কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(অপ্রকাশ)

আমি আজ আর বিশ্বাস করি না
মানুষ তার বলা কথাগুলোর সমষ্টি।

আমি বিশ্বাস করি,
মানুষ তৈরি হয়
যে কথাগুলো সে কোনোদিন
বলতে পারেনি,
সেগুলো দিয়ে।

একটা জীবন
যতটা উচ্চারিত,
তার চেয়ে অনেক বেশি
অপ্রকাশিত।

আমরা জন্মের পর
ভাষা শিখি।
কিন্তু তারও আগে
অনুভব করতে শিখি।

আর মৃত্যুর আগে
আবার ভাষা হারাতে শুরু করি।

দেখো —
একটা নবজাতক
কথা বলতে পারে না।
একজন মৃত্যুপথযাত্রীও
অনেক সময় পারে না।

জীবনের শুরু আর শেষ —
দু'প্রান্তেই
অপ্রকাশ দাঁড়িয়ে থাকে।

হয়তো
ভাষা শুধু মাঝের সেতু।

মানুষের প্রকৃত দেশ
শব্দ নয়।
অনুভব।

আমি বহু বছর ধরে
নিজেকে প্রকাশ করতে চেয়েছি।
কবিতায়।
কথায়।
নীরবতায়।
ভালোবাসায়।
ক্ষমায়।

তারপর একদিন বুঝলাম,
আমি যতই লিখি,
আমার ভেতরে
আরও অনেক লেখা
থেকে যায়।

যে কবিতাটা
আমি শেষ করতে পারিনি,
সেটাও আমার।
যে ভালোবাসাটা
আমি স্বীকার করিনি,
সেটাও আমার।
যে কান্নাটা
আমি লুকিয়ে রেখেছি,
সেটাও আমার।

যে ক্ষমাটা
আমি চাইতে পারিনি,
যে ক্ষমাটা
আমি পাইনি,
যে নামটা
সময় মুছে দিয়েছে,
যে যুদ্ধটা
কেউ দেখেনি,
যে সমুদ্রটা
শুধু আমি শুনেছি —

সব মিলিয়েই
আমি।

পৃথিবী মানুষকে
তার সাফল্য দিয়ে মাপে।
আমি তা মানি না।

আমি একজন মানুষকে
তার অপ্রকাশ দিয়ে
পড়তে চাই।

কারণ
যে মানুষ
কখনো কাউকে বলেনি
সে কতটা ভেঙে গেছে,
তবু অন্যের কাঁধে হাত রেখেছে —
তার ভেতরেই
মানবতার সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো জ্বলে।

যে নারী
নিজের স্বপ্ন
চুপচাপ ভাঁজ করে
সন্তানের ব্যাগে
দুপুরের খাবার রেখে দেয়,
তার নীরবতার ভেতরেও
একটা মহাকাব্য লেখা থাকে।

যে বৃদ্ধ
প্রতিদিন একই দরজার দিকে
তাকিয়ে থাকে,
কিন্তু কাউকে ডাকে না,
তার অপেক্ষারও
একটা ভাষা আছে।

পৃথিবী
সেই ভাষা শেখেনি।
আমি সেই ভাষার
শিক্ষার্থী হতে চাই।

আমি জানি,
আমার ভেতরের সব কথা
আমি কোনোদিন লিখতে পারব না।

এই বইও
আমাকে সম্পূর্ণ প্রকাশ করবে না।
কোনো কবিতা পারে না।
কোনো দর্শনও নয়।

কারণ
মানুষ
তার প্রকাশে শেষ হয় না।
সে শুরু হয়
তার অপ্রকাশে।

হয়তো
একদিন আমার নামও
ভুলে যাবে পৃথিবী।
আমার বই
ধুলোর নিচে ঘুমিয়ে থাকবে।
আমার কণ্ঠ
কেউ মনে রাখবে না।

তবু যদি
কোনো এক অচেনা মানুষ
রাতের গভীরে
নিজের বুকের ভেতর
একটা অজানা শূন্যতা অনুভব করে,
আর এই কবিতার একটা বাক্য পড়ে
হঠাৎ মনে হয় —

**"এ তো আমারই কথা।"**

তাহলে
আমার সমস্ত লেখা
সার্থক হবে।

কারণ
আমি কোনো নতুন মানুষ
সৃষ্টি করতে চাই না।

আমি শুধু
মানুষকে
তার নিজের ভেতরে
লুকিয়ে থাকা
অপ্রকাশিত মানুষটির সঙ্গে
পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

