কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

শহরের ফ্ল্যাটগুলোতে এখন আর উঠোন থাকে না।
চারটি দেয়াল আর একটা দরজায়
মানুষ কেবল নিজের গোপনীয়তা পাহারা দেয়।
তবু প্রতিটি মানুষের বুকের ভেতর
এক টুকরো খোলা মাটি ঠিকই পড়ে থাকে—
যেখানে কোনো ছাদ নেই,
যেখানে বৃষ্টি নামলে ভেজে সমস্ত অতীত।

সেখানে কত অচেনা পায়ের ছাপ!
কেউ এসে এক দণ্ড দাঁড়িয়েছিল ঝড়ের ভয়ে,
কেউ একমুঠো ধুলো উড়িয়ে চলে গেছে বহু দূরে,
কেউ বা কোনোদিন আসেইনি,
শুধু তার ছায়াটা পড়ে ছিল রোদের মতো।

আমরা বাইরে যতই সাজাই বৈঠকখানা,
সোফায় বসাই ভদ্রতা আর হিসাবের খাতা—
ভেতরের সেই উঠোনটায় কিন্তু কাউকে ঢুকতে দিই না।
কারণ ওখানে গেলেই ধরা পড়ে যায়
মানুষ আসলে কতটা নিঃস্ব, কতটা একা।

তুমি যখন এলে,
আমি কোনো দরজা খুলিনি;
কারণ সেখানে কোনো শিকলই ছিল না কোনোদিন।
তুমি শুধু এসে দাঁড়ালে সেই ধুলোবালি আর ঘাসের ওপর,
যেন এই জীর্ণ জমিটুকু
চিরকাল তোমার অপেক্ষাতেই খালি রাখা ছিল।

এখন সেখানে আর আগাছা জন্মায় না।
শুধু মাঝে মাঝে রাত বাড়লে
হাওয়া এসে একটা প্রশ্ন রেখে যায়—
যে উঠোনে তুমি পা ফেলেছো নিঃসংকোচে,
সেটা কি সত্যিই আমার ছিল,
নাকি তোমার জন্যই এতকাল জেগে ছিল এই মাটি?

মনের আঙিনা

শহরের ফুটপাতে মানুষ যখন ধাক্কা খায়,
তখন বোঝা যায়—আমরা কতটুকু শক্ত।
ইটের দেয়াল, ট্রাফিকের গতি, অফিসের চাবি—
সবকিছু মানুষকে শিখিয়েছে কেবল নিজেকে বাঁচিয়ে চলা,
দৃঢ় থাকা, কঠিন হওয়া।

অথচ সেদিন চায়ের কাপ এগিয়ে দেওয়ার ফাঁকে
তোমার আঙুলের ডগা যখন সামান্য ছুঁয়ে গেল আমার আঙুল,
আমি প্রথমবার বুঝতে পারলাম—
মানুষ আসলে শক্ত হতে চায় না।
মানুষ কেবল আঘাত পাওয়ার ভয়ে নিজেকে শক্ত বানিয়ে রাখে।

সেই স্পর্শে কোনো দাবি ছিল না।
কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না, কোনো শব্দ ছিল না।
ছিল কেবল এক মুহূর্তের স্বীকৃতি:
‘তুমি আছো, আমিও আছি।’

একটি প্রজাপতি যখন পাতার ওপর বসে,
পাতাটি ভাঙে না, নতও হয় না—
কেবল জেনে যায় বাতাসের চেয়েও নরম কিছু এই পৃথিবীতে আছে।
তোমার ছোঁয়াটা ছিল ঠিক তেমনি।
কোনো দাগ রেখে যায়নি ত্বকে,
কিন্তু ভেতরে যে প্রাচীন পাথরটি জমাট বেঁধেছিল বহু দিন,
তা নিঃশব্দে কিছুটা ধসে পড়ল।

আমরা তো কত কিছুর ভার বহন করি—
সংসার, ঋণের খাতা, অপমানের স্মৃতি।
কিন্তু অবাক লাগে,
সবচেয়ে ভারী বোঝাগুলো মানুষ বয়ে বেড়ায় আজীবন,
অথচ যে জিনিসটা তাকে এক পলকে বদলে দেয়,
তার কোনো ওজনই থাকে না।

আলতো ছোঁয়া

সারাদিনের হিসাব-নিকাশ, খাতার পাতা জুড়ে জটিল অঙ্ক আর কোডের জটিল বুনন—
সব পেছনে ফেলে যখন ঘরের চাবিটা ঘোরে দরজায়,
ঠিক তখনই সমস্ত ক্লান্তির ওপর আলতো করে নেমে আসে এক টুকরো রোদ।

কোথাও কোনো বড় শব্দ নেই, কোনো রোমহর্ষক মহাকাব্যের আয়োজন নেই;
আছে শুধু হাঁটিহাঁটি পা পা করে এগিয়ে আসা একজোড়া কৌতূহলী চোখ।
যে হাসিতে পৃথিবীর সমস্ত জটিল আইন মুহূর্তে বরফ হয়ে গলে যায়,
সেই হাসির একটা ছোট্ট রেখা যেন আমার সমস্ত বেদনার নিখুঁত প্রতিষেধক।

জানলার পাশে রাখা ছোট জুতো জোড়া, এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা খেলনা,
আর বুকভরা ওই আদিম নিবিড় গন্ধ—
এটাই তো আমার সবচেয়ে নির্ভুল এবং জীবন্ত একখানা কবিতা।
মহাকালের যত বড় বড় ইতিহাস ধূলিসাৎ হয়ে যাক,
আমার এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর নিখুঁত গল্পটি কেবল ওই একটিমাত্র হাসির রেখাতেই লেখা।

হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প

ইট-কাঠের খাঁচায় দম আটকে আসা বিকেলে
মাঝে মাঝে বড় ইচ্ছে করে একটা নিজস্ব দ্বীপ বানাতে,
যেখানে কোনো হিসেব থাকে না সময়ের,
থাকে না কোনো দাপ্তরিক কোলাহল কিংবা ব্যস্ততার কোড।

আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ—
যেখানে সকালের চায়ে কোনো তাড়া থাকবে না,
জানলার গ্রিল বেয়ে রোদেরা এসে আলতো ছুঁয়ে যাবে একটা ছোট্ট মুখ।
ঘরে ফেরার পথে পায়ে কোনো ক্লান্তি জমবে না,
কারণ কেউ একজন দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করবে, ‘এত দেরি হলো কেন?’

খুব সাধারণ একটা রান্নাঘর, সামান্য কিছু সুখের আসবাব,
আর শোবার ঘরের নরম আলোয় জমে থাকা অজস্র গল্প—
এই তো সামান্য কটা পঞ্জিকা পাতার বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।
অথচ সারাদিন মাথার ভেতর যে মহাসমুদ্র বয়ে চলে,
তার শেষ ঠিকানায় একটা ছোট্ট গোছানো ঘর কেন এত অধরা থেকে যায়?

ঝড়-জলের দিনে যখন চারপাশটা বড্ড একা লাগে,
তখন মনে হয়—
সব অর্জন, সমস্ত আত্মরক্ষার দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দিয়ে
যদি নিজের হাতে গড়া এমন একটা ছাদ পেতাম,
যেখানে শুধু ভালোবেসে বেঁচে থাকাটাই একমাত্র আইন!

আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ

ঘুমের ভিতর থেকেও তোমার পায়ের নূপুর শুনতে পাই আমি,
জানলার পর্দা সরিয়ে দেখি—
ভোরবেলাটা একেবারে তোমার চোখের মতো ভিজে আছে।
তুমি আসো অবলীলায়, বুকের ভেতর ডানা ঝাপটে বসো,
অথচ বাইরে তখন মহাকালের কঠিন পাথর গলছে।

এই কংক্রিটের শহরে আমি আর কোনো ধর্ম মানি না,
আমার উপাসনালয় বলতে কেবল তোমার ওই কাঁচা ঘ্রাণ—
যেখানে কোনো ছন্দের কানুনি নেই, নেই কোনো পয়ারের শাসন।
তুমি আমার আদিম এবং শেষ আশ্রয়,
একটা আস্ত আকাশকে ঠেস দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা যায় কেবল তোমার কাঁধে।

বলো, সমস্ত নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে তোমাকে কতটা ভালোবাসলে
পৃথিবীটা একটুখানি শান্ত হবে?
আমার সমস্ত শব্দ, সমস্ত ব্যর্থ জবানবন্দি একপাশে সরিয়ে রেখে
আমি শুধু তোমার ছোট্ট নিঃশ্বাসের ওপর আমার জীবনটাকে সেলাই করে দিই।
তুমি আমার দীর্ঘ ক্লান্তির একমাত্র মুক্তি,
আমার ঘরের ভেতর ডানা মেলে উড়ে চলা এক অনিঃশেষ বসন্ত।

ছোট্ট জানপাখি

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4744
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1771
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1714
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1635
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1622
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1572
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1565
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1520
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1487
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1472
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1462
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1456
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1430
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1417
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1417
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1409
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1406
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1392
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1383
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1379
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
মনের আঙিনা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 10
আলতো ছোঁয়া শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 12
হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 15
আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ অবিনব মোঃ আবু তালেব 12
ছোট্ট জানপাখি অবিনব মোঃ আবু তালেব 9
কালান্তরের জলচিহ্ন অবিনব মোঃ আবু তালেব 18
সুন্দর মনের কামনা অবিনব মোঃ আবু তালেব 18
যৌবনের দিনলিপি অবিনব মোঃ আবু তালেব 26
জীবনের ছায়াপথে অবিনব মো: আবু তালেব 31
শপথের ওপারে প্রেম অবিনব মোঃ আবু তালেব 37
শূন্যে লেখা প্রেমের শপথ অবিনব মো: আবু তালেব 26
রক্তচোষার কারবার চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 31
বধ্যভূমির নাম সচিবালয় চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 41
সান্ধ্য আইনের মুখে থুতু চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 44
অন্ধ বিচারকের লাল সালু চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 30
কাটা জিভ চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 34
বুটের তলায় সংবিধান চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 41
রাজদ্রোহীর শেষ জবানবন্দি চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 40
সিংহাসনে রক্তের দাগ চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 51
আয়নাঘরের দেওয়াললিপি চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 50
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 25
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 26
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 20
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 23
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 23
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 21
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 20
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 21
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 20
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 22
ঋণ ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 29
মৃত্যুর পরও তুমি মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 28
অনুভূতির স্পর্শ স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 18
লিখিত, অলিখিত ঋণ লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 24
অশ্রু অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
কাটাবিহীন ঘড়ি কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
স্টেজ ফোর স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 36
তবুও তুমি আছো তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 23
মুগ্ধ বিষন্নতা মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 34
ভুলে যাবো ভুলে যাবো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 39
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found