নিঃশব্দতার হাড়গোড় দিয়ে সাজানো এই যে শহর,
সেখানে আজ আর কোনো কোকিল ডাকে না;
শুধু অ্যালগরিদমের খাঁচায় বন্দি কিছু শুকনো পাতা
বাতাসের বদলে ইলেকট্রনের ঘর্ষণে ওড়ে।
আমরা যারা মাটির ঘ্রাণ ভুলে গেছি শতবর্ষ আগে,
তাদের নখদর্পণে এখন কেবল নীল আলো আর শূন্যতা।

অথচ একদা, এই ব্রহ্মাণ্ডের নাভিমূলে ছিল এক নদী—
যার নাম ছিল জীবন।
তার জলের স্বাদ ছিল লবণের মতো সত্য,
আর তার স্রোতে ভেসে যেত অগণিত জন্ম-মৃত্যুর স্তব।
আমি সেই নদীর তীরে বসে আজ এক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি লিখি,
যেখানে অক্ষরগুলো বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে—
ভিজিয়ে দেয় আমার কৃত্তিম চামড়া আর যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ড।

হে অনাগত, তুমি কি শুনতে পাও সেই ধ্বনি?
যেখানে তেতুলিয়া আর সুন্দরবনের কান্না মিশে একাকার;
যেখানে ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে মহাকাশের ছায়া পড়ে।
আমরা তো সেই ডুমুর গাছের ডাল, যা ফলহীন কিন্তু শিকড়বদ্ধ—
আমাদের বিনাশ নেই, শুধু রূপান্তর আছে;
আগুন থেকে জলে, জল থেকে ছায়ায়।

পরিশেষে আমরা সবাই এক একটি বিদীর্ণ নক্ষত্র,
যারা অন্ধকারের গভীরে আলো নয়—
অন্ধকারেরই গান গাই।
কারণ, পূর্ণতার চেয়ে দহনই বেশি সুন্দর,
আর প্রাপ্তির চেয়ে বিরহই আমাদের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

অগ্নিজল ও ছায়ার কারুকাজ

আকাশের ভাঙা অংশ মাথায় পড়লে
তবেই আমাদের এই পাথুরে হুঁশ ফেরে,
রক্তাক্ত আঙিনায় দাঁড়িয়ে আমরা তখন—
অসহায় চোখে চেয়ে থাকি আকাশের ফাটলের দিকে।

কিন্তু সেই হুঁশ কতক্ষণ?
পরমুহূর্তেই আমরা আবার সেই পুরনো বিভ্রমে,
এক গভীর এবং নিশ্ছিদ্র বেঁহুশ ঘুমে।
আবার সেই বিষাক্ত অন্ধকার, আবার সেই ফিরে যাওয়া-
যতক্ষণ না আকাশটা আবার নতুন করে ভেঙে পড়ে মাথার ওপর।

সেদিন সেই মেয়েটিকে যখন ছিঁড়ে খাওয়া হলো,
নৃশংস উল্লাসে যখন স্তব্ধ হলো তার শেষ চিৎকার—
আকাশ ভেঙে পড়েছিল আমাদের জীর্ণ সমাজের মাথায়।
আমরা কেঁদেছিলাম, মোমবাতি হাতে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলাম,
বর্বরতার বিরুদ্ধে উঁচু করেছিলাম মুষ্টিবদ্ধ হাত।

কিন্তু তারপর?
আকাশের চাবুক সরে যেতেই আমরা আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।
তারপর একে একে ঝরে গেল কত নাম না জানা শিশু,
কত নারী হলো স্রেফ সংবাদপত্রের সাধারণ এক শিরোনাম।
তাদের চূর্ণ-বিচূর্ণ দেহগুলো চাপা পড়ে গেল
আমাদের নির্লিপ্ততার এক একটা নতুন স্তূপের নিচে।

আমরা অপেক্ষা করি পরবর্তী প্রলয়ের,
পরবর্তী কোনো আকাশ ভাঙা শোকের—
যেন নিজের হুঁশ ফেরাতে আমাদের বারবার দরকার হয়
নিরপরাধ কোনো প্রাণের অকাল বিসর্জন।

বিবেক কি তবে আমাদের শুধু ধ্বংসস্তূপেই জাগে?
নাকি আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি—
আকাশ ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় থেকে থেকে?

বিবেকের অবশ প্রহর

তুমি হীনা জান্নাত দিয়ে কি করিবো রব,
তোমায় পেলে আমি ওরে পেয়ে যাবো সব।
আমি ওরে কর্নে শুনি তোমার কলরব,
তুমি হীনা জান্নাত দিয়ে আমি কি করিবো রব?

আমায় তুমি ভালোবেসে যদি নিক্ষেপ করো জাহান্নামে,
সেখানে বসে তাসবিহ পড়বো আমি তোমারই নামে।
বুকে যদি থাকে ওরে তোমার ভালোবাসা,
বলো, বলো আমি কেনো হারাবোগো আশা?

মৃত্যুর সময় বলতে চাই, তুমি ছাড়া আর কেউ নাই
তবে তুমিতো আমায় ভালোবেসে জান্নাতে দিবে ঠাই।
ও আমার রব, তোমায় পেলে আমি পেয়ে যাবো সব,
আমার প্রতি তুমি দিওগো রহমত।

আমি শুধু তোমায় চাই নিঃস্ব করিওনা প্রভু,
জীবন গেলে যাক তবে, ভালোবাসি তবু।
তোমার ভালোবাসায় কোরবান হোক এ জীবন,
এই কোরবানিতে স্বার্থক করিও আমার মরণ।।


//রচনাকালঃ-
০৭/১২/২০২৫ ইং
নিজ বাড়ি,
মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।।

তুমি হীনা জান্নাত চাইনা

প্রশ্নমালার কাঠগড়ায় দাঁড়ায় সত্তা
ইতিহাসবর্জিত, সাক্ষীবিহীন, নিজস্ব চেতনার অন্তঃপ্রাঙ্গণে
ন্যায় বিধান, আত্মানুসন্ধানের অবশ্যম্ভাবী অনুশাসন ।
প্রশ্নেরা উচ্চারিত শব্দ, অস্তিত্ববিদারী প্রতিসংস্কার,
চিন্তার গভীরতম স্তরে অবগাহন ছিন্ন অহংকারের বহুপল আবরণ ।

কাঠগড়া নির্মিত আকাঙ্ক্ষা পরিতৃপ্তির মধ্যবর্তী অতল ফাঁকে,
প্রত্যাশা দীর্ঘকাল উপবাসী, প্রাপ্তি ক্লান্ত অনুশোচনায় নতশির।
সুখ ক্ষণভঙ্গুর অনুষঙ্গ পূর্ণতার প্রত্যয়ে জন্মে
বিস্তৃত অপূর্ণতার মহাদেশ নির্বাসন রচনা করে ।

নৈতিক দণ্ডাধিকারী নির্লিপ্ত প্রত্যক্ষদর্শী—
দোষ-গুণের বিভাজন আত্মপ্রবঞ্চনা নৈঃশব্দ্যের রূপ।
কাঠগড়ায় ভাষা ক্লান্ত, মহৎ বলে পরিচিত সমস্ত ধারণা
নিজস্ব সীমাবদ্ধতায় সংকুচিত হয়।

উদ্ভাসিত কঠিন জ্ঞান অসন্তোষ ব্যর্থতার দাগে
চেতনার বিকাশধারা ভাঙন-পতন উত্তরণের পূর্বশর্ত।
অন্তর্লীন তীর্থক্ষেত্র উত্তর অনাবশ্যক,
দায়স্বীকারই মুক্তির একমাত্র শুদ্ধ ব্যাকরণ।

প্রশ্নমালার কাঠগড়ায়

বাছাইকৃত কবিতা

অগ্নিজল ও ছায়ার কারুকাজ

- মো: আবু তালেব

নিঃশব্দতার হাড়গোড় দিয়ে সাজানো এই যে শহর,
সেখানে আজ আর কোনো কোকিল ডাকে না;
শুধু অ্যালগরিদমের খাঁচায় বন্দি কিছু শুকনো পাতা
বাতাসের বদলে ইলেকট্রনের ঘর্ষণে ওড়ে।
আমরা যারা মাটির ঘ্রাণ ভুলে গেছি শতবর্ষ আগে,
তাদের নখদর্পণে এখন কেবল নীল আলো আর শূন্যতা।

অথচ একদা, এই ব্রহ্মাণ্ডের নাভিমূলে ছিল এক নদী—
যার নাম ছিল জীবন।
তার জলের স্বাদ ছিল লবণের মতো সত্য,
আর তার স্রোতে ভেসে যেত অগণিত জন্ম-মৃত্যুর স্তব।
আমি সেই নদীর তীরে বসে আজ এক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি লিখি,
যেখানে অক্ষরগুলো বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে—
ভিজিয়ে দেয় আমার কৃত্তিম চামড়া আর যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ড।

হে অনাগত, তুমি কি শুনতে পাও সেই ধ্বনি?
যেখানে তেতুলিয়া আর সুন্দরবনের কান্না মিশে একাকার;
যেখানে ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে মহাকাশের ছায়া পড়ে।
আমরা তো সেই ডুমুর গাছের ডাল, যা ফলহীন কিন্তু শিকড়বদ্ধ—
আমাদের বিনাশ নেই, শুধু রূপান্তর আছে;
আগুন থেকে জলে, জল থেকে ছায়ায়।

পরিশেষে আমরা সবাই এক একটি বিদীর্ণ নক্ষত্র,
যারা অন্ধকারের গভীরে আলো নয়—
অন্ধকারেরই গান গাই।
কারণ, পূর্ণতার চেয়ে দহনই বেশি সুন্দর,
আর প্রাপ্তির চেয়ে বিরহই আমাদের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।
বিস্তারিত...

বিবেকের অবশ প্রহর

- মো: আবু তালেব

আকাশের ভাঙা অংশ মাথায় পড়লে
তবেই আমাদের এই পাথুরে হুঁশ ফেরে,
রক্তাক্ত আঙিনায় দাঁড়িয়ে আমরা তখন—
অসহায় চোখে চেয়ে থাকি আকাশের ফাটলের দিকে।

কিন্তু সেই হুঁশ কতক্ষণ?
পরমুহূর্তেই আমরা আবার সেই পুরনো বিভ্রমে,
এক গভীর এবং নিশ্ছিদ্র বেঁহুশ ঘুমে।
আবার সেই বিষাক্ত অন্ধকার, আবার সেই ফিরে যাওয়া-
যতক্ষণ না আকাশটা আবার নতুন করে ভেঙে পড়ে মাথার ওপর।

সেদিন সেই মেয়েটিকে যখন ছিঁড়ে খাওয়া হলো,
নৃশংস উল্লাসে যখন স্তব্ধ হলো তার শেষ চিৎকার—
আকাশ ভেঙে পড়েছিল আমাদের জীর্ণ সমাজের মাথায়।
আমরা কেঁদেছিলাম, মোমবাতি হাতে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলাম,
বর্বরতার বিরুদ্ধে উঁচু করেছিলাম মুষ্টিবদ্ধ হাত।

কিন্তু তারপর?
আকাশের চাবুক সরে যেতেই আমরা আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।
তারপর একে একে ঝরে গেল কত নাম না জানা শিশু,
কত নারী হলো স্রেফ সংবাদপত্রের সাধারণ এক শিরোনাম।
তাদের চূর্ণ-বিচূর্ণ দেহগুলো চাপা পড়ে গেল
আমাদের নির্লিপ্ততার এক একটা নতুন স্তূপের নিচে।

আমরা অপেক্ষা করি পরবর্তী প্রলয়ের,
পরবর্তী কোনো আকাশ ভাঙা শোকের—
যেন নিজের হুঁশ ফেরাতে আমাদের বারবার দরকার হয়
নিরপরাধ কোনো প্রাণের অকাল বিসর্জন।

বিবেক কি তবে আমাদের শুধু ধ্বংসস্তূপেই জাগে?
নাকি আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি—
আকাশ ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় থেকে থেকে?
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 3450
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1350
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1329
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1284
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1264
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1224
মানুষ মোঃ আবু তালেব 1190
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1163
রমণী মোঃ আবু তালেব 1136
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1102
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1093
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1092
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1092
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1080
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1080
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1073
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1065
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1057
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1051
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1045
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
অগ্নিজল ও ছায়ার কারুকাজ মো: আবু তালেব 7
বিবেকের অবশ প্রহর মো: আবু তালেব 85
লোহিতের নীল বিষ মো: আবু তালেব 173
মুকুরে তোমার রূপ মো: আবু তালেব 214
বাউন্ডেলে জীবন মো: আবু তালেব 201
শহর সন্ধ্যার বিপ্রতীপ মোঃ আবু তালেব 353
মেট্রোরঙ মোঃ আবু তালেব 445
সময় ও অনুতাপ (সনেট) মোঃ আবু তালেব 698
পঁচিশ বছর পর মোঃ আবু তালেব 553
কঠোর পথের যাত্রী মোঃ আবু তালেব 571
হৃদয়ের জখম মোঃ আবু তালেব 605
মুক্তিপথ মোঃ আবু তালেব 619
হৃদয়ের নীরবতা মোঃ আবু তালেব 618
অস্তিত্বের প্রতিধ্বনি মোঃ আবু তালেব 523
শূন্যের শপথ মোঃ আবু তালেব 643
নীরব নিয়তি মোঃ আবু তালেব 747
অন্তরের নূপুর মোঃ আবু তালেব 629
মুক্তির সুর মোঃ আবু তালেব 637
অন্তহীন সুর (The Endless Melody) মোঃ আবু তালেব 641
আগামীর প্রতিধ্বনি (The Echo of Tomorrow) মোঃ আবু তালেব 614
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
বাদলের দিন শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 41
তুমি হীনা জান্নাত চাইনা কবি মোঃ নিজাম গাজী 74
প্রশ্নমালার কাঠগড়ায় আজাহার রাজা 74
যদি ভূলে যাও মাসুদ রানা আকন 110
দুজন প্রিয় মাসুদ রানা আকন 108
প্রিয় মাসুদ রানা আকন 77
কথা ইরফান সাদিক ইমন 141
মনস্তত্ত্বের অন্তঃসলিলে অসন্তোষ আজাহার রাজা 175
তারা এসেছে নিভূতে- এভাবেই এসো কমলেশ রায় 132
রবের ভালোবাসা কবি মোঃ নিজাম গাজী 100
শহিদ ওসমান হাদি যুবক অনার্য 109
অবাক প্রেম কবি মোঃ নিজাম গাজী 117
মানব সভ্যতা শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 114
এমন স্বপ্ন এক যুবক অনার্য 119
মানব গান শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 107
আমি খালেদা জিয়া বলছি যুবক অনার্য 104
সঙ্গীতের রণভূমি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 113
তার নাম খালেদা জিয়া কিংবা বাংলাদেশ যুবক অনার্য 0
শহিদ হাদি চত্বর যুবক অনার্য 103
স্বদেশপ্রেম শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 0
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে