কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

মানুষ যখন সাঁতার জানে না,
তখনই প্রথম জলে নামে।
সব সতর্কতা, পাড়ের শাসন আর ডুব দেওয়ার ভয়—
সবকিছু হঠাৎ তুচ্ছ হয়ে যায় কেবল একটি ডাক শুনে।

প্রথম প্রেম কোনো পরিণতির নাম নয়;
সে তো এক অসমাপ্ত খাতার প্রথম সাদা পাতা।
সেখানে লেখা অক্ষরের চেয়ে
ভুল করে ফেলে দেওয়া কালির দাগগুলোই বেশি খাঁটি ছিল।
আমরা জানতাম না কীভাবে ধরে রাখতে হয়,
কীভাবে ছেড়ে দিতে হয়।
আমরা শুধু জানতাম—ভেতরে একটা অচেনা নদী বইছে,
আর তার কোনো পাড় নেই।

সেদিন রিকশার হুড তোলা ছিল না।
বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়েছিল স্কুলের ব্যাগ, ভিজেছিল খাতার কোণ।
একটি ছাতার নিচে হেঁটে যাওয়া দুটি মানুষের কাঁধ
যতটা কাছে এসেছিল,
তার চেয়ে অনেক বেশি কাঁপছিল তাদের না-বলা কথাগুলো।

পরে জীবনে আরও বসন্ত আসে,
আরও নিশ্চিত হিসেব আসে, ঘর বাঁধার যুক্তি আসে।
মানুষ পরিপক্ব হয়, ভালোবাসতে গিয়েও নিজের লাভ-ক্ষতি মাপতে শেখে।
কিন্তু সেই প্রথমবার—
যখন মানুষ নিঃস্ব হওয়ার আনন্দ ছাড়া আর কিছুই বোঝেনি,
সেই উন্মাদনা আর কখনো ফেরে না।

প্রথম প্রেম আসলে কাউকে পাওয়া নয়;
প্রথম প্রেম হলো নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক অপার মানুষের সাথে
প্রথমবারের মতো পরিচয় হওয়া।
যে মানুষটি হারাতে ভয় পেত না,
যে মানুষটি কেবল চেয়েছিল—
কোনো এক অলৌকিক বিকেলে
আরেকটি চোখের ভেতর নিজের সমগ্র পৃথিবীটাকে স্পষ্ট দেখতে।

প্রথম প্রেম

বহুতল ভবনের ফাঁক দিয়ে
যেটুকু আকাশ দেখা যায়,
তার দাম অনেক।
রিয়েল এস্টেটের বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে—‘দক্ষিণমুখী বারান্দা, উন্মুক্ত বাতাস।’
মানুষ টাকা দিয়ে আসলে একটু শূন্যতা কিনতে চায়।

দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে
রিকশাচালক যখন সিটে শরীরটা এলিয়ে দেয়,
তার চোখ যায় ওপরের দিকে।
ধনী আর দরিদ্রের মাঝখানে এত দেয়াল,
এত পাহারা, এত কাঁটাতার—
অথচ এই ছাদহীন নীলটা
দুজনের ওপরই সমান নির্লিপ্ততায় ঝুলে থাকে।

আকাশের নিজের কিন্তু কোনো রং নেই।
আলো আর ধূলিকণার সংঘর্ষে
আমরা তাকে নীল বলে ভুল করি।
মানুষের বিশ্বাসগুলোও হয়তো এমনই—
ভেতরে প্রকাণ্ড শূন্যতা জেনেও
সে একটা রঙের ওপর ভরসা করে বাঁচতে চায়।

আমরা যখন খুব একা হই,
তখন মাটির দিকে তাকাই না,
তাকাই আকাশের দিকে।
সে কোনো সান্ত্বনা দেয় না,
কোনো প্রশ্নের উত্তরও ফিরিয়ে দেয় না।
তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—
সে মানুষের সমস্ত চিৎকার গিলে নিতে পারে,
একবিন্দু না নড়ে।

যে নীল কোনোদিন কাউকে ফেরায় না,
আবার কাউকে জড়িয়েও ধরে না—
তাকে ভালোবেসে মানুষ আসলে কী পায়?
হয়তো এইটুকু আশ্বাস:
সব কিছু হারিয়ে গেলেও,
মাথার ওপর এখনো হারিয়ে না যাওয়ার মতো একটা বিশাল বিস্তার বাকি আছে।

নীল আকাশ

শহরের ফ্ল্যাটগুলোতে এখন আর উঠোন থাকে না।
চারটি দেয়াল আর একটা দরজায়
মানুষ কেবল নিজের গোপনীয়তা পাহারা দেয়।
তবু প্রতিটি মানুষের বুকের ভেতর
এক টুকরো খোলা মাটি ঠিকই পড়ে থাকে—
যেখানে কোনো ছাদ নেই,
যেখানে বৃষ্টি নামলে ভেজে সমস্ত অতীত।

সেখানে কত অচেনা পায়ের ছাপ!
কেউ এসে এক দণ্ড দাঁড়িয়েছিল ঝড়ের ভয়ে,
কেউ একমুঠো ধুলো উড়িয়ে চলে গেছে বহু দূরে,
কেউ বা কোনোদিন আসেইনি,
শুধু তার ছায়াটা পড়ে ছিল রোদের মতো।

আমরা বাইরে যতই সাজাই বৈঠকখানা,
সোফায় বসাই ভদ্রতা আর হিসাবের খাতা—
ভেতরের সেই উঠোনটায় কিন্তু কাউকে ঢুকতে দিই না।
কারণ ওখানে গেলেই ধরা পড়ে যায়
মানুষ আসলে কতটা নিঃস্ব, কতটা একা।

তুমি যখন এলে,
আমি কোনো দরজা খুলিনি;
কারণ সেখানে কোনো শিকলই ছিল না কোনোদিন।
তুমি শুধু এসে দাঁড়ালে সেই ধুলোবালি আর ঘাসের ওপর,
যেন এই জীর্ণ জমিটুকু
চিরকাল তোমার অপেক্ষাতেই খালি রাখা ছিল।

এখন সেখানে আর আগাছা জন্মায় না।
শুধু মাঝে মাঝে রাত বাড়লে
হাওয়া এসে একটা প্রশ্ন রেখে যায়—
যে উঠোনে তুমি পা ফেলেছো নিঃসংকোচে,
সেটা কি সত্যিই আমার ছিল,
নাকি তোমার জন্যই এতকাল জেগে ছিল এই মাটি?

মনের আঙিনা

শহরের ফুটপাতে মানুষ যখন ধাক্কা খায়,
তখন বোঝা যায়—আমরা কতটুকু শক্ত।
ইটের দেয়াল, ট্রাফিকের গতি, অফিসের চাবি—
সবকিছু মানুষকে শিখিয়েছে কেবল নিজেকে বাঁচিয়ে চলা,
দৃঢ় থাকা, কঠিন হওয়া।

অথচ সেদিন চায়ের কাপ এগিয়ে দেওয়ার ফাঁকে
তোমার আঙুলের ডগা যখন সামান্য ছুঁয়ে গেল আমার আঙুল,
আমি প্রথমবার বুঝতে পারলাম—
মানুষ আসলে শক্ত হতে চায় না।
মানুষ কেবল আঘাত পাওয়ার ভয়ে নিজেকে শক্ত বানিয়ে রাখে।

সেই স্পর্শে কোনো দাবি ছিল না।
কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না, কোনো শব্দ ছিল না।
ছিল কেবল এক মুহূর্তের স্বীকৃতি:
‘তুমি আছো, আমিও আছি।’

একটি প্রজাপতি যখন পাতার ওপর বসে,
পাতাটি ভাঙে না, নতও হয় না—
কেবল জেনে যায় বাতাসের চেয়েও নরম কিছু এই পৃথিবীতে আছে।
তোমার ছোঁয়াটা ছিল ঠিক তেমনি।
কোনো দাগ রেখে যায়নি ত্বকে,
কিন্তু ভেতরে যে প্রাচীন পাথরটি জমাট বেঁধেছিল বহু দিন,
তা নিঃশব্দে কিছুটা ধসে পড়ল।

আমরা তো কত কিছুর ভার বহন করি—
সংসার, ঋণের খাতা, অপমানের স্মৃতি।
কিন্তু অবাক লাগে,
সবচেয়ে ভারী বোঝাগুলো মানুষ বয়ে বেড়ায় আজীবন,
অথচ যে জিনিসটা তাকে এক পলকে বদলে দেয়,
তার কোনো ওজনই থাকে না।

আলতো ছোঁয়া

সারাদিনের হিসাব-নিকাশ, খাতার পাতা জুড়ে জটিল অঙ্ক আর কোডের জটিল বুনন—
সব পেছনে ফেলে যখন ঘরের চাবিটা ঘোরে দরজায়,
ঠিক তখনই সমস্ত ক্লান্তির ওপর আলতো করে নেমে আসে এক টুকরো রোদ।

কোথাও কোনো বড় শব্দ নেই, কোনো রোমহর্ষক মহাকাব্যের আয়োজন নেই;
আছে শুধু হাঁটিহাঁটি পা পা করে এগিয়ে আসা একজোড়া কৌতূহলী চোখ।
যে হাসিতে পৃথিবীর সমস্ত জটিল আইন মুহূর্তে বরফ হয়ে গলে যায়,
সেই হাসির একটা ছোট্ট রেখা যেন আমার সমস্ত বেদনার নিখুঁত প্রতিষেধক।

জানলার পাশে রাখা ছোট জুতো জোড়া, এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা খেলনা,
আর বুকভরা ওই আদিম নিবিড় গন্ধ—
এটাই তো আমার সবচেয়ে নির্ভুল এবং জীবন্ত একখানা কবিতা।
মহাকালের যত বড় বড় ইতিহাস ধূলিসাৎ হয়ে যাক,
আমার এই ক্ষুদ্র পৃথিবীর নিখুঁত গল্পটি কেবল ওই একটিমাত্র হাসির রেখাতেই লেখা।

হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4750
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1773
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1715
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1637
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1624
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1575
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1567
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1522
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1489
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1475
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1464
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1458
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1433
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1419
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1418
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1410
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1409
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1395
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1385
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1381
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
প্রথম প্রেম শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 11
নীল আকাশ শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 11
মনের আঙিনা শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 14
আলতো ছোঁয়া শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 18
হাসির রেখায় আঁকা নিখুঁত গল্প প্রথম নিরবতা মোঃ আবু তালেব 21
আমার নিজের একটা সংসারের খুব শখ অবিনব মোঃ আবু তালেব 18
ছোট্ট জানপাখি অবিনব মোঃ আবু তালেব 13
কালান্তরের জলচিহ্ন অবিনব মোঃ আবু তালেব 23
সুন্দর মনের কামনা অবিনব মোঃ আবু তালেব 20
যৌবনের দিনলিপি অবিনব মোঃ আবু তালেব 32
জীবনের ছায়াপথে অবিনব মো: আবু তালেব 37
শপথের ওপারে প্রেম অবিনব মোঃ আবু তালেব 40
শূন্যে লেখা প্রেমের শপথ অবিনব মো: আবু তালেব 29
রক্তচোষার কারবার চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 36
বধ্যভূমির নাম সচিবালয় চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 42
সান্ধ্য আইনের মুখে থুতু চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 48
অন্ধ বিচারকের লাল সালু চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 32
কাটা জিভ চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 38
বুটের তলায় সংবিধান চুপ কর, রাজা শুনছে মো: আবু তালেব 43
রাজদ্রোহীর শেষ জবানবন্দি চুপ কর, রাজা শুনছে মোঃ আবু তালেব 44
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 30
শালা শালা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 33
অথচঃ কেউ জানেনা। অথচঃ কেউ জানেনা। মেহেদী হাসান আইয়ুশ 22
দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘশ্বাস মেহেদী হাসান আইয়ুশ 29
তোমার নেশা তোমার নেশা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 29
ভালোবাসার বিদ্যে.. ভালোবাসার বিদ্যে.. মেহেদী হাসান আইয়ুশ 27
একটা তুমি হোক তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 22
মেয়ে, আমার সাথে সমুদ্রে যাবে? সমুদ্র মেহেদী হাসান আইয়ুশ 24
অর্জন অর্জন মেহেদী হাসান আইয়ুশ 26
অভিমান অভিমান মেহেদী হাসান আইয়ুশ 28
ঋণ ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 36
মৃত্যুর পরও তুমি মৃত্যুর পরও তুমি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 31
অনুভূতির স্পর্শ স্পর্শ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 23
লিখিত, অলিখিত ঋণ লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 28
অশ্রু অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 37
কাটাবিহীন ঘড়ি কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 37
স্টেজ ফোর স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 39
তবুও তুমি আছো তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 26
মুগ্ধ বিষন্নতা মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 36
ভুলে যাবো ভুলে যাবো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 42
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found