কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

ভেঙে পড়েছে লোহার প্রাচীর,
ধসে গেছে অন্ধ স্বৈরাচারের অহংকারী দুর্গ!
যে রাজপথকে তোমরা বানিয়েছিলে
ক্ষমতার কসাইখানা,
যে পিচঢালা কালো পিঠে
শুকিয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছিল
শত সহস্র তরুণের তাজা রক্ত—
আজ সেই রাজপথ ফুঁড়ে
আকাশে উড়ছে বিজয়ের রক্তিম পতাকা!
তোমরা চেয়েছিলে এই জনপদকে
অনন্তকাল এক বধ্যভূমি বানিয়ে রাখতে,
তোমরা চেয়েছিলে ভয়ের চাবুক মেরে
একটা আস্ত জাতিকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখতে;
কিন্তু তোমরা মূর্খের মতো ভুলে গিয়েছিলে—
মাটির নিচে চাপা দেওয়া প্রতিটি লাশ
আসলে একেকটা অবিনাশী বারুদের বীজ!

চোখ তুলে তাকাও আজ এই উন্মুক্ত আকাশের নিচে—
এখানে কোনো একক নেতা নেই,
কোনো একজন ত্রাণকর্তা নেই;
এখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
গোটা একটা বাংলাদেশ!
এখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই পিতা,
যার বুক খালি করে তোমরা লাশ বানিয়েছিলে
তার একমাত্র ভরসাকে;
এখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই মা,
যার আঁচল চিরে এখনো ঠিকরে বেরোচ্ছে
বাষ্পীভূত আগুন;
এখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই দিনমজুর,
যার ফাটা পায়ের তলায় আজ চূর্ণ হচ্ছে সাঁজোয়া দম্ভ;
এখানে দাঁড়িয়ে আছে
ক্লাসরুম ছেড়ে আসা সেই কিশোর,
যে বুলেটের নলের মুখে বুক চিতিয়ে বলেছিল—
‘মার, কত মারবি!’
এই মানুষেরা আজ আর প্রজার মতো
করজোড়ে দয়া চাইতে আসেনি,
এরা এসেছে নিজের দেশের মালিকানা
নিজেদের হাতে ছিনিয়ে নিতে!

শোনো ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী দালালেরা,
শোনো কাচের মহলের পলাতক ঘাতকশ্রেণী—
তোমাদের কোনো সাজানো প্রেসনোট,
কোনো ড্রয়িংরুমের চতুর দেনদরবার,
কোনো মধ্যস্থতার মেকি ফাঁদ আজ আর
কাজে আসবে না।
যে রক্তের বন্যায় তোমরা অহংকারের সিংহাসন
ভাসিয়ে রাখতে চেয়েছিলে,
সেই রক্তের জোয়ারেই আজ তোমাদের
টেনে নামানো হয়েছে ইতিহাসের চরম নর্দমায়!
যে সংবিধানকে তোমরা বানিয়েছিলে
নিজেদের মত করে ,
আজ সেই মিথ্যার আস্তরণ ছিঁড়ে
রাজপথের ধুলোয় নতুন ইশতেহার লিখেছে জনতা!
সে ইশতেহারের প্রতিটি ছত্রে স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে—
জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে
কোনো জল্লাদ ক্ষমা পায় না,
খুনির পুনর্বাসনের কোনো পথ
এই মাটিতে খোলা থাকে না!

আমরা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার সমস্ত পাঠ
চুকিয়ে এসেছি;
এখন আমাদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস
একেকটি কালবোশেখী ঝড়,
আমাদের প্রতিটি ক্ষত একেকটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি!
আমাদের ভাইদের রক্তে ভেজা এই পবিত্র মাটিতে
আর কোনোদিন কোনো স্বৈরাচারকে
লাল গালিচা পেতে দেওয়া হবে না!
আর কোনোদিন মধ্যরাতে গুম করার জন্য
দরজায় কড়া নাড়বে না কোনো ঘাতকবাহিনী!
আর কোনো মায়ের সন্তানকে ভাতের দাবিতে
রাস্তায় নেমে কাফন পরতে হবে না!

আজ এই উন্মুক্ত রাজপথের বুক চিরে
একটাই মহাধ্বনি আছড়ে পড়ছে দিগন্ত থেকে দিগন্তে—
এই দেশ কোনো লুটেরা সিন্ডিকেটের নয়,
এই দেশ কোনো উর্দিপরা বুটের নয়,
এই দেশ কোনো অন্ধ মসনদের নয়!
এই দেশ ঘামে ভেজা মেহনতীর,
এই দেশ রক্তের ঋণ শোধ করা অবাধ্য তারুণ্যের,
এই দেশ সন্তানহারা মায়ের,
এই দেশ মাথা নত না করা মুক্ত মানুষের!

ইতিহাসের ফলকে আজ
তপ্ত রক্তের অক্ষরে খোদাই হয়ে গেল শেষ ফয়সালা—
তোমরা চেয়েছিলে অন্ধকার দিয়ে
কোটি চোখ বেঁধে ফেলতে,
আর আমরা নিজেদের বুক চিরে
রাজপথে সূর্যকে ছিনিয়ে আনলাম!
পতন হয়েছে স্বৈরাচারের,
ধূলিসাৎ হয়েছে শোষণের শেষ ভিত—
আজ এই রক্তভেজা মুক্ত ভোরের নামই
'নতুন বাংলাদেশ'!

রক্তে লেখা নতুন মানচিত্র

প্রাসাদের চার দেয়ালে বন্দি হয়ে থাকা
অন্ধ শাসক, বাইরে কান পেতে শোনো—
কিসের শব্দ কাঁপিয়ে দিচ্ছে তোমাদের ভিত?
ওটা কোনো কাল্পনিক বজ্রপাত নয়,
ওটা রাজপথের লোহার ব্যারিকেড
দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়ার তীক্ষ্ণ ধাতব আর্তনাদ!

তোমরা ভেবেছিলে রাজপথে কাঁটাতার পুঁতে দিলে
আটকে রাখা যাবে কোটি মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ?
ভেবেছিলে সাজানো সাঁজোয়া প্রাচীর
দাঁড়িয়ে থাকবে অনন্তকাল?
চোখ মেলে চেয়ে দেখো—
লাখো মানুষের পদভারে আজ
খড়কুটোর মতো গুঁড়িয়ে গেছে
তোমাদের সব লৌহবেষ্টনী!

যে হাতগুলো এতদিন শোষণের ভারে নুয়ে পড়েছিল,
সেই হাতগুলো আজ শিকল ভাঙার হাতুড়ি হয়ে উঠেছে।
যে চোখগুলোতে তোমরা
নামিয়ে আনতে চেয়েছিলে ভয়ের চিরস্থায়ী ছায়া,
সেই চোখে আজ জ্বলছে
স্বৈরাচারের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার আগুন!

তোমাদের কন্ট্রোল রুমের নির্দেশ আজ অচল,
ওয়াকিটকিতে নেমে এসেছে চরম বিভ্রান্তির স্তব্ধতা।
হুকুম দিয়ে আর কাউকে
মানুষ মারার জন্য লেলিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না;
কারণ বন্দুকের নল আজ
নিজেই থমকে দাঁড়িয়েছে সত্যের মুখোমুখি!

এই তো সেই সন্ধিক্ষণ—
যেখানে এসে সমস্ত অহংকার ধুলোয় মিশে যায়,
যেখানে এসে মিথ্যার কাচের দুর্গ
এক নিমেষে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।
তোমরা চেয়েছিলে একচ্ছত্র বধ্যভূমির নীরবতা,
আর ইতিহাস আজ তোমাদের দরজায় নিয়ে এসেছে
মানুষের মহাজাগরণের গর্জন!

আর কোনো পালাবার সুড়ঙ্গ নেই,
কোনো পেছনের গোপন দরজা নেই।
তোমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে
এক অপরাজেয় জনসমুদ্র,
যাদের একটাই দাবি,
একটাই রায়,
একটাই ফয়সালা—
মুক্তির আলোয় রচিত হোক
শোষণের চিরন্তন অবসান!

ব্যারিকেড ভাঙার শব্দ

তোমাদের বুলেটপ্রুফ কাচের ওপাশে বসে
তোমরা যখন মানচিত্রের গায়ে
একের পর এক কাঁটাতার আঁকো,
যখন কন্ট্রোল রুমের লাল বাতি জ্বেলে হিসাব কষো—
আর কত লাশ ফেললে
এই শহর চিরতরে বোবা হয়ে যাবে,
তখন তোমরা শুনতেই পাও না
মাটির গভীরে জমে ওঠা নিস্তব্ধ এক গর্জন!
তোমরা ভেবেছিলে সান্ধ্য আইনের কালো চাদর দিয়ে
ঢেকে দেওয়া যাবে একটা গোটা জাতির সূর্য ওঠার
তীব্র আকুলতা?
ভেবেছিলে সাঁজোয়া বহর আর
বুলেটের ধাতব শব্দে স্তব্ধ করে দেবে
বুকের খাঁচায় হাজার বছর ধরে
পুষে রাখা স্বাধীনতার দাবি?

ভুল!
তোমাদের কাগুজে অঙ্কের খাতা চরম মিথ্যেয় ভরা!
চোখ খুলে চেয়ে দেখো
এই দিগন্তজোড়া রাজপথের দিকে—
এখানে কোনো একক নাম নেই,
কোনো একক নেতার মুখ নেই;
এখানে ধুলোমাখা ময়লা শার্ট পরে
নেমে এসেছে অনাহারী দিনমজুর,
যার পা-ফাটা চলার ছন্দে আজ আছড়ে পড়ছে গণবিদ্রোহের তীব্র বেগ!
এখানে বই খাতা ফেলে
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে অবাধ্য কিশোর,
যার ডায়েরির শেষ পাতায় জ্বলজ্বল করছে—
‘হয় অধিকার, নয় মৃত্যু!’
এখানে রাজপথে নেমে এসেছে সেই নিঃস্ব মা,
যার ঘরে হয়তো একমুঠো ভাত নেই,
কিন্তু চোখের তারায় জ্বলছে স্বৈরাচারের তাসের ঘর
পুড়িয়ে দেওয়ার আগুন!
এখানে কারখানার শ্রমিক,
টিউশনি-হারানো বেকার,
হাসপাতালের রক্ত দেওয়া তরুণ—
সবাই আজ একাকার হয়ে গড়ে তুলেছে
এক অপরাজেয় জীবন্ত প্রাচীর!

তোমরা জলকামান ছুড়েছ—
আমরা ভিজেছি সেই বিষাক্ত গরম জলে,
তোমরা টিয়ারগ্যাস ছুড়েছ—
আমরা চোখ মুছে আবারও সামনে এগিয়েছি,
তোমরা সাঁজোয়া গাড়ি নামিয়েছ—
আমরা তার চাকার সামনে খালি বুক পেতে দিয়েছি!

বলো,
যে প্রজন্ম একবার নিজের জীবন তুচ্ছ করে
মৃত্যুকে হাসিমুখে মেনে নিতে শিখেছে,
তাকে তোমরা কোন নরকের ভয় দেখিয়ে ঘরে ফেরাবে?
তোমাদের হেলমেট,
তোমাদের কালো উর্দি,
তোমাদের কেনা পেটোয়া বাহিনী—
সবকিছু আজ থরথর করে কাঁপছে
এই খালি হাতের জনসমুদ্রের সামনে!
অস্ত্র যার একমাত্র শক্তি,
সে আসলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভীরু;
আর যে মানুষ সত্যের শক্তিতে খালি পায়ে দাঁড়ায়,
সে বুলেটবিদ্ধ হয়েও বিজয়ী হয়!

শোনো হে অন্ধ মসনদের স্বঘোষিত নরপশুরা,
ইতিহাসের তপ্ত পাতা কোনোদিন
কোনো স্বৈরাচারের তোষামোদে লেখা থাকে না।
চূর্ণ হয়েছিল রোমের অহংকার,
ধসে পড়েছিল প্রতাপশালী ফেরাউনের রাজপ্রাসাদ,
বাঙ্কারের অন্ধকারেই রচিত হয়েছিল
হিটলারের চূড়ান্ত পরিণতি!
তোমরা কি ভেবেছ
তোমরাই কেবল প্রকৃতির অলঙ্ঘ্য নিয়মের বাইরে?
তোমরা কি ভেবেছ
কোটি মানুষের তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে
তোমাদের এই শোষণের সাম্রাজ্য অমরত্ব পেয়ে যাবে?
না!
প্রতিটি শহীদের রক্তাক্ত নখরে আজ
খোদাই হয়ে গেছে তোমাদের পতনের শেষ তারিখ!
যে পিচঢালা রাস্তায় তোমরা
আমার ভাইয়ের মগজ ছিটকে ফেলেছিলে,
সেই রাজপথের প্রতিটি ধূলিকণা আজ
একেকটি আগ্নেয়গিরি হয়ে ফেটে পড়ছে!

আমরা কোনো করজোড়ে ক্ষমা চাইতে আসিনি,
আমরা কোনো সাজানো গোলটেবিলে
কৃত্রিম ভিক্ষা নিতে আসিনি।
টেলিভিশনের পর্দায় প্রচারিত মিথ্যা বিবৃতি আর
সুশীলদের মেকি সালিশি—
আমরা এক নিমেষে ছুড়ে ফেলে দিলাম
ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে!
যেখানে রক্তের চটচটে দাগ
আজও রাজপথের কালো অ্যাসফল্টে শুকোয়নি,
যেখানে গুমঘরের স্যাঁতসেঁতে দেয়ালে
আজও গোঙায় সহস্র ভাইয়ের নিঃশ্বাস,
সেখানে কোনো রক্তমাখা সমঝোতার খসড়া
লেখা হতে পারে না!

আমাদের দাবি একটাই—
পূর্ণ মুক্তি, পূর্ণ অধিকার,
আর খুনির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে
প্রতিটি অপরাধীর চূড়ান্ত বিচার!

ঐ শোনো—
বাতাসের বুকে কোটি কোটি কণ্ঠে
আছড়ে পড়ছে একতার অবিচল গর্জন!
লাখো মানুষের পদভারে কেঁপে উঠছে
তোমাদের সুরক্ষিত অট্টালিকা,
ভেঙে পড়ছে ভয়ের ব্যারিকেড,
চুরমার হচ্ছে দম্ভের শেষ কেল্লা!
এই মহাপ্লাবনকে থামানোর মতো
কোনো বাঁধ এই পৃথিবীতে কোনোদিন তৈরি হয়নি,
এই জনজোয়ারকে রুখে দেওয়ার মতো
কোনো বুলেট কোনো কারখানায় জন্মায়নি!
আমরা আসছি—
সমস্ত ভয়ের শেকল ভেঙে চূর্ণ করে,
সমস্ত অন্ধকারকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে,
বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে একটি মুক্ত,
নির্ভীক সকাল ছিনিয়ে আনতে!

আজ এই গণঅভ্যুত্থানের তপ্ত সূর্যকে
সাক্ষী রেখে আমরা জানিয়ে গেলাম—
রাজপথ জনতার ছিল,
রাজপথ জনতারই থাকবে!
এই মানচিত্র মুক্ত মানুষের,
এই মাটি কোনো অহংকারী শাসকের কেনা সম্পত্তি নয়!
শহীদের পবিত্র রক্তের শপথ—
আমরা আর এক চুলও পিছু হটব না,
আমরা থামব না,
যতক্ষণ না এই মুক্ত বাতাসে রচিত হয়
মানুষের চিরন্তন বিজয়ের মহাকাব্য!

মহাপ্লাবনের ইশতেহার

তোমরা চুন আর ব্রাশ হাতে নিয়ে নেমেছ মধ্যরাতে,
ভেবেছ সাদা রঙের প্রলেপে মুছে দেওয়া যাবে
দেওয়ালে দেওয়ালে খোদাই করা অবাধ্যতার
জ্বলন্ত বর্ণমালা!
কাল রাতে যেখানে তরুণেরা লিখে গিয়েছিল—
“স্বৈরাচার নিপাত যাক”,
আজ সকালে সেখানে তোমাদের
ভয় দেখনো আস্তরণ ঝুলছে।

কিন্তু ইটের পাঁজরে ঢুকে যাওয়া কালির কী করবে?
ভাঙা প্লাস্টারের খাঁজে খাঁজে ঘামে-রক্তে
যে স্লোগান আঁকা হয়েছিল,
তা তো কেবল আলগা কোনো রঙ নয়!
ওটা এই শহরের রুদ্ধ কণ্ঠনালী,
ওটা একটা জাতির আর্তনাদ—
যা পাথরের ভেতরেও জীবন্ত নিঃশ্বাস নেয়!

তোমরা চুনকাম দিয়ে দেওয়ালের মুখ বাঁধতে পারো,
কিন্তু কোটি মানুষের বুকের গভীরে
যে লাল হরফগুলো জ্বলছে—
সেখানে তোমাদের কেনা কোনো
সাদা চুন পৌঁছাতে পারে না!
প্রতিটি মোড়ের অন্ধ দেয়ালে লুকিয়ে আছে
একেকটি বজ্রপাত;
যতই ঢাকো,
চুনকামের চামড়া শুকোতেই আবার ফুটে উঠবে—
“রক্তের হিসেব চাই!”
“পতন অনিবার্য!”

হে অন্ধ রঙমিস্ত্রিদের লেলিয়ে দেওয়া ক্ষমতাবান প্রভু—
অক্ষর কোনো কাগুজে পর্দা নয় যা ছিঁড়ে ফেলা যায়,
স্লোগান কোনো বাষ্প নয় যা বাতাসে উড়িয়ে দেবে!
যখন কোটি হাত একসাথে
রাজপথের সব দেওয়াল স্পর্শ করবে,
তখন তোমাদের ওই মেকি সাদার মুখোশ ধসে পড়বে;
বেরিয়ে আসবে আগ্নেয়গিরির মতো লাল ইশতেহার!

যে দেওয়ালকে তোমরা বোবা বানাতে চেয়েছিলে,
সেই দেওয়ালই একদিন আছড়ে পড়বে
তোমাদের কাচের দুর্গে।
তখন আর খোলস বদলানোর সময় পাবে না—
চুনকামের বুক চিরে রাজপথে নেমে আসবে
চূড়ান্ত বিজয়ের গান!

চুনকামের নিচে আগুন

বাছাইকৃত কবিতা

এসো ফিরে কবি

- সমুদ্র দাস

হে কবি,
এসো ফিরে আবার মাতৃকোলে,
ফিরে এসো বৈশাখের ঐ গানে
ছন্দের নূপুর বাজাও আপন মৃদঙ্গের তালে।

হে কবি,
বিশ্ব আজ জর্জরিত,
ভয়ানক কালগ্রাসে অরুণ আজ অস্তমিত।
ফিরে এসো,হও মোদের ঋত্বিক,
দর্শন করাও মোদের সত্যের প্রতীক।
বিস্তারিত...

রক্তে লেখা নতুন মানচিত্র

- মো: আবু তালেব

ভেঙে পড়েছে লোহার প্রাচীর,
ধসে গেছে অন্ধ স্বৈরাচারের অহংকারী দুর্গ!
যে রাজপথকে তোমরা বানিয়েছিলে
ক্ষমতার কসাইখানা,
যে পিচঢালা কালো পিঠে
শুকিয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছিল
শত সহস্র তরুণের তাজা রক্ত—
আজ সেই রাজপথ ফুঁড়ে
আকাশে উড়ছে বিজয়ের রক্তিম পতাকা!
তোমরা চেয়েছিলে এই জনপদকে
অনন্তকাল এক বধ্যভূমি বানিয়ে রাখতে,
তোমরা চেয়েছিলে ভয়ের চাবুক মেরে
একটা আস্ত জাতিকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখতে;
কিন্তু তোমরা মূর্খের মতো ভুলে গিয়েছিলে—
মাটির নিচে চাপা দেওয়া প্রতিটি লাশ
আসলে একেকটা অবিনাশী বারুদের বীজ!

চোখ তুলে তাকাও আজ এই উন্মুক্ত আকাশের নিচে—
এখানে কোনো একক নেতা নেই,
কোনো একজন ত্রাণকর্তা নেই;
এখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
গোটা একটা বাংলাদেশ!
এখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই পিতা,
যার বুক খালি করে তোমরা লাশ বানিয়েছিলে
তার একমাত্র ভরসাকে;
এখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই মা,
যার আঁচল চিরে এখনো ঠিকরে বেরোচ্ছে
বাষ্পীভূত আগুন;
এখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই দিনমজুর,
যার ফাটা পায়ের তলায় আজ চূর্ণ হচ্ছে সাঁজোয়া দম্ভ;
এখানে দাঁড়িয়ে আছে
ক্লাসরুম ছেড়ে আসা সেই কিশোর,
যে বুলেটের নলের মুখে বুক চিতিয়ে বলেছিল—
‘মার, কত মারবি!’
এই মানুষেরা আজ আর প্রজার মতো
করজোড়ে দয়া চাইতে আসেনি,
এরা এসেছে নিজের দেশের মালিকানা
নিজেদের হাতে ছিনিয়ে নিতে!

শোনো ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী দালালেরা,
শোনো কাচের মহলের পলাতক ঘাতকশ্রেণী—
তোমাদের কোনো সাজানো প্রেসনোট,
কোনো ড্রয়িংরুমের চতুর দেনদরবার,
কোনো মধ্যস্থতার মেকি ফাঁদ আজ আর
কাজে আসবে না।
যে রক্তের বন্যায় তোমরা অহংকারের সিংহাসন
ভাসিয়ে রাখতে চেয়েছিলে,
সেই রক্তের জোয়ারেই আজ তোমাদের
টেনে নামানো হয়েছে ইতিহাসের চরম নর্দমায়!
যে সংবিধানকে তোমরা বানিয়েছিলে
নিজেদের মত করে ,
আজ সেই মিথ্যার আস্তরণ ছিঁড়ে
রাজপথের ধুলোয় নতুন ইশতেহার লিখেছে জনতা!
সে ইশতেহারের প্রতিটি ছত্রে স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে—
জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে
কোনো জল্লাদ ক্ষমা পায় না,
খুনির পুনর্বাসনের কোনো পথ
এই মাটিতে খোলা থাকে না!

আমরা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার সমস্ত পাঠ
চুকিয়ে এসেছি;
এখন আমাদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস
একেকটি কালবোশেখী ঝড়,
আমাদের প্রতিটি ক্ষত একেকটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি!
আমাদের ভাইদের রক্তে ভেজা এই পবিত্র মাটিতে
আর কোনোদিন কোনো স্বৈরাচারকে
লাল গালিচা পেতে দেওয়া হবে না!
আর কোনোদিন মধ্যরাতে গুম করার জন্য
দরজায় কড়া নাড়বে না কোনো ঘাতকবাহিনী!
আর কোনো মায়ের সন্তানকে ভাতের দাবিতে
রাস্তায় নেমে কাফন পরতে হবে না!

আজ এই উন্মুক্ত রাজপথের বুক চিরে
একটাই মহাধ্বনি আছড়ে পড়ছে দিগন্ত থেকে দিগন্তে—
এই দেশ কোনো লুটেরা সিন্ডিকেটের নয়,
এই দেশ কোনো উর্দিপরা বুটের নয়,
এই দেশ কোনো অন্ধ মসনদের নয়!
এই দেশ ঘামে ভেজা মেহনতীর,
এই দেশ রক্তের ঋণ শোধ করা অবাধ্য তারুণ্যের,
এই দেশ সন্তানহারা মায়ের,
এই দেশ মাথা নত না করা মুক্ত মানুষের!

ইতিহাসের ফলকে আজ
তপ্ত রক্তের অক্ষরে খোদাই হয়ে গেল শেষ ফয়সালা—
তোমরা চেয়েছিলে অন্ধকার দিয়ে
কোটি চোখ বেঁধে ফেলতে,
আর আমরা নিজেদের বুক চিরে
রাজপথে সূর্যকে ছিনিয়ে আনলাম!
পতন হয়েছে স্বৈরাচারের,
ধূলিসাৎ হয়েছে শোষণের শেষ ভিত—
আজ এই রক্তভেজা মুক্ত ভোরের নামই
'নতুন বাংলাদেশ'!
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4686
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1738
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1685
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1610
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1599
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1542
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1534
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1496
রমণী মোঃ আবু তালেব 1463
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1438
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1435
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1435
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1392
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1391
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1389
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1383
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1383
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1363
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1356
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1349
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রক্তে লেখা নতুন মানচিত্র মো: আবু তালেব 7
ব্যারিকেড ভাঙার শব্দ মোঃ আবু তালেব 16
মহাপ্লাবনের ইশতেহার মো: আবু তালেব 19
চুনকামের নিচে আগুন মো: আবু তালেব 17
আমাদের মৃত্যুগুলো সংখ্যা নয় মোঃ আবু তালেব 20
নিঃশব্দতার ব্যাকরণ মো: আবু তালেব 18
মুক্তির শেষ ইশতেহার মোঃ আবু তালেব 23
দালালির মহাফেজখানা মোঃ আবু তালেব 38
ভয়ের চেয়ে ক্রোধ বড় মো: আবু তালেব 31
মর্গের টেবিলের বক্তব্য মোঃ আবু তালেব 32
যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পারো নাই কাজী নজরুল ইসলাম 43
রক্তের কোনো সমঝোতা হয় না মো: আবু তালেব 48
পালাবার পথ নেই মোঃ আবু তালেব 46
বুলেটবিদ্ধ খাতা মো: আবু তালেব 75
টং দোকানের বাংলাদেশ মো: আবু তালেব 63
কাফন ছাড়া লাশ মো: আবু তালেব 57
চেয়ারের কোন ধর্ম নেই মো: আবু তালেব 63
একটি নিখোঁজ জুতো মো: আবু তালেব 58
পোস্টারে ঢাকা দেয়াল মো: আবু তালেব 59
চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 61
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
এসো ফিরে কবি সমুদ্র দাস 5
বৃত্তের বাইরে আফজাল সুয়েব 36
অনন্ত ধ্রুবক মোছাঃ লুবা আক্তার 58
বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন Md. Mustafizur Rahman 54
কর্পোরেট কালচার Md. Mustafizur Rahman 65
শব্দের সুনামি Md. Mustafizur Rahman 63
এ শহর আমার নয় Md. Mustafizur Rahman 64
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 81
কবির কলমে নবির ছবি কবি ফেরদাউস সরকার 83
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 80
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 101
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 126
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 94
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 109
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 114
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 108
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 152
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 166
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 184
ভালো মানুষ ইবনে আলী 300
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে