কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(শৈশব)

কথা বলতে শেখার আগেই
আমি পৃথিবীকে চিনতাম।

মায়ের বুকে মাথা রাখলে
যে নিশ্চিন্ততা নামত —
তার কোনো নাম ছিল না।
বাবার কোলে যে নিরাপত্তা
চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত —
তার কোনো অভিধান ছিল না।

ভোরের আলো
জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকত,
আমি তাকিয়ে থাকতাম।
আলো আমাকে কিছু বলত না,
আমিও তাকে কিছু বলতাম না —
তবু আমাদের ভুল হতো না কখনো।

শিশু ক্ষুধার কথা বলতে পারে না,
তবু মা বুঝে যায়।

বৃদ্ধ মুখে হাসি রাখেন,
তবু মেয়ে তাঁর হাত ছুঁয়ে বোঝে —
বাবা আজ বড় ক্লান্ত।

দুই বন্ধু হাঁটে পাশাপাশি,
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো কথা নেই;
তবু বিদায়ের বেলায় মনে হয় —
সব কথা হয়ে গেছে।

পৃথিবীর গভীরতম ভাষাগুলোর
কোনো বর্ণমালা নেই।

আমরা বড় হই।
শব্দ শিখি, বাক্য শিখি, যুক্তি শিখি।

তারপর একদিন —
যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি
তার সামনে দাঁড়িয়ে
একটি কথাও বলতে পারি না।
শব্দ গলায় এসে জমে যায়,
অথচ বুকের ভেতর তখন
একটা গোটা মহাবিশ্ব কথা বলছে।

ভাষা সবসময় পাশে থাকে না।
অনুভব থাকে।

আজ আমার কাছে অনেক শব্দ।
চাইলে একটা বই লিখে ফেলতে পারি।
তবু আমার জীবনের সবচেয়ে সত্য মুহূর্তগুলোর
কোনো ভাষা নেই।

মায়ের শেষবার আমার দিকে তাকানো।
বাবার নীরবে কাঁধে হাত।
প্রথম ভালোবাসার বিদায়।
বন্ধুর অকারণে চলে যাওয়া।
সন্তানের প্রথম হাসি।

এসবের কিছুই
শব্দে সম্পূর্ণ ধরা পড়ে না।
শব্দ শুধু চারপাশে ঘোরে —
ভেতরে ঢুকতে পারে না।

হয়তো তাই
পৃথিবীর সব কবিতা শেষমেশ
একটা হারানো ভাষাকেই খোঁজে।

সেই ভাষা,
জন্মের আগে যা আমরা জানতাম।
যেখানে ধর্ম ছিল না, জাতি ছিল না,
অহংকার ছিল না —
ছিল শুধু
একটা হৃদয়ের কাছে
আরেকটা হৃদয়ের
ধীরে ধীরে খুলে যাওয়া।

মানুষ মারা গেলে কোথায় যায় —
জানি না।

শুধু বিশ্বাস করতে চাই,
যদি কোথাও ফিরে যাওয়া বলে কিছু থাকে,
আমরা কোনো নতুন ভাষা শিখতে যাই না।

আমরা ফিরে যাই
সেই প্রথম ভাষায় —

যেখানে একটা স্পর্শ
একটা বইয়ের চেয়েও দীর্ঘ,
এক ফোঁটা অশ্রু
একটা জীবনের চেয়েও সত্য,

আর নীরবতা —
সমস্ত উচ্চারণের আগে —
মানুষের প্রথম মাতৃভাষা।

যে ভাষা ছিল না

(শৈশব)

আমার জীবনের প্রথম ভাষা
কোনো শব্দ ছিল না।
মা বলতেন, জন্মের পর নাকি
খুব কেঁদেছিলাম আমি—
আমার মনে নেই।
শুধু আজ, এত বছর পরে বুঝি,
সেদিন আমি পৃথিবীর কাছে কিছু চাইনি;
পৃথিবীই আমাকে প্রশ্ন করেছিল প্রথম—
বাঁচতে পারবি তো?
আমার কান্নাই ছিল উত্তর।
শিশু কাঁদে বলে ভাবি সে দুর্বল,
অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী শব্দ
সম্ভবত এক নবজাতকের কান্না।
সে জানে না বিশ্বাসঘাতকতা কী,
শোক কী, বিচ্ছেদ কী—
তবু শ্বাস নেয়,
তবু বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
তারপর মানুষ বড় হয়।
হাসতে শেখে, কথা বলতে শেখে,
মিথ্যা বলতে শেখে,
নিজের কান্না লুকোতে শেখে।
একদিন এমনও হয়—
চোখ ভেজা, মুখে হাসি।
সেদিনই শৈশব শেষ।
কত মুখ দেখলাম—
ভদ্রতা ছিল, সাফল্য ছিল, সম্মানও;
শুধু প্রথম কান্নার সেই নির্মল সাহস
খুব কম মুখেই।
বড় হতে হতে আমরা কান্না হারাই না,
হারাই কান্নার সততা।
মানুষের সবচেয়ে সত্য কথাটি
উচ্চারিত হয়ে যায় জন্মের প্রথম মুহূর্তে—
বাকি জীবন আমরা লিখি তার অনুবাদ:
কেউ কবিতায়, কেউ প্রার্থনায়,
কেউবা নীরবতায়।
আর মৃত্যুর ঠিক আগে,
যখন শেখা ভাষারা ঝরে পড়ে একে একে,
মানুষ হয়তো ফিরতে চায়
সেই প্রথম ভাষাতেই—
এক শব্দহীন, ভেজালহীন,
সম্পূর্ণ মানুষের কান্নায়।

প্রথম কান্না

(জন্মের আগের নীরবতা)

আমার জন্মদিন সবাই জানে।
কিন্তু আমি যে হাজার বছর ধরে
এই পৃথিবীর অপেক্ষায় ছিলাম—
সেই অপেক্ষার কোনো ক্যালেন্ডার নেই।

হয়তো—
আমি একদিন কোনো নদীর স্বপ্ন ছিলাম।
কোনো গাছের পাতায় জমে থাকা
শিশিরের ইচ্ছা ছিলাম।
হয়তো কোনো মৃত মানুষের
অসমাপ্ত প্রার্থনা হয়ে বাতাসে ভেসে ছিলাম।
তারপর একদিন একটি শিশু হয়ে জন্ম নিলাম।

আমি জন্মকে শুরু মনে করি না।
জন্ম কেবল দৃশ্যমান হওয়ার দিন।
আমার অদৃশ্য যাত্রা
তারও অনেক আগে শুরু হয়েছিল।
আজও মনে হয়,
আমি এখনো জন্ম নিচ্ছি।
প্রতিটি ভালোবাসায়,
প্রতিটি ক্ষতিতে,
প্রতিটি ক্ষমায়,
প্রতিটি কবিতায়—
আমি আবার জন্মাই।

মানুষ তো আসলে কোনো ফুরিয়ে যাওয়া গল্প নয়,
সে তো এক অনন্ত রূপান্তর!

জন্মের পূর্বে

বাছাইকৃত কবিতা

যে ভাষা ছিল না

- মোঃ আবু তালেব

(শৈশব)

কথা বলতে শেখার আগেই
আমি পৃথিবীকে চিনতাম।

মায়ের বুকে মাথা রাখলে
যে নিশ্চিন্ততা নামত —
তার কোনো নাম ছিল না।
বাবার কোলে যে নিরাপত্তা
চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত —
তার কোনো অভিধান ছিল না।

ভোরের আলো
জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকত,
আমি তাকিয়ে থাকতাম।
আলো আমাকে কিছু বলত না,
আমিও তাকে কিছু বলতাম না —
তবু আমাদের ভুল হতো না কখনো।

শিশু ক্ষুধার কথা বলতে পারে না,
তবু মা বুঝে যায়।

বৃদ্ধ মুখে হাসি রাখেন,
তবু মেয়ে তাঁর হাত ছুঁয়ে বোঝে —
বাবা আজ বড় ক্লান্ত।

দুই বন্ধু হাঁটে পাশাপাশি,
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো কথা নেই;
তবু বিদায়ের বেলায় মনে হয় —
সব কথা হয়ে গেছে।

পৃথিবীর গভীরতম ভাষাগুলোর
কোনো বর্ণমালা নেই।

আমরা বড় হই।
শব্দ শিখি, বাক্য শিখি, যুক্তি শিখি।

তারপর একদিন —
যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি
তার সামনে দাঁড়িয়ে
একটি কথাও বলতে পারি না।
শব্দ গলায় এসে জমে যায়,
অথচ বুকের ভেতর তখন
একটা গোটা মহাবিশ্ব কথা বলছে।

ভাষা সবসময় পাশে থাকে না।
অনুভব থাকে।

আজ আমার কাছে অনেক শব্দ।
চাইলে একটা বই লিখে ফেলতে পারি।
তবু আমার জীবনের সবচেয়ে সত্য মুহূর্তগুলোর
কোনো ভাষা নেই।

মায়ের শেষবার আমার দিকে তাকানো।
বাবার নীরবে কাঁধে হাত।
প্রথম ভালোবাসার বিদায়।
বন্ধুর অকারণে চলে যাওয়া।
সন্তানের প্রথম হাসি।

এসবের কিছুই
শব্দে সম্পূর্ণ ধরা পড়ে না।
শব্দ শুধু চারপাশে ঘোরে —
ভেতরে ঢুকতে পারে না।

হয়তো তাই
পৃথিবীর সব কবিতা শেষমেশ
একটা হারানো ভাষাকেই খোঁজে।

সেই ভাষা,
জন্মের আগে যা আমরা জানতাম।
যেখানে ধর্ম ছিল না, জাতি ছিল না,
অহংকার ছিল না —
ছিল শুধু
একটা হৃদয়ের কাছে
আরেকটা হৃদয়ের
ধীরে ধীরে খুলে যাওয়া।

মানুষ মারা গেলে কোথায় যায় —
জানি না।

শুধু বিশ্বাস করতে চাই,
যদি কোথাও ফিরে যাওয়া বলে কিছু থাকে,
আমরা কোনো নতুন ভাষা শিখতে যাই না।

আমরা ফিরে যাই
সেই প্রথম ভাষায় —

যেখানে একটা স্পর্শ
একটা বইয়ের চেয়েও দীর্ঘ,
এক ফোঁটা অশ্রু
একটা জীবনের চেয়েও সত্য,

আর নীরবতা —
সমস্ত উচ্চারণের আগে —
মানুষের প্রথম মাতৃভাষা।
বিস্তারিত...

প্রথম কান্না

- মোঃ আবু তালেব

(শৈশব)

আমার জীবনের প্রথম ভাষা
কোনো শব্দ ছিল না।
মা বলতেন, জন্মের পর নাকি
খুব কেঁদেছিলাম আমি—
আমার মনে নেই।
শুধু আজ, এত বছর পরে বুঝি,
সেদিন আমি পৃথিবীর কাছে কিছু চাইনি;
পৃথিবীই আমাকে প্রশ্ন করেছিল প্রথম—
বাঁচতে পারবি তো?
আমার কান্নাই ছিল উত্তর।
শিশু কাঁদে বলে ভাবি সে দুর্বল,
অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী শব্দ
সম্ভবত এক নবজাতকের কান্না।
সে জানে না বিশ্বাসঘাতকতা কী,
শোক কী, বিচ্ছেদ কী—
তবু শ্বাস নেয়,
তবু বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
তারপর মানুষ বড় হয়।
হাসতে শেখে, কথা বলতে শেখে,
মিথ্যা বলতে শেখে,
নিজের কান্না লুকোতে শেখে।
একদিন এমনও হয়—
চোখ ভেজা, মুখে হাসি।
সেদিনই শৈশব শেষ।
কত মুখ দেখলাম—
ভদ্রতা ছিল, সাফল্য ছিল, সম্মানও;
শুধু প্রথম কান্নার সেই নির্মল সাহস
খুব কম মুখেই।
বড় হতে হতে আমরা কান্না হারাই না,
হারাই কান্নার সততা।
মানুষের সবচেয়ে সত্য কথাটি
উচ্চারিত হয়ে যায় জন্মের প্রথম মুহূর্তে—
বাকি জীবন আমরা লিখি তার অনুবাদ:
কেউ কবিতায়, কেউ প্রার্থনায়,
কেউবা নীরবতায়।
আর মৃত্যুর ঠিক আগে,
যখন শেখা ভাষারা ঝরে পড়ে একে একে,
মানুষ হয়তো ফিরতে চায়
সেই প্রথম ভাষাতেই—
এক শব্দহীন, ভেজালহীন,
সম্পূর্ণ মানুষের কান্নায়।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4554
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1643
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1619
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1534
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1532
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1452
মানুষ মোঃ আবু তালেব 1428
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1420
রমণী মোঃ আবু তালেব 1398
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1359
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1356
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1352
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1320
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1319
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1319
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1315
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1312
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1290
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1289
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1279
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
যে ভাষা ছিল না মোঃ আবু তালেব 5
প্রথম কান্না মোঃ আবু তালেব 26
জন্মের পূর্বে মোঃ আবু তালেব 30
নামহীন স্পন্দন মোঃ আবু তালেব 35
প্রথম অন্ধকার মোঃ আবু তালেব 38
মায়ের নীরবতা মোঃ আবু তালেব 51
পৃথিবীর আগে মোঃ আবু তালেব 53
তোমার প্রতি মোঃ আবু তালেব 63
জুলাইয়ের কংক্রিট ও নক্ষত্রের ইশতেহার মো: আবু তালেব 106
ভাঙা মাটির খেলা মো: আবু তালেব 116
মানচিত্রের কাটা দাগ মো: আবু তালেব 130
মহাজাগতিক ইশতেহার ও এক নশ্বরের চিৎকার মো: আবু তালেব 150
মৃণ্ময়ী মোঃ আবু তালেব 254
ইশকের তুফান মোঃ আবু তালেব 293
আদিকথা মো: আবু তালেব 178
রূহের তৃষা মো: আবু তালেব 261
মায়ার নদী মো: আবু তালেব 277
মায়ার বাঁধন মো: আবু তালেব 277
অগ্নিজল ও ছায়ার কারুকাজ মো: আবু তালেব 226
বিবেকের অবশ প্রহর মো: আবু তালেব 345
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 27
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 69
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 113
কিংবদন্তির বাহন আজাহার রাজা 102
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 100
ভালো মানুষ ইবনে আলী 195
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 118
শিকল ইবনে আলী 177
পৃথিবীতে কেবল ক্ষুধাই সত্য আজাহার রাজা 187
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 202
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 192
বসন্ত জয়দীপ রায় 205
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 138
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 272
জীবন ও বৃক্ষ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 247
মানবতা বনাম স্বার্থপরতা: এক যুদ্ধাহত পৃথিবীর আর্তনাদ! শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 257
সোনার দেশ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 279
মুসলিম সংখ্যালঘু শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 224
বাদলের দিন শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 294
তুমি হীনা জান্নাত চাইনা কবি মোঃ নিজাম গাজী 275
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে