শেষ চুম্বন
- মোঃ আবু তালেব
(মানুষ)
শেষ চুম্বনের কথা
কেউ মনে রাখতে পারে না।
মানুষ মনে রাখে
প্রথম স্পর্শ।
প্রথম কাঁপুনি।
প্রথমবার
অন্য একজনের চোখে
নিজের নাম শুনে ফেলা।
শেষ চুম্বন
কোনোদিন
শেষ হওয়ার সময়
নিজেকে শেষ বলে
পরিচয় দেয় না।
সে আসে
অন্য দিনের মতোই।
একটা বিকেল।
একটু বাতাস।
একটু আলো।
একটু নীরবতা।
দুই মানুষ
পাশাপাশি বসে থাকে।
তারা ভবিষ্যতের কথা বলে।
শীত এলে কোথায় যাবে,
বৃষ্টির রাতে
কোন জানালার পাশে বসবে,
বার্ধক্যে
কে আগে চশমা খুঁজে পাবে —
এসব তুচ্ছ কথায়
জীবনের সবচেয়ে বড় বিশ্বাস
অদৃশ্য হয়ে ফুটে থাকে।
তারপর
বিদায়।
একটা ক্ষণস্থায়ী স্পর্শ।
ঠোঁটের চেয়ে
কপালে বেশি।
শব্দের চেয়ে
নিঃশ্বাসে বেশি।
কেউ জানে না,
এইটাই শেষ।
পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ঘটনাগুলো
সবসময়
অঘোষিত থাকে।
যেদিন বাবা
শেষবারের মতো
আমার মাথায় হাত রেখেছিলেন,
আমি জানতাম না।
যেদিন মা
শেষবার বলেছিলেন,
"সাবধানে যাস" —
সেদিনও
আমি তাড়াহুড়োয় ছিলাম।
জীবন
শেষবারের মুহূর্তগুলোকে
ইচ্ছে করেই
সাধারণ দিনের পোশাক পরিয়ে রাখে।
হয়তো
মানুষ জানলে
সে আর বাঁচতে পারত না।
একটা পুরোনো স্কার্ফে
আজও
একটা সুগন্ধ লেগে আছে।
গন্ধেরও কি স্মৃতি থাকে?
নাকি
ভালোবাসা
কাপড়ের ভাঁজে
নিজেকে লুকিয়ে রাখতে শেখে?
অনেক বছর পরে
একটা বই খুলতে গিয়ে
একটা শুকনো শিউলি ফুল পেলাম।
হঠাৎ মনে হলো,
সময়
সবকিছু নিয়ে যায় না।
কিছু কিছু জিনিসকে
সে কাগজের ভেতর,
গন্ধের ভেতর,
আলোর ভেতর,
স্পর্শের ভেতর
অদৃশ্য করে রেখে দেয়।
আমরা তাকে
স্মৃতি বলি।
আমি তাকে বলি —
স্থির সময়।
আজ বুঝি,
চুম্বন
শুধু ঠোঁটের ঘটনা নয়।
একজন মানুষ
যখন অন্য একজনের
সব ভয়কে
এক মুহূর্তের জন্য
নিঃশব্দ করে দেয় —
সেখানেও
একটা চুম্বন ঘটে।
যখন
একজন মা
ঘুমিয়ে পড়া শিশুর কপালে
রাত রেখে যান —
সেখানেও
একটা চুম্বন জন্মায়।
যখন
একজন বৃদ্ধ
মৃত স্ত্রীর ছবিতে
প্রতিদিন ধুলো মুছে দেন —
সেখানেও
একটা চুম্বন
শেষ হতে পারে না।
হয়তো
শেষ চুম্বন বলে
কিছু নেই।
শুধু
একটা স্পর্শ থাকে,
যা শরীর ছেড়ে
সময়ের ভেতরে
বাস করতে শুরু করে।
একদিন
আমরা কেউই থাকব না।
আমাদের মুখ
ধীরে ধীরে
পৃথিবীর স্মৃতি থেকে
মুছে যাবে।
কিন্তু
যদি কোনো সন্ধ্যায়
হঠাৎ বাতাস
কোনো অকারণ কোমলতা নিয়ে
কারও কপাল ছুঁয়ে যায়,
যদি সে
এক মুহূর্তের জন্য
কারণ ছাড়াই
নিজেকে ভালোবাসা মানুষ বলে
মনে করে —
তবে বুঝবে,
পৃথিবীর কোথাও
একটা শেষ চুম্বন
এখনো শেষ হয়নি।
মানুষের ঠোঁটে নয়,
মানুষের অস্তিত্বে
নিঃশব্দে
বেঁচে আছে।
বিস্তারিত...