কাফন ছাড়া লাশ

কাফন ছাড়া লাশ

- মো: আবু তালেব

তালাবদ্ধ কারখানার গেটে তখন গনগনে আগুনের লেলিহান শিখা,
বাতাসে পোড়া কাঁচা মাংসের গন্ধ, আর শত শত শ্রমিকের আর্তনাদের শেষ চিৎকার।
মালিক পালিয়েছে পেছনের গোপন দরজায়, দামি কাচের গাড়িতে চেপে—
আর ভেতরে কয়লা হলো শত শত তাজা প্রাণ, হাজারটা স্বপ্ন মৃত্যুর খাঁচায় কেঁপে!

তোমাদের চকচকে শপিংমলে ঝোলানো বিদেশি ব্র্যান্ডের রঙিন জামা,
তার প্রতিটি সুতোয় লেপ্টে আছে অনাহারী কিশোরীর রক্ত আর শেষ নিঃশ্বাসের দাম!
তোমরা তাকে নাম দিয়েছ ‘অগ্রগতি’, নাম দিয়েছ ‘উন্নয়নের মহোৎসব’—
অথচ ধসে পড়া কংক্রিটের নিচে চিরতরে পিষে গেল একটি জীবন্ত জাতির শৈশব!

কালো হয়ে যাওয়া অঙ্গারের স্তূপ থেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো চেনা মুখ,
একটি গলিত ধাতব টোকেন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি মুনাফাখোরদের লোভের চাবুক।
কাফন জোটেনি ওদের কপালে, জোটেনি এক টুকরো পরিচ্ছন্ন সাদা কাপড়—
কালো পলিথিনে মুড়ে বেওয়ারিশ গর্তে পুঁতে দিল রাষ্ট্র, যেন ওরা মানুষ নয়, সস্তা জঞ্জাল আর পাথর!

শোনো হে টাই-পরা নরখাদকের দল, শোনো হে সিংহাসনের তোষামোদকারী শ্রেণী—
তোমাদের ব্যাংকের ভল্টে রাখা প্রতিটি নোটের ভাঁজ থেকে ভেসে আসে পোড়া লাশের হাতছানি!
তোমাদের অট্টালিকার ভিত দাঁড়িয়ে আছে শ্রমিকের পিষে যাওয়া পাঁজরের হাড়ের ওপর,
বিচারহীনতার এই বধ্যভূমিতে তোমরা কিনে নিয়েছ আইন, কিনে নিয়েছ আদালত আর শহর!

মনে রেখো, কাফন ছাড়া লাশগুলো কিন্তু কখনো ইতিহাস থেকে মুছে যায় না।
ওরা মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন অভিশাপের স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়,
ধ্বংসস্তূপের জমাট রক্ত ফুঁড়ে জেগে ওঠে একেকটা অপঘাতে মরা রুদ্র প্রাণ!

যেদিন এই কয়লা হওয়া হাতগুলো একজোট হয়ে শোষণের সব চাকা থামিয়ে দেবে,
যেদিন কাফনহীন কোটি মজুরের দীর্ঘশ্বাস রাজপথের দখল নেবে—
সেদিন তোদের মুনাফার গদি তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে ছাই হবে,
রক্তের পাই টু পাই হিসেব বুঝে নেবে মেহনতী মানুষের অপ্রতিরোধ্য বিপ্লব!


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।