হাসান বলছি
- আল আমিন ইসলাম
হাসান বলছি,
মনিষা শুনছো?
আমি চলে আসছি এক নক্ষত্রের রাতে
হাজার মাইলের পথ অতিক্রম করে অনেক দূরে।
সৌন্দর্যের খোঁজ পেয়েছি বহুবার।
পৃথিবীর রূপ দেখে দেখে আমি ক্লান্ত,
আজকাল তোমায় খুব মনে পড়ে,
আমায় কি সহৃদয়ে একবারও মনে পড়ে তোমার?
জানি এ উড়ো চিঠির উত্তর পাবো না,
তবু লিখে যাই,
মনে আছে তোমার?
সেদিনের আমাকে বলা তোমার শেষ লাইনগুলো,
" হাসান সাহেব,আমি আপনাকে যেতে দিবো না,
কক্ষনো না,কক্ষনো না, সারাজীবন আমার সাথে থাকতে হবে"
আমি বলেছিলাম,
" ছায়ময়, মায়াময় পৃথিবীটা অনেক চমৎকার ও গভীর বিষ্ময়কর,
অনেক কাজ করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ
মৃত্যুর আগে বহুকাজে বহুদূর যেতে হবে"
তোমার লাইনগুলো আমার কানে টিংটং শব্দ করে প্রতিনিয়ত, তোমার মনের রূপের কাছে পৃথিবীর সব রুপ এখন বিষন্ন মনে হয়,
আমার চর্মচক্ষুতে দেখা,
তোমার মতো জ্ঞানী, বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতি মেয়ে আমি দেখিনি।
তোমার রুচিশীল সংলাপগুলো,পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা, দুঃখকে গাছের মতো বরণ করে নেওয়া এ এক শক্তিশালী চরিত্র।
তোমার শক্তিশালী চরিত্রের কাছে আমি আজ পরাজিত সৈনিক,
তোমার স্বরণে হৃৎপিণ্ড ছুঁয়ে যায়,
মনের গহীনে উথাল-পাতাল সবকিছু,
তোমারো কি এমন হয়?
নাকি সংসার ধর্ম পালন করতে ব্যস্ত,
নাকি হাসান চরিত্রটা রাতে দেখা স্বপ্নের মতো ভুলে গেছো?
আজ বড্ড জানতে ইচ্ছে করছে।
সহৃদয়ে স্বরণ হচ্ছে খুব,
দুলাভাই, আপু,মুবিন, রঞ্জু,ভাবী এনারা কেমন আছেন?
এখনও কি ঝগড়ার সিচুয়েশন ডিমান্ড করে দুলাভাইয়ের?
নাকি আশ্রম নিয়ে বড়ই ব্যস্ত দিন যাচ্ছে?
পলিনের হাসান মামা ডাকটা খুব মনে পড়ে,
পাতার বাঁশি আর বাঁজাতে ইচ্ছে করে না।
রঞ্জু ভাই কি এখনো মাঝে মাঝে কবিতা লেখে?
আজ বড্ড জানতে ইচ্ছে করছে।
আমি এখন কল্পনায় ছুটে চলি তোমাদের সুখগৃহটায়,
তোমাদের সমৃদ্ধ চরিত্রে ভরা পরিবারের
সুখ সংলাপগুলো, মাঝে মাঝে আওড়াই মনের ভিতর,
আহ, কি সুখ! বলতে পারছি না শব্দ সীমাবদ্ধতায়,
গম্ভীর হয়ে আমার উদ্দেশ্যে বলা তোমার সংলাপগুলো, মনে হলে খুব করে হাসি।
আবার মুহূর্তেই মন খারাপ হয়ে যায়,
যখন দেখি অনেক সময় পরে অনেক দূরে আমি।
কল্পনা করি,হয়তো আবার একদিন দেখা হবে
শিমুল গাছের নিচে,
একটা শিমুল ফুল তোমার কানে গুঁজে দিয়ে,
আমরা চলে যাবো নক্ষত্রের রাতে
বনে,পাহাড়ে,সাগরে পার্কে,
যেথায় জমা আছে পৃথিবীর সমস্থ বিষ্ময়।
বিস্তারিত...