কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

তোমরা চুন আর ব্রাশ হাতে নিয়ে নেমেছ মধ্যরাতে,
ভেবেছ সাদা রঙের প্রলেপে মুছে দেওয়া যাবে
দেওয়ালে দেওয়ালে খোদাই করা অবাধ্যতার
জ্বলন্ত বর্ণমালা!
কাল রাতে যেখানে তরুণেরা লিখে গিয়েছিল—
“স্বৈরাচার নিপাত যাক”,
আজ সকালে সেখানে তোমাদের
ভয় দেখনো আস্তরণ ঝুলছে।

কিন্তু ইটের পাঁজরে ঢুকে যাওয়া কালির কী করবে?
ভাঙা প্লাস্টারের খাঁজে খাঁজে ঘামে-রক্তে
যে স্লোগান আঁকা হয়েছিল,
তা তো কেবল আলগা কোনো রঙ নয়!
ওটা এই শহরের রুদ্ধ কণ্ঠনালী,
ওটা একটা জাতির আর্তনাদ—
যা পাথরের ভেতরেও জীবন্ত নিঃশ্বাস নেয়!

তোমরা চুনকাম দিয়ে দেওয়ালের মুখ বাঁধতে পারো,
কিন্তু কোটি মানুষের বুকের গভীরে
যে লাল হরফগুলো জ্বলছে—
সেখানে তোমাদের কেনা কোনো
সাদা চুন পৌঁছাতে পারে না!
প্রতিটি মোড়ের অন্ধ দেয়ালে লুকিয়ে আছে
একেকটি বজ্রপাত;
যতই ঢাকো,
চুনকামের চামড়া শুকোতেই আবার ফুটে উঠবে—
“রক্তের হিসেব চাই!”
“পতন অনিবার্য!”

হে অন্ধ রঙমিস্ত্রিদের লেলিয়ে দেওয়া ক্ষমতাবান প্রভু—
অক্ষর কোনো কাগুজে পর্দা নয় যা ছিঁড়ে ফেলা যায়,
স্লোগান কোনো বাষ্প নয় যা বাতাসে উড়িয়ে দেবে!
যখন কোটি হাত একসাথে
রাজপথের সব দেওয়াল স্পর্শ করবে,
তখন তোমাদের ওই মেকি সাদার মুখোশ ধসে পড়বে;
বেরিয়ে আসবে আগ্নেয়গিরির মতো লাল ইশতেহার!

যে দেওয়ালকে তোমরা বোবা বানাতে চেয়েছিলে,
সেই দেওয়ালই একদিন আছড়ে পড়বে
তোমাদের কাচের দুর্গে।
তখন আর খোলস বদলানোর সময় পাবে না—
চুনকামের বুক চিরে রাজপথে নেমে আসবে
চূড়ান্ত বিজয়ের গান!

চুনকামের নিচে আগুন

তোমাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তির পাতায়
তোমরা অবলীলায় লিখে দিলে—
“কয়েকজন নিহত, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।”
একটি কলমের কালিতে,
একটি চতুর বাক্যবন্ধে
তোমরা একেকটি তাজা জীবনকে
নামিয়ে আনলে সাধারণ কিছু সংখ্যার ঘরে!

না!
ওরা কোনো কাগুজে পরিসংখ্যান নয়!
ওদের প্রত্যেকের একটি করে নাম ছিল,
একটি করে ঘর ছিল,
একজোড়া পুরনো জুতো ছিল।
একটি করে মা ছিল— যে আজও
দরজায় দাঁড়িয়ে আঁধার রাতে ডাকে,
একটি করে অসমাপ্ত স্বপ্ন ছিল,
ছিল বুকপকেটে লুকানো গোপন প্রেমিকার চিঠি!

তোমাদের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আমলাতান্ত্রিক টেবিলে
যেখানে মানুষের রক্তকে পরিণত করা হয়
স্রেফ ফাইলে জমা পড়া তথ্যে—
সেখানে তোমরা লাশ গুনতে পারো,
কিন্তু কোনোদিন মাপতে পারো না
একটি শূন্য ঘরের পাথর-হওয়া অন্ধকার,
একজোড়া খালি থালার অনন্ত প্রতীক্ষা!

