ভালোবাসার শেষ দরজা

ভালোবাসার শেষ দরজা

- মোঃ আবু তালেব

(ভালবাসা)

শেষবার যখন তুমি এলে,
বিকেল তখন প্রায় ফুরিয়ে গেছে।
জানালার কাঁচে
শীতের ম্লান রোদ—
ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল
একটি শুকনো পাতা।

তুমি পাতা তুলে
টেবিলের ওপর রাখলে।
বললে,
“এটা এখানে ছিল?”
আমি বললাম,
“হয়তো বাতাসে এসেছে।”
তুমি হেসে বললে,
“সবকিছুই কি বাতাসে আসে?”

আমি উত্তর দিইনি।

কারণ কিছু জিনিস
বাতাসে আসে না—
ধীরে ধীরে
মানুষের ভিতরে জন্মায়।
আমরা সেদিন
অনেক সাধারণ কথা বলেছিলাম।

চা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।
ঘড়িতে পাঁচটা বেজে গিয়েছিল।
বাইরে একজন ফেরিওয়ালা
শেষবারের মতো ডাকছিল।
তুমি বারবার
জানালার দিকে তাকাচ্ছিলে।
আমি বুঝেছিলাম।
তবু জিজ্ঞেস করিনি—

তুমি কি সত্যিই চলে যাবে?
তুমি যাওয়ার আগে
ঘরের দিকে একবার তাকালে।

যেন কোনো মানুষ নয়,
একটি পুরোনো জীবন
শেষবার দেখে নিচ্ছিলে।
দরজার কাছে এসে
তুমি বললে,
“ভালো থেকো।”
এই দুটি শব্দ
কত ছোট!

অথচ তাদের ভিতরে
আমাদের সমস্ত দিন
ধীরে ধীরে ডুবে গেল।
তুমি বেরিয়ে গেলে।
দরজা বন্ধ হলো।

আমি টেবিলের কাছে ফিরে এসে
দেখলাম—
শুকনো পাতাটি
এখনও সেখানে।
সেদিন রাতে
আমি পাতাটি ফেলে দিইনি।
পরদিনও না।
তারপর বহুদিন।

অবশেষে এক সকালে
জানালা খুলতেই
হাওয়া এসে
পাতাটিকে মেঝেতে ফেলে দিল।
আমি অনেকক্ষণ
তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

তারপর বুঝলাম—
কিছু স্মৃতি
আমরা যত্ন করে রাখি না;
তারা নিজেরাই
আমাদের কাছে থেকে যায়।
আর একদিন
নিজেরাই চলে যায়।

তোমার চলে যাওয়ার পর
আমি ভাবতাম,
ভালোবাসার শেষ কোথায়?
যে দিন মানুষ চলে যায়?
যে দিন তার নাম আর ডাকা হয় না?

নাকি যে দিন
তার কথা মনে পড়লেও
বুকের ভিতর আর ব্যথা করে না?
আজ জানি—
ভালোবাসার শেষ বলে
আসলে কিছু নেই।
শুধু একদিন
তার দরজাটি
অন্যদিকে খুলে যায়।

তার ওপারে থাকে
অভিমানহীন একটি সকাল,
একটি পুরোনো মুখ,
একটি শুকনো পাতা,
আর একজন মানুষ
যে ফিরে তাকিয়ে দেখে—
সে যাকে হারিয়েছিল,
তার চেয়ে বড় কিছু
সে হারায়নি;
সে হারিয়েছিল
নিজের সেই মানুষটিকে,
যে ভালোবাসতে জানত
কোনো শর্ত ছাড়াই।

সেদিন
আমি দরজাটি বন্ধ করিনি।
খোলা রেখেছিলাম।
তোমার জন্য নয়।
যদি কোনোদিন
আমার হারিয়ে যাওয়া মানুষটি
নিজের কাছে ফিরে আসে—
যেন তার ঢোকার পথ থাকে।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।