আমাদের মাঝখানে রাত
- মোঃ আবু তালেব
(ভালবাসা)
রাতটা খুব সাধারণ ছিল—
বিদ্যুৎ ছিল না,
বারান্দায় মাটির প্রদীপ,
দূরের রাস্তায়
শেষ বাসটির শব্দ।
তুমি খাটের এক পাশে,
আমি অন্য পাশে।
মাঝখানে
এক হাতের বেশি দূরত্ব নয়—
তবু মনে হচ্ছিল,
দুই তীরের মাঝখানে
বর্ষার নদী।
তুমি বলেছিলে,
“ঘুম আসছে?”
আমি বলেছিলাম,
“না।”
তারপর আর কিছু নয়।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল
টিনের চালে।
মাঝে মাঝে
কোনো অচেনা কুকুর ডাকছিল,
তারপর চারপাশ
নিজের অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছিল।
তোমার চুলের কাছে
একটু বৃষ্টির গন্ধ ছিল।
আমি হাত বাড়াতে চেয়েছিলাম,
বাড়াইনি।
কেন মানুষ
যে হাতের কাছে থাকে,
তার হাত ধরতে এত ভয় পায়?
সেদিন যদি বলতাম—
“থাকো,”
তুমি কি থাকতে?
আজও জানি না।
তুমি হয়তো
আমার দিকে তাকিয়েছিলে।
অন্ধকারে চোখ দেখা যায় না,
শুধু বোঝা যায়—
কেউ জেগে আছে।
আমরা দুজনেই জেগে ছিলাম।
কেউ কাউকে
হারাতে চাইনি।
কেউ কাউকে
রাখতেও পারিনি।
ভোরের দিকে
বৃষ্টি থেমে গেল।
জানালার ফাঁক দিয়ে
ফ্যাকাসে আলো ঢুকল।
তুমি উঠে
চুল বাঁধলে।
আমি দেখলাম—
তোমার আঙুলে
আমার দেওয়া সেই ছোট্ট আংটিটি নেই।
জিজ্ঞেস করিনি।
তুমিও কিছু বলোনি।
দরজার কাছে গিয়ে
তুমি একবার পেছনে তাকালে।
সেই দৃষ্টিটুকু
আজও আমার কাছে আছে।
কোনো ছবি নয়—
বরং এমন একটি ক্ষত,
যাকে ছুঁলে
রক্ত বেরোয় না বটে,
শুধু পুরোনো একটি সকাল
জেগে ওঠে।
তারপর তুমি চলে যাবার পর,
অনেক বছর কেটে গেছে।
এখন আমার ঘরে
বিদ্যুৎ থাকে,
ঘড়ি চলে,
জানালায় পর্দা আছে,
রাতে শহরও আগের চেয়ে
অনেক বেশি আলোয় ভরা।
তবু কোনো কোনো রাতে
সব আলো নিভিয়ে দিলে
সেই পুরোনো রাতটি
আবার ফিরে আসে।
খাটের এক পাশে
তুমি,
অন্য পাশে
আমি।
মাঝখানে
এক হাতের দূরত্ব।
শুধু এবারের একহাত
সমান
পুরো একটি জীবন।
আমি এখন বুঝি—
কিছু বিচ্ছেদ
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে হয় না,
কখনো
দুজন মানুষ পাশাপাশি শুয়ে থাকে,
একজন আরেকজনকে
ভালোবাসে,
তবু
কথা না বলা একটি রাত
সারাজীবনের সমান
দূরত্ব হয়।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।