কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মিলনায়তনের নরম লাল গদির চেয়ারে বসে
হাজারটা হাত যখন একসঙ্গে একে অপরের ওপর আছড়ে পড়ে,
তখন দূর থেকে মনে হয়—এই বুঝি কোনো পরম সত্যের জন্ম হলো!

শব্দটা চারপাশের কংক্রিটের দেওয়াল কাঁপিয়ে তোলে,
মাইক্রোফোনের স্পিকারে প্রতিধ্বনিত হয়,
আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার মুখে ফুটিয়ে তোলে
এক নিপুণ, সুবিন্যস্ত আত্মতৃপ্তির হাসি।

কিন্তু এই করতালি আসলে কীসের শব্দ?

এটা কি কোনো নতুন আবিষ্কারের আনন্দ?
নাকি হাজারটা মানুষের একসঙ্গে মাথা নত করার এক অলিখিত সনদপত্র?

ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে করতালি দেওয়া এই পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ কাজ।
এতে কোনো ঝুঁকি নেই, কোনো আইনি জটিলতা নেই,
নিজের নাম প্রকাশ করার কোনো দায় নেই।
করতালি দিলে প্রমাণ করতে হয় না তুমি বক্তার কথা বিশ্বাস করেছ কি না;
শুধু সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুটো হাতের তালু পিটিয়ে দিলেই হলো—
মুহূর্তেই তুমি একজন বাধ্য, সভ্য এবং অনুগত নাগরিক হয়ে উঠবে।

মঞ্চের বক্তা যখন চড়া গলায় একটা নির্জলা মিথ্যা ঘোষণা করেন,
যখন তিনি অনাহারক্লিষ্ট মানুষের মানচিত্রে বসে শোনান এক রূপকথার গল্প—
তখনও করতালি থামে না।
বরং হাততালির শব্দটা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
যেন মানুষ করতালি দিচ্ছে বক্তাকে সমর্থন জানাতে নয়;
মানুষ হাততালি দিচ্ছে যাতে তাদের নিজেদের বুকের ভেতরের বিবেক
কোনো অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তাদের বিব্রত করতে না পারে।

করতালি হলো এই সভ্যতার এক ভয়ংকর মাদক।
সে এত বেশি শব্দ তৈরি করে—
যাতে মেঝের ওপর খসে পড়া কোনো নিপীড়িত মানুষের গোঙানির আওয়াজও
কারও কানে পৌঁছাতে না পারে।

কিন্তু এই কোলাহল চিরস্থায়ী হয় না।
সভা শেষ হয়, সাইরেন বাজিয়ে কনভয় চলে যায়,
হলরুমের উজ্জ্বল আলোগুলো একে একে নিভিয়ে দেওয়া হয়।

যখন মেঝের ওপর পড়ে থাকে কেবল ফেলে দেওয়া পানির বোতল আর ছেঁড়া লিফলেট,
আর দরজার কোণে ঝাড়ু হাতে এসে দাঁড়ায় এক নিঃশব্দ পরিচ্ছন্নতাকর্মী—
ঠিক তখনই সেই শূন্য মিলনায়তনে নেমে আসে ‘প্রথম নিরবতা’।

সেই নিরবতার কোনো হাত নেই, কোনো করতালি নেই।
সে কেবল শূন্য ডায়াসটার দিকে তাকিয়ে এক অমোঘ রায় দিয়ে যায়—

যে হাতগুলো এতক্ষণ করতালি দিয়ে রক্তিম হয়ে উঠেছিল,
তারা কোনো মহৎ মানুষকে অভিবাদন জানায়নি;
তারা আসলে নিজের অজান্তেই হাততালি বাজিয়ে
নিজেদেরই মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য উদযাপন করে বাড়ি ফিরে গেছে—
আর ফেলে রেখে গেছে
সমগ্র জাতির এক দীর্ঘ, অসমাপ্ত আর্তনাদ।

করতালি

আমি বহুবার খুঁজে দেখেছি—সমাজ থাকে কোথায়?
কোন ফ্ল্যাটে তার বাসা?
জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম কী লেখা আছে?

তার কোনো সুনির্দিষ্ট শরীর নেই, কোনো রক্তমাংসের মুখ নেই।
অথচ এই শহরের প্রতিটি গলির মোড়ে,
চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে,
কিংবা জানালার ভারী পর্দার সামান্য ফাঁকে
তার হাজার হাজার সতর্ক চোখ অনবরত পাহারা বসিয়ে রেখেছে।

যখন ঘরের কোণে চালের ড্রামটা শূন্য হয়ে যায়,
যখন প্রেসক্রিপশনের দাম মেটাতে না পেরে এক যুবক মধ্যরাতে একা গলি দিয়ে হেঁটে যায়—
তখন এই সমাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
তখন তার কোনো কান নেই, কোনো তহবিল নেই,
কোনো ব্যথিত দীর্ঘশ্বাস ফেলার মতো সময় নেই।

কিন্তু সেই অভাবী মানুষটা যদি বাঁচার তাড়নায় কোনো একটা ভুল করে বসে,
কিংবা কোনো অপমানিত নারী যদি নিজের খাঁচা ভেঙে এক পা বাইরে বাড়ায়—
তখন এই সমাজ মুহূর্তের মধ্যে জেগে ওঠে।
অজস্র নীতিবান বিচারক তখন পকেট থেকে ফতোয়া বের করে,
রাস্তার মোড়ে মোড়ে আদালত বসিয়ে দেয়,
আর পাথর ছুড়ে মারার জন্য সবার হাত একসঙ্গে উঁচিয়ে ওঠে।

সমাজ আসলে কোনোদিন মানুষকে বাঁচাতে আসেনি।
সে এসেছে মানুষের ডানাগুলোকে নিখুঁতভাবে ছেঁটে দেওয়ার জন্য;
যাতে কেউ এই বন্দিশালার চেয়ে উঁচুতে উড়তে না পারে।

সে দুর্বলকে ক্ষমা করে না,
আর সবলকে প্রশ্ন করার সাহস পায় না।
সে কেবল দুর্বলতম মানুষটার টুঁটি চেপে ধরে
নিজের সমস্ত ভণ্ডামি আর পাপকে ধুয়ে ফেলার নাটক করে।

মানুষ যখন এই সমাজের সমস্ত অবিচার সহ্য করতে করতে
একদিন সব আর্তনাদ থামিয়ে দেয়,
যখন সে বিচার চাওয়া বন্ধ করে দেয়,
তখন সেই অন্যায়ের স্তূপের নিচে জন্ম নেয় ‘প্রথম নিরবতা’।

সেই নিরবতার সামনে দাঁড়ালে সমাজের কোনো আইন কাজ করে না।
সেই নিরবতা সমাজকে এক নগ্ন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়—

সমাজ আসলে সভ্য কোনো ব্যবস্থার নাম নয়;
সমাজ হলো একদল ভীতু মানুষের তৈরি করা এমন এক অদৃশ্য গিলোটিন—
যেখানে প্রতিদিন একটি করে স্বাধীন মানুষকে হত্যা করা হয়,
যাতে তারা কোনোদিন বুঝতে না পারে
সমাজ নামক এই বিশাল অট্টালিকাটি দাঁড়িয়ে আছে
কোটি কোটি অসমাপ্ত বাক্যের লাশের ওপর।

সমাজ

মঞ্চের সমস্ত চড়া আলো যখন নিভে যায়,
দর্শকের করতালির শেষ প্রতিধ্বনিটুকুও যখন বাতাসে মিলিয়ে যায়—
তখন মানুষ গ্রিনরুমে ফিরে আসে একা।

সে একে একে খুলে ফেলে তার পরিচিত রূপগুলো—
অন্যকে বশ করার মুখোশ,
সমাজকে তুষ্ট করার মুখোশ,
ধনী সাজার মুখোশ, কিংবা ক্ষমতাবানের কৃত্রিম দয়ার মুখোশ।
সবগুলো টেবিলের ওপর পরিপাটি করে সাজিয়ে রেখে
সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে—এবার বুঝি সে মুক্ত।
এবার বুঝি নিজের আসল চামড়ায় একটু বিশুদ্ধ বাতাস লাগবে।

কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাত বাড়াতেই
সে এক হিমশীতল আতঙ্কে থমকে যায়।
সে দেখে—মুখের ওপর এখনো একটি শেষ আস্তরণ শক্ত হয়ে লেগে আছে।

এই শেষ মুখোশটি কোনো প্লাস্টিক বা রঙের তৈরি নয়।
এটা কেনা হয়নি কোনো বাজারের দোকান থেকে।
এটা তৈরি হয়েছে মানুষের আজন্মের এক গোপন অহংকার দিয়ে—
যার নাম: ‘আমি ভালো আছি।’

এই শেষ মুখোশটি পরেই একজন পিতা
অফিসের সমস্ত লাঞ্ছনা আর ব্যর্থতা গিলে ফেলে
ঘরে ঢুকে সন্তানের সামনে এক অদ্ভুত কৃত্রিম হাসি হাসে।
এই মুখোশটি পরেই একজন নিঃস্ব মানুষ
বন্ধুদের আড্ডায় বসে সবচেয়ে চড়া গলায় কৌতুক শোনায়,
যাতে কেউ তার চোখের গভীরে জমে থাকা অন্ধকারটা মেপে ফেলতে না পারে।
এই মুখোশটি পরেই মানুষ মৃত্যুর আগের রাতেও
বুকের তীব্র ব্যথাটা দাঁতে দাঁত চেপে চেপে রাখে,
যাতে পাশের বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা মানুষটির ঘুম ভেঙে না যায়।

অন্য সব মুখোশ মানুষ পরে অন্যকে ঠকানোর জন্য;
কিন্তু এই শেষ মুখোশটি মানুষ পরে কেবল নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।
এটা কোনো প্রতারণা নয়;
এটা হলো এই নির্দয় পৃথিবীর সামনে নিজের করুণ পরাজয়কে ঢেকে রাখার
চরমতম, শেষ মানবিক প্রতিরোধ।

কিন্তু এই আবরণ মানুষকে শান্তি দেয় না।
ভেতরে ভেতরে ক্ষতটা গ্যাংগ্রিনের মতো ছড়াতে থাকে,
আর মানুষ একটু একটু করে নিজেরই নিঃশ্বাসের ভারে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসে।

তারপর এক নিঃসঙ্গ প্রহরে,
যখন আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট থাকে না,
যখন মিথ্যার শেষ সান্ত্বনাটুকুও বরফের মতো গলে যায়—
তখন খসে পড়ে এই শেষ মুখোশটিও।

ঠিক সেই মুহূর্তে মানুষের জীবনে নেমে আসে ‘প্রথম নিরবতা’।

কোনো আবরণ নেই, কোনো অভিনয় নেই, কোনো অজুহাত নেই।
আয়নার সামনে তখন দাঁড়িয়ে থাকে এক সম্পূর্ণ অনাবৃত, রক্তাক্ত সত্তা—
যে অবশেষে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে স্বীকার করতে বাধ্য হয়:

সে কোনো বিজয়ী গল্প হতে পারেনি;
সে ছিল সারা জীবন নিজেকে লুকিয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টায়
ক্ষয়ে যাওয়া এক অসহায়, অসমাপ্ত বাক্য।

শেষ মুখোশ

শহরের সবচেয়ে জনবহুল মোড়ে
খুব পরিপাটি কাচের শোকেস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই দোকান।
এর কোনো আলাদা সাইনবোর্ডের প্রয়োজন হয় না;
কোনো চটকদার লিফলেট বিলি করতে হয় না।
মানুষ খুব ভোরবেলা নিজের গরজেই এখানে লাইন দেয়।

তাকের ওপর অত্যন্ত যত্নে সাজানো আছে নানা মাপের মুখ—
অফিসের বসের সামনে দাঁড়ানোর জন্য খাঁটি আনুগত্যের মুখ,
ক্যামেরার ঝলকানিতে পরার মতো মানবিক সমাজসেবকের মুখ,
ড্রয়িংরুমে অতিথিদের চা দেওয়ার সময় ঝুলিয়ে রাখার মতো সুখী মানুষের মুখ,
আর পাওনাদারের মুখোমুখি হলে পরার জন্য অসহায় দীনতার মুখ।

এখানে সব ধরনের আয়োজন আছে।
শুধু নিজের আসল মুখটা লুকিয়ে রাখার জন্য
যে মাপের আবরণ দরকার, তা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেই হলো।

এই দোকানে কোনো কাগুজে নোটের লেনদেন হয় না।
দোকানি খুব শান্ত গলায় দামের হিসাব চায়—
একটুখানি আত্মমর্যাদা, কিছুটা সততা,
আর বুকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা শৈশবের সেই নিষ্কলুষ লজ্জা।

মানুষ নির্দ্বিধায় সেই দাম চুকিয়ে দেয়।
তারপর টাই বাঁধার মতো, কিংবা জুতোর ধুলো ঝাড়ার মতো—
মুখোশটা মুখের চামড়ার ওপর নিখুঁতভাবে এঁটে নিয়ে রাস্তায় নামে।

কেউ যদি কোনোদিন ভুলবশত নিজের আসল মুখ নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ে,
এই শহর তার দিকে আতঙ্কের চোখে তাকায়।
ট্রাফিকের মানুষ তাকে উন্মাদ ভাবে,
প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘরের কপাট আটকে দেয়;
কারণ সভ্যতার এই বাজারে নগ্ন সত্য মুখের চেয়ে
ভয়ংকর কোনো অপরাধ আর হতে পারে না।

মুখোশ পরে থাকতে থাকতে মানুষের এক অদ্ভুত আরাম হয়।
তাকে আর সত্যি বলে বিপদে পড়তে হয় না,
ক্ষতের রক্তক্ষরণ নিয়ে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না।

কিন্তু আসল বিভীষিকাটা শুরু হয় বহু বছর পর।

একদিন মধ্যরাতে, যখন সব কোলাহল নিভে যায়,
মানুষ যখন নিজের একলা ঘরের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
মুখোশটা খুলে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চায়—
তখন সে শিউরে উঠে আবিষ্কার করে,
মুখোশের আঠা আর কৃত্রিম রং তার রক্ত-মাংসের চামড়ার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে।
টান দিলে মাংস ছিঁড়ে আসে, কিন্তু মুখোশ আর আলগা হয় না।

ঠিক তখনই মানুষের জীবনে নেমে আসে ‘প্রথম নিরবতা’।

আয়নার ওপারে যে অচেনা অবয়বটি দাঁড়িয়ে থাকে,
সে কাঁদতে পারে না; কারণ তার চোখের জল বহু আগেই প্লাস্টিক হয়ে গেছে।
সে নিজের দিকে তাকিয়ে শুধু এক অসীম আতঙ্কে থমকে থাকে—

সে বুঝতে পারে, এই সমাজে বেঁচে থাকার সামান্য সুবিধা কিনতে গিয়ে
সে আসলে নিজের সমস্ত মানবিক অস্তিত্বই খুইয়ে ফেলেছে;
আর আয়নায় এখন যা দাঁড়িয়ে আছে—
তা কোনো মানুষ নয়,
একটি বিক্রি হয়ে যাওয়া মুখোশের ভেতর আটকে থাকা
অনন্তকালের এক বিকলাঙ্গ, অসমাপ্ত বাক্য।

মুখোশের দোকান

যে প্রেম খুব জোর গলায় নিজের দাবি ঘোষণা করেছিল,
সে তো একদিন সামাজিক স্বীকৃতির খাতায় সই করল;
তারপর সংসারের কিস্তির হিসাবে, বাজারের ব্যাগের ওজনে,
আর ছোটখাটো অভ্যাসের ঘর্ষণে একসময় ক্লান্ত হয়ে ফুরিয়ে গেল।

উচ্চারিত প্রেম শেষ পর্যন্ত এই পৃথিবীর নিয়মের কাছে ধরা দেয়।
সে দরদাম করে, আপস শেখে, আর বয়স বাড়লে বেঁচে থাকে কেবল দায়িত্বের খাতিরে।

কিন্তু সেই প্রেমটার কথা একবার ভাবো—
যে জীবনে কোনোদিন একটা শব্দও খরচ করেনি।

যার কোনো স্বাক্ষরিত চিঠি ছিল না,
মুঠোফোনের কোনো ইনবক্সে যার কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ জমা নেই।
তার কোনো আনুষ্ঠানিক জন্মদিন ছিল না,
কোনো ক্যাফের টেবিলে বসে অধিকার জাহির করার দৃশ্য ছিল না।

সে শুধু বেঁচে ছিল অত্যন্ত সামান্য কিছু ইঙ্গিতে—
ভিড় বাসের দরজায় অন্য কারও ধাক্কা থেকে বাঁচাতে গিয়ে
এক মুহূর্তের জন্য নিজের শরীরটাকে প্রাচীর বানিয়ে নেওয়া;
বৃষ্টির রাতে নিজের কাঁধ ভিজিয়ে দিয়ে
ছাতার সামান্য ছায়াটা অন্যজনের দিকে একটু বাড়িয়ে ধরা;
কিংবা রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে
ট্রাফিকের সবুজ বাতি জ্বলে ওঠার আগের তিন সেকেন্ড
এক অচেনা মানুষের মতো কেবল চোখ তুলে তাকিয়ে নেওয়া।

সে কেন কথা বলেনি?
সে কি ভীরু ছিল?
হয়তো সমাজ তাকে কাপুরুষ বলবে।
কিন্তু যে জানত নিজের পকেটে নড়বড়ে একজোড়া চটি জুতো ছাড়া আর কিছুই নেই,
যে জানত তার ভবিষ্যৎ বলতে অনিশ্চিত এক অন্ধকার পথ—
সে অন্য কারও সাজানো আকাশকে নিজের দারিদ্র্য দিয়ে ঢেকে দিতে চায়নি।

কথা না বলাটা কোনো দুর্বলতা ছিল না;
ওটা ছিল ভালোবাসার চরমতম আত্মমর্যাদা।
সে চেয়েছিল, যা সুন্দর—তা যেন এই নির্মম পৃথিবীর নোংরা দরদামে কোনোদিন না নামে।

সেই প্রেমই মানুষের জীবনে নামিয়ে আনে ‘প্রথম নিরবতা’।
যে নিরবতা কোনোদিন কাউকে অভিযুক্ত করে না,
কোনোদিন কোনো কৈফিয়ত দাবি করে না।
সে কেবল নিজের রক্তক্ষরণটুকু নিজের ভেতরেই গোপন রেখে
দূর থেকে অন্য মানুষের সুখ দেখে নিঃশব্দে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

পৃথিবী শুধু তাদেরই হিসাব রাখে—যারা দখল করতে পেরেছে,
যারা উল্লাস করেছে, উৎসবের আলো জ্বেলেছে।
কিন্তু মানুষ একা হলে নিজের বুকের নিভৃতে হাত দিয়ে যাকে স্পর্শ করে,
সে কোনো দখল করা সাম্রাজ্য নয়।

যে প্রেম কোনোদিন কথা বলেনি, সে আসলে হারায়নি;
সে এই হিসেবি পৃথিবীর সমস্ত কলুষতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে
চিরদিনের মতো সংরক্ষিত হয়ে রইল—
মানুষের বুকের গভীরতম ক্ষতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা
এক অবিনশ্বর, পবিত্র অসমাপ্ত বাক্য হয়ে।

নিরব প্রেম

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4856
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1893
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1818
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1765
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1714
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1691
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1655
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1626
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1580
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1567
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1562
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1554
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1543
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1517
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1511
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1506
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1497
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1492
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1491
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1474
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
করতালি প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 15
সমাজ প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 12
শেষ মুখোশ প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 14
মুখোশের দোকান প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 17
নিরব প্রেম প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 18
তুমি-আমি ও রাত প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 16
অপেক্ষার সময়গুলো প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 9
মানুষ (Human) অবিনব মো: আবু তালেব 24
ভুল মানুষের প্রেমে পড়া বারণ অবিনব মোঃ আবু তালেব 23
ঢাকা শহরের কোনো এক গলিতে শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 21
শহর (The City) শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 20
স্মৃতি অবিনব মোঃ আবু তালেব 26
অভিমান (oviman) অবিনব মোঃ আবু তালেব 26
নিখোঁজ শব্দগুলো অবিনব মোঃ আবু তালেব 45
অচিন গলি শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 45
জীবনের শেষ মুহুর্তের পর প্রথম নিরবতা মো: আবু তালেব 49
জীবন প্রথম নীরবতা মোঃ আবু তালেব (Md. Abu Taleb) 62
মৃত্যুর আগে মানুষ কতবার মরে শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 98
রাষ্ট্রের কাছে একটি শিশুর প্রশ্ন অবিনব মোঃ আবু তালেব 87
পৃথিবী, তুমি কি আমাকে মনে রাখবে অবিনব মোঃ আবু তালেব 93
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
বসন্ত আসেনি ফিরে বসন্ত আসেনি ফিরে আব্দুল্লাহ আল নোমান 99
আমরা নবীন বসন্ত আসেনি ফিরে আব্দুল্লাহ আল নোমান 43
দম্ভের দশ হাজার বাস্তব জীবন দরবেশ আল আমিন 73
আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যা প্ল্যান অপ্রকাশিত মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা 84
নীরব যোদ্ধা জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 102
শরৎ এর আগমন জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 121
শারদীয় উৎসব জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 91
একুশ জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 76
প্রেম চোখের জলে নদী মাজেদুল হক 93
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 118
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 139
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 106
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 112
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 119
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 102
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 105
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 116
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 119
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 140
ঋণ ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 137
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found