কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(১)
এখানে পাথর নেই; স্মৃতি শুধু পলি দিয়ে গাঁথা,
নদীর শরীরে লেখা এ ভূগোলের নিগূঢ় বারতা।
ভাঙনে বিলীন হলো কত শত নগরীর চূড়া,
কাদামাটি শুষে নেয় রাজদণ্ড, শ্বেতভস্ম-গুঁড়া।
ইতিহাস কোনোদিন চেনে নাই কৃষকের ঋণ,
দলিলে মোহর এঁকে মহাজন কিনে নেয় দিন;
তবু তো থামেনি বীজ, বারবার পলিমাটি ফুঁড়ে
সবুজ পাতার শিষ জেগে ওঠে ধ্বংসের ওপারে।

(২)
আমরা কি চেয়েছিলাম ভেস্তের ওই অমলিন সুধা?
মানুষ তো বেঁচে থাকে জড়িয়ে আপন অন্ধ ক্ষুধা।
যে যুবতী ভালোবেসে ছুঁয়েছিল পুরুষের হাত,
বর্ষার বিষাদ মেখে কেটে গেছে কত দীর্ঘ রাত;
যৌবনের রূপ খসে পড়ে থাকে জরার কঙ্কাল,
নদীর অতল টানে ছিঁড়ে যায় জীবনের জাল।
সেই শূন্য ভিটে জুড়ে সন্তানের প্রথম কান্নায়—
মৃত্যুও যে হার মানে অবিনাশী প্রাণের তৃষ্ণায়।

(৩)
মহামারি ঢেলে দেয় নিশুতি বাতাসের কালকূট,
শ্মশানে ও গোরস্তানে জমে ওঠে শবের মুকুট।
মরা শিশু কোলে নিয়ে স্তব্ধ যে মা পাথরের মতো,
চেয়ে থাকে শূন্য চরে— বুকে চেপে চিরন্তন ক্ষত;
মুছে ফেলে অশ্রুজল, বুকে চেপে তীব্র সেই জ্বালা,
তপ্ত মাঠ ভেজাতে পুরুষ ছোঁয় লাঙলের ফলা।
একপাশে শকুন-চিল, নিসর্গের নির্মম বিচার—
অন্যপাশে ঘাম দিয়ে জেগে ওঠে আকুতি বাঁচার।

(৪)
শব্দ দিয়ে কতটুকু ধরে রাখা যায় এই ক্ষয়?
পঙ্‌ক্তির ভেতরে শুধু ক্ষণিকের প্রতিধ্বনি রয়।
নশ্বর এ হাত দিয়ে লিখে যাই আয়ুর বয়ান,
মহাকাল শুষে নেয় সভ্যতার অহম-প্রয়াণ;
গ্রন্থাগার ধূলি হবে, ভেঙে যাবে পাথরের স্তূপ,
আদিম আঁধার চোখে চেয়ে রবে নিসর্গের রূপ;
তবুও মানুষ এক— নক্ষত্রের বিস্মৃতির মুখে
মাটির প্রদীপ জ্বেলে পথ খোঁজে অবিনাশী বুকে।

(৫)
নদীটির চোখ নেই কোনো, নেই কোনো বিচার-আচার,
স্রোতের অতলে টেনে নেয় শতাব্দীর অন্ধ হাহাকার
আমরা বিনাশী বটে তবে, এই ঘন ছায়ার রুধিরে—
যে রহস্য আমরা রেখেছি, তা-ই ফেরে কালের গভীরে।
মৃত্যু তো শেষ কথা নয় জানি, পলিমাটি মাখা এই ঘাম—
অন্ধকারের মুখে লিখে যায় এক না-বলা মানুষের নাম।
যতদিন পলি মাটি রবে, রবে এই রোদের আভাস,
ধূলির কণিকায় মিশে রবে চিরন্তন মানুষের শ্বাস।

কালান্তরের জলচিহ্ন

আমরা হেঁটেছি একা হিজলের ছায়াগাঢ় পথে—
কার্তিকের শিশিরের জলে ভিজে শান্ত হয়ে এলে
পৃথিবীর সব পাখি; যুবতীর চোখ থেকে মুছে নিয়ে রোদ
দেখেছি শরীর তার শ্যাওলার মৃদু ঘ্রাণ ফেলে
অন্ধকারে ডুবে গেছে। নক্ষত্রের দিকে চেয়ে চেয়ে
মনে হয় এই রক্তে এত তৃষ্ণা কেন জেগে রয়?
পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলে কোনো ইঁদুরের মতো
মানুষের দিনলিপি একমুঠো কুয়াশায় ক্ষয়
হয়ে যায় নিঃশব্দে। তবুও তো একদিন এই
হাড়ের গভীরে আমি আগুনের ডানা মেলে দিয়ে
নদীর ওপার থেকে ডেকেছি চিলকে— যার চোখে
লাবণ্য রয়ে গেছে শত শতাব্দীর ক্লান্তি নিয়ে।
আজ সব স্তব্ধ হলো; ট্রামের তারের নিচে রাত
জমে ওঠে একা একা। ধূসর পাতার খাতা খুলে
যৌবন চেয়ে দেখে— কার তরে রেখে গেছে হাত,
সব স্বাদ ফুরালে যে একা বসে শিশিরের কূলে।

যৌবনের দিনলিপি

আমরা অনেক দূর হেঁটে এসে দেখলাম নদী
ক্লান্ত হয়ে শুয়ে আছে হিজল-বনের ওপাশে;
পৃথিবীর যত আলো নিভে গেছে একে একে যদি,
তবু কেন এই মন ধূসর ডানার ঘ্রাণে ভাসে?
নক্ষত্রেরা মরে যায় চিল্কার নির্জন কিনারে,
হাতে নিয়ে একমুঠো শিশিরের মৃদু অহংকার
মানুষ কেবলি খোঁজে অন্ধকার শতাব্দীর পারে
কার চোখ ফেলে গেছে বিস্মৃত এ রূপের আঁধার।

একদিন ভালোবেসে ছুঁয়েছিনু ঘাসের শরীর,
যেখানে ভোরের রোদ বুনো হাঁস হয়ে উড়ে যায়;
আজ এই ছায়াপথে জমে ওঠে স্তব্ধতা নিবিড়,
আয়ুর রঙিন দিন খসে পড়ে কার্তিকের বায়।
জীবনের সেতু দিয়ে কত ছায়া চলে গেছে একা,
শঙ্খমালা ডুবে গেছে কোনো এক অতল সাগরে;
তবুও মাটির নিচে কঙ্কালের ঘুম ভেঙে দেখা—
একজোড়া পাখি যেন কথা কয় পাতার বিবরে।

রক্তের বিষাদ নিয়ে বেঁচে থাকা বড়ো বেশি ভুল,
তবু এই পথ ধরে হেঁটে যায় কুয়াশার লোক;
ডালপালা নুয়ে এলে চেয়ে দেখি শ্যাওলার ফুল,
ক্লান্তির চাদর মেলে ঘুমিয়ে পড়েছে চিল-চোখ।
আমরা কি তবে শুধু ছায়াপথে ফেলে যাব স্মৃতি?
হাড়ের গভীরে জমে শতাব্দীর বিস্মৃত বয়ান;
নদীর ওপার থেকে ডেকে ওঠে অনন্ত আরতি,
সব লেনদেন শেষে পড়ে রয় নিস্তব্ধ শয়ান।

জীবনের ছায়াপথে

বাছাইকৃত কবিতা

কালান্তরের জলচিহ্ন

- মোঃ আবু তালেব

(১)
এখানে পাথর নেই; স্মৃতি শুধু পলি দিয়ে গাঁথা,
নদীর শরীরে লেখা এ ভূগোলের নিগূঢ় বারতা।
ভাঙনে বিলীন হলো কত শত নগরীর চূড়া,
কাদামাটি শুষে নেয় রাজদণ্ড, শ্বেতভস্ম-গুঁড়া।
ইতিহাস কোনোদিন চেনে নাই কৃষকের ঋণ,
দলিলে মোহর এঁকে মহাজন কিনে নেয় দিন;
তবু তো থামেনি বীজ, বারবার পলিমাটি ফুঁড়ে
সবুজ পাতার শিষ জেগে ওঠে ধ্বংসের ওপারে।

(২)
আমরা কি চেয়েছিলাম ভেস্তের ওই অমলিন সুধা?
মানুষ তো বেঁচে থাকে জড়িয়ে আপন অন্ধ ক্ষুধা।
যে যুবতী ভালোবেসে ছুঁয়েছিল পুরুষের হাত,
বর্ষার বিষাদ মেখে কেটে গেছে কত দীর্ঘ রাত;
যৌবনের রূপ খসে পড়ে থাকে জরার কঙ্কাল,
নদীর অতল টানে ছিঁড়ে যায় জীবনের জাল।
সেই শূন্য ভিটে জুড়ে সন্তানের প্রথম কান্নায়—
মৃত্যুও যে হার মানে অবিনাশী প্রাণের তৃষ্ণায়।

(৩)
মহামারি ঢেলে দেয় নিশুতি বাতাসের কালকূট,
শ্মশানে ও গোরস্তানে জমে ওঠে শবের মুকুট।
মরা শিশু কোলে নিয়ে স্তব্ধ যে মা পাথরের মতো,
চেয়ে থাকে শূন্য চরে— বুকে চেপে চিরন্তন ক্ষত;
মুছে ফেলে অশ্রুজল, বুকে চেপে তীব্র সেই জ্বালা,
তপ্ত মাঠ ভেজাতে পুরুষ ছোঁয় লাঙলের ফলা।
একপাশে শকুন-চিল, নিসর্গের নির্মম বিচার—
অন্যপাশে ঘাম দিয়ে জেগে ওঠে আকুতি বাঁচার।

(৪)
শব্দ দিয়ে কতটুকু ধরে রাখা যায় এই ক্ষয়?
পঙ্‌ক্তির ভেতরে শুধু ক্ষণিকের প্রতিধ্বনি রয়।
নশ্বর এ হাত দিয়ে লিখে যাই আয়ুর বয়ান,
মহাকাল শুষে নেয় সভ্যতার অহম-প্রয়াণ;
গ্রন্থাগার ধূলি হবে, ভেঙে যাবে পাথরের স্তূপ,
আদিম আঁধার চোখে চেয়ে রবে নিসর্গের রূপ;
তবুও মানুষ এক— নক্ষত্রের বিস্মৃতির মুখে
মাটির প্রদীপ জ্বেলে পথ খোঁজে অবিনাশী বুকে।

(৫)
নদীটির চোখ নেই কোনো, নেই কোনো বিচার-আচার,
স্রোতের অতলে টেনে নেয় শতাব্দীর অন্ধ হাহাকার
আমরা বিনাশী বটে তবে, এই ঘন ছায়ার রুধিরে—
যে রহস্য আমরা রেখেছি, তা-ই ফেরে কালের গভীরে।
মৃত্যু তো শেষ কথা নয় জানি, পলিমাটি মাখা এই ঘাম—
অন্ধকারের মুখে লিখে যায় এক না-বলা মানুষের নাম।
যতদিন পলি মাটি রবে, রবে এই রোদের আভাস,
ধূলির কণিকায় মিশে রবে চিরন্তন মানুষের শ্বাস।
বিস্তারিত...

সুন্দর মনের কামনা

- মোঃ আবু তালেব

জগৎ জুড়ে শান্তি আসুক,
শঙ্কা কাটুক মনে,
প্রীতির আলো ছড়িয়ে পড়ুক
ভোরের অনুক্ষণে।

স্বার্থ বাঁধন টুটে যাক আজ
মুক্ত হাসির স্রোতে,
নতুন জীবন চলুক আবার
আলোর সহজ পথে।

হিংসা-বিদ্বেষ দূরে সরিয়ে,
হাত ধরি আজ সবার,
আলোর পথে চলুক মানুষ,
খুলুক মুক্ত দুয়ার।

মিথ্যে কথার কুয়াশা ছিঁড়ে,
সত্যি জাগুক বুকে,
সুখের ছোঁয়ায় হাসুক ধরা,
সবাই বাঁচুক সুখে।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4738
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1767
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1709
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1629
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1617
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1568
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1561
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1515
রমণী মোঃ আবু তালেব 1481
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1467
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1457
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1452
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1423
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1414
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1414
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1406
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1401
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1386
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1376
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1374
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
কালান্তরের জলচিহ্ন মোঃ আবু তালেব 10
সুন্দর মনের কামনা মোঃ আবু তালেব 11
যৌবনের দিনলিপি মোঃ আবু তালেব 14
জীবনের ছায়াপথে মো: আবু তালেব 17
শপথের ওপারে প্রেম মোঃ আবু তালেব 34
শূন্যে লেখা প্রেমের শপথ মো: আবু তালেব 22
রক্তচোষার কারবার মোঃ আবু তালেব 25
বধ্যভূমির নাম সচিবালয় মোঃ আবু তালেব 34
সান্ধ্য আইনের মুখে থুতু মো: আবু তালেব 39
অন্ধ বিচারকের লাল সালু মো: আবু তালেব 27
কাটা জিভ মো: আবু তালেব 30
বুটের তলায় সংবিধান মো: আবু তালেব 36
রাজদ্রোহীর শেষ জবানবন্দি মোঃ আবু তালেব 36
সিংহাসনে রক্তের দাগ মো: আবু তালেব 48
আয়নাঘরের দেওয়াললিপি মো: আবু তালেব 47
রক্তে লেখা নতুন মানচিত্র মো: আবু তালেব 90
ব্যারিকেড ভাঙার শব্দ মোঃ আবু তালেব 54
মহাপ্লাবনের ইশতেহার মো: আবু তালেব 69
চুনকামের নিচে আগুন মো: আবু তালেব 55
আমাদের মৃত্যুগুলো সংখ্যা নয় মোঃ আবু তালেব 62
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 17
শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 18
অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 12
দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 15
তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 14
ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 12
একটা তুমি হোক মেহেদী হাসান আইয়ুশ 13
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? মেহেদী হাসান আইয়ুশ 12
অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 10
অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 12
ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 17
মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 21
অনুভূতির স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 11
লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 19
অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 24
কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 25
স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 23
তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 21
মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 30
ভুলে যাবো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 32
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে