কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

লোহার চাকা ঘোরে,
সিগন্যালের লাল-সবুজ বাতি নিয়ম করে জ্বলে আর নেভে।
এই শহরে কোনো কিছু থামে না—
না অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন,
না মেট্রোর গতি,
না ফুটপাতে শুয়ে থাকা একলা কুকুরটার শীতের কাঁপুনি।

সবাই ছুটছে।
কারও হাতে ফাইল, কারও কাঁধে ভারী ব্যাকপ্যাক,
কারও মুঠোয় চেপে ধরা বাসের হ্যান্ডেল।
মানুষের চোখগুলোর দিকে তাকালে ভয় হয়—
সেখানে কোনো রাগ নেই, কোনো কান্না নেই, কোনো বিস্ময় নেই;
আছে কেবল পরবর্তী স্টপেজে নেমে পড়ার এক অন্ধ তাড়া।

এখানে মাটির কোনো ঘ্রাণ নেই।
গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে ফুটপাতের কংক্রিটের খাঁচায় বন্দি হয়ে,
প্রতিটি পাতায় ধুলোর পুরু আস্তরণ—
ঠিক যেমন মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকে
বহুদিনের অপূর্ণ ক্লান্তির ছাই।

কাচের বহুতল ভবনে আলো জ্বলে মধ্যরাতেও।
ভেতরে বসে থাকা টাই-পরা যুবকটি
কিবোর্ডে আঙুল চালায় একটানা।
তার স্ক্রিনে হাজার কোটি টাকার লেনদেন ভেসে ওঠে,
অথচ ড্রয়ারে পড়ে থাকা প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কেনার টাকা
তার পকেটে থাকে না।

এই শহর কাউকে ভালোবাসে না,
আবার কাউকে তাড়িয়েও দেয় না।
সে কেবল মানুষের সমস্ত রক্ত আর ঘাম শুষে নেয়,
তারপর দিনশেষে তাকে উগরে দেয় একটা ছোট্ট অন্ধকার কামরায়—
যেখানে মানুষ বালিশে মাথা রেখে বুঝতে পারে:
সে আসলে বেঁচে নেই,
সে কেবল এই বিশাল কারখানার একটি সচল নাটবল্টু মাত্র।

যান্ত্রিক শহর

যা বলা হয়ে যায়, তা ফুরিয়ে যায়।
বাতাসে ধ্বনিত হয়ে মিলিয়ে যায় শব্দগুলো,
কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে, কিছুটা সান্ত্বনা দেয়,
তারপর একদিন পুরোনো কাগজের মতো পচে যায় স্মৃতিতে।

কিন্তু যা বলা হয়নি—
সে কোনোদিন মরে না।
সে মানুষের বুকের একপাশে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে।
রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের বাঁশি বাজার ঠিক আগের মুহূর্তে,
কিংবা দরজার হাতল ধরে বিদায় নেওয়ার শেষ সেকেন্ডে
গলার কাছে যে কথাটি এসে থমকে দাঁড়িয়েছিল,
তার ওজন হিমালয়ের চেয়েও বেশি।

আমরা কত কিছু গোপন রাখি ভদ্রতার নামে।
কখনো অপমানের জবাবে এক চিলতে হাসি দিয়ে বলি—‘ঠিক আছে,’
কখনো চরম ভালোবাসার মুহূর্তে হাত শক্ত করে ধরেও
শুধু বলি—‘পৌঁছে একটা মেসেজ দিও।’
অথচ সেই সামান্য বাক্যের পেছনে
একটি আস্ত সমুদ্র আছড়ে পড়ে বুকভাঙা গর্জনে।

না-বলা কথাগুলো জমা হতে হতে
মানুষের হাঁটার ভঙ্গি বদলে যায়,
তার চোখের দৃষ্টিতে এক ধরনের কুয়াশা নামে।
বাইরে থেকে মনে হয় মানুষটি নির্বিকার, গম্ভীর, পাথরের মতো শান্ত।
কেউ টের পায় না—
ভেতরে সে প্রতিনিয়ত একটা অসমাপ্ত সংলাপে
নিজের সাথেই কথা বলে চলেছে আজীবন।

পৃথিবীর সমস্ত চিঠি যদি বিলি হয়ে যেত,
সব না-বলা কথা যদি ঠোঁটের ডগায় মুক্তি পেত,
তবে হয়তো অনেক ঘর ভাঙত,
অনেক সাজানো সংসার ভেঙে গুঁড়িয়ে যেত এক নিমেষে।

মানুষ তাই চুপ করে থাকে।
পৃথিবীকে শান্ত রাখার জন্য
প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ
নিজের ভেতরে এক-একটি নীরব কঙ্কাল পুঁতে রেখে বাড়ি ফেরে।

না বলা কথা

১.
জীবন কোনো সম্পূর্ণ উত্তর নয়—
সে কেবল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রেখে যাওয়া একটি অসমাপ্ত প্রশ্ন।

২.
আমরা যে পথে প্রতিদিন হেঁটে বাড়ি ফিরি,
সে পথ চেনে আমাদের পায়ের শব্দ, কিন্তু চেনে না ক্লান্তির গভীরতা।

৩.
মানুষ বদলায় না;
মানুষ কেবল সময়ের চাপে নিজের আসল মুখটা প্রকাশ করে ফেলে।

৪.
কিছু ভুল মানুষকে ধ্বংস করে দেয়,
আর কিছু ভুল না করলে মানুষ কোনোদিনই মানুষ হতে পারত না।

৫.
অভাব কেবল ভাতের থালায় থাকে না;
সবচেয়ে বড় অভাব হলো—এমন একজন থাকা, যাকে কোনো শর্ত ছাড়াই বিশ্বাস করা যায়।

৬.
আমরা ঘড়ি দেখে সময় মাপি,
অথচ জীবন ফুরিয়ে যায় অন্য কারো অপেক্ষায় বসে থেকে।

৭.
সব পাওয়ার পর মানুষ যে শূন্যতা অনুভব করে,
জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটা ঠিক সেখানেই লুকিয়ে থাকে।

জীবনের ছোট পঙক্তি

১.
পাথর ভেঙে রাস্তা বানানো সহজ এই দেশে,
কঠিন হলো মানুষের বুক থেকে একটা ভুল ধারণা সরানো।

২.
শহরের সব আলো জ্বলে উঠলে বোঝা যায় না—
কোন ঘরের জানালায় আজ রাতের ভাত ফুরিয়ে গেছে।

৩.
আমরা কত কিছু সঞ্চয় করে ভাবলাম জিতে গেছি,
অথচ আয়ু এসে প্রতিদিন নিঃশব্দে কিছুটা কেটে নিয়ে গেল।

৪.
যে মানুষটা সবচেয়ে বেশি হেসে কথা বলে সবার সাথে,
মধ্যরাতে তার একাকীত্বের ওজন সবচেয়ে বেশি হয়।

৫.
দরজা বন্ধ থাকলেই কোনো ঘর নিরাপদ হয় না,
ভেতরের ভয়টা মানুষ সবসময় নিজের সাথেই বয়ে নিয়ে বেড়ায়।

৬.
তোমাকে পাওয়ার চেয়েও বড় সত্যি হলো—
এই হিসেবি দুনিয়ায় নিঃস্বার্থভাবে কাউকে চাইতে পারা।

৭.
শব্দ দিয়ে মানুষ কত বড় বড় দুর্গ বানায়,
অথচ সত্যের সামনে দাঁড়ালে একটা দীর্ঘশ্বাসই যথেষ্ট।

৮.
শিকল চোখে দেখা গেলে তাকে ভাঙা যায়,
কিন্তু যে শিকল অভ্যাস হয়ে যায়—মানুষ তাকেই স্বাধীনতা বলে ভুল করে।

৯.
একটি পুরোনো চিঠির কাছে কোনো বর্তমান নেই,
অথচ তার প্রতিটি ভাঁজে দাঁড়িয়ে থাকে একজন জীবন্ত মানুষ।

১০.
আমরা মৃত্যুর চেয়েও বেশি ভয় পাই বেঁচে থাকার ক্লান্তিকে,
যেখানে প্রতিদিন একই মিথ্যার সামনে মাথা নোয়াতে হয়।

১১.
চোখের জল কোনো দুর্বলতা নয়—
সে কেবল জানিয়ে দেয়, পাথরের শহরে এখনো একজন মানুষ অবশিষ্ট আছে।

১২.
পাসপোর্টে লেখা থাকে দেশের সীমানা আর জাতের পরিচয়,
অথচ ক্ষুধার্ত মানুষের পাকস্থলী কোনো দেশের মানচিত্র চেনে না।

১৩.
তুমিও তো বদলে গেছো সময়ের নিয়মে নিখুঁতভাবে,
শুধু আমার স্মৃতিগুলো বদলাতে গিয়ে আজও থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে।

১৪.
সবচেয়ে বড় একাকীত্ব জনশূন্য দ্বীপে নয়,
হাজার মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে যখন নিজের নামটাকেও অচেনা লাগে।

দুই লাইনের কবিতা

১.
ছবির মানুষটাকে দেখে বোঝা যায় না তার ভেতরের লড়াই,
ক্যামেরা কেবল আলো চেনে—ছায়ার খবর সে রাখে না।

২.
শহরটা রোজ বদলায়, মানুষও বদলায় নিয়ম করে;
কিছু স্মৃতি শুধু একগুঁয়ে হয়ে বুকের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকে।

৩.
সহজে যাকে পাওয়া যায়, তার কোনো গল্প থাকে না;
যে মানুষটা হারিয়ে গিয়েও বেঁচে থাকে, ক্ষতটা আসলে তারই বেশি।

৪.
মুখোশের এই মিছিলে যে নিজেকে যেমন খুশি দেখাক—
একলা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ আসলে কখনো মিথ্যা বলতে পারে না।

৫.
ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া খুব সহজ,
কঠিন হলো—নিজের নীরবতাটুকু কাউকে কোনোদিন বিক্রি না করা।

৬.
হাজারটা কথার ভিড়ে যে চোখ পড়ে নিতে পারে,
ভালোবাসার জন্য এই কঠিন দুনিয়ায় তার বেশি আর কিছুর প্রয়োজন হয় না।

৭.
সব যুদ্ধ তলোয়ার দিয়ে হয় না;
কিছু যুদ্ধ প্রতিদিন লড়তে হয়—নিজের দীর্ঘশ্বাসকে হাসি দিয়ে ঢেকে রেখে।

ক্যাপশন শায়েরী

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4754
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1778
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1717
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1641
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1629
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1578
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1571
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1527
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1492
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1478
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1468
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1461
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1437
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1424
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1423
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1415
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1412
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1397
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1388
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1385
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
যান্ত্রিক শহর শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 2
না বলা কথা শহর সমাচার মো: আবু তালেব 5
জীবনের ছোট পঙক্তি প্রেমের শায়েরী কবি ও কাব্য 10
দুই লাইনের কবিতা প্রেমের শায়েরী কবি ও কাব্য 8
ক্যাপশন শায়েরী প্রেমের শায়েরী কবি ও কাব্য 9
প্রেমের শায়েরী ২০২৬ প্রেমের শায়েরী কবি ও কাব্য 11
অচেনা দূরত্ব শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 12
নীরবতা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 12
স্মৃতির খাতা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 17
একাকী দুপুর শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 17
অশ্রুর জল শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 18
না-বলা ব্যথা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 16
চোখের ভাষা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 19
মায়াবী হাসি শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 21
প্রথম প্রেম শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 19
নীল আকাশ শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 22
মনের আঙিনা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 20
আলতো ছোঁয়া শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 24
হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 31
আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ অবিনব মোঃ আবু তালেব 27
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 39
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 42
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 28
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 36
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 36
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 35
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 27
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 29
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 36
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 35
ঋণ ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 49
মৃত্যুর পরও তুমি মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 35
অনুভূতির স্পর্শ স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
লিখিত, অলিখিত ঋণ লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
অশ্রু অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 46
কাটাবিহীন ঘড়ি কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 40
স্টেজ ফোর স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 41
তবুও তুমি আছো তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 30
মুগ্ধ বিষন্নতা মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 39
ভুলে যাবো ভুলে যাবো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 48
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found