সবাই আমাকে চেনে
- মোঃ আবু তালেব
(মুখ ও মুখোশ)
সবাই আমাকে চেনে।
পাড়ার মানুষ জানে
আমি কখন বাড়ি ফিরি,
অফিসের মানুষ জানে
আমি কী কাজ করি,
আত্মীয়রা জানে
আমার পরিবারের গল্প।
কেউ জানে
আমি কত টাকা উপার্জন করি,
কেউ জানে
আমি কোথায় থাকি,
কেউ জানে
কীভাবে কথা বলি,
কী পোশাক পরি,
কাদের সঙ্গে চলি।
সবাই আমাকে চেনে।
শুধু—
আমি যখন একা হই,
তখন আমাকে কেউ চেনে না।
মানুষ আমার হাসিটা চেনে,
কিন্তু হাসার কারণটা নয়।
আমার কথাগুলো চেনে,
কিন্তু যে কথাগুলো
আমি কোনোদিন বলিনি—
সেগুলো চেনে না।
তারা আমার সাফল্য গুনেছে,
ব্যর্থতাগুলো বিচার করেছে,
ভুলগুলোর নাম দিয়েছে,
অভ্যাসগুলোর ব্যাখ্যা বানিয়েছে।
কেউ একবারও জিজ্ঞেস করেনি—
“তুমি নিজের কাছে
কেমন মানুষ?”
আমার চারপাশে
আমার সম্পর্কে
হাজারটা গল্প আছে।
কেউ আমাকে ভালো মানুষ বলে,
কেউ অহংকারী,
কেউ সফল,
কেউ ব্যর্থ,
কেউ স্বার্থপর,
কেউ উদার।
আমি অবাক হয়ে দেখি—
একজন মানুষকে নিয়ে
কত সহজে
এতগুলো মানুষ
এতগুলো সত্য বানিয়ে ফেলে।
কিন্তু আমার ভিতরে
একটি ছোট ঘর আছে।
সেখানে কোনো পরিচয় নেই।
নেই পদবি,
নেই পেশা,
নেই সম্মান,
নেই অপমান।
সেখানে আমি
কাউকে কিছু প্রমাণ করি না।
সেখানে আমার
সব না-বলা কথা
চুপচাপ বসে থাকে।
একদিন খুব ইচ্ছে হলো
ঘরটির দরজা খুলে বলি—
“এসো,
আজ আমাকে সত্যি করে চেনো।”
কিন্তু দরজার বাইরে
অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল।
তারা ইতিমধ্যে
আমার পরিচয় লিখে ফেলেছে।
তাদের হাতে
আমার জীবন নিয়ে
সম্পূর্ণ একটি বই।
শুধু বইটির
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাতাটি
খালি—
আমি ভিতরে
আসলে কে।
তাই আজকাল
কেউ যখন বলে,
“আমি তোমাকে খুব ভালো করে চিনি,”
আমি শুধু হাসি।
কারণ মানুষ
আমার মুখ চিনতে পারে,
আমার নাম বলতে পারে,
আমার অতীত বলতে পারে—
কিন্তু যে মানুষটি
প্রতিদিন রাতে
নিজের ভিতরের অন্ধকারে
নিজের সঙ্গে কথা বলে,
সেই মানুষটির সঙ্গে
আজও কারও পরিচয় হয়নি।
হয়তো কোনোদিন হবে না!
হয়তো মানুষকে চেনা মানেই
তার সম্পর্কে সব জানা নয়।
হয়তো সত্যিকারের চেনা
শুরু হয় সেখানেই—
যেখানে একজন মানুষ
তার সব পরিচয় নামিয়ে রেখে
নীরবে দাঁড়ায়,
আর অন্যজন
তাকে ব্যাখ্যা না করে
শুধু পাশে থাকে।
সেদিনই হয়তো
প্রথমবার
কেউ আমাকে চিনবে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।