তোমরা যাকে বলো ‘স্বাভাবিক জনজীবন’,
আমরা তাকে বলি বুটের তলায় চেপে রাখা
এক রক্তাক্ত বধ্যভূমি।
তোমরা যাকে নাম দাও ‘আইনের শাসন’,
তার আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে
রাতের আঁধারে বেওয়ারিশ লাশের দাফন।

হে হিসেবী ঘাতকের দল—
রক্ত দেওয়া নামগুলো কোনোদিন হারিয়ে যায় না।
মাটির ভেতর এরা একেকটি বিস্ফোরক বীজ হয়ে অঙ্কুরিত হয়,
প্রতিটি সংখ্যা একদিন কোটি কোটি কণ্ঠে
উচ্চারিত হবে রাজপথে!

আমরা কোনো কোল্যাটারাল ড্যামেজ নই,
আমরা কোনো খবরের স্ক্রলে ভেসে ওঠা
ক্ষণস্থায়ী সংখ্যা নই—
আমরা একেকটি আস্ত জীবন,
আমরা এক একটি অবিনশ্বর দ্রোহ,
আমরাই তোমাদের পতন নিশ্চিত করার
'জীবন্ত ইতিহাস'!

আমাদের মৃত্যুগুলো সংখ্যা নয়

স্তব্ধতা মানে কিন্তু পরাজয় নয়।
তোমরা যখন ভাবছ পুরো শহরটাকে
কবরে নামিয়ে দিয়েছ,
তখন আসলে মাটির নিচে শিকড়েরা
জলের খোঁজে অনেক দূর হেঁটে গেছে।

তোমরা কারফিউ দিয়েছো মোড়ে মোড়ে,
বাতাসকে নির্দেশ দিয়েছো—
কোনো নাম যেন উচ্চারণ না করে।
কাঁচের ওপাশে বন্দুক তাক করে
তোমরা পাহারা দিচ্ছ শূন্য রাজপথ;
কিন্তু জানালার ফাঁক দিয়ে চুইয়ে পড়া
এক চিলতে রোদকে
তোমরা কোন আইনে গ্রেপ্তার করবে?

একজন বৃদ্ধ ফেরিওয়ালা দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ,
তার চোখের তারায় কোনো আতঙ্ক নেই,
শুধু জমাট বাঁধা ক্লান্তি।
সেই ক্লান্তিটুকুও তো তোমাদের বিরুদ্ধে
এক নির্মম সাক্ষ্য!
একটি শিশু তার বাবার রক্তমাখা চশমার দিকে
তাকিয়ে থাকে অপলক—
সেই বোবা চাহনিকে
কোন ধারায় অভিযুক্ত করবে আদালত?

তোমরা লাঠি আর বুলেট দিয়ে কণ্ঠ স্তব্ধ করেছো,
কিন্তু রক্তের ভেতরের অর্থকে তো
মুছে ফেলতে পারোনি।
প্রতিটি বন্ধ দরজার ওপাশে,
প্রতিটি থমথমে অলিগলিতে
যে পাথুরে নীরবতা তোমরা বুনে দিয়েছো—
সেই নীরবতাই এখন তৈরি করছে
এক অমোঘ বাক্য।

যার প্রথম শব্দটি: শোক।
দ্বিতীয় শব্দটি: দায়।
আর শেষ শব্দটি
তোমাদের মসনদ চূর্ণ হওয়ার
অবধারিত তারিখ।

নিঃশব্দতার ব্যাকরণ

ভেঙে গেছে লোহার কবাট,
চূর্ণ হয়েছে অহংকারের মিথ্যে রাজমুকুট!
যে রক্তে তোমরা ধুয়েছিলে রাজপথ,
আজ সেই রক্তের স্রোতেই ভেসে গেল
তোমাদের শোষণের শেষ ভিত।
বুকের ভেতর জমে থাকা শতাব্দীর নীরবতা
আজ কোটি কোটি কণ্ঠে ফেটে পড়েছে
স্বাধীনতার এক অবিচল গর্জনে!

দেখো চেয়ে—
শহীদের রক্তমাখা শার্টগুলো
আজ আর শোকের পতাকা নয়,
ওগুলো হয়ে উঠেছে মুক্তির এক একটি
জ্বলন্ত লাল সূর্য!
যে কারখানা বন্ধ ছিল মালিকের লোভে,
যে ক্লাসরুম স্তব্ধ ছিল বুলেটের আতঙ্কে,
যে কৃষকের জমি লুটে নিয়েছিল ক্ষমতার দালাল—
তারা সবাই আজ এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে,
হাত ধরেছে সন্তানহারা মায়ের,
কাঁধ মিলিয়েছে অবাধ্য তারুণ্যের সাথে!

আমরা কোনো করুণা চাইনি,
আমরা কোনো আপস করিনি;
আমরা বুক চিতিয়ে লড়াই করে ছিনিয়ে এনেছি
আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার।
তোমাদের সাঁজোয়া গাড়ি আর
জলকামান যেখানে ব্যর্থ হয়েছে,
সেখানেই দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছে
খালি পায়ের মানুষের অপরাজেয় সাহস!

আজ বাতাসে আর কোনো বারুদের গন্ধ নেই,
আজ বাতাসে মিশে আছে হাজারো শহীদের
স্বপ্নের পবিত্র সৌরভ।
আজ ভোর নেমেছে রাজপথে,
যে ভোরের মালিক কোনো রাজা নয়,
কোনো একক দল নয়—
এই ভোরের মালিক কেবলই লড়াকু জনতা,
এই ভোরের নাম চিরন্তন মুক্তি,
এই ভোরের নাম মানুষের চূড়ান্ত বিজয়!

মুক্তির শেষ ইশতেহার

বাইরে তখন পিচঢালা রাজপথে
একটা আঠারো বছরের শরীর
উপুড় হয়ে পড়ে আছে;
মাথার খুলি চিরে চুইয়ে পড়া রক্তে
ভিজে যাচ্ছে রিকশার পাটাতন,
আর পকেটের ভেতর অবিরাম বেজে চলেছে
এক নামহীন ফোন—
স্ক্রিনে কেবল ফুটে উঠছে দুটো অক্ষর: ‘মা’।

ঠিক সেই মুহূর্তে,
তোমাদের নিউজরুমের এসি চলছে ১৮ ডিগ্রিতে।
টেবিলের ওপর কফির ধোঁয়া,
আর বার্তা সম্পাদকের স্ক্রিনে
জ্বলজ্বল করছে গোপন নির্দেশ—
‘লাশের কোনো খবর স্ক্রলে যাবে না।’
মেকআপ রুমে লাল লিপস্টিক আর
ফাউন্ডেশনের প্রলেপ দিয়ে মুখ চকচকে করে
উপস্থাপক তখন ক্যামেরার লেন্সে
চোখ রেখে নির্লজ্জ মুখে পাঠ করছে—
“সারাদেশে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে,
নাশকতাকারীদের দমন করা হয়েছে।”

মেট্রোরেলের কাচ ভাঙা আর
পোড়া টোলপ্লাজার সামনে গিয়ে
তোমাদের ক্যামেরার লেন্স
আহাজারিতে ভিজে উঠেছিল!
টকশোতে বসে তোমাদের ভাড়াটে সুশীলরা
ইট-সিমেন্টের ক্ষতি মাপতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
বাতাস ভারী করল,
অথচ মর্গের বারান্দায় বরফহীন মেঝেতে পড়ে থাকা
সারি সারি তাজা লাশের দিকে
তোমাদের একটা মাইক্রোফোন
এগিয়ে দেওয়ার সাহস হলো না!
তোমাদের কাছে ফ্লাইওভারের কংক্রিট
মহামূল্যবান সম্পদ,
আর একটা মায়ের বুক খালি হওয়া
স্রেফ একটি তুচ্ছ পরিসংখ্যান!

আর ওহে রাজপ্রাসাদের দরবারে ঝুলে থাকা
পদকলোভী কবি, নাট্যকার আর বুদ্ধিজীবীর দল—
এতকাল মঞ্চে দাঁড়িয়ে যারা মুক্তচিন্তা আর
প্রগতির স্লোগান বেচে রুটি-রুজি কামিয়েছ,
যখন ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা
নিষ্পাপ শিশুর চোখের মণি গুলিতে উড়ে গেল,
তখন তোমাদের সেই বিবেক
কোন নর্দমার গর্তে মুখ গুঁজে পড়েছিল?
পূর্বাচলের প্লট, বাৎসরিক অনুদান আর
জাতীয় পদকের তাম্রলিপির লোভে
তোমরা শিল্পকলার মুখোশ পরে
আসলে স্বৈরাচারের কসাইখানা পাহারা দিয়েছ!
খুনির হাত থেকে চুইয়ে পড়া রক্ত তোমরা ঢেকে দিয়েছ
‘উন্নয়ন আর অসাম্প্রদায়িকতার’ রঙিন চাদরে!

তোমরা দাবি করো তোমরা ‘নিরপেক্ষ’?
থুতু ফেলি তোমাদের এই সুশীল নিরপেক্ষতার মুখে!
যেখানে একদিকে জল্লাদের ভারী বুট আর
অন্যদিকে বুক পেতে দেওয়া খালি হাত,
সেখানে নিরপেক্ষ সাজার ভান করাটাই হলো
সবচেয়ে দামি দালালি।
আসলে তোমরা প্রেসকার্ড গলায় ঝুলিয়ে
খুনির গা থেকে রক্তের দাগ মোছার তোয়ালে।

তোমরা ভেবেছ এই সব নির্লজ্জ বিশ্বাসঘাতকতা মানুষ ভুলে যাবে?
ভেবেছ লাইভ সম্প্রচার বন্ধ হলেই অপরাধের দাগ ধুয়ে যাবে?
না!
জনতার স্মৃতিতে গড়ে উঠেছে তোমাদের
সব পাপের এক জীবন্ত মহাফেজখানা।
কোন চ্যানেলের প্রাইমটাইমে কত বড় মিথ্যার স্ক্রিপ্ট গিলেছিল,
কোন চাটুকার কলামে নরহত্যাকারীকে ‘ত্রাতা’ সাজানো হয়েছিল,
আর কোন সুশীলের নীরবতা জল্লাদের হাতকে আরও শক্ত করেছিল—
সব ফুটেজ, সব স্ক্রিনশট, সব দলদাসের নাম
সেখানে জ্বলন্ত অক্ষরে জমা আছে!

টেলিপ্রম্পটারের আলো চিরকাল জ্বলে না।
স্টুডিওর বাতি একদিন ঠিকই নিভবে,
বসের ফোন বন্ধ হয়ে যাবে,
আর স্পনসরের দামি স্যুট খুলে দাঁড়াতে হবে
একলা বিবেকের সামনে।
সেদিন যখন সন্তানহারা মা
তোমাদের কলার চেপে ধরে জানতে চাইবে—
“আমার বুকের মানিকটা যখন মরছিল,
তখন কাকে খুশি করতে তোরা মিথ্যা স্ক্রিপ্ট পড়ছিলি?”
তখন কোনো মেকআপ
তোমাদের লজ্জা ঢাকতে পারবে না,
কোনো এডিটিং সফটওয়্যার
তোমাদের এই ঐতিহাসিক কলঙ্ক
মুছে ফেলতে পারবে না!

ইতিহাসের পাতায় তোমরা কোনোদিন
'বুদ্ধিজীবী', ‘লেখক’ বা ‘সাংবাদিক’ হয়ে বাঁচবে না;
ইতিহাস তোমাদের চিনে রাখবে সত্যের গলা টিপে ধরা
একদল মেরুদণ্ডহীন, ঘৃণ্য কসাইয়ের দালাল হিসেবে!

দালালির মহাফেজখানা

বাছাইকৃত কবিতা

চুনকামের নিচে আগুন

- মো: আবু তালেব

তোমরা চুন আর ব্রাশ হাতে নিয়ে নেমেছ মধ্যরাতে,
ভেবেছ সাদা রঙের প্রলেপে মুছে দেওয়া যাবে
দেওয়ালে দেওয়ালে খোদাই করা অবাধ্যতার
জ্বলন্ত বর্ণমালা!
কাল রাতে যেখানে তরুণেরা লিখে গিয়েছিল—
“স্বৈরাচার নিপাত যাক”,
আজ সকালে সেখানে তোমাদের
ভয় দেখনো আস্তরণ ঝুলছে।

কিন্তু ইটের পাঁজরে ঢুকে যাওয়া কালির কী করবে?
ভাঙা প্লাস্টারের খাঁজে খাঁজে ঘামে-রক্তে
যে স্লোগান আঁকা হয়েছিল,
তা তো কেবল আলগা কোনো রঙ নয়!
ওটা এই শহরের রুদ্ধ কণ্ঠনালী,
ওটা একটা জাতির আর্তনাদ—
যা পাথরের ভেতরেও জীবন্ত নিঃশ্বাস নেয়!

তোমরা চুনকাম দিয়ে দেওয়ালের মুখ বাঁধতে পারো,
কিন্তু কোটি মানুষের বুকের গভীরে
যে লাল হরফগুলো জ্বলছে—
সেখানে তোমাদের কেনা কোনো
সাদা চুন পৌঁছাতে পারে না!
প্রতিটি মোড়ের অন্ধ দেয়ালে লুকিয়ে আছে
একেকটি বজ্রপাত;
যতই ঢাকো,
চুনকামের চামড়া শুকোতেই আবার ফুটে উঠবে—
“রক্তের হিসেব চাই!”
“পতন অনিবার্য!”

হে অন্ধ রঙমিস্ত্রিদের লেলিয়ে দেওয়া ক্ষমতাবান প্রভু—
অক্ষর কোনো কাগুজে পর্দা নয় যা ছিঁড়ে ফেলা যায়,
স্লোগান কোনো বাষ্প নয় যা বাতাসে উড়িয়ে দেবে!
যখন কোটি হাত একসাথে
রাজপথের সব দেওয়াল স্পর্শ করবে,
তখন তোমাদের ওই মেকি সাদার মুখোশ ধসে পড়বে;
বেরিয়ে আসবে আগ্নেয়গিরির মতো লাল ইশতেহার!

যে দেওয়ালকে তোমরা বোবা বানাতে চেয়েছিলে,
সেই দেওয়ালই একদিন আছড়ে পড়বে
তোমাদের কাচের দুর্গে।
তখন আর খোলস বদলানোর সময় পাবে না—
চুনকামের বুক চিরে রাজপথে নেমে আসবে
চূড়ান্ত বিজয়ের গান!
বিস্তারিত...

আমাদের মৃত্যুগুলো সংখ্যা নয়

- মোঃ আবু তালেব

তোমাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তির পাতায়
তোমরা অবলীলায় লিখে দিলে—
“কয়েকজন নিহত, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।”
একটি কলমের কালিতে,
একটি চতুর বাক্যবন্ধে
তোমরা একেকটি তাজা জীবনকে
নামিয়ে আনলে সাধারণ কিছু সংখ্যার ঘরে!

না!
ওরা কোনো কাগুজে পরিসংখ্যান নয়!
ওদের প্রত্যেকের একটি করে নাম ছিল,
একটি করে ঘর ছিল,
একজোড়া পুরনো জুতো ছিল।
একটি করে মা ছিল— যে আজও
দরজায় দাঁড়িয়ে আঁধার রাতে ডাকে,
একটি করে অসমাপ্ত স্বপ্ন ছিল,
ছিল বুকপকেটে লুকানো গোপন প্রেমিকার চিঠি!

তোমাদের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আমলাতান্ত্রিক টেবিলে
যেখানে মানুষের রক্তকে পরিণত করা হয়
স্রেফ ফাইলে জমা পড়া তথ্যে—
সেখানে তোমরা লাশ গুনতে পারো,
কিন্তু কোনোদিন মাপতে পারো না
একটি শূন্য ঘরের পাথর-হওয়া অন্ধকার,
একজোড়া খালি থালার অনন্ত প্রতীক্ষা!

তোমরা যাকে বলো ‘স্বাভাবিক জনজীবন’,
আমরা তাকে বলি বুটের তলায় চেপে রাখা
এক রক্তাক্ত বধ্যভূমি।
তোমরা যাকে নাম দাও ‘আইনের শাসন’,
তার আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে
রাতের আঁধারে বেওয়ারিশ লাশের দাফন।

হে হিসেবী ঘাতকের দল—
রক্ত দেওয়া নামগুলো কোনোদিন হারিয়ে যায় না।
মাটির ভেতর এরা একেকটি বিস্ফোরক বীজ হয়ে অঙ্কুরিত হয়,
প্রতিটি সংখ্যা একদিন কোটি কোটি কণ্ঠে
উচ্চারিত হবে রাজপথে!

আমরা কোনো কোল্যাটারাল ড্যামেজ নই,
আমরা কোনো খবরের স্ক্রলে ভেসে ওঠা
ক্ষণস্থায়ী সংখ্যা নই—
আমরা একেকটি আস্ত জীবন,
আমরা এক একটি অবিনশ্বর দ্রোহ,
আমরাই তোমাদের পতন নিশ্চিত করার
'জীবন্ত ইতিহাস'!
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4682
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1736
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1682
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1607
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1598
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1540
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1533
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1494
রমণী মোঃ আবু তালেব 1461
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1435
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1434
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1432
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1389
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1389
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1388
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1382
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1381
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1361
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1354
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1348
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
চুনকামের নিচে আগুন মো: আবু তালেব 5
আমাদের মৃত্যুগুলো সংখ্যা নয় মোঃ আবু তালেব 3
নিঃশব্দতার ব্যাকরণ মো: আবু তালেব 15
মুক্তির শেষ ইশতেহার মোঃ আবু তালেব 20
দালালির মহাফেজখানা মোঃ আবু তালেব 35
ভয়ের চেয়ে ক্রোধ বড় মো: আবু তালেব 30
মর্গের টেবিলের বক্তব্য মোঃ আবু তালেব 26
যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পারো নাই কাজী নজরুল ইসলাম 40
রক্তের কোনো সমঝোতা হয় না মো: আবু তালেব 41
পালাবার পথ নেই মোঃ আবু তালেব 40
বুলেটবিদ্ধ খাতা মো: আবু তালেব 65
টং দোকানের বাংলাদেশ মো: আবু তালেব 58
কাফন ছাড়া লাশ মো: আবু তালেব 53
চেয়ারের কোন ধর্ম নেই মো: আবু তালেব 60
একটি নিখোঁজ জুতো মো: আবু তালেব 54
পোস্টারে ঢাকা দেয়াল মো: আবু তালেব 57
চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 55
ক্ষিদে মো: আবু তালেব 71
রাজপথের থুতু মো: আবু তালেব 84
নগরীর নীরব মানুষ মো: আবু তালেব 61
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
বৃত্তের বাইরে আফজাল সুয়েব 32
অনন্ত ধ্রুবক মোছাঃ লুবা আক্তার 53
বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন Md. Mustafizur Rahman 52
কর্পোরেট কালচার Md. Mustafizur Rahman 64
শব্দের সুনামি Md. Mustafizur Rahman 61
এ শহর আমার নয় Md. Mustafizur Rahman 62
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 78
কবির কলমে নবির ছবি কবি ফেরদাউস সরকার 81
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 78
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 99
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 123
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 92
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 106
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 111
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 107
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 151
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 164
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 182
ভালো মানুষ ইবনে আলী 298
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 169
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে