাপ!"

ভাটপড়া থামল। থমকে গেল পেয়াদার চাবুক।
উলঙ্গ রাজার চোখের ওপর দাঁড়িয়ে আজ থুতু ফেলছে আস্ত একটা রাজপথ!
বিস্তারিত...

নগরীর নীরব মানুষ

- মো: আবু তালেব

(মুখ ও মুখোশ)

এই শহরে
সবাই কথা বলে।
রাস্তায়,
বাসে,
দোকানে,
মুঠোফোনে
অবিরাম কথা।
শহর যেন
একটি বিশাল মুখ—
যে কখনো বন্ধ হয় না।

শুধু কিছু মানুষ
চুপ করে থাকে।
অবশ্য তাদেরও কথা আছে।
কিন্তু শহর ত
শুধু শব্দ শুনতে পায়,
নীরবতা নয়!

সকালে যে মানুষটি
ভিড়ের বাসে দাঁড়িয়ে থাকে,
তার হাতে অফিসের ব্যাগ,
চোখে রাতের ঘুমের শেষ অংশ—
কেউ জানে না
সে গতরাতে
কতবার ঘড়ির দিকে তাকিয়েছে।
ফুটপাতে যে মানুষটি
চা বিক্রি করে,
সে প্রতিদিন
শত মানুষের মুখ দেখে।
কিন্তু তার নিজের মুখটি
কেউ দেখে না।
অফিসের লিফটে
যে মানুষটি প্রতিদিন
একই তলায় নামে,
সে সবার সঙ্গে
“গুড মর্নিং” বলে।
তারপর সারাদিন
অসংখ্য ই-মেইলের উত্তর দেয়।
শুধু নিজের ভিতর থেকে আসা
একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না—
“আমি কোথায় যাচ্ছি?”

এই শহরে
মানুষের অভাব নেই।
অভাব শুধু
একজন মানুষের পাশে
আরেকজন মানুষ হয়ে
দাঁড়ানোর।
এখানে সবাই ব্যস্ত।
কারও হাতে সময় নেই
কারও চোখের দিকে তাকানোর।

কেউ পড়ে গেলে
দশজন ভিডিও করে।
কেউ কাঁদলে
অনেকে তাকায়।
কিন্তু কেউ যদি
চুপচাপ ভেঙে পড়ে—
শহর তাকে
সহজেই পাশ কাটিয়ে যায়।
কারণ নীরব মানুষের
কোনো শব্দ নেই।
আর শব্দহীন কষ্টের
কোনো সংবাদমূল্য নেই।

রাতে শহরের আলো
আরও উজ্জ্বল হয়।
হাজার জানালায়
হাজার জীবন জ্বলে থাকে।
কোথাও জন্মদিন,
কোথাও ঝগড়া,
কোথাও হাসি,
কোথাও অপেক্ষা।
আর কোনো এক জানালার পাশে
একজন মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে।
সে নিচের রাস্তায় তাকায়।
গাড়ি যাচ্ছে।
মানুষ যাচ্ছে।
জীবন যাচ্ছে।
শুধু সে
কোথাও যাচ্ছে না।
তার মুখে কোনো কান্না নেই।
সে শুধু
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।
হয়তো তার সবচেয়ে বড়
চিৎকারটিও
আজ নীরব।

এই শহর তাকে চেনে না।
শহর শুধু জানে—
তার নাম,
তার পেশা,
তার ঠিকানা,
তার বেতন,
তার পরিচয়।
কিন্তু জানে না
কোন স্মৃতিতে
সে হঠাৎ থেমে যায়।
জানে না
কোন নামটি শুনলে
তার ভিতরে
একটি পুরোনো দরজা খুলে যায়।
জানে না
কতদিন ধরে
সে কাউকে বলতে চায়—
“আমার সঙ্গে একটু বসবে?”

কিন্তু শহর বসে না।
শহর ছুটে চলে।
সকাল থেকে রাত,
রাত থেকে সকাল।
আর তার ভেতর দিয়ে
হাজার হাজার নীরব মানুষ
অদৃশ্য নদীর মতো
বয়ে যায়।
তাদের কেউ কারও নাম জানে না।
তবু তারা
একই শহরের বাসিন্দা।
একই ভিড়ের মধ্যে
একই একাকীত্ব বহন করে।

হয়তো কোনোদিন
এই শহর থামবে।
এক মুহূর্তের জন্য
সব হর্ন থামবে,
সব পর্দা নিভবে,
সব ব্যস্ততা থামবে।
তখন হয়তো
শোনা যাবে—
শহরের সবচেয়ে গভীর শব্দটি
কোনো শব্দ নয়।
অসংখ্য মানুষের
একসঙ্গে নীরব হয়ে থাকা।

আর তখন বোঝা যাবে—
এই নগরী
ভিড়ে ভরা ছিল না।
ছিল—
অসংখ্য একা মানুষের
পাশাপাশি বসবাস।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4639
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1715
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1668
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1595
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1584
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1522
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1514
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1475
রমণী মোঃ আবু তালেব 1447
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1421
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1420
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1410
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1374
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1374
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1374
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1367
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1367
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1350
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1343
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1337
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাজার নতুন পোশাক মো: আবু তালেব 12
নগরীর নীরব মানুষ মো: আবু তালেব 15
যে সত্য বলা যায় না মো: আবু তালেব 22
মুখোশের ভিতরে মুখ মোঃ আবু তালেব 21
অন্যের চোখে আমি মোঃ আবু তালেব 28
সবাই আমাকে চেনে মোঃ আবু তালেব 29
পরিচয়ের কারাগার মোঃ আবু তালেব 36
যে মানুষটি হাসছিল মোঃ আবু তালেব 30
দরিদ্রের জামা মোঃ আবু তালেব 44
হাসির শহর মোঃ আবু তালেব 48
সভ্য মানুষেরা মোঃ আবু তালেব 48
মুখের নিচে মুখ মোঃ আবু তালেব 43
ভালোবাসার শেষ দরজা মোঃ আবু তালেব 48
তোমাকে ছাড়া তোমার কাছে মোঃ আবু তালেব 49
যে প্রেম কথা বলেনি মোঃ আবু তালেব 34
আমাদের মাঝখানে রাত মোঃ আবু তালেব 48
অপেক্ষার ঘর মোঃ আবু তালেব 68
তুমি যে ছিলে মোঃ আবু তালেব 63
একটি মানুষকে হারানোর আগে মোঃ আবু তালেব 58
ভালোবাসার পরে মো: আবু তালেব 76
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
কর্পোরেট কালচার Md. Mustafizur Rahman 23
শব্দের সুনামি Md. Mustafizur Rahman 21
এ শহর আমার নয় Md. Mustafizur Rahman 29
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 42
কবির কলমে নবির ছবি কবি ফেরদাউস সরকার 57
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 56
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 78
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 99
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 77
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 92
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 93
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 97
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 135
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 149
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 165
ভালো মানুষ ইবনে আলী 268
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 153
শিকল ইবনে আলী 248
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 291
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 242
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে