রক্তের কোনো সমঝোতা হয় না

রক্তের কোনো সমঝোতা হয় না

- মো: আবু তালেব

তোমাদের গোলটেবিল,
সাজানো সন্ধিপত্র আর সুশীল ক্ষমার খসড়ায়
আমরা একদলা থুতু ফেলে দিলাম!
যে রক্ত শুকিয়ে কালো অ্যাসফল্টকে
পাথরের মতো শক্ত করে ফেলেছে,
সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে
কোনো আপসের বৈঠক বসে না।

তোমরা ভেবেছ একটা গদি বদল,
কিছু কাগুজে বিবৃতি
আর টেলিভিশনের পর্দায়
দুটো কুমিরের চোখের জলের বিনিময়ে
মুছে ফেলা যাবে গুমঘরের নোনা দেয়ালে
লেগে থাকা নখের আঁচড়?
ভেবেছ শহীদের লাশের ওপর মাখনের প্রলেপ দিলে
কবর থেকে ফেটে বেরোনো
কঙ্কালের চিৎকার স্তব্ধ হয়ে যাবে?

না!
আমরা সমঝোতার সাদা পতাকা ওড়াতে আসিনি,
আমরা এসেছি বধ্যভূমির প্রতিটি ফোঁটা রক্তের
পাই-টু-পাই হিসেব বুঝে নিতে।
যে বুলেটে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়েছিল
আমাদের ভাইয়ের পাঁজরের হাড়,
সেই গলিত সীসার উত্তাপ ফিরিয়ে দেওয়া হবে
তোদের অহংকারের মুখে!

শোনো হে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী মধ্যস্থতাকারীর দল,
শোনো হে আইনের নামাবলি পরা প্রকাশ্য কসাইশ্রেণী—
যে মা আজও চৌকাঠে বসে থাকে
না-ফেরা সন্তানের অপেক্ষায়,
সেই মায়ের একটা শুকিয়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাসের দাম
তোমাদের গোটা সাতপুরুষের চৌদ্দ সাম্রাজ্য
বেচে দিলেও শোধ হবে না!

আমাদের ক্রোধ কোনো ক্ষণস্থায়ী ধোঁয়া নয়—
এটা মাটির তলায় ফুটতে থাকা গনগনে ম্যাগমা।
তোমাদের আদালত বিক্রি হতে পারে,
তোমাদের সংবিধানের পাতা ছিঁড়ে
তোমরা ঠোঙা বানাতে পারো,
কিন্তু রাজপথের ইট-কংক্রিটে
দাঁড়িয়ে থাকা জনতার রুদ্র আদালত
কোনো আপস চেনে না।

এখানে প্রতিটি পড়ে থাকা
ছেঁড়া জুতো একেকটা অলিখিত রায়,
প্রতিটি বুলেটবিদ্ধ বুক একেকটা
জলন্ত ফাঁসির দড়ি!

ইতিহাসের তপ্ত চামড়া চিরে আজ
শেষ বাক্যটি খোদাই করে দিলাম:
জল্লাদের কোনো পুনর্বাসন নেই,
খুনির কোনো ক্ষমা নেই,
শহীদের রক্তের ওপর
কোনোদিন কোনো সমঝোতা হয় না!
হয় অধিকারের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা,
নয় স্বৈরাচারের চিরন্তন ধ্বংস—
বাইরে কোনো তৃতীয় পথ নেই!


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।