কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(মুখ ও মুখোশ)

কিছু সত্য
মুখে আসার আগেই
চুপ হয়ে যায়।
ঠোঁট পর্যন্ত এসে
একবার থামে,
তারপর ফিরে যায়
হৃদয়ের অন্ধকার ঘরে।

আমি অনেক কথা জানি
যা কাউকে বলা যায় না।
কারণ সত্য সবসময়
মিথ্যার বিপরীত নয়—
কখনো সত্য
একটি সম্পর্কের শেষ,
কখনো একটি ঘরের নীরবতা,
কখনো বহু বছরের
ভালোবাসার ওপর
একটি অদৃশ্য দাগ।

তাই আমি চুপ থাকি।
মানুষ ভাবে,
আমার বলার মতো কিছু নেই।
অথচ আমার ভিতরে
প্রতিদিন কত কথা
দরজায় এসে দাঁড়ায়।

অনেকেই একটি কথা বলে—
“তুমি কষ্ট পেয়েছ।”
আবার বলে বলে—
“তুমি তাকে আর আগের মতো ভালোবাসো না।”
কেউ ফিসফিস করে—
“তুমি যে মানুষটি সেজে আছ,
তুমি আসলে সে নও।”
আর একটি সত্য
সবচেয়ে নীরবে বলে—
“তুমি ভালো নেই।”

আমি কোনো কথাই বলি না।
কারণ কিছু সত্য
শুনতে পাওয়ার চেয়ে
বহন করা সহজ।
কখনো কখনো
একজন মানুষকে সত্য বলা মানে
তার সামনে একটি আয়না ধরিয়ে দেওয়া নয়;
তার হাতে
একটি ভাঙা আয়না তুলে দেওয়া।
সে নিজের মুখ দেখবে,
আর সঙ্গে সঙ্গে
অনেক পুরোনো সম্পর্কের
রক্ত বেরিয়ে আসবে।

তাই আমি মিথ্যা বলি না।
শুধু সব সত্য বলি না।
এই পার্থক্যটি
কেউ বোঝে না।
তারা ভাবে—
চুপ থাকা মানেই
সম্মতি।
কখনো চুপ থাকা
সম্মতি নয়;
কখনো তা
কারও হৃদয়কে
আরও একবার ভেঙে না দেওয়ার
শেষ চেষ্টা।

রাতে একা হলে
আমি সেই না-বলা সত্যগুলোর
সঙ্গে বসি।
তাদের নাম নেই।
তাদের কোনো বিচার নেই।
শুধু তারা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।

আমি জানি,
একদিন হয়তো
তাদের কাউকেই আর মনে থাকবে না।
সময় অনেক সত্যকে
ধুলোয় ঢেকে দেয়।
কিন্তু কিছু সত্য
মানুষের ভিতরে
বেঁচে থাকে—
শব্দহীন,
অপরাধহীন,
অভিযোগহীন।
শুধু একটি প্রশ্ন হয়ে:
“যদি সেদিন
তুমি সত্যিটা বলতে—
তাহলে কি সবকিছু
অন্যরকম হতো?”
আমি জানি না।
জানার উপায়ও নেই।

তাই আজও
সেই কথাটি
আমার ঠোঁটের কাছে এসে
থেমে যায়।
আমি চোখ বন্ধ করি।
আর সত্যটিকে
আবারও ফিরিয়ে দিই
তার পুরোনো ঘরে।
কারণ পৃথিবীতে
কিছু সত্য আছে—
যেগুলো বলা যায় না,
লুকিয়েও রাখা যায় না।

সেগুলো শুধু
মানুষের সঙ্গে সঙ্গে
নীরবে বেঁচে থাকে।
কথা না হয়ে,
একটি দীর্ঘ নীরবতা হয়ে।

যে সত্য বলা যায় না

(মুখ ও মুখোশ)

প্রতিদিন সকালে
মানুষটি ঘুম থেকে উঠে
প্রথমে নিজের মুখ দেখে না—
মুখোশটি খোঁজে।

আজ কোন মুখটি পরবে?
হাসির মুখ?
নাকি আত্মবিশ্বাসের?
নাকি সেই মুখটি,
যেটি দেখে সবাই মনে করবে—
তার জীবনে কোনো অভাব নেই।

অফিসে যাওয়ার আগে
সে মুখোশটি ঠিক করে নেয়।
সহকর্মীরা জিজ্ঞেস করে,
“কী খবর?”
সে হাসে—
“ভালো।”
বন্ধু ফোন করে,
“কেমন আছিস?”
সে আরও স্বাভাবিক গলায় বলে—
“দারুণ আছি।”
কেউ তার কণ্ঠে
একটু ফাটলও খুঁজে পায় না।

কারণ মুখোশ
শুধু মুখ ঢাকে না—
কণ্ঠস্বরও বদলে দেয়।
বাড়িতে ফিরে
সে আরেকটি মুখ পরে।
সেখানে তাকে
দায়িত্বশীল হতে হয়,
শক্ত হতে হয়,
সবকিছুর উত্তর জানতে হয়।

কেউ জানে না,
দিনের শেষে
নিজের ঘরে ঢুকে
সে কতক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে।
যেন দরজার ওপাশে
পুরো পৃথিবী,
আর এপাশে
শুধু একজন মানুষ।

একদিন রাতে
মুখ ধুতে গিয়ে
সে আয়নার সামনে দাঁড়াল।
মুখোশটি খুলে ফেলল।
আয়নায় যে মুখটি দেখা গেল,
সেটি খুব সাধারণ।
কোনো হাসি নেই।
কোনো অভিনয় নেই।
কোনো ব্যাখ্যাও নেই।
শুধু দুটি চোখ—
যেন বহুদিন পর
নিজের মালিককে দেখছে।
সে চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ ভয় পেয়ে গেল।
কারণ এতদিন
সে অন্যদের কাছ থেকে
নিজেকে লুকিয়েছিল;
আজ বুঝল—
সে নিজের কাছ থেকেও
নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল।

মুখোশটি মাটিতে পড়ে রইল।
সে তুলল না।
অনেকক্ষণ
নিঃশব্দে বসে থাকল।
তারপর খুব আস্তে বলল—
“আমি ক্লান্ত।”
এই দুটি শব্দ
কাউকে বলা হয়নি
বহু বছর।
কথাগুলো ঘরের দেয়ালে গিয়ে
আর ফিরে এল না।

মানুষটি
প্রথমবার অনুভব করল—
সত্যি কথা বলার জন্য
সবসময় অন্য একজন মানুষ
দরকার হয় না,
কখনো কখনো
নিজের কাছেই
সত্যি হওয়া যথেষ্ট।

পরদিন সকালে
সে আবার বাইরে বেরোল।
মুখোশটি সঙ্গে নিল।
কারণ পৃথিবী
এখনও মুখোশ ছাড়া মানুষকে
সহজে গ্রহণ করতে শেখেনি।
তবু সেদিন
মুখোশের নিচে
একটি ছোট পরিবর্তন ছিল।

এবার সে জানত—
মুখোশটি সে পরে আছে,
মুখোশটি সে নয়।
আর এই সামান্য জ্ঞানই
তার ভিতরে
একটি দরজা খুলে দিল।

বাইরের মানুষটি
হয়তো আগের মতোই হাসছিল।
কিন্তু মুখোশের ভিতরে
প্রথমবার—
একজন সত্যিকারের মানুষ
নিজের মুখ নিয়ে
বেঁচে ছিল।

মুখোশের ভিতরে মুখ

(মুখ ও মুখোশ)

ছোটবেলায়
আমি জানতাম না
আমি আসলে কেমন।

আয়নায় তাকালে
শুধু একটি মুখ দেখতাম—
আমার নিজের।
তারপর একদিন
কেউ বলল,
“তুমি সুন্দর।”
আরেকদিন কেউ বলল,
“তুমি তেমন কিছু নও।”
সেদিন থেকেই
আমি নিজের মুখের ওপর
অন্যের চোখ বসাতে শুরু করলাম।

যে আমাকে ভালোবাসে,
তার চোখে নিজেকে দেখলাম—
আমি ভালো।
যে আমাকে অপছন্দ করে,
তার চোখে তাকালাম—
আমি খারাপ।
যে আমাকে সম্মান করে,
আমি তার চোখে
নিজেকে বড় করলাম।
যে আমাকে তুচ্ছ করে,
তার চোখে
নিজেকে ছোট করলাম।
এভাবে একদিন
আমার নিজের কোনো চোখ
রইল না।

আমি পোশাক পরি—
মানুষ কী বলবে
তা ভেবে।
কথা বলি—
কে কী ভাববে
তা ভেবে।
চুপ থাকি—
চুপ না থাকলে কে কী ভাববে
তা ভেবে।
হাসি—
হাসিটা সুন্দর দেখাচ্ছে কি না
তা ভেবে।
কাঁদি না—
কেউ আমাকে দুর্বল ভাববে কি না
তা ভেবে।
ধীরে ধীরে
আমি আর জীবন যাপন করিনি;
আমি শুধু
নিজেকে প্রদর্শন করেছি।

আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাশে
একজন অদৃশ্য দর্শক বসে থাকত।
সে বলত—
“এটা করলে মানুষ কী বলবে?”
আমি শুনতাম।
সে বলত—
“ওরা তোমাকে পছন্দ করবে তো?”
আমি বদলে যেতাম।
সে বলত—
“তুমি কি যথেষ্ট?”
আমি সারারাত
নিজেকে মাপতাম।

একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
হঠাৎ বুঝলাম—
আয়নায় যে মানুষটি দাঁড়িয়ে আছে,
তাকে আমি চিনি না।
তার মুখে
হাজার মানুষের মতামত।
তার চোখে
অন্যের প্রত্যাশা।
তার হাসিতে
অনুমোদনের ক্ষুধা।
তার নীরবতায়
অস্বীকৃতির ভয়।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম—
“তুমি কে?”
সে উত্তর দিল না।
কারণ তার নিজের কোনো উত্তর ছিল না।
সে শুধু জানত—
মানুষ তাকে কী ভাবে।

সেদিন প্রথমবার
আমি আয়নাটি সরিয়ে রাখলাম।
কোনো প্রশংসা নয়,
কোনো নিন্দা নয়,
কোনো তুলনা নয়।
শুধু নিজের সঙ্গে
একটি দীর্ঘ নীরবতা।

সেই নীরবতায়
ধীরে ধীরে
একটি অপরিচিত কণ্ঠ শুনলাম।
কণ্ঠটি বলল—
“তুমি যা,
তা দেখার জন্য
অন্যের চোখ ধার করতে হবে না।”

আমি অনেকক্ষণ
চুপ করে রইলাম।
তারপর প্রথমবার
নিজের চোখে
নিজেকে দেখলাম।
দেখলাম—
আমি নিখুঁত নই।
আমি অসাধারণও নই।
আমি ব্যর্থ,
আমি সফল,
আমি ভাঙি,
আমি আবার দাঁড়াই।
কখনো ভুল করি,
কখনো ক্ষমা চাইতে পারি না,
কখনো নিজেকেই বুঝি না।

তবু—
এই অসম্পূর্ণ মানুষটিই আমি।
সেদিন বুঝলাম,
অন্যের চোখে
নিজেকে সুন্দর করতে করতে
আমি নিজের চোখেই
অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলাম।

আর নিজেকে ফিরে পাওয়ার প্রথম মুহূর্তটি ছিল—
যখন পৃথিবী কী দেখছে
সেটা ভুলে,
আমি প্রথমবার
নিজের দিকে তাকিয়েছিলাম।

অন্যের চোখে আমি

বাছাইকৃত কবিতা

যে সত্য বলা যায় না

- মো: আবু তালেব

(মুখ ও মুখোশ)

কিছু সত্য
মুখে আসার আগেই
চুপ হয়ে যায়।
ঠোঁট পর্যন্ত এসে
একবার থামে,
তারপর ফিরে যায়
হৃদয়ের অন্ধকার ঘরে।

আমি অনেক কথা জানি
যা কাউকে বলা যায় না।
কারণ সত্য সবসময়
মিথ্যার বিপরীত নয়—
কখনো সত্য
একটি সম্পর্কের শেষ,
কখনো একটি ঘরের নীরবতা,
কখনো বহু বছরের
ভালোবাসার ওপর
একটি অদৃশ্য দাগ।

তাই আমি চুপ থাকি।
মানুষ ভাবে,
আমার বলার মতো কিছু নেই।
অথচ আমার ভিতরে
প্রতিদিন কত কথা
দরজায় এসে দাঁড়ায়।

অনেকেই একটি কথা বলে—
“তুমি কষ্ট পেয়েছ।”
আবার বলে বলে—
“তুমি তাকে আর আগের মতো ভালোবাসো না।”
কেউ ফিসফিস করে—
“তুমি যে মানুষটি সেজে আছ,
তুমি আসলে সে নও।”
আর একটি সত্য
সবচেয়ে নীরবে বলে—
“তুমি ভালো নেই।”

আমি কোনো কথাই বলি না।
কারণ কিছু সত্য
শুনতে পাওয়ার চেয়ে
বহন করা সহজ।
কখনো কখনো
একজন মানুষকে সত্য বলা মানে
তার সামনে একটি আয়না ধরিয়ে দেওয়া নয়;
তার হাতে
একটি ভাঙা আয়না তুলে দেওয়া।
সে নিজের মুখ দেখবে,
আর সঙ্গে সঙ্গে
অনেক পুরোনো সম্পর্কের
রক্ত বেরিয়ে আসবে।

তাই আমি মিথ্যা বলি না।
শুধু সব সত্য বলি না।
এই পার্থক্যটি
কেউ বোঝে না।
তারা ভাবে—
চুপ থাকা মানেই
সম্মতি।
কখনো চুপ থাকা
সম্মতি নয়;
কখনো তা
কারও হৃদয়কে
আরও একবার ভেঙে না দেওয়ার
শেষ চেষ্টা।

রাতে একা হলে
আমি সেই না-বলা সত্যগুলোর
সঙ্গে বসি।
তাদের নাম নেই।
তাদের কোনো বিচার নেই।
শুধু তারা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।

আমি জানি,
একদিন হয়তো
তাদের কাউকেই আর মনে থাকবে না।
সময় অনেক সত্যকে
ধুলোয় ঢেকে দেয়।
কিন্তু কিছু সত্য
মানুষের ভিতরে
বেঁচে থাকে—
শব্দহীন,
অপরাধহীন,
অভিযোগহীন।
শুধু একটি প্রশ্ন হয়ে:
“যদি সেদিন
তুমি সত্যিটা বলতে—
তাহলে কি সবকিছু
অন্যরকম হতো?”
আমি জানি না।
জানার উপায়ও নেই।

তাই আজও
সেই কথাটি
আমার ঠোঁটের কাছে এসে
থেমে যায়।
আমি চোখ বন্ধ করি।
আর সত্যটিকে
আবারও ফিরিয়ে দিই
তার পুরোনো ঘরে।
কারণ পৃথিবীতে
কিছু সত্য আছে—
যেগুলো বলা যায় না,
লুকিয়েও রাখা যায় না।

সেগুলো শুধু
মানুষের সঙ্গে সঙ্গে
নীরবে বেঁচে থাকে।
কথা না হয়ে,
একটি দীর্ঘ নীরবতা হয়ে।
বিস্তারিত...

মুখোশের ভিতরে মুখ

- মোঃ আবু তালেব

(মুখ ও মুখোশ)

প্রতিদিন সকালে
মানুষটি ঘুম থেকে উঠে
প্রথমে নিজের মুখ দেখে না—
মুখোশটি খোঁজে।

আজ কোন মুখটি পরবে?
হাসির মুখ?
নাকি আত্মবিশ্বাসের?
নাকি সেই মুখটি,
যেটি দেখে সবাই মনে করবে—
তার জীবনে কোনো অভাব নেই।

অফিসে যাওয়ার আগে
সে মুখোশটি ঠিক করে নেয়।
সহকর্মীরা জিজ্ঞেস করে,
“কী খবর?”
সে হাসে—
“ভালো।”
বন্ধু ফোন করে,
“কেমন আছিস?”
সে আরও স্বাভাবিক গলায় বলে—
“দারুণ আছি।”
কেউ তার কণ্ঠে
একটু ফাটলও খুঁজে পায় না।

কারণ মুখোশ
শুধু মুখ ঢাকে না—
কণ্ঠস্বরও বদলে দেয়।
বাড়িতে ফিরে
সে আরেকটি মুখ পরে।
সেখানে তাকে
দায়িত্বশীল হতে হয়,
শক্ত হতে হয়,
সবকিছুর উত্তর জানতে হয়।

কেউ জানে না,
দিনের শেষে
নিজের ঘরে ঢুকে
সে কতক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে।
যেন দরজার ওপাশে
পুরো পৃথিবী,
আর এপাশে
শুধু একজন মানুষ।

একদিন রাতে
মুখ ধুতে গিয়ে
সে আয়নার সামনে দাঁড়াল।
মুখোশটি খুলে ফেলল।
আয়নায় যে মুখটি দেখা গেল,
সেটি খুব সাধারণ।
কোনো হাসি নেই।
কোনো অভিনয় নেই।
কোনো ব্যাখ্যাও নেই।
শুধু দুটি চোখ—
যেন বহুদিন পর
নিজের মালিককে দেখছে।
সে চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ ভয় পেয়ে গেল।
কারণ এতদিন
সে অন্যদের কাছ থেকে
নিজেকে লুকিয়েছিল;
আজ বুঝল—
সে নিজের কাছ থেকেও
নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল।

মুখোশটি মাটিতে পড়ে রইল।
সে তুলল না।
অনেকক্ষণ
নিঃশব্দে বসে থাকল।
তারপর খুব আস্তে বলল—
“আমি ক্লান্ত।”
এই দুটি শব্দ
কাউকে বলা হয়নি
বহু বছর।
কথাগুলো ঘরের দেয়ালে গিয়ে
আর ফিরে এল না।

মানুষটি
প্রথমবার অনুভব করল—
সত্যি কথা বলার জন্য
সবসময় অন্য একজন মানুষ
দরকার হয় না,
কখনো কখনো
নিজের কাছেই
সত্যি হওয়া যথেষ্ট।

পরদিন সকালে
সে আবার বাইরে বেরোল।
মুখোশটি সঙ্গে নিল।
কারণ পৃথিবী
এখনও মুখোশ ছাড়া মানুষকে
সহজে গ্রহণ করতে শেখেনি।
তবু সেদিন
মুখোশের নিচে
একটি ছোট পরিবর্তন ছিল।

এবার সে জানত—
মুখোশটি সে পরে আছে,
মুখোশটি সে নয়।
আর এই সামান্য জ্ঞানই
তার ভিতরে
একটি দরজা খুলে দিল।

বাইরের মানুষটি
হয়তো আগের মতোই হাসছিল।
কিন্তু মুখোশের ভিতরে
প্রথমবার—
একজন সত্যিকারের মানুষ
নিজের মুখ নিয়ে
বেঁচে ছিল।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4638
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1713
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1666
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1593
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1582
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1520
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1512
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1475
রমণী মোঃ আবু তালেব 1446
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1419
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1418
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1410
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1373
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1373
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1373
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1366
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1364
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1349
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1340
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1336
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
যে সত্য বলা যায় না মো: আবু তালেব 8
মুখোশের ভিতরে মুখ মোঃ আবু তালেব 8
অন্যের চোখে আমি মোঃ আবু তালেব 21
সবাই আমাকে চেনে মোঃ আবু তালেব 22
পরিচয়ের কারাগার মোঃ আবু তালেব 27
যে মানুষটি হাসছিল মোঃ আবু তালেব 27
দরিদ্রের জামা মোঃ আবু তালেব 35
হাসির শহর মোঃ আবু তালেব 37
সভ্য মানুষেরা মোঃ আবু তালেব 40
মুখের নিচে মুখ মোঃ আবু তালেব 39
ভালোবাসার শেষ দরজা মোঃ আবু তালেব 40
তোমাকে ছাড়া তোমার কাছে মোঃ আবু তালেব 40
যে প্রেম কথা বলেনি মোঃ আবু তালেব 32
আমাদের মাঝখানে রাত মোঃ আবু তালেব 44
অপেক্ষার ঘর মোঃ আবু তালেব 50
তুমি যে ছিলে মোঃ আবু তালেব 60
একটি মানুষকে হারানোর আগে মোঃ আবু তালেব 54
ভালোবাসার পরে মো: আবু তালেব 74
তোমার অনুপস্থিতি মোঃ আবু তালেব 68
যে হাতটি ধরিনি মোঃ আবু তালেব 62
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
কর্পোরেট কালচার Md. Mustafizur Rahman 17
শব্দের সুনামি Md. Mustafizur Rahman 15
এ শহর আমার নয় Md. Mustafizur Rahman 24
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 35
কবির কলমে নবির ছবি কবি ফেরদাউস সরকার 55
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 53
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 73
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 95
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 74
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 90
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 90
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 94
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 131
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 148
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 161
ভালো মানুষ ইবনে আলী 266
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 151
শিকল ইবনে আলী 245
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 287
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 241
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে