কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(ভালবাসা)

একটি মানুষকে হারানোর আগে
মানুষ জানে না—
তার চারপাশে কত আলো ছিল।
সন্ধ্যার আগে যেমন
ধানের শিষে
শেষ রৌদ্রের গন্ধ থাকে,
কিন্তু মাঠ জানে না
আর একটু পরেই
কুয়াশা নেমে আসবে।

সেদিন
তুমি আমার সামনে বসেছিলে।
জানালার বাইরে
একটি শালিক
বারবার উড়ে এসে
আমাদের বাড়ির পুরোনো কার্নিশে বসছিল।
আমি তোমার মুখের দিকে তাকাইনি।
ভাবছিলাম—
আরও অনেক দিন আছে।

মানুষের সবচেয়ে পুরোনো ভুল
হয়তো—
সে সময়কে
নিজের সম্পত্তি মনে করে।

তুমি বলেছিলে,
“চলো, একটু হাঁটি।”
আমি বলেছিলাম,
“আজ নয়।
আরেকদিন।”
সেই আরেকদিনটি
আজও আসেনি।

পৃথিবীর কত নদী
সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গেছে;
কত শীতের পর
শিমুল গাছে আগুনের মতো ফুল ফুটেছে;
কত শহর
মানুষে ভরে আবার ফাঁকা হয়েছে—
শুধু
সেই একটি
আরেকদিন
কোথাও এসে দাঁড়ায়নি।

তুমি চলে যাওয়ার আগে
আমি বুঝিনি,
তোমার চুপ করে থাকাও
একটি ভাষা ছিল।
তোমার জানালার দিকে তাকানো,
চায়ের কাপে
অকারণে আঙুল ঘোরানো,
কোনো কথা বলতে গিয়ে
থেমে যাওয়া—
এসবের ভেতর
একটি দীর্ঘ বিদায়
ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছিল,
আমি শুনিনি।

মানুষ
সবচেয়ে প্রিয় মানুষের
সবচেয়ে ক্ষীণ ডাকটিই
প্রায়শই শুনতে পায় না।
সেই সময়
আমাদের বাড়ির পেছনে
একটি সরু পথ ছিল।
পথটি
বাঁশঝাড় পেরিয়ে
নদীর দিকে চলে যেত।
বিকেল হলে
সেখানে আলো পড়ত
মৃত কোনো পাখির ডানার মতো—
ধূসর,
নরম,
অল্প বিষণ্ণ।

তুমি একদিন বলেছিলে,
“এই পথটা মনে রেখো।”
আমি হেসেছিলাম।
একটি পথকে
মনে রাখার কী আছে?
আজ বুঝি,
মানুষ পথকে মনে রাখে না;
যে মানুষটি
তার পাশে হেঁটেছিল,
সে হারিয়ে গেলে
পৃথিবীর সমস্ত পথ
একটি মানুষের দিকে
ফিরে যেতে চায়।

এখনও কখনো
শীতের বিকেলে
দূরের কোনো বাঁশবনে
বাতাস উঠলে
আমার মনে হয়,
তুমি হয়তো
সেই পুরোনো পথেই হাঁটছ।
তোমার পায়ের নিচে
শুকনো পাতা ভাঙছে,
তুমি একবারও
পেছনে তাকাচ্ছ না।

আর আমি—
অনেক বছর পরে—
তোমাকে ডাকতে চাই।
কিন্তু
সময় এমন এক নদী,
যার ওপারে দাঁড়ানো মানুষকে
নিজের কণ্ঠ
পৌঁছাতে পারে না।
একটি মানুষকে হারানোর আগে
আমরা তাকে
প্রতিদিনের মতোই দেখি।
তার মুখে আলো পড়ে।
সে ঘুমায়।
খায়।
হাসে।
অভিমান করে।
একটি বইয়ের পাতা উল্টায়।
আমরা ভাবি,
এইসব ছোট ছোট কাজ
চিরকাল চলবে।

আমরা জানি না—
একদিন
একটি কাপ
টেবিলের ওপর
অস্পর্শিত থেকে যাবে;
একটি চেয়ার
দুপুরের রোদে
অনেকক্ষণ একা বসে থাকবে;
একটি নাম
মোবাইলের ভেতর
থাকবে,
কিন্তু
ডাকার জন্য
আর কোনো পৃথিবী থাকবে না।

তখন
মানুষ বুঝতে পারে—
হারিয়ে যাওয়া
হঠাৎ ঘটে না।
তার অনেক আগে থেকেই
বিদায়
আমাদের চারপাশে
ধীরে ধীরে
পাতা ঝরাতে থাকে।
আমরা শুধু
শব্দ শুনি না।

আজ
অনেক দূরের এক সন্ধ্যায়
আমি দাঁড়িয়ে আছি।
আকাশে
একটি একলা পাখি
পশ্চিমের দিকে চলে যাচ্ছে।
তার নিচে
নদী।
তার নিচে
অন্ধকার জল।
তারও নিচে
হয়তো
অসংখ্য দিনের স্মৃতি
ঘুমিয়ে আছে।

আমি আর তোমাকে
ফিরে পেতে চাই না।
কারণ
কিছু মানুষকে
ফিরিয়ে আনা যায় না—
তাদের জন্য
শুধু
একটি দীর্ঘ সন্ধ্যা
বেঁচে থাকে।

তবু
যদি আবার
কোনো এক জন্মে
তোমার সঙ্গে দেখা হয়,
আমি
তোমাকে জিজ্ঞেস করব না—
তুমি কোথায় ছিলে?
আমি শুধু বলব,
“চলো।
আজ একটু হাঁটি।”

কারণ
এবার আমি জানব—
সব পথ
দ্বিতীয়বার
একই মানুষের জন্য
খোলা থাকে না।
আর
একটি মানুষকে হারানোর আগে
তার পাশে
আরও কিছুক্ষণ বসে থাকা—
হয়তো
মানুষের জীবনের
সবচেয়ে বড়
এবং সবচেয়ে নীরব
ভালোবাসা।

একটি মানুষকে হারানোর আগে

(ভালবাসা)

ভালোবাসার পরে
পৃথিবী আর আগের মতো থাকে না—
যদিও
ধানক্ষেত ঠিকই সবুজ হয়,
নদী ঠিকই
বিকেলের আলো বহন করে,
শালিকেরা
পুরোনো অভ্যাসে
বাড়ি ফেরে।

শুধু
একজন মানুষ
পৃথিবীর দিকে তাকানোর
পুরোনো চোখটি
হারিয়ে ফেলে।

সেই সন্ধ্যায়
তুমি চলে গিয়েছিলে।
পথের ধারে
শিউলি ঝরছিল;
মনে হচ্ছিল,
গাছটি যেন
তার সমস্ত সাদা স্মৃতি
মাটির কাছে
ফেলে দিচ্ছে।
আমি তোমাকে ডাকিনি।
কিছু বিদায়
ডাকলে ফিরে আসে না—
বরং
আরও দূরে চলে যায়।

তুমি চলে গেলে
নদীর ওপারে
কুয়াশা উঠেছিল।
একটি নৌকা
ধীরে ধীরে
অদৃশ্য হয়ে গেল।
আমি অনেকক্ষণ
তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
তারপর বুঝলাম,
মানুষও বোধহয়
নৌকার মতো—
একটি তীর ছেড়ে
অন্য তীরে চলে যায়!

ভালোবাসার আগে
আমি ভাবতাম,
একজন মানুষকে পাওয়া মানেই
তার সঙ্গে থাকা।
পরে জেনেছি—
কখনো কখনো
ভালোবাসা মানে
তার অনুপস্থিতির মধ্যেও
তার জন্য
একটি জায়গা রেখে দেয়া।
পুরোনো বাড়ির উঠোনে
যেমন একটি গাছ থাকে,
যার ছায়ায়
আর কেউ বসে না,
তবু
বিকেল হলেই
ছায়াটি
মাটিতে নেমে আসে।

তোমার জন্য
আমার ভেতরেও
একটি ছায়া আছে।
আমি সেখানে
প্রতিদিন যাই না,
কিন্তু
বর্ষার রাতে,
জ্যোৎস্নার ভেতর,
অথবা
শীতের কুয়াশায়
হঠাৎ
সেই পথটি
আমার সামনে খুলে যায়।
দূরে
কোনো অচেনা পাখি ডাকে।
মনে হয়,
তুমি কি তবে
এইমাত্র
আমার নাম ধরে ডাকলে?

তারপর বুঝি—
না!
এ শুধু রাতের শব্দ!

তবু
মানুষ কেন
অচেনা শব্দের ভেতরেও
পরিচিত মানুষকে
খুঁজে বেড়ায়?

