কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করলে এতে পাওয়া যাবে—
সামান্য জল, সোডিয়াম ক্লোরাইড, আর সামান্য প্রোটিন।
বিজ্ঞানের খাতায় এর চেয়ে বেশি কোনো মূল্য নেই।
অথচ এই কয়েক ফোঁটা তরল বহন করে আনে
একটি গোটা সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার চেয়েও বড় ইতিহাস।

মানুষ যখন জন্মায়, কাঁদে।
সে কান্না পৃথিবীর বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ঘোষণা।
কিন্তু মানুষ যখন নীরবে কাঁদে মধ্যরাতে—
দরজা বন্ধ করে, বালিশে মুখ গুঁজে,
তখন সেই জলের প্রতিটি কণা এক-একটি অভিযোগপত্র।
কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?
সময়ের? নিয়তির? নাকি নিজের অক্ষমতার?

যে জল নদীতে বয়, সে জমি উর্বর করে।
যে জল বৃষ্টি হয়ে নামে, সে ধুলো ধুয়ে দেয়।
কিন্তু চোখের এই সামান্য নোনতা জল
মানুষের ভেতরটাকে শুকিয়ে মরুভূমি বানিয়ে ফেলে।
সে কোনো শব্দ করে না,
অথচ তার ভারে নুয়ে পড়ে সবচেয়ে অহংকারী ঘাড়ও।

আমরা সুখের সময় কত প্রতিশ্রুতি দিই,
কত বড় বড় দালান বানাই শব্দের।
কিন্তু দুঃখের দিনে সেই সব ভাষা হারিয়ে যায়।
মানুষের সমস্ত দর্শন, সমস্ত ব্যাকরণ এসে শেষ হয়
চোখের কোণে জমে থাকা একবিন্দু জলের কাছে।

এটা কোনো দুর্বলতা নয়।
এই জল আসলে প্রমাণ করে—
এই পাথুরে, নিষ্ঠুর, হিসেবি পৃথিবীর ভিড়েও
ভেতরের মানুষটি এখনো পুরোপুরি যন্ত্র হয়ে যায়নি।
তার কোথাও এখনো ব্যথা লাগে।

অশ্রুর জল

যে ক্ষত থেকে রক্ত ঝরে,
তার জন্য ব্যান্ডেজ আছে, সহানুভূতি আছে,
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধের নাম আছে।
সমাজ সেই আঘাতকে সম্মান দেয়,
কারণ তা চোখে দেখা যায়।

কিন্তু যে ব্যথা কোনো শব্দ তৈরি করে না,
তার কোনো সাক্ষ্য থাকে না।
অফিসের লিফটে দশজন মানুষের সাথে ওঠার সময়
বুকের ভেতর যে এক টুকরো ছাদ খসে পড়ে,
পাশের মানুষটি তার ধুলোও দেখতে পায় না।
সে শুধু দেখে—একজন পরিপাটি লোক নিঃশব্দে বোতাম টিপছে।

আমরা কত কিছু গিলে ফেলি রোজ।
অপমানের পর শান্তভাবে হাসা,
প্রিয় মানুষের অন্যায়ের পর চুপ করে ভাত খাওয়া,
কিংবা মধ্যরাতে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে
একটি দীর্ঘশ্বাসকে মাঝপথেই থামিয়ে দেওয়া—
যাতে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটি জেগে না ওঠে।

এই না-বলা কথাগুলো হারিয়ে যায় না।
এরা জমতে থাকে মানুষের মেরুদণ্ডে,
চোখের নিচের কালো দাগে,
আর অসময়ে চুল পেকে যাওয়ার ভেতরে।
মানুষ বাইরে থেকে ঠিকই থাকে,
কিন্তু ভেতরে সে হয়ে ওঠে এক প্রাচীন ভগ্নস্তূপ।

সবচেয়ে ভারী বোঝা পাথর নয়,
সবচেয়ে ভারী হলো সেই সত্য—
যা কাউকে বলা যেত,
অথচ বলার মতো কোনো বিশ্বাসী কাঁধ এই শহরে পাওয়া যায়নি।

আমরা বেঁচে থাকি স্বাভাবিক মানুষের মতো অভিনয় করে।
অথচ প্রতিটি হাসির আড়ালে
একটি অতলান্ত নীরবতা চিৎকার করে বলে যায়—
কিছু কথা না বলাই থেকে গেল,
আর সেই না-বলা কথাগুলোই একদিন মানুষটাকে সম্পূর্ণ গিলে খেল।

না-বলা ব্যথা

শব্দ মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়,
আবার শব্দই মানুষের সবচেয়ে বড় প্রতারণা।
আমরা কথা বলি সত্য গোপন করার জন্য;
বাক্য সাজাই যাতে ভেতরের ভিখারি রূপটা বাইরে প্রকাশ না পায়।

কিন্তু চোখের কোনো ব্যাকরণ নেই।
সেখানে কোনো দাঁড়ি, কমা বা ফাঁকিবাজির সুযোগ থাকে না।
একজন মানুষ যখন মুখে বলে—‘আমি ভালো আছি,’
তার চোখের কোণে জমে থাকা সামান্য আলোহীনতা
মুহূর্তেই চিৎকার করে বলে দেয়—‘সবটাই মিথ্যা।’

তুমি যখন টেবিলের ওপাশে বসে ছিলে,
মাঝখানে ছিল দুটি কফির কাপ আর অনেকগুলো সামাজিক সৌজন্য।
আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বললাম,
শহরের আবহাওয়া আর আগামীকালের কাজ নিয়ে কথা বললাম।
অথচ সেই সমস্ত কথার আড়ালে
তোমার দুটি চোখ অন্য এক ভাষায় কথা বলে যাচ্ছিল।

সে ভাষায় কোনো শব্দ ছিল না,
ছিল এক গভীর আত্মসমর্পণ—
‘আমিও ক্লান্ত, তুমিও কি একা নও?’

চোখ কখনো অতীত লুকায় না।
সেখানে বাল্যকালের আঘাত, অবহেলার দাগ আর অপ্রাপ্তির দীর্ঘশ্বাস
অমলিন কাচের মতো স্পষ্ট ভেসে থাকে।
যে মানুষ চোখের দিকে তাকাতে ভয় পায়,
সে আসলে সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পায়।

আমরা এত ভাষা শিখি—ইংরেজি, ফরাসি, কোডিং, আইন।
অথচ জীবনের সবচেয়ে জরুরি কথাগুলো
কোনো অভিধানে লেখা থাকে না।
দুটি চোখের মাঝখানের সামান্য কয়েক ইঞ্চি দূরত্বের ভেতর
একটি গোটা শতাব্দী নিঃশব্দে পার হয়ে যায়,
আর আমরা বোকার মতো শব্দ খুঁজে মরি।

চোখের ভাষা

সব হাসির পেছনে আনন্দ থাকে না।
কিছু হাসি থাকে—যা আসলে এক নিখুঁত পাহারা।
ভেতরের ভাঙচুরটা যাতে বাইরের কেউ দেখে না ফেলে,
তাই মানুষ ঠোঁটের কোণে একটু আলো জ্বালিয়ে রাখে।

কিন্তু তোমার সেই হাসিটা ছিল অন্যরকম।
সেখানে কোনো সাজানো আলো ছিল না,
ছিল না কোনো প্রদর্শনীর তৃপ্তি।
বাসস্ট্যান্ডের কোলাহলে, ধোঁয়া আর হর্নের মাঝখানে
হঠাৎ কেউ যেন সমস্ত কোলাহল বন্ধ করে দিল এক নিমিষে।

তুমি যখন হাসলে,
মনে হলো এই পৃথিবীতে মানুষ যত যুদ্ধ করেছে,
যত অস্ত্রের পেছনে টাকা ঢেলেছে,
যত যুক্তি সাজিয়েছে অন্যকে ছোট করার জন্য—
সবই ভুল।
মানুষের সমস্ত অহংকার আসলে একটি নিরস্ত্র হাসির কাছে
অনায়াসে পরাজিত হতে পারত।

লোকে যাকে মায়া বলে,
তা কোনো জাদু নয়;
তা হলো এমন এক দুর্বলতা, যা মানুষ স্বেচ্ছায় বরণ করে নেয়।
তুমি হাসলে, আর আমি ভুলে গেলাম
কাল সকালে অফিসে যাওয়ার তাড়া,
ভুলে গেলাম বাজারের হিসাব আর পৃথিবীর সমস্ত দীর্ঘশ্বাস।

একটি সামান্য হাসি কীভাবে একজন ক্লান্ত মানুষকে
আবার বাঁচার অজুহাত এনে দেয়?
কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্রে এর ব্যাখ্যা নেই।
শুধু এটুকু বোঝা যায়—
পৃথিবীটা এখনো বাসযোগ্য আছে,
কারণ কিছু মানুষ এখনো কোনো স্বার্থ ছাড়াই
কারও দিকে তাকিয়ে এভাবে হাসতে পারে।

মায়াবী হাসি

মানুষ যখন সাঁতার জানে না,
তখনই প্রথম জলে নামে।
সব সতর্কতা, পাড়ের শাসন আর ডুব দেওয়ার ভয়—
সবকিছু হঠাৎ তুচ্ছ হয়ে যায় কেবল একটি ডাক শুনে।

প্রথম প্রেম কোনো পরিণতির নাম নয়;
সে তো এক অসমাপ্ত খাতার প্রথম সাদা পাতা।
সেখানে লেখা অক্ষরের চেয়ে
ভুল করে ফেলে দেওয়া কালির দাগগুলোই বেশি খাঁটি ছিল।
আমরা জানতাম না কীভাবে ধরে রাখতে হয়,
কীভাবে ছেড়ে দিতে হয়।
আমরা শুধু জানতাম—ভেতরে একটা অচেনা নদী বইছে,
আর তার কোনো পাড় নেই।

সেদিন রিকশার হুড তোলা ছিল না।
বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়েছিল স্কুলের ব্যাগ, ভিজেছিল খাতার কোণ।
একটি ছাতার নিচে হেঁটে যাওয়া দুটি মানুষের কাঁধ
যতটা কাছে এসেছিল,
তার চেয়ে অনেক বেশি কাঁপছিল তাদের না-বলা কথাগুলো।

পরে জীবনে আরও বসন্ত আসে,
আরও নিশ্চিত হিসেব আসে, ঘর বাঁধার যুক্তি আসে।
মানুষ পরিপক্ব হয়, ভালোবাসতে গিয়েও নিজের লাভ-ক্ষতি মাপতে শেখে।
কিন্তু সেই প্রথমবার—
যখন মানুষ নিঃস্ব হওয়ার আনন্দ ছাড়া আর কিছুই বোঝেনি,
সেই উন্মাদনা আর কখনো ফেরে না।

প্রথম প্রেম আসলে কাউকে পাওয়া নয়;
প্রথম প্রেম হলো নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক অপার মানুষের সাথে
প্রথমবারের মতো পরিচয় হওয়া।
যে মানুষটি হারাতে ভয় পেত না,
যে মানুষটি কেবল চেয়েছিল—
কোনো এক অলৌকিক বিকেলে
আরেকটি চোখের ভেতর নিজের সমগ্র পৃথিবীটাকে স্পষ্ট দেখতে।

প্রথম প্রেম

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4751
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1774
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1716
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1638
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1626
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1576
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1568
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1525
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1490
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1476
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1465
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1459
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1434
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1421
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1420
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1412
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1410
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1396
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1387
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1382
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
অশ্রুর জল শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 13
না-বলা ব্যথা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 11
চোখের ভাষা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 15
মায়াবী হাসি শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 16
প্রথম প্রেম শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 14
নীল আকাশ শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 15
মনের আঙিনা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 17
আলতো ছোঁয়া শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 20
হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 24
আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ অবিনব মোঃ আবু তালেব 24
ছোট্ট জানপাখি অবিনব মোঃ আবু তালেব 15
কালান্তরের জলচিহ্ন অবিনব মোঃ আবু তালেব 27
সুন্দর মনের কামনা অবিনব মোঃ আবু তালেব 22
যৌবনের দিনলিপি অবিনব মোঃ আবু তালেব 35
জীবনের ছায়াপথে অবিনব মো: আবু তালেব 41
শপথের ওপারে প্রেম অবিনব মোঃ আবু তালেব 41
শূন্যে লেখা প্রেমের শপথ অবিনব মো: আবু তালেব 30
রক্তচোষার কারবার চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 38
বধ্যভূমির নাম সচিবালয় চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 45
সান্ধ্য আইনের মুখে থুতু চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 49
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 32
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 36
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 25
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 32
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 30
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 25
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 27
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 31
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 31
ঋণ ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 39
মৃত্যুর পরও তুমি মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
অনুভূতির স্পর্শ স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 27
লিখিত, অলিখিত ঋণ লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 31
অশ্রু অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 41
কাটাবিহীন ঘড়ি কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 39
স্টেজ ফোর স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 40
তবুও তুমি আছো তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 28
মুগ্ধ বিষন্নতা মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 37
ভুলে যাবো ভুলে যাবো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 44
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found