মর্গের টেবিলের বক্তব্য
- মোঃ আবু তালেব
সিটি কর্পোরেশনের পানির গাড়ি নামিয়েছিস মধ্যরাতে,
ভেবেছিস তীব্র তোড়ে পিচঢালা অ্যাসফল্ট থেকে ধুয়ে সাফ করবি ছিটকে পড়া তাজা মগজ আর রক্ত?
না! ড্রেনের ভেতরে রক্ত মিশিয়ে দিলেই ইতিহাস ধুয়ে ফেলা যায় না!
ফরমালিনের ঝাঁঝালো গন্ধে ভারী হয়ে ওঠা মর্গের ঠান্ডা মেঝে
আজ তোদের পুরো শাসনতন্ত্রের কফিনের মাপ ঘোষণা করে দিয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধ করে ব্ল্যাকআউট নামালি শহরের বুকে,
সাইরেন বাজিয়ে সাঁজোয়া বহর ঘুরিয়ে ভাবলি অন্ধকারের পেটে গুম করে দেওয়া গেল হত্যাযজ্ঞ?
অথচ যে ছেলেটার পাঁজরে তোরা স্নাইপারের গুলি ঢুকিয়ে নাম দিলি ‘দুষ্কৃতকারী’,
তার ছেঁড়া পকেটে পাওয়া গেছে মাত্র বিশ টাকার একটা ময়লা নোট আর মায়ের প্রেসক্রিপশন!
এই ছিল তার অপরাধ?
এই অনাহারী, রিক্ত তরুণদের বুক লক্ষ্য করে তোরা দাগলি রাষ্ট্রীয় বুলেট?
শোন ওহে কন্ট্রোল রুমের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত জল্লাদশ্রেণী—
তোমাদের প্রেসনোট, বানোয়াট ভিডিও আর ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীর যুক্তি দিয়ে
এই প্রকাশ্য নরমেধের সত্যকে কবর দেওয়া যাবে না।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জমে ওঠা জমাট লাল রক্তের মেঝে,
আর পায়ের আঙুলে নম্বর-ট্যাগ ঝুলিয়ে দেওয়া বেওয়ারিশ লাশগুলো
কোনো কাগুজে পরিসংখ্যান নয়—
ওরা একেকটা জীবন্ত ডেটোনেটর, যা ফাটবে তোদের সিংহাসনের ঠিক তলায়!
আমরা টিয়ারগ্যাসের শেলের মুখে ভেজা কাপড় চেপে শ্বাস নিতে শিখেছি,
বুলেটের শিষের ভেতর দিয়ে রাজপথ দখল করতে শিখেছি।
যে প্রজন্ম মৃত্যুভয়কে একবার ড্রেনের পানিতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে,
তাকে তোরা কোন খাঁচার ভয় দেখাবি?
অ্যাসফল্ট ধুয়ে রক্তের দাগ হয়তো মুছে দেওয়া যায়,
কিন্তু মানুষের স্মৃতির কোষে যে আগুন তোরা জ্বেলে দিয়েছিস—
তা তোদের গোটা সাম্রাজ্যকে জ্বালিয়ে ছাই না করা পর্যন্ত নিভবে না!
আজ এই বধ্যভূমির খাঁজে খাঁজে দাঁড়িয়ে চরম সত্যটা জানিয়ে দিলাম—
মর্গের টেবিল কোনো মিথ্যা বয়ান দেয় না,
রক্তাক্ত চশমা কোনো আপস চেনে না!
যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তোরা ক্ষমতার বড়াই করছিস,
সেই রক্তই কাল তোদের টেনে নামাবে মসনদ থেকে নর্দমার নোংরা পাঁকে!
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।