হয়তো
ভালোবাসা শক্তির মত,
কখনো শেষ হয় না,
শুধু
রূপ বদলায়,
অবস্থান বদলায়।
একদিন
সে থাকে
দুটি মানুষের চোখে।
তারপর
স্মৃতিতে।
তারপর
একটি পুরোনো গন্ধে।
একটি না-শোনা গানে।
একটি ফাঁকা চেয়ারে।
একটি শীতের বিকেলে
হঠাৎ থেমে যাওয়া বাতাসে।
আর শেষে
মানুষের স্বভাবে।

তুমি চলে যাওয়ার পরে
দেখলাম,
আমি আগের চেয়ে
ধীরে হাঁটি।
অপরিচিত মানুষের দুঃখ
আরও সহজে দেখি।
বৃদ্ধের কাঁপা হাত
আরও কিছুক্ষণ
মনে থাকে।
শিশুর হাসি
হঠাৎ
আমাকে থামিয়ে দেয়।

হয়তো
ভালোবাসা
মানুষ যাকে ভালোবাসে
শুধু তার কাছে নিয়ে যায় না;
পৃথিবীর সমস্ত
অসহায় জীবনের কাছেও
নিয়ে যায়।
সেই জন্যই
তোমাকে হারিয়ে
আমি শুধু
তোমাকে হারাইনি,
আমার ভেতরে
একটি পুরোনো মানুষও
মরে গেছে—
যে মানুষ
ভাবত
পৃথিবীকে পুরোপুরি
নিজের করে পাওয়া যায়।
তার জায়গায়
যে মানুষটি জন্মেছে,
সে জানে—
কোনো নদীকে
মুঠোয় ধরা যায় না,
কোনো সন্ধ্যাকে
চিরকাল রাখা যায় না,
কোনো মানুষকে
সম্পূর্ণ নিজের বলা যায় না।
তবু
নদীর পাশে দাঁড়াতে হয়,
সন্ধ্যার দিকে তাকাতে হয়,
মানুষকে ভালোবাসতে হয়।

হারাবো জেনেও
আজ
অনেক বছর পরে
সেই পুরোনো পথ দিয়ে
হেঁটে গেলাম।
শিউলি গাছটি
আর নেই।
ধানক্ষেতের জায়গায়
নতুন বাড়ি উঠেছে।
নদীর ঘাটে
কেউ বসে নেই।
শুধু
পশ্চিম আকাশে
একটি ম্লান আলো
ধীরে ধীরে
ডুবে যাচ্ছিল,
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।
তোমার কথা
মনে পড়ল,
বুঝলাম—
একবার
ভালোবাসার পরে
ভালবাসার মানুষকে
আর ভুলে যায় না।

সে শুধু
একদিন এমন জায়গায় পৌঁছে যায়,
যেখানে
ব্যাথা থাকে না;
থাকে গভীর স্মৃতি
আর
একটি নরম আলো।

যেমন
সন্ধ্যার পরে
ধানক্ষেতের ওপর
শেষ পাখিটিও
উড়ে গেলে
কিছুক্ষণ
আকাশে
তার উড়ে যাওয়ার রেখা
থেকে যায়।

তারপর
রাত নামে।
পৃথিবী
নিজের অন্ধকারে
ফিরে যায়।

আর মানুষ
তার সমস্ত হারানো ভালোবাসা নিয়ে
নিঃশব্দে
আবার
বেঁচে থাকে।

ভালোবাসার পরে

(ভালোবাসা)

তুমি চলে যাওয়ার পর
ঘরটি
আর ছোট হয়নি,
শুধু
তার ভেতর থেকে
একটি শব্দ কমে গেছে।

সকালে জানালা খুললে
আগের মতোই
রোদ এসে পড়ে।
টেবিলের ওপর
একটি কাপ থাকে।
বাইরে
রিকশার ঘণ্টা বাজে,
দূরের মসজিদ থেকে
ভেসে আসে আজানের ধ্বনি,
ছাদের কার্নিশে
একটি শালিক
তার নিজের দিনের
খবর নিয়ে বসে থাকে।

কিছুই বদলায়নি।

শুধু
এই পৃথিবীটাকে
দেখার জন্য
আমার পাশে
তুমি নেই।
তোমার অনুপস্থিতি
কোনো দরজা বন্ধ করে যায়নি।
সে বরং
সব দরজা খুলে দিয়েছে—
যাতে বাতাস আসে,
আলো আসে,
বৃষ্টি আসে,
আর তোমার না-থাকার
খবরটি
প্রতিদিন
নতুন করে
আমার ঘরে ঢোকে।

একদিন
বৃষ্টির পর
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।
মাটির গন্ধ উঠছিল।
হঠাৎ মনে হলো,
তুমি এই গন্ধটিকে
খুব পছন্দ করতে।
স্মৃতি কী অদ্ভুত—
একটি গন্ধ
একটি মুখ হয়ে যায়,
একটি বিকেল
একটি কণ্ঠ হয়ে যায়,
একটি নির্জন রাস্তা
হঠাৎ
কারও হাতের উষ্ণতা
মনে করিয়ে দেয়।

আমি তোমাকে
খুঁজিনি,
তবু
তুমি ছিলে
একটি পুরোনো বইয়ের
মাঝখানে চাপা পড়া
শুকনো ফুলের মতো,
অথবা
একটি অপ্রেরিত চিঠির
ভাঁজে,
বালিশের পাশে
রাখা একটি দীর্ঘশ্বাসে।

রাত গভীর হলে
ঘড়ির কাঁটা
শুধু সময় দেখায় না—
মনে করিয়ে দেয়,
কতটা সময়
একজন মানুষকে ছাড়া
বেঁচে থাকা যায়।

আমি শিখেছি,
সত্যিই শিখেছি,
মানুষ কীভাবে
অনুপস্থিতির সঙ্গে
সংসার করতে পারে!

হয়তো
শুধু
একটি আলাদা ঘর লাগে;
সেই ঘরের
কোনো দরজা নেই,
কোনো জানালাও না,
সেখানে
শুধু স্মৃতির আসা-যাওয়া।
আর
বেরিয়ে যাওয়ার সময়
আমাকে
আরও একা করে চলে যায়।

কখনো যদি
রাস্তার ভিড়ে
তোমার মতো কাউকে দেখি,
এক মুহূর্তের জন্য
হৃদয়
পুরোনো ভুল করে বসে!

তারপর বুঝি—
না,
তুমি নও।

মানুষের চোখ
কত সহজে
নিজের হারানো মানুষকে
অন্যের মুখে
ফিরিয়ে আনে!

তখন
আমি হাঁটতে থাকি।
কারণ
থেমে গেলে
স্মৃতি আমাকে ধরে ফেলবে!

তবু
কিছু সন্ধ্যায়
আমি ইচ্ছে করেই ধীরে হাঁটি।
শহর তখন
আলো আর অন্ধকারের মাঝখানে
একটি অসমাপ্ত কবিতার মতো।

দূরে
কোনো ট্রেন চলে যায়।
কোনো অচেনা জানালায়
হলুদ আলো জ্বলে ওঠে।
কেউ একজন
কাউকে ফোন করে বলে,
"কোথায় তুমি?"

আমি শুনি।

আর মনে হয়,
পৃথিবীর সব ভাষায়
অনুপস্থিতির
একটিই অর্থ,
"কেউ নেই।"

তবু
তোমার অনুপস্থিতি
শুধু "কেউ নেই" নয়।
তুমি নেই—
কিন্তু
তোমার জন্য
আমার ভেতরে যে মানুষটি
জেগে উঠেছিল,
সে তো এখনও আছে।
এই মানুষটি
তোমাকে ছাড়া
অন্যরকম।

সে এখন
বৃষ্টিকে একটু বেশি বোঝে,
নীরবতাকে একটু বেশি শোনে।
বিদায়ের আগে
একটি মুখের দিকে
আরও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে
আর
কারও হাত
সহজে ছেড়ে দিতে চায় না।

হয়তো
এটাই তোমার
শেষ উপস্থিতি।
তুমি আমাকে
তোমার অনুপস্থিতি দিয়ে
শিখিয়ে গেছ—
কেউ চলে গেলে
শূন্যতা আসে না,
আসে
একটি অদৃশ্য মানুষ,
যে সারাজীবন
আমাদের সঙ্গে হাঁটে।
তার কোনো ছায়া নেই,
কোনো শরীর নেই,
শুধু
একটি নীরব স্পর্শ আছে।
আর কোনো কোনো রাতে
জানালার বাইরে
চাঁদ উঠলে
আমি বুঝতে পারি—
তোমাকে আমি
ভুলিনি।

তবু
যদি কোনোদিন
এই পৃথিবীর সমস্ত পথ
হঠাৎ আবার
সেই পুরোনো সন্ধ্যার দিকে ফিরে যায়,
আমি তোমাকে
কিছুই বলব না,
শুধু
একটু দূরে দাঁড়িয়ে
দেখব—
তুমি আছ কি না।

কারণ
কিছু মানুষকে
ফিরে পাবার জন্য নয়,
ভালোবাসার শেষ সত্যটুকু
অক্ষত রাখার জন্য
দূর থেকেই
মনে রাখতে হয়।

তোমার অনুপস্থিতি

(ভালোবাসা)

সেদিন সন্ধ্যায়
নদীর ওপর
ধীর আলো নেমেছিল।
মনে হচ্ছিল,
দিনটি থেমে আছে, আর—
কেবল
নিজের মুখটি
জলের মধ্যে রেখে
চুপ করে আছে।

তুমি আমার পাশে ছিলে,
এত কাছে,
যে তোমার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা
আমার হাতের পিঠে
আলোর মতো পড়ছিল।

তবু
আমি তোমার হাত ধরিনি।
কেন—
আজও জানি না।
হয়তো
মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়
কাউকে হারানো নয়;
কাউকে পেয়ে
নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়।

তোমার হাতটি
তখন আমার দিকে
অল্প একটু এগিয়ে ছিল।
একটি শুকনো পাতার মতো—
হালকা,
অসহায়,
অপেক্ষমাণ।
আমি দেখেছিলাম।
তবু
আমার হাত
নিজের কাছেই রয়ে গেল।

সন্ধ্যা নামল।
নদীর ওপারে
একটি নৌকা
ধীরে ধীরে
অন্ধকারের ভিতর ঢুকে গেল।
আমরা কেউ
কিছু বললাম না।
কিছু কিছু বিদায়
শব্দ দিয়ে শুরু হয় না।
একটি হাত
অন্য হাতের কাছে এসে
ফিরে যায়—
সেখানেই
একটি জীবন
চুপচাপ অন্যদিকে
বেঁকে যায়।

তারপর
অনেক বছর কেটে গেছে।
শহর বদলেছে।
রাস্তার পাশে
নতুন বাড়ি উঠেছে।
যে গাছটির নিচে
আমরা দাঁড়িয়েছিলাম,
সে গাছও হয়তো
এখন আর নেই।

তবু
কখনো কখনো
বর্ষার রাতে
জানালায় বৃষ্টির শব্দ শুনলে
আমার মনে হয়,
তুমি এখনও
সেই সন্ধ্যার পাশে দাঁড়িয়ে আছ।

তোমার হাতটি
এখনও
একটু এগিয়ে।
আর আমি
এখনও
সেই মানুষ,
যে এক মুহূর্তের ভয়ে
একটি সম্পূর্ণ জীবনের দরজা
খোলিনি।

আমি পরে অনেক হাত ধরেছি।
বন্ধুর হাত।
সন্তানের হাত।
মায়ের কাঁপা হাত।
একজন বৃদ্ধের বিদায়ী হাত।
কিন্তু
তোমার হাতের মতো
কোনো হাত
আমাকে কখনো
এত গভীর প্রশ্ন করেনি।

কারণ
তোমার হাতটি
শুধু আমাকে ডাকেনি।
সে ডাকছিল
আমার সেই মানুষটিকে,
যে মানুষটি
তোমার সঙ্গে
হয়তো জন্ম নিতে পারত।

আজ বুঝি,
আমরা শুধু মানুষ হারাই না।
আমরা হারাই
মানুষের সঙ্গে জন্ম নিতে পারত
আমাদের অন্য জীবনগুলোও।

তুমি চলে গেলে।
আমি রয়ে গেলাম।
দুজনেই
নিজ নিজ জীবনে
সম্ভবত বেঁচে আছি।
কিন্তু
একটি বিকেল
আমাদের মাঝখানে
আজও দাঁড়িয়ে আছে।

সেই বিকেল
কোনো স্মৃতি নয়।
একটি অসমাপ্ত দরজা।
কখনো কখনো
মনে হয়,
জীবন আসলে
আমাদের দেওয়া সুযোগগুলোর নাম নয়;
বরং
যে সুযোগগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে
আমরা ভয়ে
হাত বাড়াইনি—
তাদের দীর্ঘ ছায়ার নাম।

তাই আজ
যখন কোনো মানুষ
আমার দিকে
একটু হাত বাড়িয়ে দেয়,
আমি আর
সহজে ফিরিয়ে নিই না।
কারণ জানি,
সব হাত
দ্বিতীয়বার আসে না।
সব সন্ধ্যা
আবার নামে না।
সব মানুষ
অন্য কোনো জীবনে
ফিরে আসে না।

আর কিছু কিছু হাত—
ধরার জন্য নয়,
সারা জীবন
মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আসে
যে একদিন
আমরা ধরিনি।
সেই হাতটি

আজ কোথায়,
আমি জানি না।
শুধু জানি,
আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ
নিঃশব্দ স্পর্শ
হয়তো সেই হাতেরই—
যে হাতটি
আমি
কোনোদিন
ধরিনি।

যে হাতটি ধরিনি

বাছাইকৃত কবিতা

একটি মানুষকে হারানোর আগে

- মোঃ আবু তালেব

(ভালবাসা)

একটি মানুষকে হারানোর আগে
মানুষ জানে না—
তার চারপাশে কত আলো ছিল।
সন্ধ্যার আগে যেমন
ধানের শিষে
শেষ রৌদ্রের গন্ধ থাকে,
কিন্তু মাঠ জানে না
আর একটু পরেই
কুয়াশা নেমে আসবে।

সেদিন
তুমি আমার সামনে বসেছিলে।
জানালার বাইরে
একটি শালিক
বারবার উড়ে এসে
আমাদের বাড়ির পুরোনো কার্নিশে বসছিল।
আমি তোমার মুখের দিকে তাকাইনি।
ভাবছিলাম—
আরও অনেক দিন আছে।

মানুষের সবচেয়ে পুরোনো ভুল
হয়তো—
সে সময়কে
নিজের সম্পত্তি মনে করে।

তুমি বলেছিলে,
“চলো, একটু হাঁটি।”
আমি বলেছিলাম,
“আজ নয়।
আরেকদিন।”
সেই আরেকদিনটি
আজও আসেনি।

পৃথিবীর কত নদী
সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছে গেছে;
কত শীতের পর
শিমুল গাছে আগুনের মতো ফুল ফুটেছে;
কত শহর
মানুষে ভরে আবার ফাঁকা হয়েছে—
শুধু
সেই একটি
আরেকদিন
কোথাও এসে দাঁড়ায়নি।

তুমি চলে যাওয়ার আগে
আমি বুঝিনি,
তোমার চুপ করে থাকাও
একটি ভাষা ছিল।
তোমার জানালার দিকে তাকানো,
চায়ের কাপে
অকারণে আঙুল ঘোরানো,
কোনো কথা বলতে গিয়ে
থেমে যাওয়া—
এসবের ভেতর
একটি দীর্ঘ বিদায়
ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছিল,
আমি শুনিনি।

মানুষ
সবচেয়ে প্রিয় মানুষের
সবচেয়ে ক্ষীণ ডাকটিই
প্রায়শই শুনতে পায় না।
সেই সময়
আমাদের বাড়ির পেছনে
একটি সরু পথ ছিল।
পথটি
বাঁশঝাড় পেরিয়ে
নদীর দিকে চলে যেত।
বিকেল হলে
সেখানে আলো পড়ত
মৃত কোনো পাখির ডানার মতো—
ধূসর,
নরম,
অল্প বিষণ্ণ।

তুমি একদিন বলেছিলে,
“এই পথটা মনে রেখো।”
আমি হেসেছিলাম।
একটি পথকে
মনে রাখার কী আছে?
আজ বুঝি,
মানুষ পথকে মনে রাখে না;
যে মানুষটি
তার পাশে হেঁটেছিল,
সে হারিয়ে গেলে
পৃথিবীর সমস্ত পথ
একটি মানুষের দিকে
ফিরে যেতে চায়।

এখনও কখনো
শীতের বিকেলে
দূরের কোনো বাঁশবনে
বাতাস উঠলে
আমার মনে হয়,
তুমি হয়তো
সেই পুরোনো পথেই হাঁটছ।
তোমার পায়ের নিচে
শুকনো পাতা ভাঙছে,
তুমি একবারও
পেছনে তাকাচ্ছ না।

আর আমি—
অনেক বছর পরে—
তোমাকে ডাকতে চাই।
কিন্তু
সময় এমন এক নদী,
যার ওপারে দাঁড়ানো মানুষকে
নিজের কণ্ঠ
পৌঁছাতে পারে না।
একটি মানুষকে হারানোর আগে
আমরা তাকে
প্রতিদিনের মতোই দেখি।
তার মুখে আলো পড়ে।
সে ঘুমায়।
খায়।
হাসে।
অভিমান করে।
একটি বইয়ের পাতা উল্টায়।
আমরা ভাবি,
এইসব ছোট ছোট কাজ
চিরকাল চলবে।

আমরা জানি না—
একদিন
একটি কাপ
টেবিলের ওপর
অস্পর্শিত থেকে যাবে;
একটি চেয়ার
দুপুরের রোদে
অনেকক্ষণ একা বসে থাকবে;
একটি নাম
মোবাইলের ভেতর
থাকবে,
কিন্তু
ডাকার জন্য
আর কোনো পৃথিবী থাকবে না।

তখন
মানুষ বুঝতে পারে—
হারিয়ে যাওয়া
হঠাৎ ঘটে না।
তার অনেক আগে থেকেই
বিদায়
আমাদের চারপাশে
ধীরে ধীরে
পাতা ঝরাতে থাকে।
আমরা শুধু
শব্দ শুনি না।

আজ
অনেক দূরের এক সন্ধ্যায়
আমি দাঁড়িয়ে আছি।
আকাশে
একটি একলা পাখি
পশ্চিমের দিকে চলে যাচ্ছে।
তার নিচে
নদী।
তার নিচে
অন্ধকার জল।
তারও নিচে
হয়তো
অসংখ্য দিনের স্মৃতি
ঘুমিয়ে আছে।

আমি আর তোমাকে
ফিরে পেতে চাই না।
কারণ
কিছু মানুষকে
ফিরিয়ে আনা যায় না—
তাদের জন্য
শুধু
একটি দীর্ঘ সন্ধ্যা
বেঁচে থাকে।

তবু
যদি আবার
কোনো এক জন্মে
তোমার সঙ্গে দেখা হয়,
আমি
তোমাকে জিজ্ঞেস করব না—
তুমি কোথায় ছিলে?
আমি শুধু বলব,
“চলো।
আজ একটু হাঁটি।”

কারণ
এবার আমি জানব—
সব পথ
দ্বিতীয়বার
একই মানুষের জন্য
খোলা থাকে না।
আর
একটি মানুষকে হারানোর আগে
তার পাশে
আরও কিছুক্ষণ বসে থাকা—
হয়তো
মানুষের জীবনের
সবচেয়ে বড়
এবং সবচেয়ে নীরব
ভালোবাসা।
বিস্তারিত...

ভালোবাসার পরে

- মো: আবু তালেব

(ভালবাসা)

ভালোবাসার পরে
পৃথিবী আর আগের মতো থাকে না—
যদিও
ধানক্ষেত ঠিকই সবুজ হয়,
নদী ঠিকই
বিকেলের আলো বহন করে,
শালিকেরা
পুরোনো অভ্যাসে
বাড়ি ফেরে।

শুধু
একজন মানুষ
পৃথিবীর দিকে তাকানোর
পুরোনো চোখটি
হারিয়ে ফেলে।

সেই সন্ধ্যায়
তুমি চলে গিয়েছিলে।
পথের ধারে
শিউলি ঝরছিল;
মনে হচ্ছিল,
গাছটি যেন
তার সমস্ত সাদা স্মৃতি
মাটির কাছে
ফেলে দিচ্ছে।
আমি তোমাকে ডাকিনি।
কিছু বিদায়
ডাকলে ফিরে আসে না—
বরং
আরও দূরে চলে যায়।

তুমি চলে গেলে
নদীর ওপারে
কুয়াশা উঠেছিল।
একটি নৌকা
ধীরে ধীরে
অদৃশ্য হয়ে গেল।
আমি অনেকক্ষণ
তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
তারপর বুঝলাম,
মানুষও বোধহয়
নৌকার মতো—
একটি তীর ছেড়ে
অন্য তীরে চলে যায়!

ভালোবাসার আগে
আমি ভাবতাম,
একজন মানুষকে পাওয়া মানেই
তার সঙ্গে থাকা।
পরে জেনেছি—
কখনো কখনো
ভালোবাসা মানে
তার অনুপস্থিতির মধ্যেও
তার জন্য
একটি জায়গা রেখে দেয়া।
পুরোনো বাড়ির উঠোনে
যেমন একটি গাছ থাকে,
যার ছায়ায়
আর কেউ বসে না,
তবু
বিকেল হলেই
ছায়াটি
মাটিতে নেমে আসে।

তোমার জন্য
আমার ভেতরেও
একটি ছায়া আছে।
আমি সেখানে
প্রতিদিন যাই না,
কিন্তু
বর্ষার রাতে,
জ্যোৎস্নার ভেতর,
অথবা
শীতের কুয়াশায়
হঠাৎ
সেই পথটি
আমার সামনে খুলে যায়।
দূরে
কোনো অচেনা পাখি ডাকে।
মনে হয়,
তুমি কি তবে
এইমাত্র
আমার নাম ধরে ডাকলে?

তারপর বুঝি—
না!
এ শুধু রাতের শব্দ!

তবু
মানুষ কেন
অচেনা শব্দের ভেতরেও
পরিচিত মানুষকে
খুঁজে বেড়ায়?

হয়তো
ভালোবাসা শক্তির মত,
কখনো শেষ হয় না,
শুধু
রূপ বদলায়,
অবস্থান বদলায়।
একদিন
সে থাকে
দুটি মানুষের চোখে।
তারপর
স্মৃতিতে।
তারপর
একটি পুরোনো গন্ধে।
একটি না-শোনা গানে।
একটি ফাঁকা চেয়ারে।
একটি শীতের বিকেলে
হঠাৎ থেমে যাওয়া বাতাসে।
আর শেষে
মানুষের স্বভাবে।

তুমি চলে যাওয়ার পরে
দেখলাম,
আমি আগের চেয়ে
ধীরে হাঁটি।
অপরিচিত মানুষের দুঃখ
আরও সহজে দেখি।
বৃদ্ধের কাঁপা হাত
আরও কিছুক্ষণ
মনে থাকে।
শিশুর হাসি
হঠাৎ
আমাকে থামিয়ে দেয়।

হয়তো
ভালোবাসা
মানুষ যাকে ভালোবাসে
শুধু তার কাছে নিয়ে যায় না;
পৃথিবীর সমস্ত
অসহায় জীবনের কাছেও
নিয়ে যায়।
সেই জন্যই
তোমাকে হারিয়ে
আমি শুধু
তোমাকে হারাইনি,
আমার ভেতরে
একটি পুরোনো মানুষও
মরে গেছে—
যে মানুষ
ভাবত
পৃথিবীকে পুরোপুরি
নিজের করে পাওয়া যায়।
তার জায়গায়
যে মানুষটি জন্মেছে,
সে জানে—
কোনো নদীকে
মুঠোয় ধরা যায় না,
কোনো সন্ধ্যাকে
চিরকাল রাখা যায় না,
কোনো মানুষকে
সম্পূর্ণ নিজের বলা যায় না।
তবু
নদীর পাশে দাঁড়াতে হয়,
সন্ধ্যার দিকে তাকাতে হয়,
মানুষকে ভালোবাসতে হয়।

হারাবো জেনেও
আজ
অনেক বছর পরে
সেই পুরোনো পথ দিয়ে
হেঁটে গেলাম।
শিউলি গাছটি
আর নেই।
ধানক্ষেতের জায়গায়
নতুন বাড়ি উঠেছে।
নদীর ঘাটে
কেউ বসে নেই।
শুধু
পশ্চিম আকাশে
একটি ম্লান আলো
ধীরে ধীরে
ডুবে যাচ্ছিল,
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।
তোমার কথা
মনে পড়ল,
বুঝলাম—
একবার
ভালোবাসার পরে
ভালবাসার মানুষকে
আর ভুলে যায় না।

সে শুধু
একদিন এমন জায়গায় পৌঁছে যায়,
যেখানে
ব্যাথা থাকে না;
থাকে গভীর স্মৃতি
আর
একটি নরম আলো।

যেমন
সন্ধ্যার পরে
ধানক্ষেতের ওপর
শেষ পাখিটিও
উড়ে গেলে
কিছুক্ষণ
আকাশে
তার উড়ে যাওয়ার রেখা
থেকে যায়।

তারপর
রাত নামে।
পৃথিবী
নিজের অন্ধকারে
ফিরে যায়।

আর মানুষ
তার সমস্ত হারানো ভালোবাসা নিয়ে
নিঃশব্দে
আবার
বেঁচে থাকে।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4614
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1696
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1653
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1580
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1571
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1505
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1488
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1459
রমণী মোঃ আবু তালেব 1434
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1405
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1400
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1397
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1362
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1356
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1356
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1354
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1353
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1334
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1329
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1319
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
একটি মানুষকে হারানোর আগে মোঃ আবু তালেব 13
ভালোবাসার পরে মো: আবু তালেব 29
তোমার অনুপস্থিতি মোঃ আবু তালেব 23
যে হাতটি ধরিনি মোঃ আবু তালেব 35
অলৌকিক দুপুর মো: আবু তালেব 31
অস্থায়ী অনন্ত মোঃ আবু তালেব 46
প্রথম নীরবতায় ফেরা মোঃ আবু তালেব 44
শেষ প্রশ্ন মোঃ আবু তালেব 53
অন্য আমি মোঃ আবু তালেব 52
মায়ের নিঃশ্বাস মোঃ আবু তালেব 51
শেষ চুম্বন মোঃ আবু তালেব 63
বৃদ্ধের বিকেল মোঃ আবু তালেব 59
ভিখারির রাজ্য মোঃ আবু তালেব 106
সকল মানুষের মুখ মোঃ আবু তালেব 50
অপ্রকাশ মোঃ আবু তালেব 58
ভেতরের সমুদ্র মোঃ আবু তালেব 62
নীরব যুদ্ধ মোঃ আবু তালেব 64
হারিয়ে যাওয়া নাম মোঃ আবু তালেব 96
যে ক্ষমা পাইনি মোঃ আবু তালেব 58
যে ক্ষমা চাইনি মোঃ আবু তালেব 48
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 21
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 47
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 72
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 63
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 76
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 73
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 79
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 123
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 142
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 142
ভালো মানুষ ইবনে আলী 249
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 144
শিকল ইবনে আলী 218
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 274
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 229
বসন্ত জয়দীপ রায় 247
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 165
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 315
জীবন ও বৃক্ষ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 283
মানবতা বনাম স্বার্থপরতা: এক যুদ্ধাহত পৃথিবীর আর্তনাদ! শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 297
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে