মহাজাগতিক ইশতেহার ও এক।নশ্বরের চিৎকারা

মহাজাগতিক ইশতেহার ও এক।নশ্বরের চিৎকার

- মো: আবু তালেব

১.

আমি সেই আদিম ভুলের গল্প বলতে এসেছি, যার নাম সভ্যতা।

সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে এই গ্রহের বুকে যে প্রথম কোষটি নড়ে উঠেছিল,

সে জানত না — সে আসলে এক অন্তহীন দাসত্বের বীজ বুনছে নিজের অজান্তে।
আজ যে শিশুটি জন্মাল প্লাস্টিকের চাদরে মোড়া হাসপাতালের বেডে,

কাঁদতে না কাঁদতেই তার পিঠে চাপিয়ে দেওয়া হলো এক অদৃশ্য জোয়াল —

তার নাম রাখা হলো 'নাগরিক', কপালে ঠেসে দেওয়া হলো একটা নম্বর।
মানুষ জন্মায়নি রে — জন্মেছে রাষ্ট্র আর ব্যাংকের নতুন একটা মুখ।

ধিক্কার সেই গর্ভকে, যা প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীন মানুষ না জন্মিয়ে

পৃথিবীতে পাঠাচ্ছে ট্যাক্স-পেয়ার, পাঠাচ্ছে কর্পোরেটের মজুর।

২.

আমি দেখেছি সভ্যতার শেষ প্রান্তে এক অন্ধকার ঘর,

সেখানে প্রতিদিন মানুষের মগজ ধুয়ে সাজিয়ে রাখা হয় কাচের বোতলে।
তোমাদের 'সংস্কৃতি', তোমাদের 'ঐতিহ্য' —

ওগুলো অহংকারের বস্তু নয়,

ওগুলো সেই পুরনো চাবুক, যা দিয়ে খাঁচার পাখিকে গান শেখানো হয়।
তোমরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলো, অথচ একটা পিঁপড়েও তোমাদের চেয়ে মুক্ত —

সে তো অন্তত নিজের নিয়মে হাঁটে,

আর তোমরা মরো অন্যের বানানো কাগজে সই করতে করতে।
তোমাদের প্রেম? সেটুকু স্রেফ হরমোনের অন্ধ খেলা,

যা দিয়ে তোমরা নিজের একাকিত্ব ঢাকো, আর ভাবো — আহা, কী পবিত্র!
যদি এই দাসত্বের নামই হয় প্রগতি,

তবে আমি, এই ব্রহ্মাণ্ডের এক ক্ষণস্থায়ী কবি —

থুতু দিলাম তোমাদের সমস্ত বিবর্তনের মুখে।

৩.

শোনো — তোমরা কেউ মানুষ নও, তোমরা অ্যালগরিদম।

তোমাদের রাগ, তোমাদের বিপ্লব — সবই আগে থেকে গণনা করা,

তোমরা যখন ভাবো বিদ্রোহ করছ, আসলে তখন শাসকের হাতে নতুন বাজার তুলে দিচ্ছ।
তোমাদের পকেটের চারকোনা স্ক্রিনটা প্রতি রাতে তোমাদের মগজ চিবিয়ে খায়,

আর তোমরা বলো — আমি মুক্ত, আমি আধুনিক।
পাশের মানুষটা যখন শ্বাস খুঁজে পাচ্ছে না,

তখন তোমরা আঙুল ঘষো স্ক্রিনে, লেখো — "কী কষ্ট!"
তোমাদের রক্তে লোহা নেই,

ওটা আসলে কর্পোরেটের বর্জ্য, তরল আর ঠান্ডা।

এই মেরুদণ্ডহীন বেঁচে থাকাকে ইতিহাস কোনোদিন ক্ষমা করবে না —

এমনকি ভুলেও না।

৪.

তাই আর সংস্কার নয়, এবার আসুক প্রকৃতির নিজের রায়।
ছিঁড়ে যাক টেকটোনিক প্লেট,

ভেঙে পড়ুক স্যাটেলাইটের জাল,

গুঁড়িয়ে যাক সেই শেয়ার বাজারের পর্দা, যেখানে মানুষের ক্ষুধা নিয়ে জুয়া খেলা হয়।
নদীতে জল নয়,

এবার পৃথিবীর শিরা বেয়ে নেমে আসুক গলিত ক্ষোভ —

যা পুড়িয়ে দেবে লোহা, কংক্রিট, আর মানুষের আঁকা সব মিথ্যে সীমান্ত।
আমি কোনো নতুন ভোরের কথা বলতে আসিনি।

আমি চাই এই অহংকারী, ভণ্ড প্রজাতিটা এই গ্রহ থেকে মুছে যাক চিরকালের জন্য।
পৃথিবী ফিরে যাক তার আদিম নীরবতায় —

যেখানে কোনো সমাজ নেই, কোনো শাসক নেই,

আর নেই মানুষের মতো কোনো স্বেচ্ছা-দাস।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।