কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

শুনলাম তোমার বিয়ে হয়েছে,
যাক কঠিন সিদ্ধান্ত সহজে নিতে পেরেছো
আমাকে তো একটি বারও বলোনি।

আমার তো খোঁজ কখনো নেওনি,
আমিই নিয়েছি কত। তোমার
করুণ পরিস্থিতির মাঝেও
কোনো এক করুণ পরিস্থিতিতে তোমার সাথে কথা বলতে পারিনি,
কই তোমার কী উচিত ছিল না ছেলেটার হয়েছেটা কি?
কেন নীরব হলো এগুলো তুমি জানতে চাওনি।

আরো শুনলাম আমার না হয়ে নাকি ভালোই করেছো,
আমি হলে তোমায় খাওয়াতে পারতাম না,
পারতাম না কোনো মার্কেট করে দিতে
পারতাম না আর আগের মতো ভালবাসতে।

তোমার চিন্তা-ভাবনাও আমায় অবাক করেনি,
অবাক তাতে হতে হয় মোনাজাতে সত্যিই কী আমায় চেয়েছো?

তোমার জন্য একটা খুশির সংবাদ,
তুমি ওখানেই সুখ খুঁজো
আমার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি!
হচ্ছে অবনতি
আর তুমি দেখছো কারো সংসারের উপরে উঠা মই।

আবারও বলি তোমায় অনেক ভালবাসি।

শুনলাম তোমার বিয়ে হয়েছে

পাঠক মুগ্ধ হয়ে ভাবে—কবি বুঝি এই মাটির মানুষ নন।
তিনি নিশ্চয়ই কোনো দূরবর্তী মেঘের ওপারে বসবাস করেন;
সকালে অলংকারের রস আস্বাদন করে দিন শুরু করেন,
বিকেলে বাতাসের সঙ্গে দার্শনিক সংলাপে বসেন,
আর রাতে চাঁদের আলোয় স্নান সেরে রূপকথার ঘুমে তলিয়ে যান।

লোকে বিশ্বাসই করতে চায় না—একজন কবিরও পেট কামড়াতে পারে ক্ষুধার জ্বালায়,
একজন কবিরও চটি জুতো ক্ষয়ে গিয়ে পিচের গরম রাস্তায় পা পুড়তে পারে।

অথচ কবির পড়ার টেবিলটার দিকে যদি কেউ একবার সাহস করে তাকাত—
তবে দেখতে পেত, সদ্য লেখা কবিতার ধারালো পাণ্ডুলিপির ঠিক নিচেই
চাপা পড়ে আছে বিদ্যুৎ বিলের লাল কালিতে লেখা চূড়ান্ত তাগাদা।
খাতার ভাঁজে লুকানো আছে সন্তানের স্কুলের ফি দেওয়ার জন্য
কোনো এক স্বচ্ছল বন্ধুর কাছে ধার চেয়ে পাঠানো অনুত্তর খুদেবার্তা।

যে মানুষটা গতকাল সন্ধ্যায় আলো ঝলমলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে
বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করে এলেন—‘মাথা নত না করার স্পর্ধা’,
আজ সকালেই তাকে লোকাল বাসের পাদানিতে দাঁড়িয়ে
পাঁচ টাকার খুচরা ভাড়ার জন্য কন্ডাক্টরের অপমান মুখ বুজে হজম করতে হয়েছে।

তাঁর সহধর্মিণী যখন চালের খালি ড্রামটার ওপর হাত রেখে
এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজার দিকে চেয়ে থাকেন—
তখন পৃথিবীর কোনো দুর্লভ উপমা দিয়ে সেই ক্ষুধার্ত দৃষ্টির অনুবাদ করা যায় না।
ছন্দ দিয়ে কোনোদিন সংসারের ফুটো চাল চুইয়ে পড়া বৃষ্টির পানি ঠেকানো যায় না।

সমাজ ভাবতেই পারে না, যে মানুষটা লক্ষ মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পারে,
সে নিজের ঘরে ফিরে এক টুকরো ঘুমের বড়ির জন্য কত অসহায় হয়ে পড়ে।
লোকে ভাবে—কবি খুব রহস্যময়, খুব দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।
তারা জানে না, কবি আসলে পালিয়ে বেড়ান এই ভয়ে—
পাছে কেউ তাঁর জামার ছেঁড়া কলারটা দেখে ফেলে!
পাছে এই শহর জেনে যায়—যে কবি সারা জাতিকে আলোর দিশা দিচ্ছেন,
তাঁর নিজের শোবার ঘরে মাসের শেষ সপ্তাহে এক টুকরো নিরেট অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

রাত আড়াইটায় যখন সমস্ত কোলাহল থেমে যায়,
স্ত্রী আর সন্তানের পরিশ্রান্ত নিঃশ্বাসের পাশে বসে
কবি যখন কলমের মুখটা নিঃশব্দে আটকে দেন—
ঠিক তখনই সেই অন্ধকার ঘরের মেঝেতে নেমে আসে ‘প্রথম নিরবতা’।

সেই নিরবতা কোনো ছন্দের তোয়াক্কা করে না।
সে কোনো জাতীয় পুরস্কারের পদক নিয়ে সামনে দাঁড়ায় না।
সে কেবল কবির চোখের দিকে তাকিয়ে এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়—

তুমি নিজের রক্ত জল করে এক একটি শব্দ দিয়ে
পুরো মানবজাতির জন্য মুক্ত আকাশ তৈরি করতে চেয়েছিলে;
অথচ তোমার নিজের ব্যক্তিগত জীবনটাই চিরদিনের জন্য বন্দি রয়ে গেল—
বাজারের ব্যাগের ওজন আর বাড়িভাড়ার আতঙ্কে পিষ্ট হওয়া
এক চরম একাকী, অসমাপ্ত বাক্যের ভেতর।

কবির ব্যক্তিগত জীবন

আবাসিক এলাকার লোহার বড় গেটটিতে পৌঁছালেই
দারোয়ান লাঠি উঁচিয়ে তার পথ আটকে দাঁড়ায়।
কাচের লিফটে পা দেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই;
তাকে উঠতে হয় পেছনের অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে সার্ভিস সিঁড়ি দিয়ে।
সে যদি বিনীত ভঙ্গিতে মাথা ঝুঁকিয়ে কাউকে সালাম দেয়,
ভদ্রলোকেরা প্রতিত্তরে একটি শব্দও খরচ করার প্রয়োজন বোধ করেন না।

সমাজ খুব ছোটবেলা থেকেই তার কপালের চামড়ায়
এক অলিখিত সিলমোহর এঁটে দিয়েছে—‘নিচু মানুষ’।

তার কাজ নিচু, তার গায়ের চামড়ার রঙ নিচু,
আর শহরের সবচেয়ে দুর্গন্ধময় গলির শেষ প্রান্তে তার বাসস্থান।
চায়ের দোকানে গেলে তার জন্য আলাদা করে রাখা থাকে একটা কোণ-ভাঙা কাচের গ্লাস;
তার হাত থেকে কোনো কাগজের নোট নেওয়ার সময়
দোকানি সজাগ থাকে—পাছে তার অপবিত্র আঙুলের ছোঁয়া লেগে যায়!
ভদ্র নারীরা তার পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময়
সাদা ওড়না দিয়ে খুব সাবধানে নাক চেপে ধরেন;
যেন তার শরীরের ঘাম এই সভ্যতার সমস্ত কৃত্রিম পারফিউমকে এক নিমেষে নষ্ট করে দেবে।

অথচ এই মানুষটাই প্রতিদিন ভোর চারটায়
যখন গোটা শহর নিশ্চিন্ত ঘুমে মগ্ন থাকে,
তখন এক টুকরো কাপড় কোমরে পেঁচিয়ে নেমে যায়
শহরের বুকসমান বিষাক্ত ম্যানহোলের নর্দমার ভেতর।

যে নোংরা, যে বর্জ্য এই সভ্য নাগরিকেরা
প্রতিদিন নিজেদের পরিপাটি ঘর থেকে নির্দ্বিধায় উগরে দেয়—
সে খালি হাতে সেই নরক পরিষ্কার করে নিজের বুক দিয়ে ঠেলে দেয়;
যাতে সকালবেলা শহরের রাজপথগুলো ঝকঝকে দেখায়,
যাতে বাবুদের চকচকে জুতোর তলায় কোনো দুর্গন্ধ না লাগে।

সে যদি মাত্র দুই দিনের জন্য কাজ বন্ধ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকে,
তবে এই আধুনিক নগরীর সমস্ত আভিজাত্য
চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নিজেরই বিষ্ঠার দুর্গন্ধে দমবন্ধ হয়ে মারা পড়বে।

সে জীবনে কোনোদিন কোনো মিথ্যার চুক্তিপত্রে সই করেনি।
সে কারও সঞ্চয়ের টাকা লুট করে বিদেশে প্রাসাদ বানায়নি।
তার একমাত্র অপরাধ—সে বেঁচে থাকার জন্য কোনো মুখোশ না পরে
নিজের রক্ত পানি করে এই পৃথিবীর নোংরা পরিষ্কার করেছে।

দিনশেষে যখন সে বস্তির এক চিলতে ভাঙা ঘরে ফিরে আসে,
আর সাবান দিয়ে শতবার হাত ধুয়ে
এক থালা মোটা ভাতের সামনে চুপচাপ বসে—
ঠিক তখনই সেই মলিন মেঝের ওপর নেমে আসে ‘প্রথম নিরবতা’।

সেই নিরবতা কোনো পরাজয় নয়;
ওটা হলো এই কপট সভ্যতার বিরুদ্ধে প্রকৃতির এক চূড়ান্ত রায়।

সেই নিরবতার সামনে দাঁড়িয়ে যদি উচ্চতা মাপা যায়,
তবে স্পষ্ট দেখা যাবে—
যাদের সমাজ ‘উঁচু’ বলে মঞ্চে বসিয়ে রেখেছে,
তারা আসলে মিথ্যার জঞ্জালে দাঁড়িয়ে থাকা একদল ক্ষুদ্র বামন;
আর যাকে এই পৃথিবী আজীবন ‘নিচু মানুষ’ বলে অবহেলা করল,
সে ছিল সমস্ত নোংরাকে নিজের বুকে ধারণ করে এই শহরকে বাঁচিয়ে রাখা
এক বিশাল, অপাপবিদ্ধ অসমাপ্ত বাক্য।

নিচু মানুষ

শহরের যে কোনো প্রথম সারির অনুষ্ঠানে
তাঁর জন্য সামনের সারির নরম চামড়ার সোফাটি নির্দিষ্ট থাকে।
মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গলায় পরিয়ে দেওয়া হয়
তাজা রজনীগন্ধার ভারী, সুবাসিত মালা;
আর উপস্থাপক অত্যন্ত বিনম্র কণ্ঠে তাঁর নামের আগে
অজস্র বিশেষণ জুড়ে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন—‘আমাদের সমাজের আলোকবর্তিকা’।

তিনি যখন হাসেন, তখন সেই হাসিতে কোনো পরিমিতির অভাব থাকে না।
তিনি যখন মাইকের সামনে দাঁড়ান,
তখন তাঁর হাত নাড়ার ভঙ্গিটিতে থাকে এক নিপুণ আভিজাত্য।

সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় পাতায় তাঁর লেখা ছাপা হয় নীতি ও আদর্শ নিয়ে;
টেলিভিশনের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি আঙুল উঁচিয়ে
দেশের অধঃপতন নিয়ে দীর্ঘ আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
সাধারণ মানুষ দূর থেকে তাঁর গাড়ির কালো কাচের দিকে চেয়ে থাকে ভক্তিতে;
তারা ভাবে—মানুষ যদি হতে হয়, তবে এই লোকটির মতোই হওয়া উচিত।

সমাজ তাঁকে ডাকে—‘সম্মানিত মানুষ’।

কিন্তু এই চকচকে পদবির পেছনের ইতিহাসটা কেউ কোনোদিন পড়ে দেখে না।
কেউ দেখতে চায় না—আজকের এই সম্মানিত মসনদে পৌঁছানোর জন্য
তিনি কতগুলো বিশ্বস্ত বন্ধুর কাঁধের ওপর নির্দয়ভাবে পা ফেলেছিলেন।
যে তরুণটি একদিন তাঁর প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলতে চেয়েছিল,
তাকে কীভাবে এক রাতের নোটিশে জীবিকাচ্যুত করে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল;
কিংবা যে নদীটা দখল করে তাঁর আধুনিক কারখানার ভিত দাঁড়িয়ে আছে,
সেই পানির নিচে কত হাজার জেলের কান্না চিরদিনের জন্য চাপা পড়ে গেছে—
তার কোনো অডিট রিপোর্ট এই সমাজে কোনোদিন তৈরি হয় না।

তিনি অত্যন্ত চতুর।
তিনি কখনো নিজ হাতে কোনো রক্তপাত ঘটাননি।
তিনি কেবল ক্ষমতার প্রতিটি অন্যায়ের সময়
খুব পরিপাটি ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে নিজের অংশটুকু বুঝে নিয়েছেন;
আর সেই চরম সুবিধাবাদের বিনিময়ে এই শহর
তাঁকে উপহার দিয়েছে সম্মানের এই স্বর্ণপদক।

কিন্তু এই সাজানো সংবর্ধনা চিরস্থায়ী হয় না।

রাত একটা বাজে।
দেহরক্ষী আর স্তাবকদের দল গেটের বাইরে চলে গেছে অনেকক্ষণ আগে।
গলার শুকিয়ে যাওয়া মালাটা ড্রেসিং টেবিলের এক কোণে ছুড়ে ফেলে দিয়ে
তিনি যখন তাঁর বিশাল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরের বাতিটা নিভিয়ে দেন—
ঠিক তখনই সেই অন্ধকার ড্রয়িংরুমে নেমে আসে ‘প্রথম নিরবতা’।

সেই নিরবতা কোনো করতালি দেয় না।
সে কোনো তোষামোদের ফুল নিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়ায় না।
সে কেবল এক হিমশীতল বাতাসের মতো তাঁর চারপাশে ঘুরে এসে
তাঁর কানের কাছে চুপিচুপি জিজ্ঞেস করে—

‘পুরো শহর তো তোমাকে সম্মান দিল;
কিন্তু তুমি কি কোনোদিন একা এই ঘরের আয়নায়
নিজের চোখের দিকে তিন সেকেন্ডের বেশি তাকিয়ে থাকতে পেরেছ?’

তখন সেই সম্মানিত মানুষটি অন্ধকারের ভেতর কুঁকড়ে বসে থাকেন।
তিনি বুঝতে পারেন—
এই পৃথিবীটাকে তিনি নিখুঁতভাবে প্রতারিত করতে পেরেছেন ঠিকই,
কিন্তু নিজের ভেতরে তিনি রেখে গেছেন
এক চরম কাপুরুষ, শূন্য এবং অভিশপ্ত
অসমাপ্ত বাক্যের কঙ্কাল।

সম্মানিত মানুষ

কাঠের পুরোনো কাঠগড়াটা বড় প্রাচীন।
এর শক্ত রেলিংয়ের ওপর হাত রাখলে আজও স্পষ্ট টের পাওয়া যায়—
বিগত পঞ্চাশ বছরে কত হাজার ক্ষুধার্ত আর নির্দোষ মানুষের
আঙুলের ঘাম ও কাঁপুনির দাগ এখানে জমাট বেঁধে আছে।

আজকের এই বিচারসভায় জাঁকজমকের কোনো অভাব নেই।
উঁচু বেদিতে বসে আছেন বিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী;
তাঁদের পরনে ধুলোহীন কালো কোট, চোখে ধারালো ফ্রেমের চশমা,
আর সামনের চওড়া সেগুন কাঠের টেবিলে সাজানো আছে
চামড়ায় বাঁধানো আইনের ভারী ভারী সংকলন।

অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত—
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই ছেঁড়া স্যান্ডেল পরা মানুষটি
এক মাঝরাতে শহরের প্রধান খাদ্যগুদামের তালা ভাঙার চেষ্টা করেছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অত্যন্ত তেজস্বী গলায় আইনের ধারা ব্যাখ্যা করছেন।
তিনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন,
শৃঙ্খলার গুরুত্ব নিয়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ভাষণ দিচ্ছেন,
আর হাত নেড়ে প্রমাণ করছেন—কীভাবে এই একক ব্যক্তিটি
গোটা সমাজের শান্তি আর নিরাপত্তার ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করেছে।

হলভর্তি ভদ্রলোকেরা গম্ভীর মুখে সম্মতি জানিয়ে মাথা নাড়ছেন।
সাংবাদিকরা নিবিষ্ট মনে লিখে নিচ্ছেন দণ্ডবিধির কঠিন সংখ্যাগুলো।

সব বক্তব্য শেষে বিচারক যখন চশমার কাচ মুছে গম্ভীর গলায় জানতে চাইলেন—
‘আসামি, তোমার আত্মপক্ষ সমর্থনে কি কিছু বলার আছে?’

তখন কাঠগড়ার মানুষটি কোনো আইনজীবীর দিকে তাকাল না।
সে কোনো ক্ষমা চাইল না,
হাতজোড় করে কোনো করুণার আবেদন জানাল না।

সে শুধু একবার শান্ত, শুকনো চোখে তাকাল সেই উঁচু মঞ্চটির দিকে—
যেখানে বসে আছেন সেইসব সম্মানিত নাগরিকেরা,
যাঁদের এক সইয়ে বাজারে চালের দাম রাতারাতি বেড়ে যায়,
যাঁদের সিন্ডিকেটের গুদামে হাজার টন খাদ্য পচে নষ্ট হয়,
অথচ বাইরে এক মুঠো ভাতের জন্য শিশুরা ডাস্টবিনে হাত বাড়ায়।

সে কোনো কথা বলল না।
সে শুধু নিজের রুগ্ণ, অভুক্ত দুটো হাত উঁচু করে কাঠগড়ার রেলিংয়ের ওপর রাখল—
যেন তার ফাঁকা অঞ্জলিই এই পৃথিবীর যাবতীয় আইনের চেয়ে বড় দলিল।

আর ঠিক তখনই,
আইনের সমস্ত অহংকারী ধারাকে চূর্ণ করে দিয়ে
সেই গমগমে এজলাসে নেমে এলো ‘প্রথম নিরবতা’।

সেই নিরবতা কোনো আত্মসমর্পণ ছিল না;
ওটা ছিল এই সাজানো সার্কাসের মুখের ওপর ছুঁড়ে দেওয়া এক চরম চপেটাঘাত।

বিচারকের হাতের কাঠের হাতুড়িটা আঘাত করার আগেই বাতাসে থমকে গেল।
উকিলের মুখের যুক্তিগুলো হঠাৎ তোতলামিতে রূপ নিল।
কারণ সেই নিঃশব্দ কাঠগড়াটি গোটা আদালতকে জানিয়ে দিয়ে গেল—

এখানে কোনো চোরের বিচার হচ্ছে না;
এখানে বিচার হচ্ছে এক ভুখা মানুষের টিকে থাকার স্পর্ধার।

আর রায় ঘোষণার আগেই পুরো বিচারসভা এক ভয়ংকর সত্যের সামনে এসে দাঁড়াল—
যেখানে উঁচু বেদিতে বসে থাকা বিচারকরাই আসলে আজীবনের দণ্ডিত আসামি,
আর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই নীরব মানুষটি—
তাদের সমস্ত সভ্যতার ভণ্ডামিকে চিরতরে অস্বীকার করে যাওয়া
এক অবিনশ্বর, অসমাপ্ত বাক্য।

বিচারসভা

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4859
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1898
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1819
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1771
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1716
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1693
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1656
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1627
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1583
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1572
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1569
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1556
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1544
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1519
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1512
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1508
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1498
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1495
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1494
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1477
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
কবির ব্যক্তিগত জীবন প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 13
নিচু মানুষ প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 12
সম্মানিত মানুষ প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 12
বিচারসভা প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 12
আয়নাবিহীন শহর প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 9
চুপ থাকার দাম প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 9
সাদা জামা প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 10
করতালি প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 18
সমাজ প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 15
শেষ মুখোশ প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 17
মুখোশের দোকান প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 20
নিরব প্রেম প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 23
তুমি-আমি ও রাত প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 17
অপেক্ষার সময়গুলো প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 12
মানুষ (Human) অবিনব মো: আবু তালেব 28
ভুল মানুষের প্রেমে পড়া বারণ অবিনব মোঃ আবু তালেব 25
ঢাকা শহরের কোনো এক গলিতে শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 22
শহর (The City) শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 22
স্মৃতি অবিনব মোঃ আবু তালেব 30
অভিমান (oviman) অবিনব মোঃ আবু তালেব 30
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
শুনলাম তোমার বিয়ে হয়েছে এখনো নাম রাখিনি সাবিত রিজওয়ান 10
বসন্ত আসেনি ফিরে বসন্ত আসেনি ফিরে আব্দুল্লাহ আল নোমান 104
আমরা নবীন বসন্ত আসেনি ফিরে আব্দুল্লাহ আল নোমান 51
দম্ভের দশ হাজার বাস্তব জীবন দরবেশ আল আমিন 76
আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যা প্ল্যান অপ্রকাশিত মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা 86
নীরব যোদ্ধা জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 103
শরৎ এর আগমন জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 122
শারদীয় উৎসব জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 93
একুশ জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 79
প্রেম চোখের জলে নদী মাজেদুল হক 96
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 119
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 141
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 107
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 113
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 122
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 103
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 106
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 119
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 121
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 143
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found