সেখানেই আমার কবিতা।
সেখানেই আমার দর্শন।
সেখানেই আমার সমস্ত জীবন।

অপ্রকাশ

(অপ্রকাশ)

মানুষের ভেতরে
একটা সমুদ্র থাকে।
তার কোনো মানচিত্র নেই,
কোনো তীর নেই,
কোনো জাহাজ
সেখানে পৌঁছায় না।
তবু সারাজীবন
আমরা সেই সমুদ্র নিয়েই
হেঁটে বেড়াই।

ছোটবেলায় ভাবতাম,
মানুষের গভীরতা
তার জ্ঞানে,
পরে ভাবলাম,
তার অভিজ্ঞতায়।
এখন মনে হয়,
মানুষের গভীরতা
সে কতটুকু অনুভব করেছে,
আর কতটুকু
কাউকে বলতে পারেনি —
তার মধ্যে।

আমি অনেক মানুষ দেখেছি,
যারা নদীর মতো কথা বলে।
আবার কিছু মানুষ আছে,
যারা সমুদ্রের মতো,
তাদের নীরবতা
তাদের ভাষার চেয়েও বিশাল।

তুমি কি কখনো
কারও চোখের দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ অনুভব করেছ —
সে কিছুই বলছে না,
তবু তার ভেতরে
একটা ঝড় বইছে?
আমি করেছি।
তখন বুঝেছি,
চোখ শুধু আলো দেখে না।
কখনো কখনো
অপ্রকাশও দেখে।

আমার ভেতরের সমুদ্র
একদিনে তৈরি হয়নি।
একটা প্রত্যাখ্যান
একটু জল এনেছে।
একটা ভালোবাসা
একটু লবণ।
একটা মৃত্যু
একটু গভীরতা।
একটা ক্ষমা
একটু জোয়ার।
একটা না-বলা বাক্য
আরও একটা অন্ধকার স্রোত।
এভাবেই
আমি অজান্তে
নিজের ভেতরে
একটা সমুদ্র তৈরি করেছি।

অদ্ভুত বিষয় —
সমুদ্র যত গভীর,
তার উপরিভাগ
তত শান্ত দেখায়।
হয়তো সেই কারণেই
সবচেয়ে ভেঙে পড়া মানুষটাও
অনেক সময়
সবচেয়ে স্থির দেখায়।

আমরা মানুষের মুখ পড়তে শিখি,
মনও পড়তে পারি।
তার পোশাক,
তার পরিচয়,
তার সাফল্য।
কিন্তু কেউ শেখায় না,
কীভাবে
একজন মানুষের নীরবতার
গভীরতা পড়তে হয়।

একদিন আমি নিজের ভেতরে
ডুব দিতে চেয়েছিলাম।
ভাবলাম,
আমি নিজেকে চিনি।
কিছুদূর নামতেই দেখলাম,
এখানে এমন অনেক স্মৃতি আছে,
যাদের কথা
আমি বহু বছর ভাবিনি।
এমন অনেক ভয়,
যারা এখনো বেঁচে আছে।
এমন অনেক ভালোবাসা,
যারা কখনো মরেনি।

আমি আরও নিচে নামলাম।
সেখানে
কোনো শব্দ ছিল না।
কোনো নামও না।
শুধু একটা অনুভূতি —
আমি
আমি নই,
আমি আমার সব অভিজ্ঞতার
অদৃশ্য জলরাশি।

সেদিন প্রথম বুঝলাম,
মানুষের ভেতরের সমুদ্র
কাউকে দেখানোর জন্য নয়।
নিজেকে হারিয়ে
আবার খুঁজে পাওয়ার জন্য।

আজ যদি কেউ জিজ্ঞেস করে,
"তোমার সবচেয়ে বড় সম্পদ কী?"
আমি কোনো বইয়ের কথা বলব না।
কোনো অর্জনেরও নয়।
আমি বলব —
আমার ভেতরের সমুদ্র।
কারণ সেখানে
আমার সব কান্না আছে,
যেগুলো কেউ দেখেনি।
সব ভালোবাসা,
যেগুলো কেউ জানেনি।
সব ক্ষমা,
যেগুলো উচ্চারিত হয়নি।
সব প্রশ্ন,
যেগুলোর উত্তর পাইনি।
আর আছে
একটা ছোট্ট আলো।
যে আলো
প্রতিটি ঝড়ের পরেও
নিভে যায়নি।

হয়তো মানুষকে
বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
যেমন
সমুদ্রকে
তীরে দাঁড়িয়ে বোঝা যায় না।
ডুব দিতে হয়।
ঝুঁকি নিতে হয়।
নিজের শ্বাসও
কিছুক্ষণ ভুলে যেতে হয়।
তারপর একসময়
অন্ধকারের গভীরে
একটা মুক্তো দেখা যায়।
আমি জানি,
সেই মুক্তোটার নাম
সত্য নয়।
সুখও নয়।

তার নাম —
"অপ্রকাশ।"

কারণ মানুষের ভেতরে
যা সবচেয়ে গভীর,
তা কখনো সম্পূর্ণ
ভাষায় ভেসে ওঠে না।

সে শুধু
নিঃশব্দে
সমুদ্র হয়ে থাকে।

ভেতরের সমুদ্র

(অপ্রকাশ)

মানুষের জীবনের সবচেয়ে
রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোতে
এক ফোঁটা রক্তও ঝরে না,
শুধু ধীরে ধীরে
একটা মানুষ বদলে যায়।

আমি বহুবার
যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়েছি,
কেউ তা দেখেনি।
কারণ যুদ্ধগুলো
আমার বুকের ভেতরে ঘটেছিল।
একদিকে ছিল
আমি যেমন হতে চেয়েছিলাম,
অন্যদিকে
আমি যেমন হয়ে উঠছিলাম।
এই দুই মানুষের মধ্যে
প্রতিদিন একটা সূর্য অস্ত যেত।

একটা শিশু
তার প্রথম মিথ্যার পরে
যে যুদ্ধ শুরু করে,
একজন বৃদ্ধও
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত
সেই যুদ্ধ শেষ করতে পারে না।
আমরা সবাই
নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিই,
নিজের পক্ষেও।

একই আদালতে,
একই বিচারক,
একই আসামি,
রায় শুধু বদলে যায়।

একদিন খুব ইচ্ছে করছিল
একজন মানুষকে ঘৃণা করতে,
কারণ সে আমাকে
ভেঙে দিয়েছিল,
অপমান করেছিল,
আমার নীরবতাকে
দুর্বলতা ভেবেছিল।
আমি সারারাত
তার বিরুদ্ধে যুক্তি সাজিয়েছি।

ভোরবেলা
হঠাৎ মনে হলো —
আমি যদি তার মতোই হয়ে যাই,
তবে আমার জয় কোথায়?
সেদিন প্রথমবার বুঝলাম —
মানুষের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয়,
অন্যায়ের মতো হয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে।

আমাদের ভেতরে
প্রতিদিন দুটো বীজ জন্মায়।
একটা অন্ধকারের,
একটা আলোর।
দুটোই আমাদেরই সন্তান।
যাকে আমরা জল দিই,
সে-ই বড় হয়।

আমি কখনো কখনো
আমার ভেতরের নিষ্ঠুর মানুষটাকে
দেখতে পাই।
সে খুব যুক্তিবাদী,
সে প্রতিশোধের ভাষা জানে,
সে বলে,
"ক্ষমা করে কী লাভ?"

তার পাশেই
আরেকজন চুপচাপ বসে থাকে।
সে কোনো তর্ক করে না,
শুধু একটা শুকনো গাছে
প্রতিদিন একটু করে জল দেয়।

আমি জানি না,
সে কেন এমন করে।
কিন্তু বহু বছর পরে দেখেছি —
প্রতিশোধের গাছ
খুব দ্রুত বড় হয়,
কিন্তু তার ছায়ায়
কেউ বিশ্রাম নিতে পারে না।
আর মমতার গাছ
ধীরে বড় হয়,
তবু একদিন
অচেনা পথিকও
তার নিচে বসে পড়ে।

হয়তো
আমার ভেতরের যুদ্ধ
ভালো আর মন্দের নয়,
দ্রুত আর ধীরের।
সহজ আর সত্যের।
অহংকার আর বিনয়ের।

পৃথিবী আমাকে
কতবার হারিয়েছে,
তার হিসাব নেই।
কিন্তু আমি জানি,
আমি নিজেকে
কতবার হারাতে হারাতে
শেষ মুহূর্তে ফিরে পেয়েছি।
সেই সংখ্যাটাই
আমার জীবন।

আজ আমি
কোনো বিজয়ের গল্প
লিখতে চাই না,
কারণ বিজয়
মানুষকে বড় করে না,
সংযম করে।

একটা অপমানের উত্তর
অপমান দিয়ে না দেওয়া —
এটাও একটা যুদ্ধ।
একটা বিদায়ের পরেও
কারও জন্য শুভকামনা রেখে দেওয়া —
এটাও একটা যুদ্ধ।
অন্ধকারের মধ্যে থেকেও
নিজের ভেতরের আলোকে
অন্যের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করা —
এটাও একটা যুদ্ধ।

হয়তো
মানুষের ইতিহাস
যুদ্ধ দিয়ে লেখা হয়েছে,
কিন্তু মানুষের আত্মা
বেঁচে আছে
যেসব যুদ্ধ
সে কাউকে না জানিয়ে
নিজের ভেতরে জিতে গেছে,
সেগুলোর জন্য।

আজ রাতে
আমি আবার
নিজের সামনে বসব।
কোনো বিচার হবে না।
কোনো শাস্তি নয়।
শুধু একটা প্রশ্ন —
আজকের দিনটা শেষে
আমি কি
আমার ভেতরের মানুষটাকে
একটু বেশি মানুষ
করে তুলতে পেরেছি?

যদি উত্তর "হ্যাঁ" হয়,
তবে পৃথিবী জানুক বা না জানুক,
আজও
আমার নীরব যুদ্ধ
পরাজিত হয়নি।

নীরব যুদ্ধ

(অপ্রকাশ)

মানুষের প্রথম পরিচয়
তার নাম নয়,
তার কান্না।

জন্মের মুহূর্তে
কেউ আমার নাম জানত না,
তবু সবাই বুঝেছিল —
আমি এসে গেছি,
অনেক পরে
আমাকে একটা নাম দেওয়া হলো।

আমি সেই নামেই বড় হলাম।
সেই নামেই স্কুলে ডাক পড়ল।
সেই নামেই প্রেমপত্র লেখা হলো।
সেই নামেই স্বাক্ষর করলাম
অসংখ্য কাগজে।

একদিন মনে হলো —
এই নামটা কি সত্যিই আমি?
নাকি
আমি শুধু
এই নামটার ভেতরে
বহু বছর ধরে বাস করছি?

একদিন গ্রামের এক বৃদ্ধের সঙ্গে
দেখা হয়েছিল।
তিনি অনেকক্ষণ
আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন,
হঠাৎ বললেন,
"মুখটা খুব চেনা লাগছে।
নামটা মনে পড়ছে না।"
আমি হেসেছিলাম,
কিন্তু বাড়ি ফিরেও
কথাটা আমার ভেতরে রয়ে গেল।

যদি একদিন
সবাই আমার নাম ভুলে যায়,
তাহলে কি আমি
অদৃশ্য হয়ে যাব?
আমরা নাম ধরে ডাকি,
কিন্তু নামকে কি ভালোবাসি?

মা কখনো
আমার পুরো নাম ধরে ডাকতেন না।
বাবার কণ্ঠেও
নামের চেয়ে
স্নেহ বেশি ছিল।
যারা সত্যিই আমাকে ভালোবেসেছে,
তারা কখনো
আমার নামকে ভালোবাসেনি,
তারা ভালোবেসেছিল
আমার ভয়,
আমার নীরবতা,
আমার অসমাপ্ত বাক্য,
আমার ভুল,
আমার অপেক্ষা।

একদিন পুরোনো একটা ডায়েরি খুলে দেখি,
কিছু নাম,
আজ আর কিছু মুখ মনে পড়ে না।
আবার কিছু মুখ আছে,
যাদের নাম
সময়ের কাছে হারিয়ে গেছে,
তবু তাদের উপস্থিতি
এখনো আমার জীবনে রয়ে গেছে।
তখন বুঝলাম —
স্মৃতি নাম দিয়ে বাঁচে না,
অনুভূতি দিয়ে বাঁচে।

আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই,
আসলে আমরা ভয় পাই —
একদিন কেউ আর
আমাদের নাম উচ্চারণ করবে না।

কিন্তু হয়তো
মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ জীবন
নামের মধ্যে নয়,
কারও আচরণে,
কারও সাহসে,
কারও ক্ষমায়,
কারও রেখে যাওয়া কোমলতায়।

আমি আজ যদি
নিজের নামটা খুলে রাখি,
একটা পুরোনো জামার মতো —
তাহলে কী বাকি থাকবে?

একটা শিশু,
যে প্রথম আকাশ দেখে
বিস্মিত হয়েছিল।
একজন কিশোর,
যে নিজের ছায়াকে ভয় পেয়েছিল।
একজন মানুষ,
যে অনেক কথা বলতে পারেনি।
আর একটা হৃদয়,
যে এখনো
ভালো হতে চায়।
হয়তো এগুলোই
আমার সত্য পরিচয়,
নাম নয়।

সমাধিফলকে
একটা নাম লেখা থাকে,
কিন্তু যারা সত্যিই কাঁদতে আসে,
তারা পাথরের অক্ষর পড়ে না।
তারা মনে করে
একটা কণ্ঠস্বর,
একটা হাসি,
একটা স্পর্শ,
একটা নীরব উপস্থিতি।

আজ আমি আর
আমার নামকে
ধরে রাখতে চাই না।
আমি চাই,
যেদিন আমার নাম
পৃথিবী ভুলে যাবে,
সেদিনও
কোনো এক অচেনা মানুষ
আমার একটা বাক্যে,
একটা কবিতায়,
অথবা
কারও প্রতি আমার রেখে যাওয়া
সামান্য মমতায়
নিজেকে চিনে ফেলুক।

কারণ
মানুষের শেষ পরিচয়
তার নাম নয়,
সে অন্য মানুষের হৃদয়ে
কী নামে বেঁচে থাকে —
তাও নয়।
সে আদৌ
কোনো নাম ছাড়াই
বেঁচে থাকতে পারে কি না!—
হয়তো
সেই প্রশ্নের ভেতরেই
একটা জীবনের
সবচেয়ে সত্য উত্তর
লুকিয়ে থাকে।

হারিয়ে যাওয়া নাম

(অপ্রকাশ)

সব ভুলের বিচার হয় না।
সব অপরাধের শাস্তি হয় না।
আর সব ক্ষমাও
মানুষের ভাগ্যে লেখা থাকে না।

অনেক বছর আগে
একদিন সাহস করে বলেছিলাম —
"ক্ষমা করো।"
শব্দটা বলার আগে
আমার অহংকার ভেঙেছিল।
শব্দটা বলার পরে পৃথিবী দেখেছিল
আমার নীরবতা।

সে দীর্ঘক্ষণ
আমার দিকে তাকিয়ে ছিল,
তার চোখে রাগ ছিল না,
ঘৃণাও না,
ছিল শুধু এমন এক ক্লান্তি,
যা অনেকদিন ধরে
অপেক্ষা করতে করতে জন্মায়।

সে কিছুক্ষণ পরে বলল,
"আমি পারছি না।"
শুধু এই তিনটা শব্দ।
কোনো অভিযোগ নয়,
কোনো তর্ক নয়,
শুধু —
"আমি পারছি না।"
সেদিন প্রথম বুঝলাম,
ক্ষমা
কাউকে বাধ্য করে
আদায় করা যায় না,
ক্ষমা
ভালোবাসার মতোই স্বাধীন।

যে দিতে পারে,
সে দেয়।
যে পারে না,
তারও একটা ইতিহাস থাকে।

আমি অনেকদিন
তার ওপর অভিমান করেছিলাম।
ভাবতাম —
আমি তো ভুল স্বীকার করেছি,
তবু কেন?
আজ বুঝি —
ক্ষমা চাওয়া আমার কাজ।
ক্ষমা করা তার স্বাধীনতা।

মানুষ প্রায়ই
নিজের অনুতাপকে
অন্যের দায়িত্ব বানিয়ে ফেলে,
আমিও করেছিলাম।
আমরা ভুলে যাই,
যে ক্ষত আমি একদিন দিয়েছি,
তার ব্যথার সময়সূচি
আমার হাতে নয়।

আমি তো শুধু
একটা বাক্য বলেছি।
সে বহন করেছে
অনেকগুলো রাত,
অনেকগুলো নিঃশব্দ সকাল,
অনেকগুলো ভাঙা বিশ্বাস।
তাহলে
তার না-পারা কি অন্যায়?

একদিন নদীর ধারে বসে ছিলাম।
দেখলাম,
একটা শুকনো পাতা
বারবার জলে ভাসতে চায়,
কিন্তু একটা পাথরের পাশে
আটকে যাচ্ছে,
নদী তাকে টানছে,
পাথর তাকে ধরে রাখছে।

হয়তো মানুষের হৃদয়ও তেমন,
কিছু মানুষ
ক্ষমা করতে চায়,
কিন্তু স্মৃতি
তাদের হাত ছাড়ে না।

আজ আমি
সেই মানুষটার জন্য
আর কোনো অভিযোগ রাখি না।
কারণ আমি জানি,
যে ক্ষমা পাইনি,
সেটাও আমার শিক্ষকের মতো।
সে আমাকে শিখিয়েছে —
ভুল করার আগে দুবার ভাবতে।
কারণ
সব ভাঙা জিনিস জোড়া লাগে না।
সব ফিরে আসা
ফিরে পাওয়া নয়।

আজও
কখনো কখনো
সেই মুখটা মনে পড়ে।
তবে আমি আর মনে মনে বলি না —
"সে কেন আমাকে ক্ষমা করল না?"
আমি শুধু ভাবি —
"আমি যেন আর
কাউকে এমন জায়গায় না পৌঁছে দিই,
যেখানে ক্ষমা করাও
তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে যায়।"

হয়তো মানুষ
ক্ষমা পেয়েই বড় হয় না,
কখনো কখনো
না-পাওয়া ক্ষমার ভার নিয়েও
সে আরও বিনয়ী হয়ে ওঠে।
আজ আমার ভেতরে
একটা পুরোনো দরজা
চিরদিনের মতো বন্ধ।
আমি আর তাকে খুলি না।
দরজার ওপাশে
একজন মানুষ আছে,
যে আমাকে ক্ষমা করতে পারেনি।
আর এপাশে
আমি আছি —
যে অবশেষে শিখেছে,
সব অনুতাপের শেষ
ক্ষমা নয়।

কিছু অনুতাপের শেষ দায়িত্ব হলো
নিজেকে এমন মানুষে পরিণত করা,
যার জন্য
আর কোনোদিন কাউকে বলতে না হয় —
"আমি পারছি না।"

যে ক্ষমা পাইনি

বাছাইকৃত কবিতা

অপ্রকাশ

- মোঃ আবু তালেব

(অপ্রকাশ)

আমি আজ আর বিশ্বাস করি না
মানুষ তার বলা কথাগুলোর সমষ্টি।

আমি বিশ্বাস করি,
মানুষ তৈরি হয়
যে কথাগুলো সে কোনোদিন
বলতে পারেনি,
সেগুলো দিয়ে।

একটা জীবন
যতটা উচ্চারিত,
তার চেয়ে অনেক বেশি
অপ্রকাশিত।

আমরা জন্মের পর
ভাষা শিখি।
কিন্তু তারও আগে
অনুভব করতে শিখি।

আর মৃত্যুর আগে
আবার ভাষা হারাতে শুরু করি।

দেখো —
একটা নবজাতক
কথা বলতে পারে না।
একজন মৃত্যুপথযাত্রীও
অনেক সময় পারে না।

জীবনের শুরু আর শেষ —
দু'প্রান্তেই
অপ্রকাশ দাঁড়িয়ে থাকে।

হয়তো
ভাষা শুধু মাঝের সেতু।

মানুষের প্রকৃত দেশ
শব্দ নয়।
অনুভব।

আমি বহু বছর ধরে
নিজেকে প্রকাশ করতে চেয়েছি।
কবিতায়।
কথায়।
নীরবতায়।
ভালোবাসায়।
ক্ষমায়।

তারপর একদিন বুঝলাম,
আমি যতই লিখি,
আমার ভেতরে
আরও অনেক লেখা
থেকে যায়।

যে কবিতাটা
আমি শেষ করতে পারিনি,
সেটাও আমার।
যে ভালোবাসাটা
আমি স্বীকার করিনি,
সেটাও আমার।
যে কান্নাটা
আমি লুকিয়ে রেখেছি,
সেটাও আমার।

যে ক্ষমাটা
আমি চাইতে পারিনি,
যে ক্ষমাটা
আমি পাইনি,
যে নামটা
সময় মুছে দিয়েছে,
যে যুদ্ধটা
কেউ দেখেনি,
যে সমুদ্রটা
শুধু আমি শুনেছি —

সব মিলিয়েই
আমি।

পৃথিবী মানুষকে
তার সাফল্য দিয়ে মাপে।
আমি তা মানি না।

আমি একজন মানুষকে
তার অপ্রকাশ দিয়ে
পড়তে চাই।

কারণ
যে মানুষ
কখনো কাউকে বলেনি
সে কতটা ভেঙে গেছে,
তবু অন্যের কাঁধে হাত রেখেছে —
তার ভেতরেই
মানবতার সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো জ্বলে।

যে নারী
নিজের স্বপ্ন
চুপচাপ ভাঁজ করে
সন্তানের ব্যাগে
দুপুরের খাবার রেখে দেয়,
তার নীরবতার ভেতরেও
একটা মহাকাব্য লেখা থাকে।

যে বৃদ্ধ
প্রতিদিন একই দরজার দিকে
তাকিয়ে থাকে,
কিন্তু কাউকে ডাকে না,
তার অপেক্ষারও
একটা ভাষা আছে।

পৃথিবী
সেই ভাষা শেখেনি।
আমি সেই ভাষার
শিক্ষার্থী হতে চাই।

আমি জানি,
আমার ভেতরের সব কথা
আমি কোনোদিন লিখতে পারব না।

এই বইও
আমাকে সম্পূর্ণ প্রকাশ করবে না।
কোনো কবিতা পারে না।
কোনো দর্শনও নয়।

কারণ
মানুষ
তার প্রকাশে শেষ হয় না।
সে শুরু হয়
তার অপ্রকাশে।

হয়তো
একদিন আমার নামও
ভুলে যাবে পৃথিবী।
আমার বই
ধুলোর নিচে ঘুমিয়ে থাকবে।
আমার কণ্ঠ
কেউ মনে রাখবে না।

তবু যদি
কোনো এক অচেনা মানুষ
রাতের গভীরে
নিজের বুকের ভেতর
একটা অজানা শূন্যতা অনুভব করে,
আর এই কবিতার একটা বাক্য পড়ে
হঠাৎ মনে হয় —

**"এ তো আমারই কথা।"**

তাহলে
আমার সমস্ত লেখা
সার্থক হবে।

কারণ
আমি কোনো নতুন মানুষ
সৃষ্টি করতে চাই না।

আমি শুধু
মানুষকে
তার নিজের ভেতরে
লুকিয়ে থাকা
অপ্রকাশিত মানুষটির সঙ্গে
পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

সেখানেই আমার কবিতা।
সেখানেই আমার দর্শন।
সেখানেই আমার সমস্ত জীবন।
বিস্তারিত...

ভেতরের সমুদ্র

- মোঃ আবু তালেব

(অপ্রকাশ)

মানুষের ভেতরে
একটা সমুদ্র থাকে।
তার কোনো মানচিত্র নেই,
কোনো তীর নেই,
কোনো জাহাজ
সেখানে পৌঁছায় না।
তবু সারাজীবন
আমরা সেই সমুদ্র নিয়েই
হেঁটে বেড়াই।

ছোটবেলায় ভাবতাম,
মানুষের গভীরতা
তার জ্ঞানে,
পরে ভাবলাম,
তার অভিজ্ঞতায়।
এখন মনে হয়,
মানুষের গভীরতা
সে কতটুকু অনুভব করেছে,
আর কতটুকু
কাউকে বলতে পারেনি —
তার মধ্যে।

আমি অনেক মানুষ দেখেছি,
যারা নদীর মতো কথা বলে।
আবার কিছু মানুষ আছে,
যারা সমুদ্রের মতো,
তাদের নীরবতা
তাদের ভাষার চেয়েও বিশাল।

তুমি কি কখনো
কারও চোখের দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ অনুভব করেছ —
সে কিছুই বলছে না,
তবু তার ভেতরে
একটা ঝড় বইছে?
আমি করেছি।
তখন বুঝেছি,
চোখ শুধু আলো দেখে না।
কখনো কখনো
অপ্রকাশও দেখে।

আমার ভেতরের সমুদ্র
একদিনে তৈরি হয়নি।
একটা প্রত্যাখ্যান
একটু জল এনেছে।
একটা ভালোবাসা
একটু লবণ।
একটা মৃত্যু
একটু গভীরতা।
একটা ক্ষমা
একটু জোয়ার।
একটা না-বলা বাক্য
আরও একটা অন্ধকার স্রোত।
এভাবেই
আমি অজান্তে
নিজের ভেতরে
একটা সমুদ্র তৈরি করেছি।

অদ্ভুত বিষয় —
সমুদ্র যত গভীর,
তার উপরিভাগ
তত শান্ত দেখায়।
হয়তো সেই কারণেই
সবচেয়ে ভেঙে পড়া মানুষটাও
অনেক সময়
সবচেয়ে স্থির দেখায়।

আমরা মানুষের মুখ পড়তে শিখি,
মনও পড়তে পারি।
তার পোশাক,
তার পরিচয়,
তার সাফল্য।
কিন্তু কেউ শেখায় না,
কীভাবে
একজন মানুষের নীরবতার
গভীরতা পড়তে হয়।

একদিন আমি নিজের ভেতরে
ডুব দিতে চেয়েছিলাম।
ভাবলাম,
আমি নিজেকে চিনি।
কিছুদূর নামতেই দেখলাম,
এখানে এমন অনেক স্মৃতি আছে,
যাদের কথা
আমি বহু বছর ভাবিনি।
এমন অনেক ভয়,
যারা এখনো বেঁচে আছে।
এমন অনেক ভালোবাসা,
যারা কখনো মরেনি।

আমি আরও নিচে নামলাম।
সেখানে
কোনো শব্দ ছিল না।
কোনো নামও না।
শুধু একটা অনুভূতি —
আমি
আমি নই,
আমি আমার সব অভিজ্ঞতার
অদৃশ্য জলরাশি।

সেদিন প্রথম বুঝলাম,
মানুষের ভেতরের সমুদ্র
কাউকে দেখানোর জন্য নয়।
নিজেকে হারিয়ে
আবার খুঁজে পাওয়ার জন্য।

আজ যদি কেউ জিজ্ঞেস করে,
"তোমার সবচেয়ে বড় সম্পদ কী?"
আমি কোনো বইয়ের কথা বলব না।
কোনো অর্জনেরও নয়।
আমি বলব —
আমার ভেতরের সমুদ্র।
কারণ সেখানে
আমার সব কান্না আছে,
যেগুলো কেউ দেখেনি।
সব ভালোবাসা,
যেগুলো কেউ জানেনি।
সব ক্ষমা,
যেগুলো উচ্চারিত হয়নি।
সব প্রশ্ন,
যেগুলোর উত্তর পাইনি।
আর আছে
একটা ছোট্ট আলো।
যে আলো
প্রতিটি ঝড়ের পরেও
নিভে যায়নি।

হয়তো মানুষকে
বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
যেমন
সমুদ্রকে
তীরে দাঁড়িয়ে বোঝা যায় না।
ডুব দিতে হয়।
ঝুঁকি নিতে হয়।
নিজের শ্বাসও
কিছুক্ষণ ভুলে যেতে হয়।
তারপর একসময়
অন্ধকারের গভীরে
একটা মুক্তো দেখা যায়।
আমি জানি,
সেই মুক্তোটার নাম
সত্য নয়।
সুখও নয়।

তার নাম —
"অপ্রকাশ।"

কারণ মানুষের ভেতরে
যা সবচেয়ে গভীর,
তা কখনো সম্পূর্ণ
ভাষায় ভেসে ওঠে না।

সে শুধু
নিঃশব্দে
সমুদ্র হয়ে থাকে।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4599
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1674
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1642
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1566
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1561
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1487
মানুষ মোঃ আবু তালেব 1452
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1444
রমণী মোঃ আবু তালেব 1422
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1386
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1386
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1386
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1349
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1344
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1343
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1340
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1340
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1325
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1313
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1312
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
অপ্রকাশ মোঃ আবু তালেব 12
ভেতরের সমুদ্র মোঃ আবু তালেব 23
নীরব যুদ্ধ মোঃ আবু তালেব 23
হারিয়ে যাওয়া নাম মোঃ আবু তালেব 59
যে ক্ষমা পাইনি মোঃ আবু তালেব 15
যে ক্ষমা চাইনি মোঃ আবু তালেব 21
অসমাপ্ত চিঠি মোঃ আবু তালেব 25
গোপন প্রেম মোঃ আবু তালেব 26
অদেখা কান্না মোঃ আবু তালেব 24
যে কথাটি বলিনি মোঃ আবু তালেব 23
আমি কে? মোঃ আবু তালেব 65
প্রথম নীরবতা মোঃ আবু তালেব 55
প্রথম মিথ্যা মোঃ আবু তালেব 57
প্রথম লজ্জা মোঃ আবু তালেব 51
একা হওয়ার দিন মোঃ আবু তালেব 55
যে আমাকে কেউ দেখেনি মোঃ আবু তালেব 58
আমার ছায়া মোঃ আবু তালেব 64
আয়নার ভেতরের মানুষ মোঃ আবু তালেব 65
প্রথম প্রশ্ন মোঃ আবু তালেব 71
প্রথম ভয় মোঃ আবু তালেব 84
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 52
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 52
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 63
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 58
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 67
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 104
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 134
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 134
ভালো মানুষ ইবনে আলী 232
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 133
শিকল ইবনে আলী 206
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 243
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 219
বসন্ত জয়দীপ রায় 239
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 155
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 293
জীবন ও বৃক্ষ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 271
মানবতা বনাম স্বার্থপরতা: এক যুদ্ধাহত পৃথিবীর আর্তনাদ! শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 285
সোনার দেশ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 304
মুসলিম সংখ্যালঘু শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 248
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে