কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(জন্মের আগের নীরবতা)

পৃথিবী জন্মানোর আগে কী ছিল—
এই প্রশ্নে মানুষ আকাশের দিকে তাকায়।
আমি কল্পনা করি,
পৃথিবীর আগে না ছিল আলো, না অন্ধকার;
ছিল একটি অপেক্ষা।
সেই অপেক্ষার কোনো শব্দ ছিল না,
কোনো ভাষা ছিল না,
এমনকি স্রষ্টার কোনো উচ্চারণও ছিল না।
শুধু এমন এক নীরবতা ছিল,
যার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল সব সম্ভাবনা ।

আমি বিশ্বাস করি,
আমরা সেই নীরবতারই সন্তান।

তাই আমরা যখন খুব একা হয়ে যাই,
যখন সব শব্দ আমাদের ছেড়ে চলে যায়,
তখন আমরা ভয় পাই না;
আমরা ফিরে যাই আমাদের আদিম সাকিনে।

মানুষের প্রথম ঠিকানা কোনো দেশ নয়,
কোনো ধর্ম নয়,
কোনো ভাষা নয়।

মানুষের প্রথম ঠিকানা—নীরবতা।

হয়তো সেই কারণেই পৃথিবীর সমস্ত শব্দের শেষে
মানুষ চুপ হয়ে যায়।

কারণ শেষ পর্যন্ত সবাই ফিরে যেতে চায়
জন্মের আগের সেই অদৃশ্য ঘরে।

পৃথিবীর আগে

১.
গ্রীষ্মের বাতাস তখন কেবল তপ্ত হতে শুরু করেছে, কিন্তু বাতাস নয়—মানুষের হাড়ের ভেতর জমে থাকা এক শতাব্দী প্রাচীন নীরবতা প্রথম ভাঙতে শুরু করল। আমরা যারা প্রতিদিন ট্রাফিকের জ্যামে, বাজারের ফর্দ হাতে আর কেরানির টেবিলের কোণে নিজেদের যৌবনকে সস্তা কয়েনের মতো খরচ করে ফেলছিলাম, আমরাই হঠাৎ আবিষ্কার করলাম—আমাদের মেরুদণ্ডের ভেতর একটা করে প্রাচীন তরবারি লুকানো ছিল।

জলকামান থেকে যখন প্রথম বিষাক্ত নীল জল ছিটকে এলো, তখন মনে হলো ওটা কোনো সাধারণ তরল নয়; ওটা আসলে এক স্বৈরাচারের জমাট বাঁধা অহংকার, যা আমাদের পবিত্র চামড়াকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা জানত না, এই মাটির গভীরে এমন এক শিকড় আছে যা রক্তের স্বাদ পেলে আরও তীব্রভাবে জেগে ওঠে।

২.
তারপর একটি দুপুর এলো। সেই দুপুরটি আর কোনোদিন ঘড়ির কাঁটায় ফিরে আসবে না। উত্তরবঙ্গের এক ধূসর রাজপথে একটা ছেলে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে গেল। তার কোনো বর্ম ছিল না, কোনো ঢাল ছিল না; শুধু বুকের ভেতর ছিল এক বিশাল আকাশের সমান সাহস। ঝাঁক ঝাঁক বুলেট যখন তার বুক চিরে চলে গেল, তখন মনে হলো একঝাঁক পরিযায়ী পাখি কেবল তার ডানা পাল্টে নক্ষত্রের দিকে উড়ে গেল।

তার পতনের শব্দে এই উপত্যকার প্রতিটি পাথর কেঁদে ওঠেনি, বরং প্রতিটি পাথর একেকটি কামাখ্যা হয়ে উঠল। মায়েরা তাদের রান্নাঘরের উনুন নিভিয়ে দিয়ে জানালার গ্রিল ধরে তাকাল আকাশের দিকে। সেই আকাশে তখন মেঘ ছিল না, ছিল কেবল হাজারো যুবকের চোখের মণি থেকে ছিটকে পড়া স্ফুলিঙ্গ।

"ওরা ভেবেছিল লোহার বুট দিয়ে পিষে দেবে যে ঘাস,
সেই ঘাসই আজ উপড়ে ফেলেছে তাদের প্রাসাদের ভিত্তিপ্রস্তর।"

৩.
শহরের দেয়ালে দেয়ালে তখন নতুন এক ভাষার জন্ম হচ্ছে। যুবকেরা চুন আর রঙের কৌটো নিয়ে মেতে উঠেছে এক মহাজাগতিক উৎসবে। যে দেয়ালে লেখা ছিল লাঞ্ছনার ইতিহাস, সেখানে তারা ফুটিয়ে তুলল মুক্তির জ্যামিতি। কোনো নোবেলজয়ী কবি যা কখনো ভাবেননি, এই দেশের সাধারণ ঘরের ছেলেরা সেই কবিতার লাইনগুলো স্প্রে পেইন্ট দিয়ে লিখে দিল পিচঢালা রাস্তার বুকে—"বিকল্প কে? বিকল্প এই জনতা।"

একটি ছেলে তৃষ্ণার্ত গলার আকুতি নিয়ে ধাবমান বুলেটের সামনে পানির বোতল বাড়িয়ে দিয়েছিল। সে হয়তো জানত না, তার সেই শেষ তৃষ্ণা এই গোটা জাতির শতাব্দীর তৃষ্ণাকে এক নিমেষে মিটিয়ে দেবে। তার নিথর দেহটা যখন ধুলোয় লুটিয়ে পড়ল, তখন বাতাস থমকে গিয়েছিল, মেঘেরা পথ হারিয়েছিল, আর দূর সমুদ্রের ঢেউয়েরা এসে এই পললভূমির পায়ে চুমু খেয়েছিল।

৪.
এখন মধ্যরাত। কারফিউর খাঁচা ভেঙে, সাঁজোয়া যানের লোহাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক বিশাল সমুদ্র হেঁটে আসছে শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে। এই সমুদ্রের কোনো জোয়ার-ভাটা নেই, এর নাম—জনতা। স্বৈরাচারী শাসক যখন তার হেলিকপ্টারে চড়ে মেঘের আড়ালে পালিয়ে যাচ্ছে, তখন এই দেশের মাটির কণাগুলো একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলছিল: 'আমরা মুক্ত। আমরা আবারও আমাদের নিজস্ব নিঃশ্বাসের মালিক।'

জুলাইয়ের কংক্রিট ও নক্ষত্রের ইশতেহার

পানি লাগবে পানি

বাছাইকৃত কবিতা

মায়ের নীরবতা

- মোঃ আবু তালেব

আমি পৃথিবীতে এসেছিলাম একটি কান্না নিয়ে।
সবাই সেই কান্না শুনেছিল।

কিন্তু আমার জন্মের আগে,
আমার মা যে হাজার রাত জেগে
আমার জন্য নিঃশব্দে ভয় পেয়েছিলেন—
সেই ভয়ের কোনো শব্দ কেউ শোনেনি।

পৃথিবী সবসময় সন্তানের প্রথম কান্নার কথা মনে রাখে।
কেউ মায়ের শেষ নীরবতার কথা লিখে রাখে না।
একজন মা তার সন্তানকে শুধু রক্ত দিয়ে জন্ম দেন না।

তিনি তার না-বলা প্রার্থনাগুলো দিয়ে
একজন মানুষ তৈরি করেন।
আমি যত বড় হই, তত বুঝি—
আমার শরীরে যতটা আমার রক্ত আছে,
তার চেয়ে বেশি আছে আমার মায়ের নীরবতা।
বিস্তারিত...

পৃথিবীর আগে

- মোঃ আবু তালেব

(জন্মের আগের নীরবতা)

পৃথিবী জন্মানোর আগে কী ছিল—
এই প্রশ্নে মানুষ আকাশের দিকে তাকায়।
আমি কল্পনা করি,
পৃথিবীর আগে না ছিল আলো, না অন্ধকার;
ছিল একটি অপেক্ষা।
সেই অপেক্ষার কোনো শব্দ ছিল না,
কোনো ভাষা ছিল না,
এমনকি স্রষ্টার কোনো উচ্চারণও ছিল না।
শুধু এমন এক নীরবতা ছিল,
যার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল সব সম্ভাবনা ।

আমি বিশ্বাস করি,
আমরা সেই নীরবতারই সন্তান।

তাই আমরা যখন খুব একা হয়ে যাই,
যখন সব শব্দ আমাদের ছেড়ে চলে যায়,
তখন আমরা ভয় পাই না;
আমরা ফিরে যাই আমাদের আদিম সাকিনে।

মানুষের প্রথম ঠিকানা কোনো দেশ নয়,
কোনো ধর্ম নয়,
কোনো ভাষা নয়।

মানুষের প্রথম ঠিকানা—নীরবতা।

হয়তো সেই কারণেই পৃথিবীর সমস্ত শব্দের শেষে
মানুষ চুপ হয়ে যায়।

কারণ শেষ পর্যন্ত সবাই ফিরে যেতে চায়
জন্মের আগের সেই অদৃশ্য ঘরে।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4533
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1623
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1596
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1519
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1517
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1442
মানুষ মোঃ আবু তালেব 1414
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1405
রমণী মোঃ আবু তালেব 1383
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1345
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1343
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1337
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1306
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1306
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1304
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1299
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1298
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1275
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1274
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1266
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
মায়ের নীরবতা মোঃ আবু তালেব 3
পৃথিবীর আগে মোঃ আবু তালেব 16
তোমার প্রতি মোঃ আবু তালেব 42
জুলাইয়ের কংক্রিট ও নক্ষত্রের ইশতেহার মো: আবু তালেব 90
ভাঙা মাটির খেলা মো: আবু তালেব 102
মানচিত্রের কাটা দাগ মো: আবু তালেব 113
মহাজাগতিক ইশতেহার ও এক নশ্বরের চিৎকার মো: আবু তালেব 137
মৃণ্ময়ী মোঃ আবু তালেব 234
ইশকের তুফান মোঃ আবু তালেব 274
আদিকথা মো: আবু তালেব 165
রূহের তৃষা মো: আবু তালেব 244
মায়ার নদী মো: আবু তালেব 265
মায়ার বাঁধন মো: আবু তালেব 267
অগ্নিজল ও ছায়ার কারুকাজ মো: আবু তালেব 214
বিবেকের অবশ প্রহর মো: আবু তালেব 334
লোহিতের নীল বিষ মো: আবু তালেব 388
মুকুরে তোমার রূপ মো: আবু তালেব 419
বাউন্ডেলে জীবন মো: আবু তালেব 405
শহর সন্ধ্যার বিপ্রতীপ মোঃ আবু তালেব 533
মেট্রোরঙ মোঃ আবু তালেব 671
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 55
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 98
কিংবদন্তির বাহন আজাহার রাজা 91
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 88
ভালো মানুষ ইবনে আলী 174
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 103
শিকল ইবনে আলী 160
পৃথিবীতে কেবল ক্ষুধাই সত্য আজাহার রাজা 167
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 185
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 180
বসন্ত জয়দীপ রায় 183
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 125
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 259
জীবন ও বৃক্ষ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 235
মানবতা বনাম স্বার্থপরতা: এক যুদ্ধাহত পৃথিবীর আর্তনাদ! শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 247
সোনার দেশ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 268
মুসলিম সংখ্যালঘু শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 218
বাদলের দিন শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 279
তুমি হীনা জান্নাত চাইনা কবি মোঃ নিজাম গাজী 262
প্রশ্নমালার কাঠগড়ায় আজাহার রাজা 238
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে