কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

(মুখ ও মুখোশ)

লোকটি আজও হাসছিল!

চায়ের দোকানে বসে
বন্ধুর কৌতুকে এমনভাবে হেসে উঠল,
যেন পৃথিবীর সমস্ত আনন্দ
তারই পকেটে জমা আছে।

দোকানদার বলল,
“ভাই, আজ খুব খুশি মনে হচ্ছে!”

সে আরও একটু হাসল।

কেউ জানল না—
সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
সে নিজের মুখটাকে কিছুক্ষণ চিনতে পারেনি।
তার হাসির ভাঁজে
একটা অসমাপ্ত কথোপকথন ছিল,
চোখের কোণে ছিল
ফিরে না-আসা একজন মানুষের ছায়া।
তবু সে হাসছিল,
কারণ মানুষজন
হাসি দেখতে পছন্দ করে,
কিন্তু হাসির ভেতর
কী ভেঙে যাচ্ছে—
সেটা দেখতে তাদের সময় নেই।

বিকেলে সে রাস্তায় হাঁটল,
পরিচিত সবাইকে সালাম দিল,
দু-একজনের কাঁধে হাত রাখল,
আর এমনভাবে বলল—
“কী খবর?”

রাতে বাড়ি ফিরে
জুতো খুলে দরজার পাশে রাখল।
আলো জ্বালাল না।
অন্ধকারে বসে
সারাদিনের হাসিগুলো
এক এক করে খুলে রাখল টেবিলের ওপর।

কিছু হাসি ছিল মানুষের জন্য,
কিছু ছিল অভ্যাসের জন্য,
আর একটা হাসি—
শুধু নিজেকে বোঝানোর জন্য:
“আমি ঠিক আছি।”
কেউ শুনল না!

পরদিন সকালে
আবার সেই মানুষটিকে দেখা গেল।
সে হাসছিল।
সবাই ভাবল,
মানুষটি খুব ভালো আছে।

যে মানুষটি হাসছিল

(মুখ ও মুখোশ)

ছেলেটির জামাটি
খুব পরিষ্কার ছিল।
শুধু কনুইয়ের কাছে
একটু ছেঁড়া।

সকালবেলা সে
মায়ের হাত ধরে
বাজারে এসেছিল।
মা বারবার
তার জামার ছেঁড়া অংশটি
হাত দিয়ে ঢেকে দিচ্ছিল।

ছেলেটি বলল—
“মা, এত লুকাও কেন?”
মা হাসল।
বলল,
“কিছু না।”

দোকানের সামনে
দুজন মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল।
একজন ছেলেটির দিকে তাকিয়ে
ফিসফিস করে বলল—
“গরিবের ছেলে।”

শব্দটি খুব ছোট।
কিন্তু ছেলেটি শুনেছিল।
সে নিজের জামার দিকে তাকাল।
তারপর
মায়ের হাতটা ছেড়ে দিল।
সেদিন প্রথম
সে বুঝল—
মানুষের জামা শুধু শরীর ঢাকে না;
কখনো কখনো
সমাজ তার জামা দেখে
তার পুরো জীবন পড়ে ফেলে।

ছেলেটি জানত না
গরিব হওয়া কী।
সে শুধু জানত—
তার বাবা ভোরে বের হন,
রাতে ফেরেন,
মা হিসাব করে চাল ধুয়ে রান্না করেন,
আর মাসের শেষ সপ্তাহে
বাজারের ব্যাগ একটু হালকা হয়।
সে জানত না
এইসবের নাম দারিদ্র্য।

স্কুলে একদিন
শিক্ষক বললেন—
“সবাই নিজের পরিচয় লিখবে।”
ছেলেটি লিখল—
“আমি রাকিব।
আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই।”
পাশের বেঞ্চ থেকে
একজন বলল—
“তুই ডাক্তার হবি?”
হাসি ছড়িয়ে পড়ল।

রাকিব খাতাটা বন্ধ করে দিল।

সেদিন বাড়ি ফিরে
মাকে জিজ্ঞেস করেছিল—
“গরিব হলে কি ডাক্তার হওয়া যায় না?”
মা চুপ করে ছিল।
তারপর
ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেছিল—
“মানুষ হলে
সব হওয়া যায়।”

সেই কথাটি
ছেলেটি বহু বছর মনে রেখেছিল।

একদিন শহরের বড় হাসপাতালে
একজন বৃদ্ধ রোগীকে
অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলো।
ডাক্তারটি
মাস্ক খুলে বাইরে এল।
তার জামা পরিষ্কার।
জুতো চকচকে।
চোখে ক্লান্তি।

অপেক্ষমাণ মানুষদের মধ্যে
একজন বৃদ্ধা হঠাৎ বললেন—
“বাবা, তুমি কি রাকিব?”
ডাক্তার থেমে গেল।
বৃদ্ধা হাসলেন।
“তোমার মা আমাকে চিনত।”

অনেক বছর পর
সে তার পুরোনো বাড়িতে ফিরে গেল।
আলমারির এক কোণে
তার ছোটবেলার সেই জামাটি ছিল।
মা যত্ন করে রেখেছিল।
কনুইয়ের কাছে
সেই ছেঁড়া দাগ।
রাকিব জামাটির দিকে তাকিয়ে
অনেকক্ষণ কিছু বলল না।
তারপর আস্তে করে
জামাটি বুকে ধরল।
সে বুঝল—
সমাজ তাকে একদিন
“গরিবের ছেলে” বলেছিল।

কিন্তু তার মা
তাকে কখনো
গরিব বলে ডাকেনি।
তিনি শুধু বলেছিলেন—
“মানুষ হলে
সব হওয়া যায়।”

আজও শহরের রাস্তায়
আমি দরিদ্র মানুষের জামা দেখি।
কারও হাতা ছেঁড়া।
কারও জুতো ক্ষয়ে গেছে।
কারও শার্টে পুরোনো দাগ।
আমরা তাকাই।
মূল্য বিচার করি।
শ্রেণি ঠিক করি।
তারপর পাশ কাটিয়ে যাই।

কিন্তু জামার নিচে
যে মানুষটি আছে—
তারও তো
একটি নাম আছে,
একটি স্বপ্ন আছে,
একটি মায়ের হাত আছে,
একটি অসমাপ্ত ভবিষ্যৎ আছে।
দারিদ্র্য একজন মানুষের অবস্থা—
তার পরিচয় নয়।

আর যে সমাজ
মানুষের জামা দেখে
মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে,
তার নিজের জামাটিও
একদিন খুলে দেখা দরকার।

দরিদ্রের জামা

(মুখ ও মুখোশ)

এই শহরে
মানুষ খুব হাসে।

বাসের ভিড়ে হাসে,
অফিসের করিডরে হাসে,
রেস্তোরাঁর টেবিলে হাসে,
মোবাইলের পর্দায় হাসে,
ছবির নিচে লিখে—
“ভালো আছি।”
শহরও বিশ্বাস করে!

সকালে যে মানুষটি
ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে
নিজের শেষ সঞ্চয় তুলে নেয়,
বিকেলে সেই মানুষটিই
বন্ধুর সামনে বসে
হেসে বলে—
“সব ঠিক হয়ে যাবে।”

যে মেয়েটি
সারারাত মায়ের অসুখ নিয়ে জেগেছে,
সে অফিসে এসে
সহকর্মীর কৌতুকে হাসে।

যে ছেলেটি
চাকরি হারিয়ে বাড়ি ফিরেছে,
সে রাতের খাবারের টেবিলে
বাবাকে বলে—
“চিন্তা কোরো না।”
এই শহরে
মানুষ তার কষ্টকে
ঘরের ভেতর রেখে বের হয়।
যেমন মানুষ
ভেজা ছাতা
দরজার পাশে রেখে যায়।

একদিন একটি ক্যাফেতে
দেখেছিলাম—
চারজন বন্ধু
একসঙ্গে বসে আছে।
টেবিলে কফি।
কথা।
হাসি।
ছবিও তুলল তারা।
সেই ছবিতে
চারটি উজ্জ্বল মুখ ছিল।

ছবির বাইরে
চারটি আলাদা দুশ্চিন্তা।
একজনের বাবার অপারেশন।
একজনের সংসার ভাঙছে।
একজন ঋণে ডুবে আছে।
আরেকজন
প্রতিদিন ভোরে উঠে
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার কারণ খোঁজে।
কেউ কাউকে কিছু বলেনি।

শহর এমনই।
এখানে মানুষ
নিজের ক্ষতগুলো
জামার ভেতর লুকিয়ে রাখে।
শুধু কখনো কখনো
রাত গভীর হলে
বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষকে দেখে
মনে হয়—
সে কি আকাশ দেখছে,
নাকি
নিজের ভেতরের অন্ধকারটুকু
কাউকে না দেখিয়ে
একটু বাতাসে শুকিয়ে নিচ্ছে?

এই শহরে
অনেক আলো আছে।
অনেক দোকান।
অনেক উৎসব।
অনেক মুখ।
অনেক হাসি।
তবু আশ্চর্য—
কেউ কারও চোখের দিকে
দীর্ঘক্ষণ তাকায় না।
কারণ চোখের ভেতর
হাসির চেয়ে বড় কিছু থাকে।

সেখানে থাকে
একটি অপূর্ণতা,
একটি ভয়,
একটি না-বলা কথা,
একটি দীর্ঘ ক্লান্তি।

আজকাল আমি
মানুষের হাসি দেখলে
সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করি না।
আমি একটু অপেক্ষা করি।
চোখের দিকে তাকাই।
কারণ আমি জানি—
এই শহরে
সবাই হাসতে জানে,
কিন্তু খুব কম মানুষ
অন্যের কষ্ট দেখতে জানে।

আর যেদিন
একজন মানুষ
অন্য একজন মানুষের
হাসির ভিতর লুকিয়ে থাকা দুঃখটুকু
দেখতে শিখবে,
সেদিন হয়তো
এই শহর
সত্যিই মানুষের শহর হবে।

হাসির শহর

(মুখ ও মুখোশ)

সভ্য মানুষেরা
খুব সুন্দর করে কথা বলে।

তারা কাউকে হাতে মারে না—
শুধু এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করে
যাতে মানুষটি
নিজের ভিতরেই
ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে।

তারা রক্ত দেখতে পছন্দ করে না;
তাই ক্ষত তৈরি করে
কাগজে,
স্বাক্ষরে,
নিয়মে,
একটি ছোট্ট “না”-তে।

তাদের টেবিলে
ফুল থাকে।
কাঁচের গ্লাসে পানি থাকে।
দেয়ালে
মানবতার ছবি ঝোলে।
আর দরজার বাইরে
একজন বৃদ্ধ
সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকে।
ভেতরের মানুষটি
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে—
“আজ সম্ভব হবে না।”

সভ্য মানুষেরা
ক্ষুধার্ত মানুষকে
খাবার দেওয়ার আগে
তার পরিচয় জানতে চায়।
তারপর
তার কাগজ দেখে।
তার পোশাক দেখে।
তার ভাষা দেখে।
তারপর সিদ্ধান্ত নেয়—
সে কতটুকু মানুষ!

তারা শিশুকে শেখায়—
“সত্য কথা বলবে।”
তারপর সেই শিশুটি
বড় হয়ে দেখে,
সত্য বললে
চাকরি যায়,
বন্ধু যায়,
সম্মান যায়।
তাই সে শিখে যায়
সত্যের আগে
কীভাবে থামতে হয়।

সভ্য মানুষেরা
যুদ্ধকে ঘৃণা করে।
তারা যুদ্ধের ছবি দেখে
দুঃখ পায়।
তারপর
ডাইনিং টেবিলে বসে
নির্বিঘ্নে রাতের খাবার খায়।

তাদের শহরে
কেউ ফুটপাথে ঘুমায়।
কেউ হাসপাতালের করিডরে
মায়ের হাত ধরে বসে থাকে।
কেউ দিনের শেষে
ভাতের জন্য
নিজের সম্মান বিক্রি করে।
সভ্য মানুষেরা
তাদের পাশ দিয়ে যায়।
কেউ চোখ নামিয়ে নেয়।
কেউ মোবাইলে তাকায়।

কেউ বলে—
“এরা তো সবসময়ই ছিল।”

এই একটি বাক্য
কত শত মানুষের
ক্ষুধার চেয়েও পুরোনো।

সভ্য মানুষেরা
অপরাধীকে শাস্তি দেয়।
এটি ভালো।
কিন্তু তারা কখনো জিজ্ঞেস করে না—
অপরাধের আগে
কতগুলো দরজা
তার মুখের ওপর বন্ধ হয়েছিল।

তারা চোরকে ঘৃণা করে,
কিন্তু এমন একটি সমাজ তৈরি করে
যেখানে কারও কারও কাছে
চুরি ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।


তারপর
নিজেদের সভ্য বলে,
রাতে তারা
আয়নার সামনে দাঁড়ায়।
পরিষ্কার জামা।
পরিপাটি চুল।
নিরাপদ ঘর।
পাশে ঘুমিয়ে থাকা সন্তান।
আয়না কিছু বলে না,
শুধু মুখ দেখায়।

কিন্তু কোনোদিন যদি
আয়না মুখের বদলে
হাত দেখাত—
তবে দেখা যেত
কারও হাত স্বাক্ষরে,
কারও হাত নীরবতায়,
কারও হাত
শুধু কিছু না করার অপরাধে
ভারী হয়ে আছে।

তবুও সকাল হয়,
সভ্য মানুষেরা
আবার বেরিয়ে পড়ে।
টাই বাঁধে।
জুতো পালিশ করে।
ভদ্রভাবে হাসে।
একজন আরেকজনকে বলে—
“কেমন আছেন?”

কেউ উত্তর দেয় না
সে সত্যিই কেমন আছে!

কারণ
সভ্যতা হয়তো মানুষকে
হিংস্রতা থেকে বাঁচিয়েছে,
কিন্তু মানুষকে
মানুষের কষ্ট থেকে
বাঁচাতে পারেনি এখনও!

সভ্য মানুষেরা

বাছাইকৃত কবিতা

যে মানুষটি হাসছিল

- মোঃ আবু তালেব

(মুখ ও মুখোশ)

লোকটি আজও হাসছিল!

চায়ের দোকানে বসে
বন্ধুর কৌতুকে এমনভাবে হেসে উঠল,
যেন পৃথিবীর সমস্ত আনন্দ
তারই পকেটে জমা আছে।

দোকানদার বলল,
“ভাই, আজ খুব খুশি মনে হচ্ছে!”

সে আরও একটু হাসল।

কেউ জানল না—
সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
সে নিজের মুখটাকে কিছুক্ষণ চিনতে পারেনি।
তার হাসির ভাঁজে
একটা অসমাপ্ত কথোপকথন ছিল,
চোখের কোণে ছিল
ফিরে না-আসা একজন মানুষের ছায়া।
তবু সে হাসছিল,
কারণ মানুষজন
হাসি দেখতে পছন্দ করে,
কিন্তু হাসির ভেতর
কী ভেঙে যাচ্ছে—
সেটা দেখতে তাদের সময় নেই।

বিকেলে সে রাস্তায় হাঁটল,
পরিচিত সবাইকে সালাম দিল,
দু-একজনের কাঁধে হাত রাখল,
আর এমনভাবে বলল—
“কী খবর?”

রাতে বাড়ি ফিরে
জুতো খুলে দরজার পাশে রাখল।
আলো জ্বালাল না।
অন্ধকারে বসে
সারাদিনের হাসিগুলো
এক এক করে খুলে রাখল টেবিলের ওপর।

কিছু হাসি ছিল মানুষের জন্য,
কিছু ছিল অভ্যাসের জন্য,
আর একটা হাসি—
শুধু নিজেকে বোঝানোর জন্য:
“আমি ঠিক আছি।”
কেউ শুনল না!

পরদিন সকালে
আবার সেই মানুষটিকে দেখা গেল।
সে হাসছিল।
সবাই ভাবল,
মানুষটি খুব ভালো আছে।
বিস্তারিত...

দরিদ্রের জামা

- মোঃ আবু তালেব

(মুখ ও মুখোশ)

ছেলেটির জামাটি
খুব পরিষ্কার ছিল।
শুধু কনুইয়ের কাছে
একটু ছেঁড়া।

সকালবেলা সে
মায়ের হাত ধরে
বাজারে এসেছিল।
মা বারবার
তার জামার ছেঁড়া অংশটি
হাত দিয়ে ঢেকে দিচ্ছিল।

ছেলেটি বলল—
“মা, এত লুকাও কেন?”
মা হাসল।
বলল,
“কিছু না।”

দোকানের সামনে
দুজন মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল।
একজন ছেলেটির দিকে তাকিয়ে
ফিসফিস করে বলল—
“গরিবের ছেলে।”

শব্দটি খুব ছোট।
কিন্তু ছেলেটি শুনেছিল।
সে নিজের জামার দিকে তাকাল।
তারপর
মায়ের হাতটা ছেড়ে দিল।
সেদিন প্রথম
সে বুঝল—
মানুষের জামা শুধু শরীর ঢাকে না;
কখনো কখনো
সমাজ তার জামা দেখে
তার পুরো জীবন পড়ে ফেলে।

ছেলেটি জানত না
গরিব হওয়া কী।
সে শুধু জানত—
তার বাবা ভোরে বের হন,
রাতে ফেরেন,
মা হিসাব করে চাল ধুয়ে রান্না করেন,
আর মাসের শেষ সপ্তাহে
বাজারের ব্যাগ একটু হালকা হয়।
সে জানত না
এইসবের নাম দারিদ্র্য।

স্কুলে একদিন
শিক্ষক বললেন—
“সবাই নিজের পরিচয় লিখবে।”
ছেলেটি লিখল—
“আমি রাকিব।
আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই।”
পাশের বেঞ্চ থেকে
একজন বলল—
“তুই ডাক্তার হবি?”
হাসি ছড়িয়ে পড়ল।

রাকিব খাতাটা বন্ধ করে দিল।

সেদিন বাড়ি ফিরে
মাকে জিজ্ঞেস করেছিল—
“গরিব হলে কি ডাক্তার হওয়া যায় না?”
মা চুপ করে ছিল।
তারপর
ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেছিল—
“মানুষ হলে
সব হওয়া যায়।”

সেই কথাটি
ছেলেটি বহু বছর মনে রেখেছিল।

একদিন শহরের বড় হাসপাতালে
একজন বৃদ্ধ রোগীকে
অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলো।
ডাক্তারটি
মাস্ক খুলে বাইরে এল।
তার জামা পরিষ্কার।
জুতো চকচকে।
চোখে ক্লান্তি।

অপেক্ষমাণ মানুষদের মধ্যে
একজন বৃদ্ধা হঠাৎ বললেন—
“বাবা, তুমি কি রাকিব?”
ডাক্তার থেমে গেল।
বৃদ্ধা হাসলেন।
“তোমার মা আমাকে চিনত।”

অনেক বছর পর
সে তার পুরোনো বাড়িতে ফিরে গেল।
আলমারির এক কোণে
তার ছোটবেলার সেই জামাটি ছিল।
মা যত্ন করে রেখেছিল।
কনুইয়ের কাছে
সেই ছেঁড়া দাগ।
রাকিব জামাটির দিকে তাকিয়ে
অনেকক্ষণ কিছু বলল না।
তারপর আস্তে করে
জামাটি বুকে ধরল।
সে বুঝল—
সমাজ তাকে একদিন
“গরিবের ছেলে” বলেছিল।

কিন্তু তার মা
তাকে কখনো
গরিব বলে ডাকেনি।
তিনি শুধু বলেছিলেন—
“মানুষ হলে
সব হওয়া যায়।”

আজও শহরের রাস্তায়
আমি দরিদ্র মানুষের জামা দেখি।
কারও হাতা ছেঁড়া।
কারও জুতো ক্ষয়ে গেছে।
কারও শার্টে পুরোনো দাগ।
আমরা তাকাই।
মূল্য বিচার করি।
শ্রেণি ঠিক করি।
তারপর পাশ কাটিয়ে যাই।

কিন্তু জামার নিচে
যে মানুষটি আছে—
তারও তো
একটি নাম আছে,
একটি স্বপ্ন আছে,
একটি মায়ের হাত আছে,
একটি অসমাপ্ত ভবিষ্যৎ আছে।
দারিদ্র্য একজন মানুষের অবস্থা—
তার পরিচয় নয়।

আর যে সমাজ
মানুষের জামা দেখে
মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে,
তার নিজের জামাটিও
একদিন খুলে দেখা দরকার।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4627
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1710
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1660
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1587
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1579
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1516
কর্মফল মোঃ আবু তালেব 1506
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1472
রমণী মোঃ আবু তালেব 1441
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1414
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1412
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1405
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1369
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1368
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1367
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1362
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1360
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1344
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1338
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1331
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
অনুরোধ কাজী নজরুল ইসলাম 1153
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1367
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
বায়তুল মাক্বদিস ফেরদাউস সরকার 20
কবির কলমে নবির ছবি কবি ফেরদাউস সরকার 40
প্রত্যাবর্তন রাফাত আহমেদ 49
মৃত্যুদিন শ্রীমল্লার 65
কাঁটাতার ফেরদাউস সরকার 84
তোমাকেই বলছি হে ভারত! ফেরদাউস সরকার 68
হাসান বলছি আল আমিন ইসলাম 83
নীল নিঃশব্দের ভেতর আল আমিন ইসলাম 85
চাঁদ হয়ে তুমি আসো মুহিববুল্লাহ আল মামুন 86
পানি লাগবে পানি ফেরদৌস রায়হান 128
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 146
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 151
ভালো মানুষ ইবনে আলী 259
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 149
শিকল ইবনে আলী 238
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 283
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 235
বসন্ত জয়দীপ রায় 255
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 170
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 325
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে