কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

ডাক্তাররা খুব সহজে মৃত্যুর একটা সময় লিখে দেন—
রাত দুটো বেজে পনেরো মিনিট,
কিংবা সকাল আটটা।
তাঁরা স্টেথোস্কোপ চেপে নাড়ির গতি মাপেন,
চোখের মণি পরীক্ষা করেন,
তারপর সাদা চাদর টেনে দিয়ে বলেন—‘সব শেষ।’

ডাক্তাররা আসলে খুব স্থূল হিসাব রাখেন।
তাঁরা শুধু শরীরের থেমে যাওয়াটা দেখতে পান;
কিন্তু মানুষ যে তার বহু আগেই ভেতরে ভেতরে কয়েকবার মরে যায়—
সেই মৃত্যুর কোনো ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি হয় না।

মানুষ প্রথমবার মরে,
যখন সে নিজের প্রথম সত্যটাকে গিলে ফেলে
একজোড়া ক্ষয়ে যাওয়া জুতো পরে অন্যের হুকুম তামিল করতে বের হয়।

মানুষ আরেকবার মরে,
যখন চোখের সামনে স্পষ্ট অন্যায় হতে দেখেও
সংসার বাঁচানোর ভয়ে সে নিজের জিভ কামড়ে ধরে রাখে;
আর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সন্তানের নিষ্পাপ চোখের দিকে তাকাতে পারে না।

মানুষ মরে সেই দিনও,
যেদিন ওষুধের দোকানের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে
প্রেসক্রিপশনের দামের সঙ্গে তাকে নিজের বেঁচে থাকার আয়ুর তুলনা করতে হয়।

মানুষ মরে যখন সে বুঝতে পারে—
যাঁর পাশে সে ঘুমিয়ে আছে বিশ বছর ধরে,
তাঁর সঙ্গে তার আর কোনো কথা নেই;
দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি অদৃশ্য দেয়াল,
যার কোনো দরজা নেই, কিন্তু ভাঙার মতো কোনো সাহসও আর অবশিষ্ট নেই।

আমরা প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় যাকে দেখি,
সে কি সত্যিই আমরা?
নাকি সে কেবল এক পুরোনো অভ্যাসের নাম—
যে ট্রাফিকের ভিড় ঠেলে অফিসে যায়,
হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নিজের বেঁচে থাকার প্রমাণ দেয়,
আর মাস শেষে বাড়ি ফিরে নিঃশব্দে এক কাপ ঠান্ডা চায়ে চুমুক দেয়?

আসলে, যে মৃত্যুর পর আত্মীয়রা কাঁদে, খাটিয়া আসে, কবর খোঁড়া হয়—
সে তো কেবল একটা আনুষ্ঠানিকতা।
সবচেয়ে বড় ভয় তো শরীর মাটিতে মিশে যাওয়া নয়;
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—
আমরা প্রতিদিন নিজেদের এক-একটি ইচ্ছাকে নিঃশব্দে দাফন করে বাড়ি ফিরি,
অথচ বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, মানুষটা দিব্যি বেঁচে আছে।

সবশেষে যখন হৃৎস্পন্দনটা সত্যি সত্যি থেমে যায়,
তখন আসলে নতুন কোনো ঘটনা ঘটে না;
বহু আগেই মাঝপথে থেমে যাওয়া একটা অসমাপ্ত বাক্যের শেষে
সমাজ কেবল দায়সারা এক ফোঁটা পূর্ণচ্ছেদ বসিয়ে দেয়।

মৃত্যুর আগে মানুষ কতবার মরে

স্কুলের বইয়ে পড়েছিলাম—
তুমি নাকি আমাদের অভিভাবক।
বইয়ের প্রথম পাতায় একটা সবুজ মানচিত্র ছিল,
আর শিক্ষকের মুখে শুনেছিলাম—এই মাটি সবার।

কিন্তু রাস্তায় তোমাকে আমি যেভাবে দেখি,
বইয়ের ছবির সঙ্গে তার কোনো মিল পাই না।

আমি তোমাকে দেখি সাইরেন বাজানো কালো গাড়ির বহরে,
যার ভয়ে রাস্তার ট্রাফিক থমকে দাঁড়ায়।
আমি তোমাকে দেখি শক্ত বুট আর উঁচিয়ে ধরা ব্যারিকেডে,
যেখানে অনুমতি ছাড়া কারও দাঁড়ানোর অধিকার নেই।

রাষ্ট্র, তুমি কি কেবল তাদেরই শোনো—
যাদের গলার আওয়াজ খুব চড়া,
আর যাদের মাইকের সামনে দাঁড়ালে হাততালি দেওয়ার লোক থাকে?

আমাদের ঘরের টিনের চাল চুইয়ে যখন বৃষ্টির পানি পড়ে,
বাবা যখন চালের দাম শুনে বাজারের কোণে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে,
কিংবা মা যখন ওষুধের স্লিপটা লুকিয়ে রেখে বলে—‘আমার শরীর ভালো আছে’—
তখন তোমার সেই বিশাল চোখ কোথায় তাকায়?

টেলিভিশনের খবরে শুনি—তুমি নাকি অনেক বড় হয়েছ,
মাটির ওপর উড়ালসড়ক আর মাটির নিচে ট্রেন বানিয়েছ।
তোমার এত হিসাব, এত নজরদারি, মোড়ে মোড়ে এত ক্যামেরা—
অথচ আমার খাতার শেষ পাতাটা শেষ হয়ে গেলে
নতুন খাতা কেনার জন্য বাবাকে সাত দিন ভাবতে হয় কেন?

তোমরা বড় বড় মানুষরা যখন টেবিলে বসে দেশ নিয়ে কথা বলো,
তখন কি তোমরা আমাদের দেখতে পাও?
নাকি দূর থেকে তাকালে মানুষ আর মানুষ থাকে না—
কেবল কতগুলো সংখ্যা হয়ে যায়?

আমি কোনো ভাষণ বুঝি না, কোনো রাজনীতি চিনি না।
আমার প্রশ্নটা খুব ছোট, রাষ্ট্র—

তোমরা যাদের জন্য এত আইন, এত কারাগার, এত আদালত সাজিয়েছ,
তাদের একজন যদি মাঝপথে খিদের চোটে হারিয়ে যায়,
তোমার সেই বিশাল মানচিত্রে কি কোথাও
এক ফোঁটা দাগ পড়ে?

রাষ্ট্রের কাছে একটি শিশুর প্রশ্ন

রাজারা পাথরে নিজেদের নাম খোদাই করে রেখে যায়,
ভয়ে—পাছে তুমি তাদের ভুলে যাও।
তারা স্তম্ভ তোলে, মানচিত্রে দাগ কাটে, রক্তের দাগকে ইতিহাস বলে লিখে রাখে;
যেন বাধ্য হয়ে তোমাকে তাদের হিসাব রাখতে হয়।

আমার কোনো পাথর নেই, পৃথিবী।
আমার আছে একজোড়া ক্ষয়ে যাওয়া জুতো,
লোকাল বাসের লোহার হাতলে রেখে আসা কিছু আঙুলের ছাপ,
আর মাসের শেষে হিসেব না মেলা একটি ছেঁড়া কাগজের টুকরো।

তুমি তো বড় বড় ধ্বংসের নাম মুখস্থ রাখো,
বড় বড় নির্মাণের তালিকা সাজাও,
মুদ্রার দাম আর পতাকার বদল গুনে রাখো সতর্ক পাহারা দিয়ে।
কিন্তু যে মানুষটা প্রতিদিন ভোরে কুয়াশার ভেতর নেমেছিল
কেবল দুটো ভাতের সন্ধানে,
তার নীরবতার কি কোনো ওজন রেখেছ কোথাও?

ইতিহাসের দৃষ্টি বড় অদ্ভুত—
সে ভিড় দেখতে পায়, কিন্তু মানুষকে দেখতে পায় না।
সে বিজয়ীর তরবারি চেনে,
চেনে না সেই হাত, যা দিনমজুরের মতো সারাদিন কেবল মাটির নিচে কাজ করে গেল।

আমি কোনো সাম্রাজ্য চাইতে আসিনি।
আমি চেয়েছিলাম শুধু একটি দিন,
যেখানে খাবারের থালার পাশে কোনো অপমান বসে থাকবে না।
আমি চেয়েছিলাম একটি সাধারণ ছাদ,
যার নিচে দাঁড়িয়ে অন্তত একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলা যায়—
“আমি ভালো আছি।”

কাল যদি ট্রাফিকের কোনো সিগন্যালে আমার ছায়াটা আর না পড়ে,
তুমি কি এক সেকেন্ডের জন্য থেমে যাবে?
নাকি তোমার চাকাগুলো গড়িয়ে যাবে ঠিক আগের মতোই—
যেন কেউ কোনোদিন ছিলই না?

আসলে, মনে রাখা বা ভুলে যাওয়া তো অনেক পরের প্রশ্ন।
তুমি কি একবারও জানতে চেয়েছিলে, আমি কী বলতে চেয়েছিলাম?

আমি তো কোনো সমাধান হতে আসিনি,
আমি ছিলাম বেঁচে থাকার তীব্র চাপে মাঝপথে থেমে যাওয়া এক প্রশ্ন—
একটি অসমাপ্ত বাক্য,
যার শেষ শব্দটা তুমি আজও উচ্চারণ করতে শেখোনি।

পৃথিবী, তুমি কি আমাকে মনে রাখবে

দূরত্ব মাপতে গিয়ে মানুষ সমুদ্রের গভীরতা মাপে,
মাপে উড়োজাহাজের ডানার ক্লান্তি।
অথচ মানুষ সবচেয়ে বড় পরবাসী হয়ে যায় নিজেরই স্মৃতির ভেতর—
যেখানে বর্তমানের কোনো অধিকার নেই,
যেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা আসলে
আজকের এই পৃথিবীতেই বাস করে না।

হাতঘড়িতে এখন বাজে স্থানীয় সময়,
কিন্তু বুকের ভেতরে যে ঘড়িটা নিঃশব্দে টিকটিক করছে—
সেখানে এখনও সেই বৃষ্টিভেজা গোধূলি,
যেখানে চায়ের কাপে চিনি বেশি দেওয়ার অভিযোগ ছিল,
যেখানে একটা রিকশার হুড ফেলে দিয়ে
ভিজে যাওয়ার বোকামিটুকু ছিল সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

স্মৃতি কোনো ছবি নয় যা দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখা যায়;
স্মৃতি হলো এক নিষ্ঠুর নির্বাসনকেন্দ্র।
সেখানে বর্তমানের সব বাস্তবতা—
অফিসের ফাইল, বাড়িভাড়ার রসিদ, চেনা শহরের ট্রাফিক—
সব ঝাপসা হয়ে যায় এক লহমায়।
মানুষ শুধু দেখতে পায় সেই দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মুখটি,
যা বহু বছর আগে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

আমরা নতুন শহর গড়ি, নতুন সম্পর্কে নাম লেখাই,
ভাবি—এবার হয়তো সব শূন্যতা ভরাট হয়ে যাবে।
কিন্তু মাঝরাতে যখন নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়,
তখন টের পাওয়া যায়—
দেহটা কেবল হেঁটে বেড়াচ্ছে এই নতুন মাটির ওপর,
আর আসল মানুষটি বন্দি হয়ে আছে
দশ বছর আগের এক বিকেলবেলার ছায়ায়।

স্মৃতির এই পরবাস থেকে কোনোদিন দেশে ফেরা যায় না।
কারণ যে দেশে মানুষ ফিরতে চায়,
সেই দেশ, সেই মানুষ, আর সেই সময়টা—
পৃথিবীর কোনো মানচিত্রেই আর অবশিষ্ট নেই।

স্মৃতির প্রবাস

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4804
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1845
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1774
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1698
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1671
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1632
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1613
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1582
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1535
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1524
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1507
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1503
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1490
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1470
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1467
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1457
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1456
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1446
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1437
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1430
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
মৃত্যুর আগে মানুষ কতবার মরে শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 34
রাষ্ট্রের কাছে একটি শিশুর প্রশ্ন অবিনব মোঃ আবু তালেব 28
পৃথিবী, তুমি কি আমাকে মনে রাখবে অবিনব মোঃ আবু তালেব 29
স্মৃতির প্রবাস প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 59
বালিশ ভেজা রাত প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 64
পরবাস প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 52
টাকার চাকা প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 67
শেকড়ের টান প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 58
Where The Mind Is Without Fear (চিত্ত যেথা ভয়শূন্য) গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 67
Hope' is the thing with feathers (আশা) Hope is the thing with feathers Emily Dickinson 61
The Road Not Taken (যে পথটি নেওয়া হয়নি) The Road Not Taken Robert Frost 63
Desiderata (জীবনের জন্য কিছু কথা) Words for Life Max Ehrmann 68
Still I Rise (তবুও আমি উঠব) Still I Rise Maya Angelou 66
If (যদি) if Rudyard Kipling 62
Invictus (অপরাজেয়) Invictus William Ernest Henley 58
বিদ্রোহী অগ্নীবীনা কাজী নজরুল ইসলাম 62
ভিসার কাগজে বন্দি জীবন প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 58
পাসপোর্টে ভেজা মানচিত্র প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 52
অচিনপুরে জমানো কান্না প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 95
ভিডিও কলের মনখারাপ প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 71
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
প্রেম চোখের জলে নদী মাজেদুল হক 41
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 79
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 89
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 68
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 76
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 79
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 75
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 69
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 77
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 74
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 82
ঋণ ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 92
মৃত্যুর পরও তুমি মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 74
অনুভূতির স্পর্শ স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 83
লিখিত, অলিখিত ঋণ লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 76
অশ্রু অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 86
কাটাবিহীন ঘড়ি কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 81
স্টেজ ফোর স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 85
তবুও তুমি আছো তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 79
মুগ্ধ বিষন্নতা মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 85
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found