কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(মুখ ও মুখোশ)

সভ্য মানুষেরা
খুব সুন্দর করে কথা বলে।

তারা কাউকে হাতে মারে না—
শুধু এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করে
যাতে মানুষটি
নিজের ভিতরেই
ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে।

তারা রক্ত দেখতে পছন্দ করে না;
তাই ক্ষত তৈরি করে
কাগজে,
স্বাক্ষরে,
নিয়মে,
একটি ছোট্ট “না”-তে।

তাদের টেবিলে
ফুল থাকে।
কাঁচের গ্লাসে পানি থাকে।
দেয়ালে
মানবতার ছবি ঝোলে।
আর দরজার বাইরে
একজন বৃদ্ধ
সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকে।
ভেতরের মানুষটি
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে—
“আজ সম্ভব হবে না।”

সভ্য মানুষেরা
ক্ষুধার্ত মানুষকে
খাবার দেওয়ার আগে
তার পরিচয় জানতে চায়।
তারপর
তার কাগজ দেখে।
তার পোশাক দেখে।
তার ভাষা দেখে।
তারপর সিদ্ধান্ত নেয়—
সে কতটুকু মানুষ!

তারা শিশুকে শেখায়—
“সত্য কথা বলবে।”
তারপর সেই শিশুটি
বড় হয়ে দেখে,
সত্য বললে
চাকরি যায়,
বন্ধু যায়,
সম্মান যায়।
তাই সে শিখে যায়
সত্যের আগে
কীভাবে হাসতে হয়।

সভ্য মানুষেরা
যুদ্ধকে ঘৃণা করে।
তারা যুদ্ধের ছবি দেখে
দুঃখ পায়।
তারপর
ডাইনিং টেবিলে বসে
নির্বিঘ্নে রাতের খাবার খায়।

তাদের শহরে
কেউ ফুটপাথে ঘুমায়।
কেউ হাসপাতালের করিডরে
মায়ের হাত ধরে বসে থাকে।
কেউ দিনের শেষে
একটি ভাতের জন্য
নিজের সম্মান বিক্রি করে।
সভ্য মানুষেরা
তাদের পাশ দিয়ে যায়।
কেউ চোখ নামিয়ে নেয়।
কেউ মোবাইলে তাকায়।

কেউ বলে—
“এরা তো সবসময়ই ছিল।”

এই একটি বাক্য
কত শত মানুষের
ক্ষুধার চেয়েও পুরোনো।

সভ্য মানুষেরা
অপরাধীকে শাস্তি দেয়।
এটি ভালো।
কিন্তু তারা কখনো জিজ্ঞেস করে না—
অপরাধের আগে
কতগুলো দরজা
তার মুখের ওপর বন্ধ হয়েছিল।

তারা চোরকে ঘৃণা করে,
কিন্তু এমন একটি সমাজ তৈরি করে
যেখানে কারও কাছে
চুরি ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।

তারপর
নিজেদের সভ্য বলে।
রাতে তারা
আয়নার সামনে দাঁড়ায়।
পরিষ্কার জামা।
পরিপাটি চুল।
নিরাপদ ঘর।
পাশে ঘুমিয়ে থাকা সন্তান।
আয়না কিছু বলে না।
আয়না শুধু মুখ দেখায়।

কিন্তু যদি কোনোদিন
আয়না মুখের বদলে
হাত দেখাত—
তবে দেখা যেত
কারও হাত স্বাক্ষরে,
কারও হাত নীরবতায়,
কারও হাত
শুধু কিছু না করার অপরাধে
ভারী হয়ে আছে।

তবু সকাল হয়।
সভ্য মানুষেরা
আবার বেরিয়ে পড়ে।
টাই বাঁধে।
জুতো পালিশ করে।
ভদ্রভাবে হাসে।
একজন আরেকজনকে বলে—
“কেমন আছেন?”

কেউ উত্তর দেয় না
সে সত্যিই কেমন আছে।
কারণ
সভ্যতা হয়তো মানুষকে
হিংস্রতা থেকে বাঁচিয়েছে,
কিন্তু মানুষকে
মানুষের কষ্ট থেকে
বাঁচাতে পারেনি এখনও!

সভ্য মানুষেরা

প্রিয় নবীর ছবি আমি আঁকছি কবিতায়,
দেখতে হলে তাকাও তোমার হৃদয়ের আয়নায়।

চাঁদের মতো মুখখানি তাঁর, কাজল কালো চোখ,
ঈষৎ বাঁকা ভ্রু ছিল তার, পশম ভরা বুক।

ঢেউ খেলানো কেশ ছিল তার, লতি ও কাঁধ তক,
বড় ছিল মাপ মতো তাঁর মাথা মোবারক।

চোখের পাতায় পলক ছিল অতি দীর্ঘকায়,
রক্তিম রেখার টান ছিল তাঁর চোখের শুভ্রতায়।

চমকাতো নূর সর্বদা তাঁর উন্নত নাক-কান,
মূর্তির মতো মসৃণ তার গলা ও গর্দান।

স্ফীত এক রগ ছিল তাঁর ললাট প্রশস্তে,
রাগের সময় উঠত ফুলে ভীষণ ধীরস্থে।

সামনের দুই দন্ত মাঝে ছিল খানিক ফাঁক,
দন্তরাজির জন্য ছিল সুন্নতি মিসওয়াক।

ঈষৎ গোলের মুখখানি তার, গোস্তে গণ্ড ফোলা,
ছিল না তার রঙ চেহারার তামাটে বা ধলা।

চিকন-চিকন দাঁত ছিল তার ভীষণ চমৎকার,
কথার সময় চমকাতো নূর, জমকালো মুখ তাঁর।

ডোরাকাটা লালরঙা এক চাদর ছিল তার,
মাঝারি তার গড়ন ছিল, পরনে ইযার।

সবার থেকে উঁচু তাঁরে দেখলে মনে হয়,
ঝুঁকে ঝুঁকে পা ফেলিতেন, বুক ফুলিয়ে নয়।

হাতের তালুর মতোই ছিল মাংসল পায়ের পাত,
কাঁধের মাঝে ছিল তাঁহার মোহরে নবুওয়াত।

শৌর্যে-বীর্যে প্রভাবশালীর পেট-বক্ষ সমান,
রূপার মতো ছিল তাহার চকচকে গর্দান।

অনাবৃত হইলে তাঁরে লাগত চমৎকার,
সেই চেহারা এঁকে দেবার শব্দ নেই আমার।

হাত-পায়ে তাঁর আঙুল ছিল দীর্ঘ মানানসই,
কবজি হতে কনুই ছিল হুবহু এর মতোই।

হাতের মতো মাংসে ভরা উভয় পায়ের নল,
হাড়ের জোড়া শক্ত ছিল, বাহুর যেমন বল।

রূপ-লাবণ্যে নবী আমার পূর্ণিমারি চাঁদ,
তাঁর প্রতি মোর ভালোবাসা জন্মেছে অগাধ।

তাঁর চেহারার মতো আজও হয় না কোনোই তুল,
তাঁরচে ছিলেন ইউসুফ নবী সুন্দর অপ্রতুল।

শুভ্র হয়নি চুল-দাড়ি তাঁর, হয় যদি এক কুড়ি,
বডি তাহার ছিল বিল্ডার, হয়নি মোটা ভুঁড়ি।

চল্লিশে হন নবী আমাদের, তেষট্টিতে যান চলে,
এই তেইশ বছরের মধ্য দিয়েই দুনিয়া ঝলমলে।

কবির কলমে নবির ছবি - Kobir Kolome Nobir Chobi

(মুখ ও মুখোশ)

সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
মানুষ প্রথম যে মুখটি দেখে,
সেটি তার নিজের নয়—
সারাদিন পৃথিবীকে দেখানোর জন্য
তৈরি করা একটি মুখ।

আমি দেখেছি তাকে
অফিসের লিফটে,
বাসের ভিড়ে,
চায়ের দোকানের বেঞ্চে,
বিয়ের আসরে,
শোকের ঘরে।

সবাই খুব সুন্দর করে
নিজেকে বহন করে।

যে মানুষটি গতরাতে
বালিশে মুখ গুঁজে কেঁদেছিল,
সকালবেলা সে-ই
সহকর্মীকে বলে—

“ভালো আছি।”

যে বাবা
মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারেনি,
সে সন্তানের সামনে
হেসে বলে—
“আগামী মাসে হয়ে যাবে।”

যে নারী
সারাদিন অপমান সহ্য করে,
সন্ধ্যায় অতিথির সামনে
চা বাড়িয়ে দেয়
শান্ত মুখে।

কেউ মিথ্যা বলে না—
তবু শহরটা
মিথ্যায় ভরে থাকে।

কারণ সত্যেরও
একটি সময় আছে,
একটি পোশাক আছে,
একটি সামাজিক অনুমতি আছে।

সব সত্য
টেবিলে রাখা যায় না।
সব কান্না
মানুষের সামনে কাঁদা যায় না।
সব ক্ষুধা
ভদ্রলোকের ভাষায় বলা যায় না।

তাই আমরা মুখ বানাই।
একটি মুখ
মায়ের জন্য,
একটি সন্তানের জন্য,
একটি অফিসের জন্য,
একটি প্রেমের জন্য,
একটি সমাজের জন্য।
আর গভীর রাতে,
সব দরজা বন্ধ হলে,
আলো নিভে গেলে
মানুষ নিজের মুখগুলো
এক এক করে খুলে রাখে।

তখন আয়নায়
যে মুখটি দেখা যায়,
তার কোনো পরিচয় নেই।
সে শুধু ক্লান্ত।
তার চোখের নিচে
ঘুমহীন রাতের দাগ,
ঠোঁটে আটকে থাকা
অনেকগুলো অসমাপ্ত কথা।

আমি একদিন
সেই মুখটির দিকে তাকিয়ে
ভয় পেয়েছিলাম।
কারণ তাকে
আমি চিনতে পারিনি।
এত বছর ধরে
নিজের মুখ বহন করতে করতে
নিজেকেই ভুলে গিয়েছিলাম।

সেদিন বুঝলাম—
মানুষের সবচেয়ে বড় মুখোশ
মুখের ওপর থাকে না;
সে থাকে
নিজের সম্পর্কে
নিজের বিশ্বাসের ভেতর।
আমরা বলি—
আমি ভালো মানুষ।
আমি সৎ।
আমি সাহসী।
আমি কাউকে ঘৃণা করি না।

কিন্তু সুযোগ এলে
আমাদের ভিতরের অন্ধকার
আস্তে করে দরজা খোলে।
তখন দেখা যায়—
মুখের নিচে আরেক মুখ,
তার নিচে আরও একটি।

শেষে
কোনো মুখ নেই।
শুধু একজন মানুষ
দাঁড়িয়ে আছে—
নগ্ন,
ভীত,
অসহায়,
এবং প্রথমবার
নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে
ভাবছে—
পৃথিবীর কাছে নয়,
নিজের কাছেই
আমি এতদিন
কিসের অভিনয় করে গেলাম?

মুখের নিচে মুখ

(ভালবাসা)

শেষবার যখন তুমি এলে,
বিকেল তখন প্রায় ফুরিয়ে গেছে।
জানালার কাঁচে
শীতের ম্লান রোদ—
ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল
একটি শুকনো পাতা।

তুমি পাতা তুলে
টেবিলের ওপর রাখলে।
বললে,
“এটা এখানে ছিল?”
আমি বললাম,
“হয়তো বাতাসে এসেছে।”
তুমি হেসে বললে,
“সবকিছুই কি বাতাসে আসে?”

আমি উত্তর দিইনি।

কারণ কিছু জিনিস
বাতাসে আসে না—
ধীরে ধীরে
মানুষের ভিতরে জন্মায়।
আমরা সেদিন
অনেক সাধারণ কথা বলেছিলাম।

চা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।
ঘড়িতে পাঁচটা বেজে গিয়েছিল।
বাইরে একজন ফেরিওয়ালা
শেষবারের মতো ডাকছিল।
তুমি বারবার
জানালার দিকে তাকাচ্ছিলে।
আমি বুঝেছিলাম।
তবু জিজ্ঞেস করিনি—

তুমি কি সত্যিই চলে যাবে?
তুমি যাওয়ার আগে
ঘরের দিকে একবার তাকালে।

যেন কোনো মানুষ নয়,
একটি পুরোনো জীবন
শেষবার দেখে নিচ্ছিলে।
দরজার কাছে এসে
তুমি বললে,
“ভালো থেকো।”
এই দুটি শব্দ
কত ছোট!

অথচ তাদের ভিতরে
আমাদের সমস্ত দিন
ধীরে ধীরে ডুবে গেল।
তুমি বেরিয়ে গেলে।
দরজা বন্ধ হলো।

আমি টেবিলের কাছে ফিরে এসে
দেখলাম—
শুকনো পাতাটি
এখনও সেখানে।
সেদিন রাতে
আমি পাতাটি ফেলে দিইনি।
পরদিনও না।
তারপর বহুদিন।

অবশেষে এক সকালে
জানালা খুলতেই
হাওয়া এসে
পাতাটিকে মেঝেতে ফেলে দিল।
আমি অনেকক্ষণ
তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

তারপর বুঝলাম—
কিছু স্মৃতি
আমরা যত্ন করে রাখি না;
তারা নিজেরাই
আমাদের কাছে থেকে যায়।
আর একদিন
নিজেরাই চলে যায়।

তোমার চলে যাওয়ার পর
আমি ভাবতাম,
ভালোবাসার শেষ কোথায়?
যে দিন মানুষ চলে যায়?
যে দিন তার নাম আর ডাকা হয় না?

নাকি যে দিন
তার কথা মনে পড়লেও
বুকের ভিতর আর ব্যথা করে না?
আজ জানি—
ভালোবাসার শেষ বলে
আসলে কিছু নেই।
শুধু একদিন
তার দরজাটি
অন্যদিকে খুলে যায়।

তার ওপারে থাকে
অভিমানহীন একটি সকাল,
একটি পুরোনো মুখ,
একটি শুকনো পাতা,
আর একজন মানুষ
যে ফিরে তাকিয়ে দেখে—
সে যাকে হারিয়েছিল,
তার চেয়ে বড় কিছু
সে হারায়নি;
সে হারিয়েছিল
নিজের সেই মানুষটিকে,
যে ভালোবাসতে জানত
কোনো শর্ত ছাড়াই।

সেদিন
আমি দরজাটি বন্ধ করিনি।
খোলা রেখেছিলাম।
তোমার জন্য নয়।
যদি কোনোদিন
আমার হারিয়ে যাওয়া মানুষটি
নিজের কাছে ফিরে আসে—
যেন তার ঢোকার পথ থাকে।

ভালোবাসার শেষ দরজা

বাছাইকৃত কবিতা

সভ্য মানুষেরা

- মোঃ আবু তালেব

(মুখ ও মুখোশ)

সভ্য মানুষেরা
খুব সুন্দর করে কথা বলে।

তারা কাউকে হাতে মারে না—
শুধু এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করে
যাতে মানুষটি
নিজের ভিতরেই
ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে।

তারা রক্ত দেখতে পছন্দ করে না;
তাই ক্ষত তৈরি করে
কাগজে,
স্বাক্ষরে,
নিয়মে,
একটি ছোট্ট “না”-তে।

তাদের টেবিলে
ফুল থাকে।
কাঁচের গ্লাসে পানি থাকে।
দেয়ালে
মানবতার ছবি ঝোলে।
আর দরজার বাইরে
একজন বৃদ্ধ
সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকে।
ভেতরের মানুষটি
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে—
“আজ সম্ভব হবে না।”

সভ্য মানুষেরা
ক্ষুধার্ত মানুষকে
খাবার দেওয়ার আগে
তার পরিচয় জানতে চায়।
তারপর
তার কাগজ দেখে।
তার পোশাক দেখে।
তার ভাষা দেখে।
তারপর সিদ্ধান্ত নেয়—
সে কতটুকু মানুষ!

তারা শিশুকে শেখায়—
“সত্য কথা বলবে।”
তারপর সেই শিশুটি
বড় হয়ে দেখে,
সত্য বললে
চাকরি যায়,
বন্ধু যায়,
সম্মান যায়।
তাই সে শিখে যায়
সত্যের আগে
কীভাবে হাসতে হয়।

সভ্য মানুষেরা
যুদ্ধকে ঘৃণা করে।
তারা যুদ্ধের ছবি দেখে
দুঃখ পায়।
তারপর
ডাইনিং টেবিলে বসে
নির্বিঘ্নে রাতের খাবার খায়।

তাদের শহরে
কেউ ফুটপাথে ঘুমায়।
কেউ হাসপাতালের করিডরে
মায়ের হাত ধরে বসে থাকে।
কেউ দিনের শেষে
একটি ভাতের জন্য
নিজের সম্মান বিক্রি করে।
সভ্য মানুষেরা
তাদের পাশ দিয়ে যায়।
কেউ চোখ নামিয়ে নেয়।
কেউ মোবাইলে তাকায়।

কেউ বলে—
“এরা তো সবসময়ই ছিল।”

এই একটি বাক্য
কত শত মানুষের
ক্ষুধার চেয়েও পুরোনো।

সভ্য মানুষেরা
অপরাধীকে শাস্তি দেয়।
এটি ভালো।
কিন্তু তারা কখনো জিজ্ঞেস করে না—
অপরাধের আগে
কতগুলো দরজা
তার মুখের ওপর বন্ধ হয়েছিল।

তারা চোরকে ঘৃণা করে,
কিন্তু এমন একটি সমাজ তৈরি করে
যেখানে কারও কাছে
চুরি ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।

তারপর
নিজেদের সভ্য বলে।
রাতে তারা
আয়নার সামনে দাঁড়ায়।
পরিষ্কার জামা।
পরিপাটি চুল।
নিরাপদ ঘর।
পাশে ঘুমিয়ে থাকা সন্তান।
আয়না কিছু বলে না।
আয়না শুধু মুখ দেখায়।

কিন্তু যদি কোনোদিন
আয়না মুখের বদলে
হাত দেখাত—
তবে দেখা যেত
কারও হাত স্বাক্ষরে,
কারও হাত নীরবতায়,
কারও হাত
শুধু কিছু না করার অপরাধে
ভারী হয়ে আছে।

তবু সকাল হয়।
সভ্য মানুষেরা
আবার বেরিয়ে পড়ে।
টাই বাঁধে।
জুতো পালিশ করে।
ভদ্রভাবে হাসে।
একজন আরেকজনকে বলে—
“কেমন আছেন?”

কেউ উত্তর দেয় না
সে সত্যিই কেমন আছে।
কারণ
সভ্যতা হয়তো মানুষকে
হিংস্রতা থেকে বাঁচিয়েছে,
কিন্তু মানুষকে
মানুষের কষ্ট থেকে
বাঁচাতে পারেনি এখনও!
বিস্তারিত...

বায়তুল মাক্বদিস

- ফেরদাউস সরকার

বহুকাল আগে উমরের রাগে
ইহুদিরা ভাগে, হইয়া ধ্বংস-লীন।
কুদুসের ভূমি ছাড়বে না তুমি
হারবে না কোনোদিন।

আইয়ুবিরা পরে মাইরা এদেরে
কাইড়া এনেছে ভূমি।
হামাসেরা ফের গুড়িয়ে তাদের
যমিনে দিয়েছে চুমি।

কুদুসের ভূমি পারবে না তুমি
মুছে দিতে কোনোদিন।
লাখো-লাখো প্রাণে লুকানো
মোদের বীর সালাহুদ্দীন।

- কবি ফেরদাউস সরকার (Ferdaus Sorkar)
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4627
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1708
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1659
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1587
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1579
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1516
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1502
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1471
রমণী মোঃ আবু তালেব 1440
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1414
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1412
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1405
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1368
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1368
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1367
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1362
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1360
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1343
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1338
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1329
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
সভ্য মানুষেরা মোঃ আবু তালেব 3
মুখের নিচে মুখ মোঃ আবু তালেব 21
ভালোবাসার শেষ দরজা মোঃ আবু তালেব 25
তোমাকে ছাড়া তোমার কাছে মোঃ আবু তালেব 26
যে প্রেম কথা বলেনি মোঃ আবু তালেব 23
আমাদের মাঝখানে রাত মোঃ আবু তালেব 33
অপেক্ষার ঘর মোঃ আবু তালেব 35
তুমি যে ছিলে মোঃ আবু তালেব 38
একটি মানুষকে হারানোর আগে মোঃ আবু তালেব 42
ভালোবাসার পরে মো: আবু তালেব 62
তোমার অনুপস্থিতি মোঃ আবু তালেব 53
যে হাতটি ধরিনি মোঃ আবু তালেব 52
অলৌকিক দুপুর মো: আবু তালেব 39
অস্থায়ী অনন্ত মোঃ আবু তালেব 54
প্রথম নীরবতায় ফেরা মোঃ আবু তালেব 61
শেষ প্রশ্ন মোঃ আবু তালেব 63
অন্য আমি মোঃ আবু তালেব 60
মায়ের নিঃশ্বাস মোঃ আবু তালেব 58
শেষ চুম্বন মোঃ আবু তালেব 72
বৃদ্ধের বিকেল মোঃ আবু তালেব 71
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 6
কবির কলমে নবির ছবি - Kobir Kolome Nobir Chobi কবি ফেরদাউস সরকার 30
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 44
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 59
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 81
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 67
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 83
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 83
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 86
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 128
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 145
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 151
ভালো মানুষ ইবনে আলী 257
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 148
শিকল ইবনে আলী 237
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 279
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 233
বসন্ত জয়দীপ রায় 252
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 169
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 322
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে