কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

সারাদিনের হিসাব-নিকাশ, খাতার পাতা জুড়ে জটিল অঙ্ক আর কোডের জটিল বুনন—
সব পেছনে ফেলে যখন ঘরের চাবিটা ঘোরে দরজায়,
ঠিক তখনই সমস্ত ক্লান্তির ওপর আলতো করে নেমে আসে এক টুকরো রোদ।

কোথাও কোনো বড় শব্দ নেই, কোনো রোমহর্ষক মহাকাব্যের আয়োজন নেই;
আছে শুধু হাঁটিহাঁটি পা পা করে এগিয়ে আসা একজোড়া কৌতূহলী চোখ।
যে হাসিতে পৃথিবীর সমস্ত জটিল আইন মুহূর্তে বরফ হয়ে গলে যায়,
সেই হাসির একটা ছোট্ট রেখা যেন আমার সমস্ত বেদনার নিখুঁত প্রতিষেধক।

জানলার পাশে রাখা ছোট জুতো জোড়া, এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা খেলনা,
আর বুকভরা ওই আদিম নিবিড় গন্ধ—
এটাই তো আমার সবচেয়ে নির্ভুল এবং জীবন্ত একখানা কবিতা।
মহাকালের যত বড় বড় ইতিহাস ধূলিসাৎ হয়ে যাক,
আমার এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর নিখুঁত গল্পটি কেবল ওই একটিমাত্র হাসির রেখাতেই লেখা।

হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প

ইট-কাঠের খাঁচায় দম আটকে আসা বিকেলে
মাঝে মাঝে বড় ইচ্ছে করে একটা নিজস্ব দ্বীপ বানাতে,
যেখানে কোনো হিসেব থাকে না সময়ের,
থাকে না কোনো দাপ্তরিক কোলাহল কিংবা ব্যস্ততার কোড।

আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ—
যেখানে সকালের চায়ে কোনো তাড়া থাকবে না,
জানলার গ্রিল বেয়ে রোদেরা এসে আলতো ছুঁয়ে যাবে একটা ছোট্ট মুখ।
ঘরে ফেরার পথে পায়ে কোনো ক্লান্তি জমবে না,
কারণ কেউ একজন দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করবে, ‘এত দেরি হলো কেন?’

খুব সাধারণ একটা রান্নাঘর, সামান্য কিছু সুখের আসবাব,
আর শোবার ঘরের নরম আলোয় জমে থাকা অজস্র গল্প—
এই তো সামান্য কটা পঞ্জিকা পাতার বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।
অথচ সারাদিন মাথার ভেতর যে মহাসমুদ্র বয়ে চলে,
তার শেষ ঠিকানায় একটা ছোট্ট গোছানো ঘর কেন এত অধরা থেকে যায়?

ঝড়-জলের দিনে যখন চারপাশটা বড্ড একা লাগে,
তখন মনে হয়—
সব অর্জন, সমস্ত আত্মরক্ষার দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দিয়ে
যদি নিজের হাতে গড়া এমন একটা ছাদ পেতাম,
যেখানে শুধু ভালোবেসে বেঁচে থাকাটাই একমাত্র আইন!

আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ

ঘুমের ভিতর থেকেও তোমার পায়ের নূপুর শুনতে পাই আমি,
জানলার পর্দা সরিয়ে দেখি—
ভোরবেলাটা একেবারে তোমার চোখের মতো ভিজে আছে।
তুমি আসো অবলীলায়, বুকের ভেতর ডানা ঝাপটে বসো,
অথচ বাইরে তখন মহাকালের কঠিন পাথর গলছে।

এই কংক্রিটের শহরে আমি আর কোনো ধর্ম মানি না,
আমার উপাসনালয় বলতে কেবল তোমার ওই কাঁচা ঘ্রাণ—
যেখানে কোনো ছন্দের কানুনি নেই, নেই কোনো পয়ারের শাসন।
তুমি আমার আদিম এবং শেষ আশ্রয়,
একটা আস্ত আকাশকে ঠেস দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা যায় কেবল তোমার কাঁধে।

বলো, সমস্ত নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে তোমাকে কতটা ভালোবাসলে
পৃথিবীটা একটুখানি শান্ত হবে?
আমার সমস্ত শব্দ, সমস্ত ব্যর্থ জবানবন্দি একপাশে সরিয়ে রেখে
আমি শুধু তোমার ছোট্ট নিঃশ্বাসের ওপর আমার জীবনটাকে সেলাই করে দিই।
তুমি আমার দীর্ঘ ক্লান্তির একমাত্র মুক্তি,
আমার ঘরের ভেতর ডানা মেলে উড়ে চলা এক অনিঃশেষ বসন্ত।

ছোট্ট জানপাখি

(১)
এখানে পাথর নেই; স্মৃতি শুধু পলি দিয়ে গাঁথা,
নদীর শরীরে লেখা এ ভূগোলের নিগূঢ় বারতা।
ভাঙনে বিলীন হলো কত শত নগরীর চূড়া,
কাদামাটি শুষে নেয় রাজদণ্ড, শ্বেতভস্ম-গুঁড়া।
ইতিহাস কোনোদিন চেনে নাই কৃষকের ঋণ,
দলিলে মোহর এঁকে মহাজন কিনে নেয় দিন;
তবু তো থামেনি বীজ, বারবার পলিমাটি ফুঁড়ে
সবুজ পাতার শিষ জেগে ওঠে ধ্বংসের ওপারে।

(২)
আমরা কি চেয়েছিলাম ভেস্তের ওই অমলিন সুধা?
মানুষ তো বেঁচে থাকে জড়িয়ে আপন অন্ধ ক্ষুধা।
যে যুবতী ভালোবেসে ছুঁয়েছিল পুরুষের হাত,
বর্ষার বিষাদ মেখে কেটে গেছে কত দীর্ঘ রাত;
যৌবনের রূপ খসে পড়ে থাকে জরার কঙ্কাল,
নদীর অতল টানে ছিঁড়ে যায় জীবনের জাল।
সেই শূন্য ভিটে জুড়ে সন্তানের প্রথম কান্নায়—
মৃত্যুও যে হার মানে অবিনাশী প্রাণের তৃষ্ণায়।

(৩)
মহামারি ঢেলে দেয় নিশুতি বাতাসের কালকূট,
শ্মশানে ও গোরস্তানে জমে ওঠে শবের মুকুট।
মরা শিশু কোলে নিয়ে স্তব্ধ যে মা পাথরের মতো,
চেয়ে থাকে শূন্য চরে— বুকে চেপে চিরন্তন ক্ষত;
মুছে ফেলে অশ্রুজল, বুকে চেপে তীব্র সেই জ্বালা,
তপ্ত মাঠ ভেজাতে পুরুষ ছোঁয় লাঙলের ফলা।
একপাশে শকুন-চিল, নিসর্গের নির্মম বিচার—
অন্যপাশে ঘাম দিয়ে জেগে ওঠে আকুতি বাঁচার।

(৪)
শব্দ দিয়ে কতটুকু ধরে রাখা যায় এই ক্ষয়?
পঙ্‌ক্তির ভেতরে শুধু ক্ষণিকের প্রতিধ্বনি রয়।
নশ্বর এ হাত দিয়ে লিখে যাই আয়ুর বয়ান,
মহাকাল শুষে নেয় সভ্যতার অহম-প্রয়াণ;
গ্রন্থাগার ধূলি হবে, ভেঙে যাবে পাথরের স্তূপ,
আদিম আঁধার চোখে চেয়ে রবে নিসর্গের রূপ;
তবুও মানুষ এক— নক্ষত্রের বিস্মৃতির মুখে
মাটির প্রদীপ জ্বেলে পথ খোঁজে অবিনাশী বুকে।

(৫)
নদীটির চোখ নেই কোনো, নেই কোনো বিচার-আচার,
স্রোতের অতলে টেনে নেয় শতাব্দীর অন্ধ হাহাকার
আমরা বিনাশী বটে তবে, এই ঘন ছায়ার রুধিরে—
যে রহস্য আমরা রেখেছি, তা-ই ফেরে কালের গভীরে।
মৃত্যু তো শেষ কথা নয় জানি, পলিমাটি মাখা এই ঘাম—
অন্ধকারের মুখে লিখে যায় এক না-বলা মানুষের নাম।
যতদিন পলি মাটি রবে, রবে এই রোদের আভাস,
ধূলির কণিকায় মিশে রবে চিরন্তন মানুষের শ্বাস।

কালান্তরের জলচিহ্ন

বাছাইকৃত কবিতা

হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প

- মোঃ আবু তালেব

সারাদিনের হিসাব-নিকাশ, খাতার পাতা জুড়ে জটিল অঙ্ক আর কোডের জটিল বুনন—
সব পেছনে ফেলে যখন ঘরের চাবিটা ঘোরে দরজায়,
ঠিক তখনই সমস্ত ক্লান্তির ওপর আলতো করে নেমে আসে এক টুকরো রোদ।

কোথাও কোনো বড় শব্দ নেই, কোনো রোমহর্ষক মহাকাব্যের আয়োজন নেই;
আছে শুধু হাঁটিহাঁটি পা পা করে এগিয়ে আসা একজোড়া কৌতূহলী চোখ।
যে হাসিতে পৃথিবীর সমস্ত জটিল আইন মুহূর্তে বরফ হয়ে গলে যায়,
সেই হাসির একটা ছোট্ট রেখা যেন আমার সমস্ত বেদনার নিখুঁত প্রতিষেধক।

জানলার পাশে রাখা ছোট জুতো জোড়া, এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা খেলনা,
আর বুকভরা ওই আদিম নিবিড় গন্ধ—
এটাই তো আমার সবচেয়ে নির্ভুল এবং জীবন্ত একখানা কবিতা।
মহাকালের যত বড় বড় ইতিহাস ধূলিসাৎ হয়ে যাক,
আমার এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর নিখুঁত গল্পটি কেবল ওই একটিমাত্র হাসির রেখাতেই লেখা।
বিস্তারিত...

আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ

- মোঃ আবু তালেব

ইট-কাঠের খাঁচায় দম আটকে আসা বিকেলে
মাঝে মাঝে বড় ইচ্ছে করে একটা নিজস্ব দ্বীপ বানাতে,
যেখানে কোনো হিসেব থাকে না সময়ের,
থাকে না কোনো দাপ্তরিক কোলাহল কিংবা ব্যস্ততার কোড।

আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ—
যেখানে সকালের চায়ে কোনো তাড়া থাকবে না,
জানলার গ্রিল বেয়ে রোদেরা এসে আলতো ছুঁয়ে যাবে একটা ছোট্ট মুখ।
ঘরে ফেরার পথে পায়ে কোনো ক্লান্তি জমবে না,
কারণ কেউ একজন দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করবে, ‘এত দেরি হলো কেন?’

খুব সাধারণ একটা রান্নাঘর, সামান্য কিছু সুখের আসবাব,
আর শোবার ঘরের নরম আলোয় জমে থাকা অজস্র গল্প—
এই তো সামান্য কটা পঞ্জিকা পাতার বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।
অথচ সারাদিন মাথার ভেতর যে মহাসমুদ্র বয়ে চলে,
তার শেষ ঠিকানায় একটা ছোট্ট গোছানো ঘর কেন এত অধরা থেকে যায়?

ঝড়-জলের দিনে যখন চারপাশটা বড্ড একা লাগে,
তখন মনে হয়—
সব অর্জন, সমস্ত আত্মরক্ষার দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দিয়ে
যদি নিজের হাতে গড়া এমন একটা ছাদ পেতাম,
যেখানে শুধু ভালোবেসে বেঁচে থাকাটাই একমাত্র আইন!
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4743
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1771
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1714
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1633
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1621
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1572
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1565
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1519
রমণী মোঃ আবু তালেব 1486
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1472
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1461
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1455
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1429
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1416
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1416
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1409
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1405
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1391
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1381
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1378
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প মোঃ আবু তালেব 13
আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ মোঃ আবু তালেব 11
ছোট্ট জানপাখি মোঃ আবু তালেব 8
কালান্তরের জলচিহ্ন মোঃ আবু তালেব 17
সুন্দর মনের কামনা মোঃ আবু তালেব 16
যৌবনের দিনলিপি মোঃ আবু তালেব 24
জীবনের ছায়াপথে মো: আবু তালেব 27
শপথের ওপারে প্রেম মোঃ আবু তালেব 36
শূন্যে লেখা প্রেমের শপথ মো: আবু তালেব 26
রক্তচোষার কারবার মোঃ আবু তালেব 28
বধ্যভূমির নাম সচিবালয় মোঃ আবু তালেব 39
সান্ধ্য আইনের মুখে থুতু মো: আবু তালেব 43
অন্ধ বিচারকের লাল সালু মো: আবু তালেব 29
কাটা জিভ মো: আবু তালেব 32
বুটের তলায় সংবিধান মো: আবু তালেব 39
রাজদ্রোহীর শেষ জবানবন্দি মোঃ আবু তালেব 39
সিংহাসনে রক্তের দাগ মো: আবু তালেব 51
আয়নাঘরের দেওয়াললিপি মো: আবু তালেব 49
রক্তে লেখা নতুন মানচিত্র মো: আবু তালেব 93
ব্যারিকেড ভাঙার শব্দ মোঃ আবু তালেব 57
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 23
শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 24
অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 16
দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 20
তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 18
ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 16
একটা তুমি হোক মেহেদী হাসান আইয়ুশ 18
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? মেহেদী হাসান আইয়ুশ 17
অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 16
অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 17
ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 24
মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 26
অনুভূতির স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 14
লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 23
অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 29
কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 30
স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 29
তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 23
মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 32
ভুলে যাবো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 36
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে