কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(শৈশব)

আমি ঠিক মনে করতে পারি না,
প্রথম কবে ভয় পেয়েছিলাম।

হয়তো এক বিকেলে
হঠাৎ মাকে চোখের আড়াল করে ফেলেছিলাম।
হয়তো ঘুম ভেঙে দেখেছিলাম —
ঘরে কেউ নেই।
হয়তো বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল,
আর অন্ধকার এক মুহূর্তে
ঘরের সব পরিচিত জিনিসকে
অপরিচিত করে দিয়েছিল।

শিশুরা অন্ধকারকে ভয় পায় না।
তারা ভয় পায় —
যাকে ডাকবে,
যখন সে সাড়া না দেয়!

সেদিন প্রথম বুঝেছিলাম,
পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়া বলে
একটা ঘটনা আছে।

আমি উঠোনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম।
বেশি দূরে যাইনি,
তবু মনে হচ্ছিল
আমি পৃথিবীর শেষ প্রান্তে এসে গেছি।

চারদিকে মানুষ ছিল,
শব্দ ছিল,
আলো ছিল —
শুধু যাকে চাই,
সে ছিল না।

আমার ভয়ের কেন্দ্র অন্ধকার ছিল না,
ছিল অনুপস্থিতি।
মানুষের সবচেয়ে গভীর ভয়গুলো
অধিকাংশই অনুপস্থিতিকে ঘিরে।

মা নেই।
বাবা ফিরছে না।
বন্ধু দূরে চলে গেছে।
ভালোবাসার মানুষটা
আর আগের মতো নেই।

আমরা বলি —
একা হতে ভয় পাই।
আসলে আমরা ভয় পাই,
যাদের উপস্থিতি দিয়ে
নিজের অস্তিত্ব বুঝতাম,
তারা যখন পাশে থাকে না।

ছোটবেলায়
ঘুমানোর আগে
দরজার দিকে তাকাতাম।
মনে হতো,
ওপারে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
জানতাম,
কেউ নেই।
তবু কম্বল টেনে
মুখ ঢেকে ফেলতাম।

ভয়ের একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে —
সে বাস্তবের চেয়ে
কল্পনার ভেতরে বড় হয়ে ওঠে।

বাবা একদিন বলেছিলেন,
"ভয় পেলে পালিয়ে যাস না,
দাঁড়িয়ে থাক।"
তখন বুঝিনি,
দাঁড়িয়ে থাকলে তো
ভয় আরও কাছে আসে।

এখন বুঝি —
মানুষ ভয়কে জয় করে না।
মানুষ ভয়ের সঙ্গে
দাঁড়িয়ে থাকতে শেখে।

প্রথম যেদিন স্কুলে গেলাম,
সেদিনও ভয় পেয়েছিলাম।
নতুন মুখ,
নতুন ঘর,
নতুন গন্ধ।
বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিলাম —
মা এখনো আছেন কি না,
কিছুক্ষণ পরে তিনি চলে গেলেন।

আমি কাঁদিনি।
কিন্তু বুকের ভেতরে
একটা চেয়ার খালি হয়ে গেল।

সেদিন শিখলাম —
বড় হওয়া মানে
ধীরে ধীরে কিছু পরিচিত হাত
ছেড়ে দেওয়া।

আমরা ভাবি,
শৈশবের ভয় ছোট ছিল।
না...,
শৈশবের ভয় ছিল নির্মল।
সেখানে টাকার চিন্তা ছিল না,
সম্মানের ভয় ছিল না,
ব্যর্থতার হিসাব ছিল না।

ছিল শুধু একটা সহজ আতঙ্ক —
আমি কি একা হয়ে যাব?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
ভয়ের পোশাক বদলায়।
কিন্তু তার মুখ একই থাকে।

আজও গভীর রাতে
হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে
কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকি।
কোথায় আছি,
কে আছে,
সব ঠিক আছে তো —
মনে মনে যাচাই করি।

তারপর বুঝি,
সেই ছোট্ট শিশুটা
এখনো আমার ভেতরে বেঁচে আছে।
সে এখনো মাঝে মাঝে মাকে খোঁজে,
বাবার পায়ের শব্দ শোনার অপেক্ষা করে,
দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে।

হয়তো মানুষের প্রথম ভয়
কখনো পুরোপুরি চলে যায় না।
সে আমাদের ভেতরে
একটা ছোট ঘর বানিয়ে থাকে।

আমরা বড় হই,
শহর বদলাই,
ভাষা বদলাই,
জীবন বদলাই —
কিন্তু সেই ঘরে
একটা শিশু চুপচাপ বসে থাকে।

আর যখন পৃথিবী
খুব অপরিচিত হয়ে যায়,
খুব শীতল হয়ে যায় —
তখন সে ধীরে ধীরে মাথা তুলে
জিজ্ঞেস করে,
"তুমি আছ তো?"

মানুষের সমস্ত প্রার্থনার
সবচেয়ে প্রাচীন বাক্যও
হয়তো এটাই।

প্রথম ভয়

(শৈশব)

আমি জানি না,
প্রথম কবে আকাশ দেখেছিলাম।

হয়তো মায়ের কোলে শুয়ে।
হয়তো বাবার কাঁধে বসে।
হয়তো উঠোনের এক কোণে,
যেখানে দুপুরের রোদ
ধীরে ধীরে নেমে আসত মাটির ওপর।

সেই দিনের কোনো স্মৃতি আমার মনে নেই।
তবু মনে হয় —
পৃথিবীতে আমার প্রথম বিস্ময়ের নাম
ছিল আকাশ।

শিশুরা আকাশ দেখে
তার রঙ বোঝে না।
তারা শুধু তাকিয়ে থাকে।

কারণ কিছু জিনিস
বোঝার জন্য নয় —
শুধু বিস্মিত হওয়ার জন্য।

আমিও তাকিয়ে ছিলাম।
ভাবতাম —
এত বড় নীল কোথা থেকে এলো?
কেন এর কোনো দেয়াল নেই?
কেন কেউ একে ধরে রাখে না?
কেন এটা কখনো ভেঙে পড়ে না?

সেদিন কেউ উত্তর দেয়নি।
ভালোই হয়েছে।

কিছু প্রশ্নের উত্তর
মানুষ বড় হয়েও জানে না —
আর ছোটবেলায় তা না জানাই ভালো।

আমার শৈশবের আকাশে
বিমান কম ছিল, ঘুড়ি বেশি।
ব্যস্ততা কম ছিল, তারা বেশি।

মেঘের ভেতরে আমি হাতি দেখতাম,
জাহাজ দেখতাম,
কখনো কোনো বৃদ্ধের মুখ,
কখনো একটা ঘুমন্ত পাখি।

আজও মেঘ আসে।
কিন্তু আমি আজ আর কিছু দেখি না।

মেঘ বদলায়নি সম্ভবত।
হয়তো আমার ভেতরের শিশুটাই
বড় হয়ে গেছে।

বড় হওয়ার সবচেয়ে নীরব সমস্যা হলো —
মানুষ ধীরে ধীরে
বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

একদিন বাবা বলেছিলেন,
"আকাশের দিকে তাকিয়ে হাঁটিস না,
পড়ে যাবি।"

আজ বুঝি —
তিনি পথের কথা বলেছিলেন।
কিন্তু আমি সারাজীবন
আকাশের কথাই ভেবেছি।

কারণ মানুষ শুধু মাটিতে হাঁটে না।
সে আকাশের দিকেও তাকিয়ে বেঁচে থাকে।

প্রত্যেক মানুষের ভেতরে
একটা আকাশ আছে।

সেখানে জমে থাকে
অপ্রকাশিত স্বপ্ন,
অসমাপ্ত প্রার্থনা,
হারিয়ে যাওয়া মানুষদের মুখ —
আর এমন কিছু তারা,
যাদের আলো
এখনো আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।

আমি বহু শহরের আকাশ দেখেছি।
যুদ্ধের আকাশ।
সমুদ্রের আকাশ।
শীতের আকাশ।
বর্ষার আকাশ।

সব আকাশ এক ছিল না।
তবু একটা জিনিস
সবখানে একই ছিল —
আকাশ কখনো মানুষের দিকে তাকিয়ে
বিচার করেনি।

ধনীকে যেমন ঢেকেছে,
গরিবকেও তেমনি।
পাপীকেও ছায়া দিয়েছে,
সাধুকেও।

আকাশের কোনো পক্ষ নেই।
তাই হয়তো সে এত বড়।

মাঝে মাঝে ভাবি —
মানুষ কেন আকাশের মতো হতে পারে না?

কেন আমাদের হৃদয় এত ছোট,
আর অহংকার এত বড়?

কেন আমরা নিজের চারপাশে
দেয়াল তুলতে তুলতে
নিজের ভেতরের আকাশটাকেই
হারিয়ে ফেলি?

আজ যখন সন্ধ্যা নামে,
আমি এখনো আকাশের দিকে তাকাই।

কোনো উত্তর খুঁজতে নয় —
নিজেকে মনে করিয়ে দিতে,
আমি একদিন এমন একটা শিশু ছিলাম,
যে বিশ্বাস করত —
পৃথিবী যত বড়ই হোক,
তারও ওপরে আরও কিছু আছে।

হয়তো সেই বিশ্বাসের নামই ছিল শৈশব।

আর হয়তো মানুষ বড় হয় মানে —
সে আকাশকে হারায় না,
সে শুধু ভুলে যায়
প্রথমবার আকাশ দেখে
তার হৃদয় কতখানি
নীরব হয়ে গিয়েছিল।

প্রথম আকাশ

(শৈশব)

আমার জীবনের প্রথম ছায়া
ছিল একটা হাত।

সেই হাতে কোনো অলৌকিক শক্তি ছিল না।
ছিল না রাজদণ্ড, ছিল না ক্ষমতা,
ইতিহাসের কোনো গৌরব ছিল না।

ছিল শুধু শক্ত হয়ে ওঠা চামড়া,
আঙুলের ফাঁকে জমে থাকা শ্রম,
আর এমন এক নীরবতা —
যা কোনোদিন নিজের কথা বলেনি।

হাঁটতে শেখার আগে
বাবার হাত আমাকে হাঁটতে শিখিয়েছিল।

আমি পৃথিবীকে চিনতাম না।
তিনি চিনতেন।
তাই আমি পথকে ভয় পাইনি!

কারণ আমি পথে হাঁটিনি —
আমি একটা হাতের ভেতর দিয়ে
পৃথিবীতে ঢুকেছিলাম।

ছোটবেলায় ভাবতাম,
বাবারা কখনো ক্লান্ত হন না।

সকালে বের হন।
রাতে ফেরেন।
খেয়ে নেন।
চুপ করে বসে থাকেন।
আবার ভোর হয়।

জানতাম না,
মানুষের ক্লান্তিরও একটা ভদ্রতা আছে।
যারা সংসারকে ভালোবাসে,
তারা প্রায়ই নিজের ক্লান্তি লুকিয়ে রাখে।

প্রথম বুঝেছিলাম
এক বর্ষার সন্ধ্যায়।
বাবা ভিজে ফিরেছিলেন,
জামা থেকে টপটপ পানি পড়ছিল।
তিনি প্রথমে নিজের কাপড় বদলাননি —
প্রথমে আমার স্কুলব্যাগটা
শুকনো জায়গায় তুলে রেখেছিলেন।

সেদিন দেখেছিলাম —
একজন মানুষ নিজের শরীরের আগে
আরেকজন মানুষের আগামীকাল
বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
বাবারা হয়তো এভাবেই ভালোবাসেন।
শব্দ দিয়ে নয় —
অগ্রাধিকার দিয়ে।

মনে পড়ে,
রাস্তা পার হওয়ার সময়
বাবা আমার হাত ধরতেন।
আজ এত বছর পরে বুঝি —
তিনি আমার হাত ধরতেন না,
তিনি আমার ভয়টা ধরে রাখতেন।

আমি পড়ে গেলে তুলতেন।
কিন্তু কখনো এমনভাবে তুলতেন না,
যাতে আমি হাঁটতে ভুলে যাই।

তিনি জানতেন —
বেশি আশ্রয় মানুষকে দুর্বল করে।
আর সময়মতো ছেড়ে দেওয়া,
সেও ভালোবাসার একটা ভাষা।

বড় হতে হতে
আমরা বাবার হাত ছেড়ে দিই।
ভাবি — এখন একাই পারব।

তারপর একদিন বুঝি —
হাতটা আমরা ছাড়িনি।
সময় ছাড়িয়ে দিয়েছে।

বাবার হাত
ধীরে ধীরে কাঁপতে শুরু করে।
যে হাত একদিন আমাকে কাঁধে তুলে
পৃথিবী দেখিয়েছিল,
সেই হাত একদিন
এক গ্লাস পানি ধরতেও
একটু সময় নেয়।

সেদিন পৃথিবী হঠাৎ বদলে যায়।

আমি প্রথমবার বাবার হাত ধরি।
আর অবাক হয়ে দেখি —
তাঁর হাত এখনো আগের মতোই বড়।
শুধু শক্তিটা বদলে গেছে।

তখন বুঝলাম —
শক্তি কখনো মাংসপেশিতে থাকে না।
শক্তি থাকে দায়িত্বে।

একদিন বাবা আমার পাশে থাকবেন না।
এ কথা আমি জানি।

তবু আজও
কোনো কঠিন সিদ্ধান্তের আগে
অদ্ভুতভাবে মনে হয় —
যদি একবার সেই হাতটা
আমার কাঁধে এসে পড়ত।

কিছু কথা মানুষ সারাজীবন শোনে না।
কিছু হাত মানুষ সারাজীবন ভুলতে পারে না।

জানি না,
পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গার নাম কী!
কিন্তু আমার শৈশবে-
তার একটা আকার ছিল।
পাঁচটা আঙুল ছিল।
কঠিন ছিল।
রুক্ষ ছিল।
উষ্ণ ছিল।

সেই হাত আমাকে
শুধু হাঁটতে শেখায়নি।
শিখিয়েছিল —
ভালোবাসা সবসময় কোমল হয় না।

কখনো কখনো ভালোবাসা
একটা রুক্ষ হাত —
যে নিজের সমস্ত ব্যথা লুকিয়ে রেখে
তোমার পড়ে যাওয়ার আগেই
নিঃশব্দে সামনে এগিয়ে আসে।

বাবার হাত

(শৈশব)

আমি পৃথিবীকে দেখার আগে
দুটি চোখ আমাকে দেখে নিয়েছিল।

সেই চোখের ইতিহাস আমি জানি না —
জানি না, আমার জন্মের আগে
কত রাত সে একা জেগেছিল,
কত ভয় নিঃশব্দে গিলে ফেলেছিল,
কত অসমাপ্ত স্বপ্ন ভাঁজ করে
তুলে রেখেছিল আমার জন্য।

শুধু জানি —
আমি যখন প্রথম তাকাই পৃথিবীর দিকে,
পৃথিবী তখন
মায়ের চোখ দিয়েই আমাকে দেখছিল।

শিশু পৃথিবীকে সরাসরি বিশ্বাস করে না।
সে আগে একজন মানুষকে বিশ্বাস করে।

আমার কাছে সেই মানুষ ছিল মা।

তিনি হাসলে
পৃথিবীকে নিরাপদ মনে হতো।
তিনি চুপ হয়ে গেলে
ঘরের বাতাসও ভারী হয়ে আসত।

তখনো আমি দুঃখ শব্দটা জানতাম না।
কিন্তু মায়ের চোখে
দুঃখ চিনতে শিখে গিয়েছিলাম।

মানুষের প্রথম বিদ্যালয় কোনো স্কুল নয়।
মানুষের প্রথম বিদ্যালয়
তার মায়ের চোখ।

সেখানেই সে শেখে —
ভালোবাসা কীভাবে কাউকে ছুঁয়ে থাকে,
অপেক্ষা কীভাবে একটা বিকেলকে দীর্ঘ করে,
আর ভয় কীভাবে
নিজের মুখ লুকিয়ে রাখে।

আমি কখনো মাকে বড় বড় কথা বলতে শুনিনি।
জীবন নিয়ে তিনি কোনো বক্তৃতা দেননি।

শুধু দেখেছি —
ভাত কম পড়লে
নিজের থালাটা নিঃশব্দে ছোট করে নিতেন।

দেখেছি —
জ্বরের রাতে আমার কপালে হাত রেখে
আকাশের দিকে তাকাতেন,
কাউকে কিছু না বলে।

দেখেছি —
সবচেয়ে কঠিন দিনেও
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
সন্ধ্যার আলো নিভে যেতে দেখতেন।

তখন বুঝিনি।
এখন বুঝি —

কেউ কাঁদে চোখের জলে।
কেউ কাঁদে
চোখের ভেতরের আলো
একটু একটু করে নিভিয়ে।

আমার মা ছিলেন দ্বিতীয় দলে।

বড় হতে হতে অনেক চোখ দেখেছি।
সাফল্যের চোখ। অহংকারের চোখ।
লোভের চোখ। প্রেমের চোখ।
পরাজয়ের চোখ।

কিন্তু মায়ের চোখের মতো চোখ
আর দেখিনি।

সেখানে বিচার ছিল না।
ছিল আশ্রয়।

ভুল করলে তিনি প্রথমে রাগ করতেন না —
প্রথমে শুধু তাকিয়ে থাকতেন।

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো
শব্দে করা হয় না।
কিছু প্রশ্ন
শুধু একটা দৃষ্টি হয়ে দাঁড়ায় সামনে।
আর কিছু উত্তর
শুধু মাথা নিচু করে দেওয়া যায়।

আমার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা
কোনো বাড়ি ছিল না।

ছিল দুটি চোখ —
যেখানে আমি ব্যর্থ হতে পারতাম,
কাঁদতে পারতাম,
ভেঙে পড়তে পারতাম,
তবু আমাকে ছোট হতে হতো না।

সময় বড় নিষ্ঠুর।

একদিন সন্তান বড় হয়ে যায়।
মায়ের হাত কাঁপতে থাকে,
দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে।

যে চোখ একদিন আমাকে পথ চিনিয়েছিল,
সে-ই একদিন
আমার মুখ চিনতে একটু সময় নেয়।

সেদিন মানুষের ভেতরে
আরেকটা শৈশব জন্মায়।
সে প্রথমবার বোঝে —
যার চোখে ভর করে সে পৃথিবী দেখেছিল,
আজ সেই চোখই
তার ভরসা খুঁজছে।

মাঝে মাঝে আয়নায়
নিজের চোখের দিকে তাকাই।
অদ্ভুত লাগে —

আমার চোখের ভেতরে
ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে
আরেক জোড়া চোখ।

তখন বুঝি,
মানুষ শুধু রক্তের উত্তরাধিকার বহন করে না।
সে বহন করে
দৃষ্টিরও উত্তরাধিকার।

হয়তো একদিন
আমার চোখেও কেউ আশ্রয় খুঁজবে।
হয়তো সেদিন বুঝব —

একজন মা
সন্তানের জন্ম শুধু শরীরে দেন না।
তিনি তাঁর চোখের ভেতরেও
আরেকটা পৃথিবীর জন্ম দেন।

আর সেই পৃথিবী —
মা চলে যাওয়ার বহু বছর পরেও —
সন্তানের ভেতরে
আলো জ্বালিয়ে রাখে।

মায়ের চোখ

(শৈশব)

কথা বলতে শেখার আগেই
আমি পৃথিবীকে চিনতাম।

মায়ের বুকে মাথা রাখলে
যে নিশ্চিন্ততা নামত —
তার কোনো নাম ছিল না।
বাবার কোলে যে নিরাপত্তা
চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত —
তার কোনো অভিধান ছিল না।

ভোরের আলো
জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকত,
আমি তাকিয়ে থাকতাম।
আলো আমাকে কিছু বলত না,
আমিও তাকে কিছু বলতাম না —
তবু আমাদের ভুল হতো না কখনো।

শিশু ক্ষুধার কথা বলতে পারে না,
তবু মা বুঝে যায়।

বৃদ্ধ মুখে হাসি রাখেন,
তবু মেয়ে তাঁর হাত ছুঁয়ে বোঝে —
বাবা আজ বড় ক্লান্ত।

দুই বন্ধু হাঁটে পাশাপাশি,
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো কথা নেই;
তবু বিদায়ের বেলায় মনে হয় —
সব কথা হয়ে গেছে।

পৃথিবীর গভীরতম ভাষাগুলোর
কোনো বর্ণমালা নেই।

আমরা বড় হই।
শব্দ শিখি, বাক্য শিখি, যুক্তি শিখি।

তারপর একদিন —
যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি
তার সামনে দাঁড়িয়ে
একটি কথাও বলতে পারি না।
শব্দ গলায় এসে জমে যায়,
অথচ বুকের ভেতর তখন
একটা গোটা মহাবিশ্ব কথা বলছে।

ভাষা সবসময় পাশে থাকে না।
অনুভব থাকে।

আজ আমার কাছে অনেক শব্দ।
চাইলে একটা বই লিখে ফেলতে পারি।
তবু আমার জীবনের সবচেয়ে সত্য মুহূর্তগুলোর
কোনো ভাষা নেই।

মায়ের শেষবার আমার দিকে তাকানো।
বাবার নীরবে কাঁধে হাত।
প্রথম ভালোবাসার বিদায়।
বন্ধুর অকারণে চলে যাওয়া।
সন্তানের প্রথম হাসি।

এসবের কিছুই
শব্দে সম্পূর্ণ ধরা পড়ে না।
শব্দ শুধু চারপাশে ঘোরে —
ভেতরে ঢুকতে পারে না।

হয়তো তাই
পৃথিবীর সব কবিতা শেষমেশ
একটা হারানো ভাষাকেই খোঁজে।

সেই ভাষা,
জন্মের আগে যা আমরা জানতাম।
যেখানে ধর্ম ছিল না, জাতি ছিল না,
অহংকার ছিল না —
ছিল শুধু
একটা হৃদয়ের কাছে
আরেকটা হৃদয়ের
ধীরে ধীরে খুলে যাওয়া।

মানুষ মারা গেলে কোথায় যায় —
জানি না।

শুধু বিশ্বাস করতে চাই,
যদি কোথাও ফিরে যাওয়া বলে কিছু থাকে,
আমরা কোনো নতুন ভাষা শিখতে যাই না।

আমরা ফিরে যাই
সেই প্রথম ভাষায় —

যেখানে একটা স্পর্শ
একটা বইয়ের চেয়েও দীর্ঘ,
এক ফোঁটা অশ্রু
একটা জীবনের চেয়েও সত্য,

আর নীরবতা —
সমস্ত উচ্চারণের আগে —
মানুষের প্রথম মাতৃভাষা।

যে ভাষা ছিল না

বাছাইকৃত কবিতা

প্রথম ভয়

- মোঃ আবু তালেব

(শৈশব)

আমি ঠিক মনে করতে পারি না,
প্রথম কবে ভয় পেয়েছিলাম।

হয়তো এক বিকেলে
হঠাৎ মাকে চোখের আড়াল করে ফেলেছিলাম।
হয়তো ঘুম ভেঙে দেখেছিলাম —
ঘরে কেউ নেই।
হয়তো বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল,
আর অন্ধকার এক মুহূর্তে
ঘরের সব পরিচিত জিনিসকে
অপরিচিত করে দিয়েছিল।

শিশুরা অন্ধকারকে ভয় পায় না।
তারা ভয় পায় —
যাকে ডাকবে,
যখন সে সাড়া না দেয়!

সেদিন প্রথম বুঝেছিলাম,
পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়া বলে
একটা ঘটনা আছে।

আমি উঠোনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম।
বেশি দূরে যাইনি,
তবু মনে হচ্ছিল
আমি পৃথিবীর শেষ প্রান্তে এসে গেছি।

চারদিকে মানুষ ছিল,
শব্দ ছিল,
আলো ছিল —
শুধু যাকে চাই,
সে ছিল না।

আমার ভয়ের কেন্দ্র অন্ধকার ছিল না,
ছিল অনুপস্থিতি।
মানুষের সবচেয়ে গভীর ভয়গুলো
অধিকাংশই অনুপস্থিতিকে ঘিরে।

মা নেই।
বাবা ফিরছে না।
বন্ধু দূরে চলে গেছে।
ভালোবাসার মানুষটা
আর আগের মতো নেই।

আমরা বলি —
একা হতে ভয় পাই।
আসলে আমরা ভয় পাই,
যাদের উপস্থিতি দিয়ে
নিজের অস্তিত্ব বুঝতাম,
তারা যখন পাশে থাকে না।

ছোটবেলায়
ঘুমানোর আগে
দরজার দিকে তাকাতাম।
মনে হতো,
ওপারে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
জানতাম,
কেউ নেই।
তবু কম্বল টেনে
মুখ ঢেকে ফেলতাম।

ভয়ের একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে —
সে বাস্তবের চেয়ে
কল্পনার ভেতরে বড় হয়ে ওঠে।

বাবা একদিন বলেছিলেন,
"ভয় পেলে পালিয়ে যাস না,
দাঁড়িয়ে থাক।"
তখন বুঝিনি,
দাঁড়িয়ে থাকলে তো
ভয় আরও কাছে আসে।

এখন বুঝি —
মানুষ ভয়কে জয় করে না।
মানুষ ভয়ের সঙ্গে
দাঁড়িয়ে থাকতে শেখে।

প্রথম যেদিন স্কুলে গেলাম,
সেদিনও ভয় পেয়েছিলাম।
নতুন মুখ,
নতুন ঘর,
নতুন গন্ধ।
বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিলাম —
মা এখনো আছেন কি না,
কিছুক্ষণ পরে তিনি চলে গেলেন।

আমি কাঁদিনি।
কিন্তু বুকের ভেতরে
একটা চেয়ার খালি হয়ে গেল।

সেদিন শিখলাম —
বড় হওয়া মানে
ধীরে ধীরে কিছু পরিচিত হাত
ছেড়ে দেওয়া।

আমরা ভাবি,
শৈশবের ভয় ছোট ছিল।
না...,
শৈশবের ভয় ছিল নির্মল।
সেখানে টাকার চিন্তা ছিল না,
সম্মানের ভয় ছিল না,
ব্যর্থতার হিসাব ছিল না।

ছিল শুধু একটা সহজ আতঙ্ক —
আমি কি একা হয়ে যাব?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
ভয়ের পোশাক বদলায়।
কিন্তু তার মুখ একই থাকে।

আজও গভীর রাতে
হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে
কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকি।
কোথায় আছি,
কে আছে,
সব ঠিক আছে তো —
মনে মনে যাচাই করি।

তারপর বুঝি,
সেই ছোট্ট শিশুটা
এখনো আমার ভেতরে বেঁচে আছে।
সে এখনো মাঝে মাঝে মাকে খোঁজে,
বাবার পায়ের শব্দ শোনার অপেক্ষা করে,
দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে।

হয়তো মানুষের প্রথম ভয়
কখনো পুরোপুরি চলে যায় না।
সে আমাদের ভেতরে
একটা ছোট ঘর বানিয়ে থাকে।

আমরা বড় হই,
শহর বদলাই,
ভাষা বদলাই,
জীবন বদলাই —
কিন্তু সেই ঘরে
একটা শিশু চুপচাপ বসে থাকে।

আর যখন পৃথিবী
খুব অপরিচিত হয়ে যায়,
খুব শীতল হয়ে যায় —
তখন সে ধীরে ধীরে মাথা তুলে
জিজ্ঞেস করে,
"তুমি আছ তো?"

মানুষের সমস্ত প্রার্থনার
সবচেয়ে প্রাচীন বাক্যও
হয়তো এটাই।
বিস্তারিত...

প্রথম আকাশ

- মোঃ আবু তালেব

(শৈশব)

আমি জানি না,
প্রথম কবে আকাশ দেখেছিলাম।

হয়তো মায়ের কোলে শুয়ে।
হয়তো বাবার কাঁধে বসে।
হয়তো উঠোনের এক কোণে,
যেখানে দুপুরের রোদ
ধীরে ধীরে নেমে আসত মাটির ওপর।

সেই দিনের কোনো স্মৃতি আমার মনে নেই।
তবু মনে হয় —
পৃথিবীতে আমার প্রথম বিস্ময়ের নাম
ছিল আকাশ।

শিশুরা আকাশ দেখে
তার রঙ বোঝে না।
তারা শুধু তাকিয়ে থাকে।

কারণ কিছু জিনিস
বোঝার জন্য নয় —
শুধু বিস্মিত হওয়ার জন্য।

আমিও তাকিয়ে ছিলাম।
ভাবতাম —
এত বড় নীল কোথা থেকে এলো?
কেন এর কোনো দেয়াল নেই?
কেন কেউ একে ধরে রাখে না?
কেন এটা কখনো ভেঙে পড়ে না?

সেদিন কেউ উত্তর দেয়নি।
ভালোই হয়েছে।

কিছু প্রশ্নের উত্তর
মানুষ বড় হয়েও জানে না —
আর ছোটবেলায় তা না জানাই ভালো।

আমার শৈশবের আকাশে
বিমান কম ছিল, ঘুড়ি বেশি।
ব্যস্ততা কম ছিল, তারা বেশি।

মেঘের ভেতরে আমি হাতি দেখতাম,
জাহাজ দেখতাম,
কখনো কোনো বৃদ্ধের মুখ,
কখনো একটা ঘুমন্ত পাখি।

আজও মেঘ আসে।
কিন্তু আমি আজ আর কিছু দেখি না।

মেঘ বদলায়নি সম্ভবত।
হয়তো আমার ভেতরের শিশুটাই
বড় হয়ে গেছে।

বড় হওয়ার সবচেয়ে নীরব সমস্যা হলো —
মানুষ ধীরে ধীরে
বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

একদিন বাবা বলেছিলেন,
"আকাশের দিকে তাকিয়ে হাঁটিস না,
পড়ে যাবি।"

আজ বুঝি —
তিনি পথের কথা বলেছিলেন।
কিন্তু আমি সারাজীবন
আকাশের কথাই ভেবেছি।

কারণ মানুষ শুধু মাটিতে হাঁটে না।
সে আকাশের দিকেও তাকিয়ে বেঁচে থাকে।

প্রত্যেক মানুষের ভেতরে
একটা আকাশ আছে।

সেখানে জমে থাকে
অপ্রকাশিত স্বপ্ন,
অসমাপ্ত প্রার্থনা,
হারিয়ে যাওয়া মানুষদের মুখ —
আর এমন কিছু তারা,
যাদের আলো
এখনো আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।

আমি বহু শহরের আকাশ দেখেছি।
যুদ্ধের আকাশ।
সমুদ্রের আকাশ।
শীতের আকাশ।
বর্ষার আকাশ।

সব আকাশ এক ছিল না।
তবু একটা জিনিস
সবখানে একই ছিল —
আকাশ কখনো মানুষের দিকে তাকিয়ে
বিচার করেনি।

ধনীকে যেমন ঢেকেছে,
গরিবকেও তেমনি।
পাপীকেও ছায়া দিয়েছে,
সাধুকেও।

আকাশের কোনো পক্ষ নেই।
তাই হয়তো সে এত বড়।

মাঝে মাঝে ভাবি —
মানুষ কেন আকাশের মতো হতে পারে না?

কেন আমাদের হৃদয় এত ছোট,
আর অহংকার এত বড়?

কেন আমরা নিজের চারপাশে
দেয়াল তুলতে তুলতে
নিজের ভেতরের আকাশটাকেই
হারিয়ে ফেলি?

আজ যখন সন্ধ্যা নামে,
আমি এখনো আকাশের দিকে তাকাই।

কোনো উত্তর খুঁজতে নয় —
নিজেকে মনে করিয়ে দিতে,
আমি একদিন এমন একটা শিশু ছিলাম,
যে বিশ্বাস করত —
পৃথিবী যত বড়ই হোক,
তারও ওপরে আরও কিছু আছে।

হয়তো সেই বিশ্বাসের নামই ছিল শৈশব।

আর হয়তো মানুষ বড় হয় মানে —
সে আকাশকে হারায় না,
সে শুধু ভুলে যায়
প্রথমবার আকাশ দেখে
তার হৃদয় কতখানি
নীরব হয়ে গিয়েছিল।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4565
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1646
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1622
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1536
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1536
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1457
মানুষ মোঃ আবু তালেব 1432
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1425
রমণী মোঃ আবু তালেব 1399
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1364
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1362
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1355
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1325
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1323
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1322
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1320
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1313
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1294
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1292
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1281
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
প্রথম ভয় মোঃ আবু তালেব 6
প্রথম আকাশ মোঃ আবু তালেব 12
বাবার হাত মোঃ আবু তালেব 24
মায়ের চোখ মোঃ আবু তালেব 22
যে ভাষা ছিল না মোঃ আবু তালেব 24
প্রথম কান্না মোঃ আবু তালেব 43
জন্মের পূর্বে মোঃ আবু তালেব 45
নামহীন স্পন্দন মোঃ আবু তালেব 42
প্রথম অন্ধকার মোঃ আবু তালেব 43
মায়ের নীরবতা মোঃ আবু তালেব 52
পৃথিবীর আগে মোঃ আবু তালেব 58
তোমার প্রতি মোঃ আবু তালেব 68
জুলাইয়ের কংক্রিট ও নক্ষত্রের ইশতেহার মো: আবু তালেব 115
ভাঙা মাটির খেলা মো: আবু তালেব 120
মানচিত্রের কাটা দাগ মো: আবু তালেব 133
মহাজাগতিক ইশতেহার ও এক নশ্বরের চিৎকার মো: আবু তালেব 153
মৃণ্ময়ী মোঃ আবু তালেব 256
ইশকের তুফান মোঃ আবু তালেব 294
আদিকথা মো: আবু তালেব 179
রূহের তৃষা মো: আবু তালেব 264
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 33
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 74
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 115
কিংবদন্তির বাহন আজাহার রাজা 104
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 103
ভালো মানুষ ইবনে আলী 201
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 120
শিকল ইবনে আলী 180
পৃথিবীতে কেবল ক্ষুধাই সত্য আজাহার রাজা 191
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 205
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 193
বসন্ত জয়দীপ রায় 212
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 141
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 274
জীবন ও বৃক্ষ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 249
মানবতা বনাম স্বার্থপরতা: এক যুদ্ধাহত পৃথিবীর আর্তনাদ! শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 261
সোনার দেশ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 280
মুসলিম সংখ্যালঘু শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 229
বাদলের দিন শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 296
তুমি হীনা জান্নাত চাইনা কবি মোঃ নিজাম গাজী 277
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে