সিংহাসনে রক্তের দাগ
- মো: আবু তালেব
তোমরা যেটাকে লাল গালিচা বলো,
আমরা তাকে বলি একটা পুরো প্রজন্মের
শুকিয়ে যাওয়া তাজা রক্ত।
স্বর্ণখচিত যে রাজাসনে বসে তোমরা
সার্বভৌমত্বের মহড়া দাও,
তার প্রতিটি পায়া আসলে পোঁতা আছে
একেকটি তাজা কবরের ওপর।
প্রতিদিন ভোরে চাটুকারেরা এসে
পালিশ করে যায় তোরণ আর হাতল;
তারা ময়লা মোছে, ধুলো ঝাড়ে,
কিন্তু কাঠের খাঁজে আটকে থাকা
জমাট মগজের আঠা মোছার কোনো সাবান নেই।
তোমরা দামি সুগন্ধি ছড়িয়ে ঢাকতে চাও যে আবহ,
তা আসলে মর্গের বরফহীন ট্রলি থেকে উঠে আসা
মৃত্যুর তীব্র নোনতা বাতাস।
যে আসনে বসতে গিয়ে
একটা আস্ত মানচিত্রের বুক ঝাঁঝরা করতে হয়,
সেই আসন কোনো শাসকের গৌরব নয়—
ওটা প্রকাশ্য এক কসাইখানার প্রদর্শনী।
তোমরা ভাবো ক্ষমতার উত্তাপ দিয়ে
সব দাগ মুছে ফেলা যায়;
অথচ তোমরা জানো না,
রক্তের একটা নিজস্ব স্মৃতিশক্তি আছে।
রক্ত কোনোদিন কাপড়ের সুতো কিংবা
কাঠের পালিশের নিচে হারিয়ে যায় না;
সে জেগে থাকে,
অপেক্ষা করে,
ঠিক সময়মতো ফুঁড়ে বের হয়।
একটি রাজদণ্ডের ওজন কতটুকু?
ঠিক একটি চব্বিশ বছরের যুবকের
নিথর শরীরের সমান।
তোমরা যখন ক্যামেরার সামনে গম্ভীর মুখে
‘স্থিতিশীলতা’র বুলি আউড়াও,
তখন মানুষ তোমাদের হাত নয়,
হাতের তালুর লালচে আভা দেখে শিউরে ওঠে—
কারণ চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে তখনো আটকে থাকে কোনো এক সন্তানহারা মায়ের দীর্ঘশ্বাস।
ইতিহাস কোনো সাজানো ফরমান দিয়ে কেনা যায় না।
যেদিন এই দম্ভের শেষ খুঁটিটি ধুলোয় আছড়ে পড়বে,
সেদিন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ধ্বংসস্তূপ দেখে
কুর্নিশ করবে না;
তারা শুধু আঙুল তুলে বলবে—
এখানে কোনো শাসক বসতেন না,
এখানে বসেছিল মানুষের রক্তের
এক দেউলিয়া কারবারি।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।