ছিঃ….ছিঃ……..ছিঃ !
আমি এক আদর্শবান, বোকা সৎ মানুষের সন্তান।
এ আমার নিদারুণ নিখুঁত অপমান।
ছিঃ….ছিঃ……..ছিঃ !
আমি এক করুন কেরানির সন্তান।
পাওয়া না পাওয়ার মর্মান্তু বেদনায় উথলে উঠে সঞ্চিত অভিমান।
ওরে মন কেন নিলিনা কুকুর কুলে জন্ম কিংবা
কেন হলি না ঘুষখোর মহান বাবার সন্তান।
কুকুর হলে লাজ শরমের বালাই নাই,ভালো মন্দের
বিচার নাই। পেটের ক্ষুদা মিষ্টত সদা,যেথায় খুশি
সেথায় গেলে। হতাম যদি ঘুষখোরদের সন্তান,
গর্বিত বাবার লুন্ঠিত ধনে চাইবার আগেই সব হাজির
আমি পেতাম কত সম্মান।
আমাদের মানুসিকতা,আমাদের চরিত্র বড়ই বিচিত্র,
অসৎ লোক কে বানাই সমাজপতি,সৎ মানুষেরে করে
অপমান।
ছিঃ….ছিঃ……..ছিঃ !
আমি এ যুগের অচল মানুষের সন্তান।
নাহিদ আমার বাড়ির পাশে বাড়ি, মেলায় গিয়ে
ওর বাবা আনল কিনে রিমোট গাড়ি।
গাড়ি ত আর গাড়ি নয় ওযে আমার ঘুম করল চুরি
নাওয়া খাওয়া সব ভুলে আমি নাহিদের পিছে ঘুরি।
আদরের ছেলের জন্য মেলা হতে মাটির ঘোড়াও না
কিনতে পেরে অপারগতা গায়ে মেখে ফিরে ছিল বাবা বাড়ি।
বু…বু…বু…..শব্দ করে রিমোট গাড়ি খেলার ছিল শখ
খেলতে গিয়ে রিমোট গাড়ি ফিরেছি হয়ে চরম
অপমান,
ছিঃ….ছিঃ……..ছিঃ !
আমি কোরানির সন্তান।
মূল্যহীন আর্দশটা ভুলে গিয়ে বাবা আমার হত যদি
ঘুষখোর তবে কতই ভালো হত, অভাব ত দূরে থাক
বিলাসবহুল জীবন পাওয়া যেত।
অন্ধকারের সাথে কভু বাবা আমার করেনি আপোস
এটাই ছিল তার মস্তবড় ভুল,সে ভুলেই আজ কে আমরা গুণছি যে মাশুল। যদি না হতাম সত্যের
পুজারির সন্তান, ভব রঙ্গের খেলা ঘরে পদে-পদে এমন করে হতাম না অপমান,
ছিঃ….ছিঃ……..ছিঃ !
আমি গরীবের সন্তান।
দুঃভাগা বাবা কেমন আছ তুমি ? জানি না কোথায়
রেখেছে অন্তর্যামী। স্বর্গ থাকলে ভাল, নরকে থাকলেও
জানি কষ্ট হবার নয় কথা,তোমার ত আগেই আছে নরকের অভিজ্ঞতা।
মাও ছিল বাবার মতই বোকা চিরটাকাল সস্তা আবেগে দেশ কে ভালো বেসে গেল,
বিনিময়ে দু বেলা দুমুঠো ভাতও ঠিক মত না পেল।
এখন বয়েসের ভারে নুয়ে পড়েছে, শরীরে শত রোগের
বাসা,
তবুও তার তরে ভাবে না কিছু মেয়েদের ভালো ঘরে বিয়ে হবে, ছেলেটা একদিন মাথাতুলে দাঁড়াবে দিগন্তের উপর এটাই কেবল আশা।
বৃদ্ধা মায়ের আশার আমি রাখতে পারিনি মান
নিজের কাছে নিজেরই লাগে দারুণ অপমান,
ছিঃ….ছিঃ……..ছিঃ !
আমি এক বোকা মানুষের সন্তান।
এখন বেশকটা ডিগ্রি আমার কাছে,ঘুরে মরছি চাকরির পিছে পিছে ! শিমূলতুলীর তানি,হ্যা ওকেই
করেছি মনের রাণী।চাকরি হলে আনব ওরে ঘরে,
এমন কথাই বলেছি বারে বারে।
মামা নাই,খালু নাই,ঘুষ দিয়ে চাকরি নেবার অবস্থা ত কোন কালেই নাই,থাকলেও নিতাম না কথা আমার সোজা,
একটার পর একটা ভাইবা দিয়েও মিলেনি সে সোনার হরিণ
অতঃপর,
আমি হয়ে গেলাম এই সমাজের বোঝা ।
বেকার সনদ গুলো তাই আগুনে পুড়ালাম আজ নিয়ে
ভীষম অভিমান,
ছিঃ….ছিঃ……..ছিঃ !
আমি কোরানির সন্তান।
তানি এখন ব্যর্থ জীবনের কেবলই অতীত স্মৃতি, সানাইয়ের করুণ সুরে সুরে আমার জীবন হতে চিরতরে তানিয়ার হয়ে ইতি।
বৃদ্ধা মাতা ছোট দুটি বোন এখন আমার কাঁধে,
সংসার নামক চাকা টা আটকে আছে অভাব
নামের ফাঁদে।
কে আছ এমন মহান ঘুষখোর আমায় সন্তানের
স্বীকৃতি দিয়ে করবে মহিয়ান,
মহানন্দে গাইব আমি এমন বাবার জয়ী গান।
আমি আমার পরিচয় লিখতে চাই নতুন করে,
এ অপমানের পরিচয় ভুলে যেতে চাই চিরতরে।
দুর্নীতিগ্রস্ত আছেন কেউ আমায় দেবেন সন্তানের স্বীকৃতি দান ?
বন্চিত বুকে কেবলই জেগে উঠে সন্চিত অভিমান
ছিঃ….ছিঃ……..ছিঃ !
আমি এক বোকা সৎ মানুষের সন্তান।
বড় বোন হাসনার বিয়েতে নিরুপায় হয়ে বাবা
রহিম শেখের কাছে বাড়ি বিটে বন্ধক দিয়ে এনেছিল টাকা,
চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে এখন নাকি তা বহুগুণ,মাঝে মধ্যেই রহিম শেখের ভয়াল হুংকার হয় টাকা নয় বাড়ি কর ফাঁকা।
একদিন সেটাই সত্যি হল !! বুকে ব্যথা চোখের কোণে অশ্রু ছলছল,
শতস্মৃতি বিজড়িত বসটবিটা খানি অবশেষে হয়ে গেল বেদখল।
সৎ মানুষের সন্তান হবার পেলাম চূড়ান্ত
উপহার !!!
অবশেষে এ নিখিল বিশ্বের মালিক হল আমার পরিবার।
পুনরুক্ত:
বঞ্চিত বুকের সঞ্চিত ব্যথার পাহাড়ে দাড়িয়ে আবোল তাবোল এ পঙ্ ক্তিমালায়,বাবা ক্ষমা করো আমায়। প্রকৃত অর্থে ঐ গুলো কেবলই আপন মনের অভিমান,সব হারিয়েও বাবা তোমার তরে কোন অনুযোগ নাই। কেউ না জানুক, না মানুক সে আমার আমি জানি,মানি এ ধূলির ধরায় তুমি মূর্তমান আর্দশ, আমার অহংকার। জীবন যুদ্ধে তোমার সে শিক্ষা কে বুকের গহীণে ধারণ করে আজো আমার এ পথচলা “ ভেঙ্গে যাবো তবুও মস্কাব না “। তুমি নায়কের নায়ক, তুমিই আমার মহানায়ক বাবা। সদা সর্বদা বাবা তোমায় সালাম, তোমার শিক্ষা, তোমার সততা, তোমার আর্দশ আমার কাছে বাড়িয়েছে আমার মান,
পৃথিবীতে চিৎকার করে গর্ব নিয়ে জানিয়ে যাই আমি সৎ মানুষের সন্তান।
বিঃদ্রঃ
এ কবিতা কেবল এ সমাজের বাস্তবতা হতে,ব্যক্তি কবির জীবনের সাথে কোন মিল নেই।
বিস্তারিত...